কবর যিয়ারতের নিয়ম ও হুকুম।এবং বিধিনিষেধ।
![]() |
| কবর জিয়ারতের আলোচনা। |
*পুরুষদের জন্য কবর যিয়ারত করা মোস্তাহাব । নারী যুবতী হলে তার জন্য কবরস্থানে যাওয়া জায়েয নেই । তবে বৃদ্ধা হলে কান্নাকাটি , মাতম ইত্যাদি শরী'আত বিরোধী কাজ করবে না- এরূপ একীন থাকলে সাজসজ্জা না করে খুশবূ না মেখে পর্দার সাথে যাওয়ার অনুমতি রয়েছে । ( احکام میت بحوالہ شامی ، امداد الفتاوی دامدادالا حکام )
* প্রতি সপ্তাহে অন্ততঃ একবার কবর যিয়ারত করা মোস্তাহাব ।
* শুক্রবার কবর যিয়ারত করা অধিক উত্তম । বৃহস্পতিবার , শনিবার এবং সোমবারও কবর যিয়ারত করা উত্তম ।
* কবরস্থানে প্রবেশ করে সমস্ত কবরবাসীর উদ্দেশ্যে নিম্ন বাক্যে সালাম করবে السّلام عليكم دار قوم مؤمنين وانا ان شاء الله بكم لاحقون ، ونسأل الله لنا ولكم العافية ـ ( احسن الفتاوی جه / ۴ ) অর্থঃ হে মু'মিন সম্প্রদায়ের আবাসস্থলের অধিবাসীগণ ! তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক , আমরাও আল্লাহ চাহেতো তোমাদের সাথে মিলিত হব । আমরা আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য এবং তোমাদের জন্য শান্তির আবেদন করছি ।
* অতঃপর উদ্দিষ্ট মাইয়েতের পায়ের দিক থেকে চেহারার ( কেবলার ) দিক যেয়ে দাঁড়াবে বা বসবে । বসলে জীবদ্দশায় তার সাথে যেরূপ সম্পর্ক ছিল সে অনুযায়ী নিকটে বা দূরে বসবে ।
* সালামের পর কেবলার দিকে পিঠ এবং মাইয়েতের ( কবরের ) দিকে মুখ করে যথাসম্ভব কুরআন শরীফ পড়ে মাইয়েতকে ছওয়াব পৌঁছে দিবে । বিশেষভাবে সূরা - বাকারার শুরু থেকে মুফলিহুন পর্যন্ত , আয়াতুল কুরছী , সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত , সূরা ফাতেহা , সূরা ইয়াসীন , সূরা - মূল্ক , সূরা তাকাছুর বা সূরা এখলাস ১১/১২ বার কিংবা ৭ বার বা যে পরিমাণ সহজে পড়তে পারে পড়ে দুআ করবে । মাইয়েতের মাগফিরাতের জন্যও দুআ করবে ।
* তিলাওয়াত ও দুআ দুরূদ পড়ার পর কেবলামুখী হয়ে ( অর্থাৎ , মাইয়েতের দিকে পিঠ করে দুআ করবে ।
বিশেষ আলোচনা। ইসলামী শিক্ষার প্রকারভেদ।
ইল্ম তলব করা বা জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরয হলেও সকল ইল্ম অর্জন কিন্তু এক পর্যায়ের ফরয নয় ; বরং এর বিভিন্ন পর্যায় রয়েছে ।
সে হিসাবে ইলম তিন পর্যায়ের : ফরযে আইন দীনী সম্পৰ্কীয় অত্যাবশ্যকীয় বিষয়াদির ইলম হাসিল করা ফরযে আইন , যা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরয । এ পর্যায়ে রয়েছে , ইসলামের বিশুদ্ধ আকীদাসমূহ শিক্ষা করা অর্থাৎ যে সমস্ত আকীদা পোষণ করা বাতিরেকে কোন ব্যক্তিকে মুসলমান বলা চলে না , সেই বিশ্বাসাবলীর জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরয ।
ঈমানে মুফাস্সালে এসব বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে : أمنت بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر والقدر خيره وشره من الله تعالى والبعث بعد الموت আমি ঈমান আনলাম : ১. আল্লাহর প্রতি , ২. তাঁর ফিরিশ্তাগণের প্রতি , ৩. তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি , ৪. তাঁর রাসূলগণের প্রতি , ৫. আখিরাতের প্রতি , ৬. তাক্দীরের ভালমন্দ আল্লাহর পক্ষ থেকে হয় , এর প্রতি এবং ৭. মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের প্রতি । কুরআন শরীফের সূরা ফাতিহা ও সূরা বাকারার শেষ রুকৃতে এবং অন্যান্য সূরায় এ বিশ্বাসসমূহের বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে । উপরোক্ত বিষয়গুলোর ইল্ম হাসিল করা ফরযে আইন । অনুরূপ পাকী না - পাকীর আহ্কাম ও মাসাইল , নামায - রোযাসহ অন্যান্য ফরয - ওয়াজিব ইবাদত এবং হারাম ও মাকরূহ বিষয়সমূহ সম্পর্কে ইলম হাসিল করা ফরযে আইন ।
হজ্জ যার উপর ফরয তার জন্যে হজ্জের মাসআলা জানা , বেচা - কেনা , ব্যবসা - বাণিজ্য ও শিল্পকারখানায় নিয়োজিত ব্যক্তির জন্য তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ের জ্ঞান অর্জন করা এবং বিবাহ - শাদীর উদ্যোগ গ্রহণকারীর জন্য বিবাহ ও তালাক সংক্রান্ত জ্ঞান অর্জন করা ফরযে আইন । কার্যী সানাউল্লাহ্ পানিপথী ( র ) তাঁর বিখ্যাত ' তাফসীরে মাযহারী ' গ্রন্থে উল্লেখ করেন , করণীয় ও বর্জনীয় বাতেনী আমলসমূহ যেগুলোর জ্ঞানকে ‘ ইল্মে তাসাওউফ ' বলা হয়ে থাকে , সে সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করাও প্রত্যেকের জন্য ফরযে আইন ।
এ ক্ষেত্রে ফরযে আইন বলতে ইল্মে তাসাওউফের কেবল ঐ অংশের জ্ঞানকে বুঝায় যে অংশে ফরয - ওয়াজিব পর্যায়ের বাতেনী আমদের বিবরণ রয়েছে । যেমন বিশুদ্ধ আকাইদ , সবর - শোকর , কানা'আত ( অল্পে তুষ্টি ) ইত্যাদির এক বিশেষ স্তর পর্যন্ত । পক্ষান্তরে , গর্ব - অহংকার , হিংসা - বিদ্বেষ , কৃপণতা , দুনিয়ার মোহ ইত্যাদি কুরআন ও সুন্নাহর দৃষ্টিতে হারাম । এ সব বিষয়ের স্বরূপ ও প্রকৃতি সম্পর্কে অবগত হওয়া , গ্রহণীয় বিষয়সমূহ অর্জন করা এবং হারাম ও নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ বর্জন করা প্রত্যেক মুসলমান নর - নারীর জন্য ফরয ।
এ সকল বিষয়ের উপরই ইল্মে তাসাওউফের ভিত্তি যা শিক্ষা করা সকলের জন্য ফরযে আইন । ফরযে কিফায়া যে সমস্ত ইল্ম জরুরী বটে , কিন্তু সকলের জন্য ব্যক্তিগতভাবে অর্জন করা আবশ্যিক নয় , সমাজের এক শ্রেণী বিশেষভাবে তা অর্জন করলেই গোটা সমাজ দায়িত্বমুক্ত হয়ে যায় । এই ইল্মকে ফরযে কিফায়া পর্যায়ের ইল্স বলা হয়ে থাকে । মুফতী মুহাম্মদ শফী ( র ) -এর ' তাফসীরে মা'আরেফুল কোরআন ' গ্রন্থে ফরযে কিফায়া ইল্মের বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে গোটা কুরআন মাজীদের সম্পূর্ণ অর্থ জানা এবং কুরআনে বর্ণিত সকল বিষয় অনুধাবন করা , হাদীসের মর্ম উলবব্ধি করা , হাদীস শাস্ত্রের বুৎপত্তি অর্জন।
