যেসব অবস্থায় নামাজ ছেড়ে দেয়া বা নামাজ ভঙ্গ করার অনুমতি রয়েছে। নামাজ ছেড়ে দেয়া সংক্রান্ত আলোচনা।

যেসব অবস্থায় নামাজ ছেড়ে দেয়া বা নামাজ ভঙ্গ করার অনুমতি রয়েছে।নামাজ ছেড়ে দেয়া সংক্রান্ত আলোচনা। 

নামাজ ভঙ্গ করার অনুমতি। 


যে সব অবস্থায় নামায ছেড়ে দেয়া যায়ঃ কোন কোন অবস্থায় নিজেই নামায ছেড়ে দিতে হয় , ছেড়ে না দিলে কবীরা গোনাহ হয় । আবার কোন কোন অবস্থায় নামায ছেড়ে না দিলে সামান্য গোনাহ হয় । সেগুলো নিম্নরূপ : 

১. কোন অনিষ্টকারী প্রাণীর ভয় থাকলে । যেমন নামাযরত অবস্থায় সাপ সামনে আসলে নামায ছেড়ে দিয়ে মারতে হবে অথবা বিচ্ছু ও ভীমরুল কাপড়ের ভিতর ঢুকে গেলে তা দংশন করার ভয় থাকলে এ অবস্থায় নামায ছেড়ে দেয়ার অনুমতি রয়েছে । তদ্রূপ বিড়ালে মুরগি ধরলে অথবা ধরে ফেলার সম্ভাবনা থাকলে তখন নামায ভঙ্গ করা যায় । 

২. যদি এমন কোন বস্তুর ক্ষতির আশংকা থাকে যার মূল্য অন্ততঃ সাড়ে ৪ রক্তি` রূপার সমান , যেমন চুলায় পাতিল থাকলে তা জ্বলে যাওয়ার ভয় থাকলে আর এর মূল্য উক্ত পরিমাণ অথবা তার চেয়ে অধিক হলে তখন নামায ছেড়ে দিয়ে পাতিল নামিয়ে নিতে হবে । এভাবে কুকুর , বিড়াল ও বানর ঘরে  ঢুকলে আটা , ডাল , দুধ , ঘি ইত্যাদি ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে নামায ছেড়ে দেয়া যাবে । মসজিদে অথবা ঘরে নামায পড়ছে অথচ কোন বস্তু ভুল বশতঃ এমন স্থানে রেখে এসেছে যেখান থেকে চুরি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে তখন নামায ছেড়ে দিয়ে আসবাবপত্র রক্ষা করবে । তবে নামাযীকে নামায আরম্ভ করার পূর্বেই এগুলো রক্ষা করার ব্যবস্থা করে নিতে হবে । 

৩. নামায পড়লে যানবাহন ছেড়ে দেয়ার সম্ভাবনা থাকলে আর গাড়ীতে আসবাবপত্র ও শিশু সন্তান থাকলে বা গাড়ী চলে গেলে ক্ষতির আশংকা থাকলে নামায ছেড়ে দিতে পারবে । 

৪. নামাযরত অবস্থায় পেশাব পায়খানার চাপ অসহ্য মনে হলে । 

৫. নামাযরত অবস্থায় কাউকে বিপদ বা মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করার প্রয়োজন হলে নামায ছেড়ে দেয়া ফরয , নামায ছেড়ে না দিলে কঠিন গোনাহগার হবে । যেমন কোন অন্ধ যাচ্ছে এবং তার সম্মুখে কূপ অথবা গভীর গর্ত রয়েছে অথবা মোটরগাড়ী বা রেলগাড়ীতে পিষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় আছে , অথবা কারও কাপড়ে আগুন লেগে তাতে জ্বলে যাওয়ার অথবা পুড়ে যাওয়ার উপক্রম হলে অথবা পানিতে কেউ ডুবে যাচ্ছে অথবা ডাকাত কিংবা শত্রু কাউকে ভীষণভাবে প্রহার করছে এবং সে সাহায্যের জন্য ডাকছে- এসব অবস্থায় নামায ছেড়ে দিয়ে তাকে উদ্ধার করা কর্তব্য , তা না হলে গোনাহগার হতে হবে ।

৬. মাতা - পিতা , দাদা - দাদী , নানা - নানী কোন বিপদে পড়ে ডাকলে নামায ছেড়ে দিয়ে তাদের কাছে যাওয়া কর্তব্য । যেমন তাদের কেউ হোঁচট খেয়ে পড়ে গেল অথবা আঘাত পেল এবং তারা ডাকল , এমতাবস্থায় তাদের উদ্ধার করার জন্যে কেউ না থাকলে নামায ছেড়ে দিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করতে হবে । যদি তাদের কেউ পায়খানা অথবা পেশাব করতে যাচ্ছে , অথচ তাকে সাহায্য করার জন্য কেউ নেই তাহলে নামায ছেড়ে দিয়ে তাকে সাহায্য করতে হবে । 


তবে তাকে সাহায্য করার লোক রয়েছে অথবা অনর্থক চীৎকার করছে , তখন নামায ছেড়ে দেয়া যাবে না । যদি সে নফল অথবা সুন্নাত নামায পড়তে থাকে আর সে নামায পড়ছে বলে তারা না জানে ( বিপদের সময় ডাকুক কিংবা এমনি ডাকুক ) তাহলে এমতাবস্থায় নামায ছেড়ে দিয়ে উত্তর দিতে হবে । তবে নামায পড়ছে বলে জ্ঞাত হলে এবং ডাকলে তখন কোন বিপদের ভয় না হলে নামায ছাড়া যাবে না , নতুবা ছেড়ে দিবে । 



বিশেষ আলোচনা।নিফাফ - এর বিবরণ। 

‘ নিফাক ’ মানে কপটতা , অন্তরে এক রকম ধারণা পোষণ করা এবং বাইরে অন্য রকম প্রকাশ করা । ইসলামী পরিভাষায় এর অর্থ হল , অন্তরে কুফ্রী গোপন রেখে মুখে ঈমানের কথা বলা বা স্বীকার করা এবং লোক দেখানোর অনুষ্ঠানাদি পালন করা । যে ব্যক্তি এরূপ করে তাকে ‘ মুনাফিক ' বলা হয় । ১২৩ নিফাক দু'প্রকার , 


১. নিফাকে ই'তিকাদি ( বিশ্বাসগত নিফাক ) ; ২. নিফাকে আমলী । বিশ্বাসগত নিফাক কুফরের চেয়েও মারাত্মক । কারণ মুনাফিক ব্যক্তি বাহ্যত ইসলামের কাজ করে মুসলিম সমাজকে প্রতারিত করে এবং তাদের কাছ থেকে আইনগত , আর্থিক ও সামাজিক সুযোগ - সুবিধা ভোগ করে । আর শত্রুর গুপ্তচর হিসাবে কাজ করে এবং মুসলমানদের গোপন বিষয়ের ব্যাপারে দুশমনদের অবহিত করে দেয় । প্রকাশ্য শত্রু থেকে আত্মরক্ষা করা সহজ কিন্তু গোপন শত্রুর চক্রান্ত থেকে বাঁচা খুবই দুষ্কর । এই মুনাফিক সম্প্রদায়ের দ্বারা ইসলামের ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি । 


এ কারণে কুরআন মাজীদের বহু স্থানে তাদের সম্বন্ধে সতর্ক করা হয়েছে এবং স্বরূপ উন্মোচন করা হয়েছে । ইরশাদ হয়েছে :ومن الناس من يقول أمنا بالله وباليوم الآخر وما هم بمؤمنين . يخدعون الله والذين أمنوا وما يخدعون الا أنفسهم وما يشعرون . في قلوبهم مرض فزادهم الله مرضا ولهم عذاب البم بما كانوا يكذبون . واذا قيل لهم لا تفسدوا في الأرض قالوا انما نحن مصلحون . الا انهم هم المفسدون ولكن لا يشعرون . وإذا قيل لهم أمنوا كما أمن الناس قالوا أنؤمن كما أمن السفهاء الا انهم هم السفهاء ولكن لا يعلمون . واذا لقوا الذين أمنوا قالوا أمنا واذا خلوا إلى شيطينهم قالوا انا معكم إنما نحن مستهزعون ، الله يستهزئ بهم ويمدهم في طغيانهم يعمهون . أولئك الذين اشتروا الضللة بالهدى فما ربحت تجارتهم وما كانوا مهتدين . আর মানুষের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে যারা বলে , আমরা আল্লাহ্ ও আখিরাতে ঈমান এনেছি ; কিন্তু তারা মু'মিন নয় ( ৮ ) । আল্লাহ্ ও মু'মিনদেরকে তারা প্রতারিত করতে চায় ।


 অথচ তারা যে নিজেদেরকে ব্যতীত অন্য কাউকেও প্রতারিত করে না , তা তারা বুঝতে পারে না ( ৯ ) । তাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে । তারপর আল্লাহ্ তাদের ব্যাধি বৃদ্ধি করেছেন ও তাদের জন্য রয়েছে কষ্টদায়ক শাস্তি , যেহেতু তারা মিথ্যা বলে । ( ১০ ) । তাদেরকে যখন বলা হয় , পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করো না , তারা বলে আমরাই তো শান্তি স্থাপনকারী ( ১১ ) । সাবধান ! তারাই অশান্তি সৃষ্টিকারী , কিন্তু তারা বুঝতে পারে না ( ১২ ) । 




যখন তাদেরকে বলা হয় , যে সকল লোক ঈমান এনেছে তাদের মত ঈমান আন , তারা বলে , নির্বোধগণ যেরূপ ঈমান এনেছে আমরাও কি সেরূপ ঈমান আনব ? সাবধান ! তারাই নির্বোধ , কিন্তু তারা তা জানে না ( ১৩ ) । তারাই হিদায়াতের বিনিময়ে ভ্রান্তি ক্রয় করেছে । সুতরাং তাদের ব্যবসা লাভজনক হয়নি , তারা সৎপথেও পরিচালিত নয় ( ১৬ ) । ( সূরা বাকারা , ২ : ৮-১৩ , ১৬ ) মুনাফিকরা ঈমান গ্রহণের দাবিতে মিথ্যাবাদী । এ প্রসঙ্গে কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে : TE والله يشهد ان المنفقين لكذبون। 

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post