দাফনের নিয়ম - পদ্ধতি।দাফনের পর যা যা করণীয়।যা যা বর্জনীয়।
![]() |
| দাফন কাফনের আলোচনা। |
* সাধারণ কবরস্থানে দাফন করা সুন্নাত ।
* যেখানে যার মৃত্যু হয় সে এলাকার সাধারণ কবরস্থানে তাকে দাফন করা সুন্নাত । অন্যত্র ( দুই তিন মাইলের অধিক দূরে ) লাশ স্থানান্তর করা সুন্নাতের খেলাফ ।
* প্রয়োজনে কবরের জন্য জমি ক্রয়ের অনুমতি রয়েছে ।
* কেবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে মাইয়েতকে সতর্কতার সাথে উঠিয়ে কবরে নামাবে ।
* মাইয়েতকে কবরে রাখার সময় নিম্নোক্ত দুআ বলা মোস্তাহাব । بسم الله وعلى ملة رسول الله ـ ( الدر المختار --باب صلاة الجنازة ) অর্থঃ আল্লাহ্ নামে এবং আল্লাহর রাসূলের ধর্মের উপর তাকে রাখলাম ।
* মাইয়েতকে কেবলামুখী করে ডান কাতে শুইয়ে দেয়া সুন্নাত । চিত করে শুইয়ে শুধু মুখ কেবলামুখী করে দেয়া যথেষ্ট নয় ।
* কবরে রাখার পর খুলে যাওয়ার আশংকায় কাফনে যে গিরা দেয়া ছিল তা খুলে তিতে হবে ।
* মহিলাকে কবরে রাখার সময় পর্দা করে নেয়া মোস্তাহাব । আর মাইয়েতের শরীর প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকলে পর্দা করা ওয়াজিব ।
* বুগ্লী ( লাহ্দ ) কবর হলে কাঁচা ইট , বাঁশ প্রভৃতি দ্বারা বন্ধ করবে আর সিন্দুক কবর হলে কাঠ , বাঁশ বা পিপার দিয়ে ঢেকে দিবে এবং ফাকগুলো বন্ধ করে দিবে ।
* তারপর মাটি ফেলবে । মাইয়েতের মাথার দিক থেকে মাটি ফেলতে শুরু করা মোস্তাহাব ।
* প্রত্যেক ব্যক্তি উভয় হাতে মাটি নিয়ে তিনবার মাটি ফেলবে ।
* কবরের পিঠ উটের পিঠের ন্যায় এক বিঘৎ বা তার চেয়ে কিছু বেশী পরিমাণ উঁচু করে বানানো মোস্তাহাব ।
* মাটি দেয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সর্বশেষে কবরের মাটি জমানোর জন্য কবরের উপর পানি ছিটিয়ে দেয়া মোস্তাহাব ।
* নিতান্ত অপারগতা ছাড়া এক কবরে একাধিক লাশ দাফন করবে না ।
* কবরের দু পাশে খেজুরের ডাল বা যে কোন ডাল পুতে দেয়ার সাথে গলদ আকীদা জড়িত হওয়ার কারণে এ থেকে বিরত থাকই উত্তম । ( فتاوی دار العلوم جه / ۲ و احسن الفتاوى جدرا )
* যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দাফন কাফন সারা উত্তম । এমনকি জানাযায় অধিক লোক হবে এজন্যেও বিলম্ব করা সুন্নাতের খেলাফ ।
দাফনের পর যা যা করণীয়।যা যা বর্জনীয়।
* দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর কবরের নিকট কিছুক্ষণ অবস্থান করতঃ মৃতের ক্ষমার জন্য দুআ করবে অথবা কুরআন শরীফ পাঠ করে ছওয়াব পৌঁছে দিবে । এরূপ করা মোস্তাহাব ।
* মৃত যেন মুনকার নাকীরের প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম হয় তার জন্য দুআ করবে । এরূপ করা সুন্নাত ।
* দাফনের পর কবরের মাথার দিকে দাঁড়িয়ে সূরা বাকারার শুরু থেকে পর্যন্ত এবং পায়ের দিকে দাঁড়িয়ে সূরা - বাকারার শেষ আয়াত সমূহ (আস্তে আস্তে পাঠ করা মোস্তাহাব । ( فتاوی دارالعلوم جه ه و احکام میت ) মাইয়েতের পরিবারের সাথে অন্যদের যা যা করণীয়
* প্রতিবেশী এবং আরীয় - স্বজনদের জন্য মোস্তাহাব হল মৃতের পরিবারের জন্য এক দিনের খাবার তৈরী করে পাঠাবে এবং দুঃখের কারণে তারা খেতে না চাইলে পীড়াপীড়ি করে খাওয়াবে ।
* মৃতের পরিবারকে তিন দিনের মধ্যে ( এক বার ) সান্ত্বনা জানানো মোস্তাহাব । দূরের লোকেরা শোকবার্তা প্রেরণের মাধ্যমে অর্থাৎ , পত্রের মাধ্যমেও এ মোস্তাহাব আদায় করতে পারেন । শরী'আতের পরিভাষায় এটাকে তাযিয়াত বলা হয় ।
* প্রচলিত শোক প্রস্তাব অনুমোদন ও নীরবতা পালনের কোন শরঈ ভিত্তি নেই । এটা বিধর্মীদের অনুকরণ বিধায় পরিত্যাজ্য । শরীয়তের দৃষ্টিতে এতে কোন ফায়দা নেই ।
* স্বতন্ত্র ভাবে একাকী তাযিয়াত করা সুন্নাত । তবে ঘটনাক্রমে যদি একাধিক লোক একত্রিত হয়ে যায় তাতে কোন অসুবিধা নেই ।
* তাযিয়াতের মধ্যে নিম্নোক্ত বিষয়াবলী অন্তর্ভুক্ত থাকবে । ( ক ) সান্ত্বনা বাণী । ( খ ) ছবর ও ধৈর্যের ফযীলত বর্ণনা এবং ধৈর্যের প্রতি উৎসাহ প্রদান ।( গ ) আপনজনের মৃত্যুজনিত কষ্টের জন্য তারা ছওয়াব লাভ করবে একথার উল্লেখ । ( ঘ ) তাষিয়াতের সময় হাত উঠানো ব্যতীত নিম্নোক্ত দুআ পড়া أعظم الله أجرك وأحسن عزائك وغفر لميتك - ( احسن الفتادی جه / ۴ ) * তিন দিন অতিবাহিত হয়ে গেলে তাযিয়াত করা মাকরূহ , তবে সফরে থাকার কারণে এ সময়ের মধ্যে তাযিয়াত করতে না পারলে এরপরও করতে পারেন ।
* তাযিয়াতকারীগণ মৃতের পরিবারের উপর তাদেরকে আপ্যায়ন করানোর বোঝা চাপাবে না । তাদের উপর এরূ বোঝা চাপানো অমানবিকতা এবং সুন্নাতের পরিপন্থী ।
* শোকসভা করা এমনিতে খারাপ নয় । তবে এখন এটা রছমে পরিণত হয়েছে । তদুপরি পত্র - পত্রিকায় নাম আসবে এরূপ গলদ নিয়তও থাকে , তাই এটা পরিত্যাজ্য ।
বিশেষ আলোচনা। তাহারাতের তাৎপর্য ও গুরুত্ব।
' তাহারাত ' আরবী শব্দ । এর আভিধানিক অর্থ পবিত্রতা । শরী'আতের পরিভাষায় শরীরের বিশেষ অঙ্গসমূহ বিশেষ পদ্ধতিতে ধৌত করাকে ‘ তাহারাত ' বলা হয় । ভিন্ন মতে , নাপাকী ও হদস্ দূর করাকে ' তাহারাত ' বলা হয় । ' ইসলামে তাহারাতের গুরুত্ব অপরিসীম । ইসলাম যদিও এমন এক দেশে প্রথম প্রকাশ পেয়েছে যেখানে পানির ব্যবস্থা ছিল খুবই কম । তবুও ইসলাম বিশেষ অবস্থায় গোসল করাকে ফরয সাব্যস্ত করেছে ।
স্বামী - স্ত্রীর মিলনের পর উভয়ে যতক্ষণ পর্যন্ত গোসল না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত পবিত্র হবে না এবং নামাযও আদায় করতে পারবে না । ইরশাদ হয়েছে : وان كنتم جنبا فاطهروا . + যদি তোমরা অপবিত্র হয়ে যাও তবে বিশেষভাবে পবিত্র হবে । ( সূরা মায়িদা , ৫ : ৬ ) নামায আদায়ের জন্য পরিধেয় বস্তুও পাক হওয়া আবশ্যক । ইসলামী শরী'আত এই পবিত্রতাকে অপরিহার্য করেছে । ইরশাদ হয়েছে : وثيابك فطهر . তোমার পরিচ্ছদ পবিত্র রাখ ।
( সূরা মুদ্দাস্সির , ৭৪ : ৪ ) যদি পানি না পাওয়া যায় অথবা কোন রোগের কারণে পানি ব্যবহার ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায় , তাহলে পবিত্র মাটিদ্বারা তায়াম্মুম করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেন : وإن كنتم مرضى أو على سفر أو جاء أحد منكم من الغائط أو لمستم النساء فلم تجدوا ماء فتيمموا صعيدا طيبا فامسحوا بوجوهكم وأيديكم م তোমরা যদি পীড়িত হও অথবা সফরে থাক অথবা তোমাদের কেউ শৌচস্থান থেকে আগমন করে অথবা তোমরা স্ত্রীর সাথে সঙ্গত হও এবং পানি না পাও , তবে পবিত্র মাটিদ্বারা তায়াম্মুম করবে এবং তা তোমাদের ও হাতে মাসেহ করবে ।
( সূরা মায়িদা , ৫ : ৬ ) অনুরূপ জুমু'আর দিন নামায আদায়ের পূর্বে গোসলের হুকুম দেওয়া হয়েছে , যেন মানুষ গোসলের মাধ্যমে পাক সাফ এবং পরিষ্কার - পরিচ্ছন্ন হয়ে জুমু'আর জামা'আতে শরীক হতে পারে এবং অপরিচ্ছন্নতা ও দেহের দুর্গন্ধের কারণে যেন কোন নামাযীর কষ্ট না হয় । পেশাব - পায়খানার পর ইতিজা করা এবং নির্দিষ্ট অঙ্গ - প্রত্যঙ্গ হতে ময়লা দূর করা অপরিহার্য করা হয়েছে । এই নির্দেশাবলীর দ্বারা জানা যায় যে , ইসলামে পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতাকে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে । এমনকি একে ঈমানের অর্ধেক বলা হয়েছে । রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) ইরশাদ করেন : الطهور شطر الايمان . পবিত্রতা ঈমানের অর্ধাংশ ।
শুধু তাই নয় , বরং পবিত্রতা অর্জন করাকে আল্লাহ্ তা'আলার ভালবাসা লাভের উপায় বলে কুরআন মজীদে উল্লেখ করা হয়েছে । ইরশাদ হয়েছে : ان الله يحب التوابين ويحب المتطهرين . আল্লাহ্ তাওবাকারীকে ভালবাসেন এবং যারা পবিত্র থাকেন তাদেরকেও । ( সূরা বাকারা , ২ : ২২২ ) মুসলমান যেন পবিত্র ও পরিচ্ছন্নতার পাবন্দী করে এবং সকল প্রকার অপবিত্রতা ও কলুষতা থেকে মুক্ত থাকে , এ লক্ষ্যে রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) স্বীয় উম্মাতের জন্য কিছু বিধি - বিধান জারী করেছেন , যা সকলের জন্য অবশ্য পালনীয়।
