ইহরামের অবস্থায় যা যা করা উত্তম। ইহরাম অবস্থায় যা যা নিষিদ্ধ এবং যা যা মাকরূহ। বিশেষ মাসআলা।

 ইহরামের অবস্থায় যা যা করা উত্তম।ইহরাম অবস্থায় যা যা নিষিদ্ধ এবং  যা যা মাকরূহ।বিশেষ মাসআলা।

ইহরামের আলোচনা। 

* ইহরামের অবস্থায় অধিক পরিমাণে তালবিয়া পড়তে থাকা উত্তম । বিশেষতঃ গাড়ীতে উঠতে , গাড়ী থেকে নামতে , কোন উঁচু স্থানে উঠতে , নীচু স্থানে নামতে , প্রত্যেক নামাযের পর ইত্যাদি মুহূর্তে তালবিয়া পড়া মোস্তাহাব ।  তালবিয়া পুরুষগণ জোর আওয়াজে পড়বেন , তবে এত জোরে নয় যেন নিজের বা কোন নামাযীর বা ঘুমন্ত মানুষের অসুবিধা হয় । 

* ঘর থেকে বের হওয়ার সময় , প্রবেশের সময় সাক্ষাতের সময় , বিদায়ের সময় , উঠতে - বসতে , সকাল - সন্ধ্যায় , মোট কথা যে কোন ভাবে অবস্থার পরিবর্তন হলে সে সময়ে তালবিয়া পড়া মোস্তাহাব ।

 

ইহরাম অবস্থায় যা যা নিষিদ্ধ। ইহরামে যেসব কাজ করা যাবেনা।

* পুরুষের জন্য শরীরের পরিমাপে বানানো হয়েছে- এমন সেলাই যুক্ত পোশাক নিষিদ্ধ । যেমন জামা , পায়জামা , টুপি , গেঞ্জি , মোজা , সোয়েটার ইত্যাদি । মহিলাদের জন্য হাত মোজা , পা মোজা , অলংকার পরিধান করা জায়েয , তবে না করা উত্তম । 

* ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত পুরুষের জন্য মাথা ও চেহারা এবং মহিলাদের জন্য শুধু চেহারা ঢাকা নিষিদ্ধ । মহিলাদের জন্য মাথা ঢাকা রাখা ওয়াজিব । পুরুষগণ কান ও গলা ঢাকতে পারেন । 

* এমন জুতা / স্যাণ্ডেল পরিধান করা নিষিদ্ধ , যাতে পায়ের মধ্যবর্তী উঁচু হাড় ঢাকা পড়ে যায় । মহিলাগণ এরূপ জুতা / স্যাণ্ডেল পরিধান করতে পারেন । 

* সর্ব প্রকার সুগন্ধি ব্যবহার করা নিষিদ্ধ । সুগন্ধি যুক্ত সাবান ব্যবহার করাও নিষিদ্ধ । 

* নখ , চুল , পশম কাটা ও কাটানো নিষিদ্ধ । 

* স্থল ভাগের প্রাণী শিকার করা বা সে কাজে কোন রূপ সহযোগিতা করা নিষিদ্ধ । তবে মশা , মাছি , ছারপোকা , সাপ , বিচ্ছু ইত্যাদি কষ্টদায়ক প্ৰাণী যারা জায়েয । 

* স্ত্রী সহবাস বা এতদসম্পর্কিত কোন আলোচনা , চুমু দেয়া এবং শাহওয়াত ( উত্তেজনা ) সহকারে স্পর্শ করা নিষিদ্ধ । 

* ঝগড়া বিবাদ করা বা কোন গোনাহের কাজ করা নিষিদ্ধ । এগুলো এমনিতেও নিষিদ্ধ ; এহরামের অবস্থায় আরও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ।

 * উকুন মারা নিষিদ্ধ | বিঃ দ্রঃ মহিলাদের জন্য চেহারা ঢাকা নিষিদ্ধ - এর অর্থ এই নয় যে , চেহারা সম্পূর্ণ খোলা রাখতে হবে যাতে পর পুরুষে চেহারা দেখতে পায় , বরং এর অর্থ হল চেহারার সাথে নেকাব বা কোন কাপড় লাগিয়ে রাখা নিষিদ্ধ । তাদের জন্য এহরামের অবস্থায় পর্দাও করা জরুরী , আবার চেহারায় কোন কাপড় বা নেকাব লাগানোও নিষিদ্ধ । 

এর উপায় হল তারা চেহারার সাথে লাগতে না পারে এমন কিছু কপালের উপর বেধে তার উপর নেকাব ঝুলিয়ে দিবে । মহিলাগণ এ ব্যাপারে গাফিলতি করে থাকেন , এরূপ করা চাইনা । 



এহরাম অবস্থায় যা যা মাকরূহ।ইহরামে যেসব করা মাকরুহ। 

* শরীরের ময়লা পরিষ্কার করা মাকরূহ । 

* চুল বা দাড়ি বা শারীরে সাবান লাগানো মাকরূহ । চুল বা দাড়িতে চিরুনি করা মাকরূহ । 

* * এমন ভাবে চুলকানো মাকরূহ যাতে চুল , পশম বা উকুন পড়ে যাওয়ার আশংকা থাকে । এরূপ আশংকা হয় না- এমন আস্তে চুলকানো জায়েয । 

* এমন ভাবে দাড়ি খেলাল করা মাকরূহ যাতে দু'একটা দাড়ি খসে পড়ার আশংকা হয় । 

* এহরামের কাপড় সেলাই করে বা গিরা কিংবা পিন ইত্যাদি দিয়ে আঁটকানো মাকরূহ , তবে কোমরে বেল্ট বাধা জায়েয । টাকার থলি রাখাও জায়েয । 

* বালিশের উপর মুখ দিয়ে উপুড় হয়ে শয়ন করা মাকরূহ । 

* সুগন্ধিযুক্ত খাদ্য যদি পাকানো না হয় তাহলে তা খাওয়া মাকরূহ । পাকানো হলে মাকরূহ নয় । 

* শাহওয়াতের ( উত্তেজনার ) সাথে স্ত্রীর লজ্জাস্থান দেখা মাকরূহ । 

* নাক গাল কাপড় দিয়ে ঢাকা মাকরূহ , তবে হাত দিয়ে ঢাকা যায় । * ইচ্ছাকৃত ভাবে কোন সুগন্ধির ঘ্রাণ নেয়া মাকরূহ । 

* এলাচি , লঙ্গ বা সুগন্ধিযুক্ত তামাক / জর্দা সহকারে পান খাওয়া মাকরূহ ।



বিশেষ আলোচনা। রুগ্ন ব্যক্তির নামায।

 দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা ফরয । নির্ধারিত ওযর ব্যতীত নামায পরিত্যাগ করা যাবে না । কোন অক্ষম বা রোগী যথাযথভাবে নামায আদায় করতে না পারলে , যেভাবেই সম্ভব নামায আদায় করতে হবে । নিম্নে এ ব্যাপারে আলোকপাত করা হলো : এক . যত কঠিন রোগগ্রস্তুই হোক না কেন , যথাসম্ভব ওয়াক্তের মধ্যেই নামায আদায় করতে হবে । 

নামাযের সমুদয় আরকান - আহকাম যথাযথভাবে আদায় করতে সামর্থ্য না হলে ইশারায় হলেও ওয়াক্তের মধ্যেই নামায আদায় করতে হবে । দুই . নামায দাঁড়িয়ে আদায় করতে হবে । শক্তি থাকাবস্থায় বসে নামায আদায় করা যাবে না ।


 পুরো নামায দাঁড়িয়ে পড়ার শক্তি না থাকলে যতটুকু সম্ভব দাঁড়িয়ে পড়ে বাকি নামায বসে পড়া যাবে । কোন অক্ষম রোগী যদি শুধু ' তাক্বীরে তাহ্রীমা ' বলার জন্য দাঁড়াতে সক্ষম হয় তাহলে দাঁড়িয়ে ‘ তাক্বীরে তাহরীমা ' বলে বসে নামায আদায় করতে পারবে । তিন . দাঁড়িয়ে নামায পড়তে কোনক্রমেই সক্ষম না হলে , দুর্বলতার কারণে দাঁড়ালে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে , দাঁড়ালে মাথা ঘুরালে , দাঁড়ালে খুব বেশি কষ্ট হলে বা দাঁড়ালেও রুকূ ' ও সিজ্দা করার শক্তি না থাকলে এসব অবস্থায় বসেই নামায আদায় করতে হবে । চার . বসে নামায পড়া সম্ভব হলে তাশাহ্হুদে বসার ন্যায় বসে নামায পড়তে হবে । 


এভাবে বসা সম্ভব না হলে , যেভাবে সম্ভব , সেভাবে বসেই নামায আদায় করতে হবে । রুকূ ও সিজ্দা করতে সক্ষম না হলে ইশারা করে হলেও নামায আদায় করতে হবে । পাঁচ . ইশারা করতে হবে মাথা দ্বারা । চোখ এবং মুখ দিয়ে ইশারা করা যথেষ্ট নয় ।

 রুকূ'তে যতটুকু , সিজ্দাতে তার চেয়ে বেশি মাথা ঝুঁকাতে হবে । ছয় . বালিশ বা এ জাতীয় কিছু কপাল পর্যন্ত উঁচু করে সিজ্দা করা মাকরূহ । সিজ্দার জন্য মাটি পর্যন্ত কপাল ঝুঁকানো সম্ভব না হলে ইশারা করেই সিজ্দা করতে হবে । সাত . এতই রোগাক্রান্ত যে , বসেও নামায পড়তে অক্ষম বা বসে নামায পড়তে খুবই কষ্ট হয় , রোগ বেড়ে যাওয়ার আশংকা থাকে বা ব্যান্ডেজ খুলে যাওয়ার আশংকা থাকলে শুয়েই নামায আদায় করতে হবে । শুয়ে নামায আদায় করার উত্তম পন্থা হচ্ছে , চিত হয়ে কিবলার দিকে পদদ্বয় রাখতে হবে ।


 পা সটান না করে হাঁটু উঁচু করে রাখতে হয় , আর মাথার নিচে বালিশ বা এ জাতীয় কিছু দিয়ে মাথা একটু উঁচু করতে হয় । শুয়ে ইশারায় রুকূ ' ও সিজ্দা করতে হয় । এও সম্ভব না হলে উত্তরদিকে মাথা দিয়ে কিবলার দিকে মুখ ফিরাতে হয় এবং ডান কাত হয়ে নামায আদায় করতে হয় ।




 এটাও সম্ভব না হলে যেভাবেই সম্ভব নামায আদায় করতে হবে । নামাযের কোন ক্ষমা নেই । আট . রোগীর অবস্থা এত খারাপ যে , ইশারা - ইঙ্গিতেও নামায পড়তে একেবারেই অক্ষম , এমতাবস্থায় নামায পড়া থেকে বিরত থাকতে হবে । সুস্থ হলে কাযা আদায় করতে হবে । এমন অবস্থা পাঁচ ওয়াক্তের বেশি থাকলে কাযা হবে না । 


এ নামায আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা করে দেয়া হবে । এমনিভাবে যে ব্যক্তি দুর্বলতাজনিত কারণে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে এবং এ অবস্থা ছয় ওয়াক্ত নামায পর্যন্ত চললে এসব নামাযের কাযা ওয়াজিব হবে না ।

 কোন সুস্থ লোকও যদি জ্ঞান হারিয়ে ছয় ওয়াক্ত পর্যন্ত থাকে , তা হলে তার জন্য এসব নামায ক্ষমা করে দেয়া হবে ; কাযা করতে হবে না । নয় . নামাযরত অবস্থায় কেউ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে , দাঁড়িয়ে নামায পড়তে না পারলে বসে পড়তে হবে , বসে না পারলে শুয়ে বা ইশারা করে বাকি নামায আদায় করতে হবে । দশ , চলন্ত নৌকা , জাহাজ , রেলগাড়ি , বিমান বা এ ধরনের কোন যানে দাঁড়িয়ে নামায

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post