যাকাত আদায় করার তরীকা বা পদ্ধতি এবং মাসায়েল। কীভাবে যাকাত আদায় করবেন।

 যাকাত আদায় করার তরীকা বা পদ্ধতি এবং  মাসায়েল।কীভাবে যাকাত আদায় করবেন।

যাকাত আদায় করার পদ্ধতি। 


* বৎসর পূর্ণ হওয়ার সাথে সাথে যাকাত আদায় করতে হবে । বিনা ওজরে বিলম্ব করলে পাপ হবে । 

* যাকাত আদায় করার সময় নিয়ত করতে হবে যে , এ সম্পদ আল্লাহর ওয়াস্তে যাকাত হিসেবে প্রদান করা হচ্ছে , নতুবা যাকাত আদায় হবে না । * নেছাবের মালিক হওয়ার পর বৎসর পূর্ণ হওয়ার পূর্বেও অর্থাৎ , যাকাত ওয়াজিব হওয়ার পূর্বেও অগ্রিম প্রদান করা যায় । 

* যাকাত প্রদানের সময় গ্রহণকারীকে একথা জানানো প্রয়োজন নেই যে , এটা যাকাতের টাকা । আপনজনকে যাকাত দিলে তাকে একথা না বলাই শ্রেয় , কেননা বললে তার খারাপ লাগতে পারে । 

* যে পরিমাণ টাকা থাকলে কারও উপর যাকাত ফরয হয়- এত পরিমাণ যাকাতের টাকা একজনকে দেয়া মাকরূহ । তবে ঋণী ব্যক্তির ঋণ মুক্তির জন্য বা অধিক সন্তান - সন্ততি ওয়ালাকে এত পরিমাণ দিলেও ক্ষতি নেই । 

* যাকাত দেয়ার নিয়তে কোন টাকা পৃথক করে রাখলে পরে দেয়ার সময় যাকাতের নিয়তের কথা মনে না আসলেও যাকাত আদায় হয়ে যাবে । * যাকে যাকাত দিবে অন্ততঃ এত পরিমাণ দিবে যেন ঐ দিনের খরচের জন্য সে আর অন্যের মুখাপেক্ষী না হয় । কম পক্ষে এত পরিমাণ দেয়া মোস্তাহাব , এর চেয়ে কম দিলেও যাকাত আদায় হয়ে যাবে । 

* কারও নিকট টাকা পাওনা থাকলে যাকাতের নিয়তে সেই পাওনা মাফ করে দিলে যাকাত আদায় হবে না বরং তার নিকট যাকাতের টাকা দিয়ে পরে তার নিকট থেকে ঋণ পরিশোধ বাবদ সে টাকা নিয়ে নিলে যাকাতও আদায় হবে ঋণও উসূল হবে । 

* যাকাতের টাকা নিজের হাতে গরীবদেরকে না দিয়ে অন্য কাউকে উকীল বানিয়ে তার দ্বারা দিলেও যাকাত আদায় হবে । 

* যাকাত ওয়াজিব হওয়ার পর কেউ নিজের সমস্ত মাল দান করে দিলে তার যাকাত মাফ হয়ে যায় । 

* যাকাত দাতার অনুমতি ছাড়া অন্য কেউ তার পক্ষ থেকে যাকাত দিয়ে দিলে যাকাত আদায় হবে না । 

* যাকাত দাতা কাউকে পুরস্কার বা ঋণের নামে কিছু দিল আর অন্তরে নিয়ত রাখল যে , যাকাত হতে দিলাম , তবুও যাকাত আদায় হয়ে যাবে । মুখে যাকাত কথাটা বলার আবশ্যকতা নেই ।

বিশেষআলোচনা।ইসলাম - পূর্ববর্তী যুগে আকীকা।

 আকীকা ইসলাম পূর্ববর্তী যুগেও প্রচলিত ছিল । যদিও তার ধরন - প্রকৃতি ছিল ভিন্ন রকম । এখনও ইয়াহুদীদের মধ্যে আকীকা প্রচলন রয়েছে । এ ব্যাপারে হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে : عن عائشة رضي الله عنها قالت قال رسول اللہ ﷺ ان اليهود تعق عن الغلام ولا تعق الجارية تعفوا عن الغلام شاتين وعن الجارية شاة . হযরত আয়েশা ( রা ) থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন , রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) ইরশাদ করেছেন : ইয়াহূদীরা ছেলে সন্তানের জন্য আকীকা করে , মেয়ে সন্তানের জন্য করে না , তোমরা ছেলে সন্তানের জন্য দু'টি ছাগল আর মেয়ে সন্তানের জন্য একটি ছাগল আকীকা করবে । 


” عن أبي بريدة رضي الله عنه قال كنا في الجاهلية اذا ولد لأحدنا غلام ذبح شاة হযরত আবূ বুরায়দাহ ( রা ) থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন , আইয়্যামে জাহিলিয়্যাতে আমাদের কারো ছেলে সন্তান হলে আমরা একটি ছাগল যবেহ করতাম । ২ আকীকার গুরুত্ব ইমামগণের ঐকমত্যে ' আকীকা ' একটি মুস্তাহাব আমল । তাই নবজাতক সন্তানের পিতার পক্ষে আল্লাহর শুকরিয়া আদায়পূর্বক কৃতজ্ঞতার নিদর্শনস্বরূপ আকীকা করা মুস্তাহাব । আকীকার সময় সম্ভব হলে নবজাতকের জন্মের সপ্তম দিনে আকীকা করা উত্তম । কেননা রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) -ও স্বয়ং সপ্তম দিনে আকীকা করতেন । সপ্তম দিনে সম্ভব না হলে চতুর্দশতম দিনে আকীকা করবে । তাও সম্ভব না হলে একবিংশতম দিনে , তাও সম্ভব না হলে যে কোন দিন সম্ভব হয় করবে । অবশ্য এক্ষেত্রে জন্মের সপ্তম দিনের প্রতি লক্ষ্য রাখা উত্তম ।


 আকীকার সময়কাল সম্পর্কে হাদীসে রাসূলে ইরশাদ হয়েছে : عن أم وابي كرز قالا نذرت امرأة من أل عبد الرحمن بن أبي بكر ان ولدت إمراة عبد الرحمن نحرنا جزورا فقالت عائشة لا بل السنة أفضل عن الغلام شاتان مكافئتان وعن الجارية شاة ولكن ذلك يوم السابع فإن لم يكن ففي أربعة عشرة فإن لم يكن ففي احدى وعشرين হযরত কুরয ( রা ) -র পিতামাতা থেকে বর্ণিত , তাঁরা বলেন , হযরত আবদুর রহমান ইবন আবূ বকর ( রা ) বংশের একজন মহিলা মানত করল যে , আবদুর রহমান - এর স্ত্রীর কোন সন্তান হলে আমরা একটি উট যবেহ্ করব । হযরত আয়েশা ( রা ) ( এ কথা শুনে ) বললেন , এতো হতে পারে না ।



 বরং সুন্নাত হল ছেলে সন্তানের জন্ম হলে দু'টি সমসয়ঙ্ক ছাগল আর মেয়ে সন্তানের জন্য একটি ছাগল দিয়ে আকীকা করবে । অবশ্য এই আকীকা জন্মের সপ্তম দিনে হলে উত্তম । সপ্তম দিনে সম্ভব না হলে চতুর্দশতম দিনে , তাও সম্ভব না হলে একবিংশতম দিনে আকীকা করবে ৪ আরো ইরশাদ হয়েছে : عن سمرة بن جندب رضي الله عنه قال قال رسول اللہ ﷺ الغلام مرتهن بعقيقته ينبع عنه يوم السابع . হযরত সামুরা ইবন জুনদুব ( রা ) থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন , রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) ইরশাদ করেছেন যে , নবজাতক নিজ আকীকার সাথে বন্ধক থাকে , তার জন্মের সপ্তম দিন তার নামে।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post