হযরত ওমর ফারুক (রাঃ) এর জীবনী। বিশিষ্ট এই সাহাবীর অজানা বিস্ময়কর কিছু তথ্য। বিস্তারিত আলোচনা।

হযরত ওমর ফারুক (রাঃ) এর জীবনী।বিশিষ্ট এই সাহাবীর অজানা বিস্ময়কর  কিছু তথ্য।বিস্তারিত আলোচনা।  


হযরত ওমর রাঃ এর জীবনী। 

হযরত ওমরের নাম ও পরিচয়ঃ তাঁর আসল নাম ওমর।উপনাম আবু হাফস।তার গুণবাচক নাম ফারুক। তাঁর পিতার নাম খাত্তাব আর মাতার নাম খাত্না,মতান্তরে হানতামা বিনতে হাশেম ইবনে মুগীরা।

হযরত ওমরের বংশধারা।বিস্তারিত আলোচনা। 

 তাঁর বংশ ধারা হল ওমর ইবনুল খাত্তাব ইবনে নুফাইল ইবনে আবদুল ওজ্জা ইব্‌নে রিবাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে কারাত ইবনে রাজাহ ইবনে আদী ইব্‌নে ক্বা'ব ইব্‌নে লাবী ইবনে ফাহর ইবনে মালিক । তার অষ্টম পুরুষের ক্রমধারা রসূলে ( সঃ ) -এর সাথে গিয়ে মিলে যায় । তিনি কুরাইশ বংশদ্ভূত । 

হযরত ওমরের জন্ম।বিস্তারিত আলোচনা। 

 হযরত ওমর ফারুক ( রাঃ ) হিজরতের ৪০ বছর আগে মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন ।

হযরত ওমরের ইসলাম গ্রহণ।বিস্তারিত আলোচনা। 

 তিনি ৬ ষ্ঠ নবী সালে ইসলাম গ্রহণ করেন । কারো কারো মতে , তিনি পঞ্চম নবী সালে ইসলাম কবূল করেন । তাঁর পূর্বে চল্লিশজন পুরুষ এবং এগার জন মহিলা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন । কারো মতে , তিনি যখন ইসলাম গ্রহণ করেন তখনই পুরুষের সংখ্যা ( ৪০ ) চল্লিশ পূর্ণ হয় । তাঁর ইসলাম গ্রহণের পরই ইসলাম প্রকাশ্য ময়দানে নেমে আসে , ফলে তিনি ফারুক উপাধিতে ভূষিত হন । তিনি আরকাম ইবনে আবুল আরকামের ঘরে ( যা সাফা পাহাড়ের নিকট অবস্থিত । রসূলে করীম ( সঃ ) -এর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন । তাঁর ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে একটি প্রসিদ্ধ ঘটনাও রয়েছে ।

হযরত ওমরের খেলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ।বিস্তারিত আলোকপাত।

 হযরত আবুবকর সিদ্দীক ( রাঃ ) -এর ইনতিকালের পর পূর্ব চুক্তি মোতাবেক তিনি ১৩ হিজরী ২৩ ই জমাদিউল আখের মোতাবেক ২৪ শে আগষ্ট সোমবার দিন ৬৩৪ সালে খেলাফতের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন । 

হযরত ওমর রাঃ তিনি ইসলামের দ্বিতীয় খলীফা । গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা। 

তবে তাঁকে সর্বপ্রথম আমীরুল মু'মিনীন হলা হত । কেননা , হযরত আবুবকর ( রাঃ ) -কে খলীফাতুর রসূল বলা হত । রসূল ( সঃ ) -এর পরিবারের সাথে সম্পর্কঃ তিনি স্বীয় কন্যা হযরত হাফছা রাঃ ) -কে রসূল ( সঃ ) -এর সাথে বিবাহ দেন । আবার নিজে হিজরী ১৭ সালে হযরত আলী ( রাঃ ) -এর মেয়ে উম্মে কুলছুম বিনতে ফাতেমা বিনতে রসূলূল্লাহকে চল্লিশ হাজার দেরহাম মোহরানা দিয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করেন । 

হযরত ওমরের ইন্তিকাল।গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা।

 হিজরী ২৩ সালে ২৪ শে জিলহজ্জ বুধবার দিন তিনি মসজিদে নববীতে এশার নামাযে ইমামতি করতে দাঁড়ালে মুগীরা ইবুবে শো'বার দাস আবু লুলু নামক ইহুদী বিষাক্ত একখানা তলোয়ার হাতে নিয়ে নামাযের কাতার ফাঁক করে তাঁর নিকট যায় এবং তাঁর মাথা ও নাভিতে ৬ টি কোপ দেয় । অবশেষে তিনদিন পর ২৭ শে জিলহজ্জ শনিবার দিন তিনি ইনতিকাল করেন । 

হযরত ওমরের কাফন ও দাফন।কোথায় দাফন হয়েছিলো।

 তাঁর শাহাদাতের পর হযরত সোহাইব ( রাঃ ) তাঁর জানাযার নামাযে ইমামতি করেন । হযরত আয়েশা ( রাঃ ) -এর অনুমতিক্রমে তাঁকে তাঁর হজরা এবং হযরত আবুবকর ( রাঃ ) -এর বাম পার্শ্বে দাফন করা হয় । বেহেশতের সুসংবাদ প্রাপ্ত সাহাবীদের মধ্যে ওমর ফারুক ( রাঃ ) ছিলেন দ্বিতীয় ।


বিশেষ আলোচনা। মাথা মুণ্ডানো এবং  চুল ছাঁটা । 

হল্ক কেবল পুরুষের ব্যাপারেই প্রযোজ্য । মহিলাদের জন্য মাথা মুণ্ডন করা হারাম । চুল ছাঁটা নারী - পুরুষ সকলের জন্যেই বৈধ । সম্পূর্ণ মাথার চুল আঙ্গুল পরিমাণ ছাঁটতে হয় । এক - চতুর্থাংশ চুল ছাঁটলেও ছাঁটা হয়ে যায় । 

হাল্ক করাতে যেহেতু পূর্ণ বিনয় প্রকাশ পায় , তাই ‘ দুররুল মুখতার ' গ্রন্থে বর্ণিত আছে , পুরুষের জন্য পূর্ণ মাথায় হল্‌ক করা উত্তম । তামাত্তু হজ্জ আদায়কারীগণ তাওয়াফে কুদুমের পর সাঈ অন্তে মাথা মুণ্ডন করে বা চুল ছেঁটে ইরামমুক্ত হয়ে যাবে । ৮ ই যিলহজ্জ তারিখে হজ্জের ইহরাম বাঁধার পর ১০ ই যিলহজ্জে জামারাতুল আকাবায় শয়তানকে কংকর নিক্ষেপ ও কুরবানী আদায়ের পর পুনরায় মাথা মুণ্ডন করে বা চুল ছেঁটে ইহরাম মুক্ত হওয়া বিধেয় । 



কুরবানী না দিয়ে হল্‌ক করা বা চুল ছাঁটা জায়িয নেই । হল্‌ক করা বা চুল ছাঁটা ১২ তারিখ পর্যন্ত বিলম্বিত করাও জায়িয । কুরবানী ও হল্ক বা কসর করে ইহরামমুক্ত হলেও ১২ তারিখ তাওয়াফে যিয়ারত না করা পর্যন্ত যৌন সম্ভোগ করা জায়িয নেই । কুরবানীর পর ১২ তারিখ পর্যন্ত হক , কর , ক্ষৌর কার্যাদি করা ওয়াজিব , না করলে দম ওয়াজিব হবে । হজ্জের ব্যস্ততম ৫ দিন ( ৮ ই যিলহজ্জ থেকে ১২ ই যিলহজ্জ ) ৭ ই যিলহজ্জ যুহরের সালাতের পরে মাসজিদুল হারামের ইমামের হজ্জের আহকাম অর্থাৎ পরবর্তী পাঁচ দিনের করণীয় সম্পর্কে খুত্বা প্রদান সুন্নাত । 


হাজীদের তা মনোযোগ সহকারে শোনা এবং সেভাবে আমল করা উচিত । অনুরূপ বর্ণনা সংক্রান্ত খুত্বা ইমাম আরাফাতের ময়দানে মসজিদে নামিরায় ৯ ই যিলহজ্জ তারিখে এবং মিনার মাসজিদুল খায়ফে ১১ ই যিলহজ্জ তারিখে দিবেন । 


তামাত্তু হজ্জ আদায়কারীগণ যারা ইতিপূর্বে তাওয়াফ সাঈ ইত্যাদি সম্পন্ন করে ইহরাম খুলে ফেলেছিলেন , তারা এবং মক্কা শরীফের অধিবাসীগণ ৮ ই যিলহজ্জ তারিখে উযূ গোসল করে দুই রাকা'আত নফল নামায আদায় করে ইহরাম বাঁধবেন এবং তালবিয়া পাঠ শুরু করবেন । এ ইরাম মাসজিদুল হারামে বাঁধা মুস্তাহাব । 


হরম সীমানার অন্য কোথাও বেঁধে নেওয়াও জায়িয আছে । ৮ তারিখের পূর্বেও কেউ ইহরাম বাঁধতে চাইলে তাতে আপত্তি নেই । এ তারিখে যিনি ইহরাম বাঁধবেন তিনি যদি তাওয়াফে যিয়ারতের পূর্বেই হজ্জের সাঈ সেরে নিতে চান তাহলে তাঁকে ইযতিবা ও রমল সহ একটি নফল তাওয়াফ করেই সাঈ করতে হবে । পরে আর তাওয়াফে যিয়ারতের পর তার সাঈ করতে হবে না । তবে সাঈ তাওয়াফে যিয়ারতের পরে করাই উত্তম । 


৮ ই যিলহজ্জ সূর্যোদয়ের পর মিনায় যেতে হবে । সুন্নাত অনুযায়ী গোসল করে ইহরামের চাদর পরে মসজিদুল হারামে আসবে । মুস্তাহাব হলো যে , এক তাওয়াফ করবে এবং দ্বিতীয় তাওয়াফ আদায়ের পর ইহরামের জন্য দু'রাকা'আত নামায পড়ে এভাবে হজ্জের নিয়্যাত করবে : ইফরাদ ও কিরান হজ্জের জন্যে নতুন ইহুরামের প্রয়োজন নেই । ইরাম ও নিয়্যাতের সাথে সাথেই তালবিয়া পাঠ করতে করতে মক্কা শরীফ থেকে তিন মাইল দূরবর্তী মিনায় চলে যেতে হবে ।


 পরবর্তী দিন অর্থাৎ ৯ ই যিলহজ্জ ফজর পর্যন্ত মিনায় অবস্থান এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা সুন্নাত । ৮ ই যিলহজ্জের দিবাগত রাত মক্কা শরীফে অবস্থান বা সরাসরি আরাফাতে গিয়ে পৌঁছা মাকরূহ । ৮ ই যিলহজ্জ তারিখটি যদি শুক্রবারে হয় , তাহলে দুপুরের আগেও মিনায় যাওয়া চলে।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post