কোন কোন লোকদেরকে বা কোন কোন খাতে যাকাত দেয়া যায় না। কোন কোন লোকদের যাকাত দেওয়া যায়। বিস্তারিত আলোচনা।

 কোন কোন লোকদেরকে বা কোন কোন খাতে যাকাত দেয়া যায় না।কোন কোন লোকদের যাকাত দেওয়া যায়।বিস্তারিত আলোচনা। 

যাকাত সংক্রান্ত আলোচনা। 


নিম্নলিখিত লোকদেরকে বা নিম্নলিখিত খাতে যাকাত দেয়া যায় না , দিলে যাকাত আদায় হয় না । 

১। যার নিকট নেছাব পরিমাণ অর্থ / সম্পদ আছে । 

২। যারা সাইয়্যেদ অর্থাৎ , হাসানী , হুসাইনী , আলাবী , জা'ফরী ইত্যাদি । ৩। যাকাত দাতার মা , বাপ , দাদা , দাদী , পরদাদা , পরদাদী , পরনানা , পরনানী ইত্যাদি উপরের সিঁড়ি । 

৪। যাকাত দাতার ছেলে , মেয়ে , নাতি , নাতনি পোতা , পৌত্রী , ইত্যাদি নীচের সিঁড়ি । 

৫। যাকাত দাতার স্বামী বা স্ত্রী । 

৬। অমুসলিমকে যাকাত দেয়া যায় না । 

৭। যার উপর যাকাত ফরয হয় এরূপ মালদার লোকদের নাবালেগ সন্তান । 

৮। মসজিদ , মাদ্রাসা বা স্কুল , কলেজ , হাসপাতাল প্রভৃতি নির্মাণ কাজের জন্য । 

৯। মৃত ব্যক্তির দাফন - কাফনের জন্য বা মৃত ব্যক্তির ঋণ ইত্যাদি আদায়ের জন্য যাকাতের অর্থ ব্যয় করা যায়না । 

১০। রাস্তা - ঘাট , পুল ইত্যাদি নির্মাণ ও স্থাপন কার্যে- যেখানে নির্দিষ্ট কাউকে মালিক বানানো হয় না- সেখানে যাকাতের অর্থ ব্যয় করা যায়না । 

১১। সরকার যদি যাকাতের মাসআলা অনুযায়ী সঠিক খাতে যাকাতের অর্থ ব্যয় না করে , তাহলে সরকারের যাকাত ফাণ্ডে যাকাত দেয়া যাবে না । 

১২ । যাকাত দ্বারা মসজিদ মাদ্রাসার স্টাফকে ( গরীব হলেও ) বেতন দেয়া যায়না । 


যে লোকদেরকে যাকাত দেয়া যায় ।পরিচয় পর্ব।

 ১। ফকীর অর্থাৎ , যাদের নিকট সন্তান - সন্ততির প্রয়োজন সমাধা করার মত সম্বল নেই অথবা যাদের নিকট যাকাত ফেরা ওয়াজিব হওয়ার পরিমাণ অর্থ সম্পদ নেই । ২। মিসকীন অর্থাৎ , যারা সম্পূর্ণ রিক্ত হস্ত অথবা যাদের জীবিকা অর্জনের ক্ষমতা নেই । 

৩। ইসলামী রাষ্ট্র হলে তার যাকাত তহবিলের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিগণ । । যাদের উপর ঋণের বোঝা চেপেছে । 

৫। যারা আল্লাহ্র রাস্তায় শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদে লিপ্ত 

৬। মুসাফির ব্যক্তি ( বাড়িতে সম্পদশালী হলেও ) সফরে রিক্ত হস্ত হয়ে পড়লে । 

৭। যাকাত দাতার ভাই - বোন , ভাতিজা - ভাতিজী , ভগ্নিপতি , ভাগনা - ভাগনী , 

চাচা - চাচী , খালা - খালু , ফুপা - ফুফী , মামা - মামী , শ্বাশুড়ী , জামাই , সৎ বাপ ও সৎ মা ইত্যাদি ( যদি এরা গরীব হয় ) । 

৮। নিজের গরীব চাকর - নওকর বা কর্মচারীকে দেয়া যায় । তবে এটা বেতন বাবদ কর্তন করা যাবে না ।


 যাদেরকে যাকাত দেয়া উত্তম।যাদের যাকাত দিলে বেশি ভালো হবে।

১। দ্বীনী ইল্‌ম পড়নেওয়ালা এবং পড়ানেওয়ালা যদি যাকাতের হকদার হয় , তাহলে এরূপ লোককে যাকাত দেয়া সবচেয়ে উত্তম ।

২। তারপর যাকাত পাওয়ার সবচেয়ে যোগ্য নিজের আত্মীয় - স্বজনের মধ্যে যারা যাকাত পাওয়ার যোগ্য তারা । 

৩। তারপর বন্ধু - বান্ধব ও প্রতিবেশীর মধ্যে যারা যাকাত পাওয়ার যোগ্য তারা । 

৪। তারপর যাকাতের অন্যান্য প্রকার হকদারগণ ।


বিশেষ আলোচনা। আকীকার কল্যাণসমূহ। 

১. আকীকার মাধ্যমে দানশীলতার বিকাশ ঘটে । গরীব , মিস্কীন ও আত্মীয় - স্বজনের হক্ আদায় হয় । পরস্পরে হৃদ্যতা ও আন্তরিকতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠে । আপসে ঘনিষ্ঠতা সৃষ্টি হয় । ২. আকীকার আরো একটি হিক্যাত হল ইসলাম - পূর্ববর্তী যুগে নাসারাদের কোন সন্তান জন্ম হলে তাকে কয়লা রঙের পানি দ্বারা রাঙিয়ে দেওয়া হতো । 


তারা বলত যে , এ দ্বারা শিশু নাসারা হয়ে যায় , তাদের এই কুপ্রথার বিরুদ্ধে আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেন : আমরা গ্রহণ করলাম আল্লাহর রঙ ( দীন ) , রঙে আল্লাহ্ অপেক্ষা কে অধিকতর সুন্দর ? ( সূরা বাকারা , ২ : ১৩৮ ) অতএব নাসারাদের এই প্রথার বিপরীতে ইসলামে উত্তম প্রথা থাকা যুক্তিসঙ্গত । صبغة الله ومن أحسن من الله صبغة . অন্যের পক্ষ থেকে আকীকা কোন পিতামাতার নিজ সন্তানের জন্য আকীকা করার সামর্থ্য না থাকলে অন্য কেউ তাদের পক্ষ থেকে আকীকা করে দিতে পারে । আর তা একটি বড় ইস্সান এবং একটি সৎকাজে সহায়তা দানও বটে । যার ফলে আল্লাহ্ তা'আলার দরবারে অনেক সাওয়াবের আশা করা যায় ।


 এ ব্যাপারে হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে : عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه قال عن رسول اللہ ﷺ عن الحسن بشاة . হযরত আলী ( রা ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন , রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) হাসান - এর জন্য একটি ছাগল দ্বারা আকীকা করেছিলেন । U উত্তম আকীকা যদিও কুরবানীর উপযুক্ত সমস্ত প্রাণী দ্বারা আকীকা করা যায় কিন্তু বক্রী দ্বারা আকীকা করা উত্তম । এ ব্যাপারে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে : نذرت امرأة من أل عبد الرحمن بن أبي بكر إن ولدت إمرأة عبد الرحمن نحرنا جزور ) فقالت عائشة لا بل السنة أفضل عن الغلام شاتان مكانتان وعن الجارية شاة . আবদুর রহমান ইবন আবূ বকর ( রা ) -এর পরিবারের এক মহিলা মানত করল যে , আবদুর রহমান - এর স্ত্রীর ঘরে কোন নবজাতকের জন্ম হলে আমরা উট যবেহ করে আকীকা করব । হযরত আয়েশা ( রা ) বললেন , এ হতে পারে না । 


বরং সুন্নাত এবং উত্তম হল নবজাতক ছেলে হলে দু'টি সমবয়সী ছাগল আর মেয়ে হলে একটি ছাগল যবেহ করবে । ” নবজাতকের পক্ষ থেকে আকীকা না করলে , নবজাতক বিভিন্ন প্রকার রোগ - বালাই ও বালা - মুসীবতে লিপ্ত থাকে , যার একমাত্র প্রতীকার হল আকীকা করা , এ ব্যাপারে হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে : হযরত সামুরা ( রা ) থেকে বর্ণিত । 



তিনি বলেন , রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) ইরশাদ করেছেন : নবজাতক নিজ আকীকার সাথে বন্ধক থাকে । আকীকার কুসংস্কার আকীকায়ও অনেক কুসংস্কার বিদ্যমান । আকীকার দিন ছেলে হলে দু'টি ছাগল আর মেয়ে হলে একটি ছাগল যবেহ করা , যবেহকৃত পশুর গোশ্ত কাঁচা অথবা রান্না করে বিতরণ করা শিশুর মাথা মুণ্ডন করে চুলের ওজনের সমপরিমাণ স্বর্ণ , রৌপ্য বা তৎমূল্য খয়রাত করা প্রভৃতি কাজকর্ম সুন্নাত ও মুস্তাহাব । এছাড়া অন্যান্য প্রচলিত প্রথাসমূহ ইসলামী শরী'আতে মূল্যহীন ও অযথা কাজ । আকীকা উপলক্ষে প্রচলিত কুসংস্কারসমূহের তালিকা নিম্নে প্রদান করা হল। 

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post