নামাযের ফিদিয়ার মাসায়েল। উমরী কাযার মাসায়েল। ফিদিয়া সংক্রান্ত আলোচনা।

 নামাযের ফিদিয়ার মাসায়েল।উমরী কাযার মাসায়েল।ফিদিয়া সংক্রান্ত আলোচনা। 


নামাজের ফিদিয়ার আলোচনা। 

নামাযের ফিদিয়ার মাসায়েল।

* যদি কারও নামায ছুটে গিয়ে থাকে এবং তার কাযা করার পূর্বে মৃত্যু এসে পড়ে , তাহলে মৃতের ঐ সব নামাযের জন্য ফেদিয়া দেয়ার ওছিয়াত করে যাওয়া তার উপর ওয়াজিব । এরূপ অবস্থায় ওয়ারিছগণ তার পরিত্যাক্ত সম্পত্তি থেকে এই ফেদিয়া আদায় করবে । 


পরিত্যাক্ত সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশের মধ্যে ফেদিয়া আদায় হলে তা আদায় করা ওয়ারিছদের উপর ওয়াজিব । এক তৃতীয়াংশের মধ্যে আদায় না হলে যতটুকু অতিরিক্ত প্রয়োজন হবে তা সকল ওয়ারিছদের সম্মতিতে হতে হবে । তবে না - বালেগদের সম্মতি হলেও তার অংশ থেকে নেয়া যাবে না। ছদকায়ে ফিতর বা ফিতরার পরিমাণ যা , নামাযের ফেদিয়ার পরিমাণও তাই । প্রতি ওয়াক্ত ফরয নামায এবং বিতর নামাযের বদলে এক একটা ফেদিয়া আদায় করতে হবে । প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্ত নামায এবং বিতর নামায এই ছয়টা নামাযের অর্থাৎ , প্রতিদিনের ছয়টা ফেদিয়া আদায় করতে হবে । 

* ছদকায়ে ফিতির যাদেরকে দেয়া যায় নামাযের ফেদিয়াও তাদেরকে দেয়া যায় । *  

* মৃত ব্যক্তির যিম্মায় কাযা রয়ে গেছে , কিন্তু তিনি ওছিয়াত করে যাননি , এমতাবস্থায় তার বালেগ উত্তরসূরীগণ যদি নিজেদের সম্পত্তি থেকে স্বেচ্ছায় তার ফেদিয়া আদায় করে তাহলেও আশা করা যায় আল্লাহ এর ওছীলায় মৃতকে ক্ষমা করবেন ! 



উমরী কাযার মাসায়েল। তদসংশ্লিষ্ট আলোচনা। 

* যদি কোন লোক শয়তানের ধোকায় পড়ে জীবনের প্রথম দিকে বা কোন একটা দীর্ঘ সময় বহু নামায ছেড়ে দিয়ে থাকে এবং পরবর্তীতে সে নিয়মিত নামায পড়া শুরু করে , তাহলে বিগত জীবনের এই ছেড়ে দেয়া নামাযগুলো শুধু তওবা দ্বারা মাফ হয়ে যাবে না বরং সব নামাযের কাযা পড়া ওয়াজিব । সাধারণভাবে জীবনের এরূপ দীর্ঘ ছুটে যাওয়া নামাযের কাযাকে ' উমরী কাযা ' বলা হয় ।  

* বালেগ হওয়ার পর থেকে যত নামায ছুটে গিয়েছে তার একটা হিসাব করে সবগুলোর কাযা করতে হবে । যথাশীঘ্রই সম্ভব এবং যতবেশী করে সম্ভব এই কাযাগুলো পড়ে নিবে । এক এক ওয়াক্তে কয়েক ওয়াক্তের কাযা পড়ে নিতে পারলেও পড়ে নিবে । এক এক ওয়াক্তে কয়েক ওয়াক্তের কাযা পড়ে নিতে পারলে ভাল । জোহরের কাযা জোহরের ওয়াক্তে , আসরের কাযা আসরের ওয়াক্তে এমনিভাবে ওয়াক্তের কাযা সেই ওয়াক্তেই পড়া জরুরী নয় । 

* উম্মী কাযার নিয়তের মধ্যেও কোন্ নামাযের কাযা করছে তা নির্দিষ্ট করে নিতে হবে । সাধারণভাবে কোন্ দিন কোন্ তারিখের নামায কাযা পড়া হছে তা মনে করা এবং নির্দিষ্ট করা মুশকিল , তাই নিয়তের মধ্যে নির্দিষ্ট করার সহজ উপায় হল এরূপ নিয়ত করবে - আমার যিম্মায় যতগুলো ফজরের নামায কাযা রয়েছে তার প্রথমটা কাযা করার নিয়ত করছি । এমনিভাবে জোহরের নামাযের কাযা করার ক্ষেত্রেও অনুরূপ নিয়ত করবে যে , আমার যিম্মায় যতগুলি জোহরের নামাযের কাযা রয়েছে তার প্রথমটা কাযা করার নিয়ত করছি । এরূপ প্রত্যেক ওয়াক্তের কাযা করার ক্ষেত্রে এ রকম নিয়ত করে কাযা করতে থাকবে । 



বিশেষ আলোচনা। তাহনীকের উপকারিতা।

 তাহ্নীকের একটি উপকারিতা হল , নবজাতকের মুখে চর্বিত , বন্ধু ঢেলে দেওয়ার পর জিহ্বা দ্বারা নড়াচড়ার কারণে তার দাঁতের মাড়ি মজবুত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে । সাথে সাথে মাতৃত্তন্যে মুখ লাগানোর প্রতি সে উদ্বুদ্ধ হয়ে উঠবে এবং পূর্ণশক্তি দিয়ে মাতৃদুগ্ধ পান করতে সে অভ্যস্ত হয়ে উঠবে ।  শিশু - কিশোর পরিচর্যায় ইসলাম ১৩৫ এ ছাড়াও তাহনীকে ব্যবহার্য খেজুর ও মধুতে বহুবিধ উপকারিতা রয়েছে । বৈজ্ঞানিক গবেষণায় খেজুর ও মধুর ব্যাপক খাদ্যপ্রাণ ও পুষ্টিমান প্রমাণিত । এহেন পুষ্টিবহুল বস্তুর সাথে নবজাতক শিশুকে জীবনের সূচনালগ্নেই সম্পৃক্ত করাও তাহ্নীকের একটি বিরাট হিকমাত নবজাতক শিশুকে শালদুধ পান করানো করুণাময় আল্লাহ্ তা'আলা মানবজাতিকে ' আশরাফুল মাখলুকাত ' বলে ঘোষণা করেছেন , মানুষকে সৃষ্টি করার পর তার লালন - পালনের যাবতীয় ব্যবস্থা তিনিই করেন ।


 একটি নবজাতক শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার লালন পালনের ব্যবস্থা করে দেন । শিশুর মাতার বুকে নবজাত শিশুর জন্য দুধ সৃষ্টি করে রাখেন যা হাল্কা মিষ্টি ও উষ্ণ , যা নবজাত শিশুর নাজুক অবস্থার উপযোগী । গর্ভ অবস্থার শেষ পর্যায়ে এবং প্রসবোত্তর ২-৪ দিন মায়ের স্তন্য হতে যে গাঢ় হলুদ রংয়ের দুধ আসে তাকে শালদুধ বা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় কোলোস্টাম ' বলে । এ দুধ পরিমাণে খুব অল্প ।


 কিন্তু এই সামান্য দুধ নবজাতকের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ । শালদুধ হলুদ বর্ণ এবং অত্যন্ত গাঢ় প্রকৃতির হয়ে থাকে বলে কেউ কেউ এ দুধকে ক্ষতিকর বলে মনে করে । অথচ হাদীসে রাসূল ( সা ) এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোকে প্রমাণিত যে , এ দুধ শিশুর জন্য অত্যন্ত উপকারী ৪৭ শালদুধে স্নেহ ও শর্করার পরিমাণ কম । কিন্তু খনিজ লবণ , 


লৌহ ও আমিষের পরিমাণ সাধারণ দুধের চেয়ে বেশি , যা নবজাতকের পুষ্টিমান যথার্থ রাখার পাশাপাশি একটি উত্তম রেচক হিসাবেও কাজ করে থাকে । পুষ্টিমান রক্ষার পাশাপাশি শালদুধে থাকে প্রচুর পরিমাণে ইমিউনোগ্লোবিউলিন বা রোগ প্রতিরোধকারী এন্টিবডি উপাদান । এর মধ্যে ' আইজি - এ ' এবং ‘ আইজ - জি ' বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য । 


এই উপাদানসমূহ শিশুর স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করে থাকে । তুলনামূলক গবেষণায় দেখা যায় যে , শালদুধ এবং সেই সাথে মায়ের দুধগ্রহণকারী শিশুদের এলার্জি , ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসজনিত সংক্রমণ , ডায়রিয়া , যক্ষ্মা , মেনিনজাইটিস , অন্ধ্রপ্রদাহ জাতীয় রোগের প্রাদুর্ভাব অন্য শিশুদের তুলনায় অনেক কম । শালদুধে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন - ' ই ' এবং ভিটামিন - ' এ ' । উভয় ভিটামিনই দীর্ঘদিন শিশুর যকৃতে জমা থাকে । ভিটামিন - ‘ ই ’ শরীরে এন্টি অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে থাকে । 



বিশেষ করে এই ভিটামিন নির্দিষ্ট সময়ের আগে জন্মগ্রহণকারী শিশুদের লোহিত কণিকার ভাঙ্গন প্রবণতারোধে সহায়তা করে থাকে । ভিটামিন ' এ ' চোখের রঞ্জক তৈরি , দাঁত , হাড়ের গড়নে সহায়তা , শরীরের আন্তঃ ও বহিঃ আবরণীর কোষকে রক্ষা করার পাশাপাশি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে । বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা গেছে যে , পর্যাপ্ত শালদুধ ও মায়ের দুধ গ্রহণকারী শিশুদের শ্বাসনালীর সংক্রমণের হার অন্য শিশুদের চাইতে অনেক কম । মায়ের দুধ পানের মাধ্যমে মা - শিশুর অকৃত্রিম বন্ধন তৈরি হয় । এই সংযোগ মা - শিশুর বন্ধন এবং মায়ের সাথে শিশুর মনস্তাত্ত্বিক সংযোগ তৈরিতে বিশেষভাবে সহায়ক । তাই শালদুধ।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post