ঈছালে ছওয়াব ও তার তরীকা। ঈছালে ছওয়াব কীভাবে পৌঁছাতে হয়।
![]() |
| ইছালে ছওয়াব সংক্রান্ত আলোচনা। |
* নফল ইবাদত ( যেমনঃ নফল নামায , নফল রোযা , নফল হজ্জ ইত্যাদি ) তিলাওয়াত , যিকির - আযকার ও দান - সদকা করে তার ছওয়াব ( মৃত বা জীবিতকে ) পৌঁছে দেয়া এবং মাইয়েতের জন্য দুআ করাকে ঈছালে ছওয়াব বলে ।
ঈছালে ছওয়াব দ্বারা আমলকারীর ছওয়াব কমে না বরং আল্লাহ তা'আলা নিজ অনুগ্রহে আমলকারী ও মাইয়েত উভয়কেই পূর্ণ পরিমাণ ছওয়াব দিয়ে থাকেন । কোন আমলের ছওয়াব একাধিক মাইয়েতকে পৌছানো হলে আল্লাহ্র রহমতের ব্যাপকতার ভিত্তিতে আশা করা যায় যে , সে ছওয়াব ভাগাভাগি করে নয় বরং প্রত্যেককেই আল্লাহ তা'আলা পূর্ণ পরিমাণ দান করবেন , যদিও যুক্তি অনুযায়ী তা ভাগাভাগি হওয়ারই কথা ।
* ইবাদতে মালিয়া অর্থাৎ দান সদকা দ্বারা ঈছালে ছওয়াব করা উত্তম । এর মধ্যে কয়েকটি স্তর রয়েছে । যথাঃ ( ক ) নগদ অর্থ প্রদান করা সবচেয়ে ভাল । এরূপ অর্থ সদকায়ে জারিয়ার কাজে ( অর্থাৎ , এমন নেক কাজে যা অব্যাহতভাবে চালু থাকবে ) ব্যয় করলে আরও উত্তম হবে । ( খ ) তারপর কাঁচা খাবার ( পাকানো ছাড়া ) প্রদান করা । ( গ ) আর সর্বনিম্ন স্তর হল খাদ্য খাবার রান্না করে তা খাওয়ানো ।
* ঈছালে ছওয়াবের একটি আদব এই যে , অন্ততঃ কিছু পাঠ করে হলেও ( যেমনঃ তিনবার সূরা এখলাস পাঠ করে ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর রূহ মোবারকে তার ছওয়াব স্বতন্ত্র ভাবে পৌঁছে দিবে ।
* মাইয়েতের আপনজন , বন্ধু - বান্ধব ও আত্মীয় - স্বজন সকলেই স্বতন্ত্রভাবে নিজ নিজ স্থানে থেকে তিলাওয়াত ও যিকির - আযকার পূর্বক কিংবা দুআর মাধ্যমে ঈছালে ছওয়াব করতে পারে । এর জন্য সকলে একত্রিত হয়ে সম্মিলিত ভাবে খতম পড়ার অবশ্যকতা নেই । তদুপরি আজকাল সম্মিলিতভাবে খতম পড়াটা রেওয়াজে পরিণত হয়েছে । তাই এই রেওয়াজ পরিত্যাগ করা উচিত ।
* টাকা - পয়সার বিনিময়ে কুরআন - খানী বা কোন খতম করালে তার কোন ছওয়াব পাওয়া যাবে না । অতএব সেরূপ কুরআন খানী ও খতমের দ্বারা ঈছালে ছওয়াবও হবে না বরং এরূপ বিনিময় গ্রহণ পূর্বক খতম ও কুরআন খানী করা এবং করানো উভয়টা হারাম ।
* ঈছালে ছওয়াবের জন্য কোন দিন তারিখ নির্দিষ্ট করা বিদআত। অতএব তা পরিত্যজ্য।
বিশেষ আলোচনা। অশ্লীল সাহিত্য।
লজ্জাশীলতা ঈমানের অংশ । কিন্তু এমনকিছু বইপত্র ও পত্রিকা , ম্যাগাজিন রয়েছে যেগুলোতে অশ্লীল কথাবার্তা ও কুরুচিপূর্ণ ছবিতে ভরপুর । এগুলোকে ইংরেজীতে ‘ পর্ণোগ্রাফী ' বলা হয়ে থাকে । কোমলমতি বালক - বালিকাদের সুকুমার বৃত্তিসমূহের বিকাশের সহায়ক হওয়ার পরিবর্তে এগুলো তাদেরকে অন্ধকার জগতের দিকে ঠেলে দেয় । অধুনা সিনেমা , ভিসিআর এবং ডিশ এন্টিনার সুবাদে বিদেশী ন্যক্কারজনক যৌনতাপূর্ণ ব্লু ফিল্ম মহামারীর মত কিশোর - কিশোরীদের চরিত্র বিনষ্ট করছে ।
সাহিত্য ও প্রচার মাধ্যমগুলো বিজ্ঞানের নিত্য নতুন উপায় - উপকরণের মাধ্যমে সুসজ্জিত হয়ে পূর্বের তুলনায় শত সহস্রগুণে সমাজে ছড়িয়ে পড়ে ভবিষ্যত প্রজন্মকে নীতি - নৈতিকতার পথ থেকে দূরে সরিয়ে নিচ্ছে ।
আপত্তিকর কবিতা , গল্প , নাটক , উপন্যাসের সাহায্যে ভবিষ্যত প্রজন্মকে ইসলামী জীবনবোধ ও ঈমান - আকীদা সম্পর্কে সন্দিহান করে তোলা হচ্ছে । যে সমস্ত সাহিত্যকর্ম আমাদের তরুণ - তরুণীদেরকে বিপথগামী ও হীনমন্যতাগ্রস্ত করে তোলে , এগুলো অবশ্যই বিষতুল্য পরিত্যজ্য ।
এ প্রসঙ্গে কুরআন মজিদে ইরশাদ হয়েছে : ان الذين يحبون أن تشيع الفاحشة في الذين أمنوا لهم عذاب أليم في الدنيا والأخرة والله يعلم وأنتم لا تعلمون . যারা মু'মিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে , তাদের জন্য রয়েছে দুনিয়া ও আখিরাতে মর্মান্তিক শান্তি এবং আল্লাহ্ জানেন , তোমরা জান না । ( সূরা নূর ২৪ : ১৯ ) যাদু - টোনা , ভবিষ্যত গণনা যাদু - টোনা এমন অদ্ভুত কর্মকাণ্ড , যাতে কুফর , শিক এবং পাপাচার অবলম্বনে জিন ও শয়তানকে সন্তুষ্ট করে তাদের সাহায্য নেওয়া হয় এবং মানুষের ক্ষতিসাধন করা হয় । এ জাতীয় যাদু - টোনা কুীর অন্তর্ভুক্ত । কুরআন শরীফে যাদু - টোনাকে অনিষ্টকর বিদ্যা বলে উল্লেখ করা হয়েছে । এরদ্বারা স্বামী - স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ - বিসম্বাদ সৃষ্টি ও তাদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য বিনষ্ট ছাড়া কোন কল্যাণ সাধিত হয় না ।
( সূরা বাকারা , ২ : ১০২ ) হাদীস শরীফে একে ধ্বংসাত্মক কাজ বলে বর্ণনা করা হয়েছে । জ্যোতিষশাস্ত্র চর্চার মাধ্যমে বা হাতের রেখার উপর ভিত্তি করে ভবিষ্যদ্বাণী করা শরী'আতের দৃষ্টিতে বৈধ নয় । কেননা , ভবিষ্যতের নিশ্চিত জ্ঞান কেবলমাত্র আল্লাহ্ তা'আলারই রয়েছে । এজন্যই আল্লাহ্র রাসূল ( সা ) ইরশাদ করেন : من أتى عرافا فسأله عن شتى لم يقبل له صلوات أربعين ليلة - যে ব্যক্তি গণক বা জ্যোতিষীর কাছে গিয়ে ভবিষ্যত সম্পর্কে কোন কিছু জানতে চায় , চল্লিশ দিন পর্যন্ত তার নামায কবুল হয় না । ১০ অন্য একটি হাদীসে উল্লেখ রয়েছে : المنجم كاهن والكاهن ساحر . জ্যোতিষী হল গণক আর গণক হল যাদুকর । তাই জ্যোতিষী বা গণকের কাছে যাওয়া এবং তাদের ভবিষ্যদ্বাণীতে বিশ্বাস স্থাপন করা ঈমানের পরিপন্থি কাজ । সকল মু'মিনের এ কাজ থেকে বিরত থাকা অপরিহার্য ।
” কূটতর্ক কূটতর্ক লিপ্ত হওয়া নিন্দনীয় ও দূষণীয় কাজ । এতে সত্য উদ্ঘাটিত হওয়ার পরিবর্তে মানুষের মনে জেদের প্রবণতা বৃদ্ধি পায় । জেদের বশবর্তী হয়ে মানুষ প্রতিপক্ষকে জব্দ ও হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চালায় । পরিণামে মানুষের মধ্যে হিংসা - বিদ্বেষ ও দ্বন্দ্ব - কলহের সৃষ্টি হয় ।
