কাযা নামাজের মাসাঈল।কাযা হওয়া নামাজ কখন এবং কিভাবে আদায় করবে।তদসংশ্লিষ্ট আলোচনা।
![]() |
| কাযা নামাজের মাসাঈল। |
* কারও কোন ফরয নামায ছুটে গেলে স্মরণ আসা মাত্রই কাযা পড়া ওয়াজিব - বিনা ওজরে কাযা করতে বিলম্ব করা পাপ ।
* কাযা নামায পড়ার জন্য কোন নির্দিষ্ট সময় নেই- হারাম ও মাকরূহ ওয়াক্ত ছাড়া যে কোন সময় পড়া যায় ।
* কারও যদি এক , দুই , তিন , চার বা পাঁচ ওয়াক্ত নামায কাযা হয় এবং এর পূর্বে তার কোন কাযা নেই , তাহলে তাকে ' ছাহেবে তারতীব ' বলে । তাকে দুই ধরনের তারতীব রক্ষা করতে হবে
( ১ ) ওয়াক্তিয়া নামাযের পূর্বে এই কাযাগুলো পড়ে নিতে হবে , অন্যথায় ওয়াক্তিয়া নামায শুদ্ধ হবে না ।
( ২ ) এই কাযা নামাযগুলোও ধারাবাহিকভাবে ( আগেরটা আগে এবং পরেরটা পরে ) পড়তে হবে । ছাহেবে তারতীবের জন্য এই ধরনের তারতীব রক্ষা করা ফরয । যদি কারও যিম্মায় ছয় বা আরও বেশী ওয়াক্তের কাযা থাকে তাহলে সে কাযা রেখে ওয়াক্তিয়া নামায পড়তে পারে এবং কাযা নামাযগুলিও তারতীব ছাড়া পড়তে পারে , সে ছাহেবে তারতীব থাকে না ।
* কারও যিম্মায় ছয় বা ততোধিক নামায কাযা ছিল সে কারণে সে ছাহেবে তারতীব ছিল না , সে সব কাযা পড়ে ফেলল , তাহলে সে এখন থেকে আবার ছাহেবে তারতীব হবে । অতএব আবার যদি পাঁচ ওয়াক্ত পর্যন্ত কাযা হয় তাহলে আবার তারতীব রক্ষা করা ফরয হবে ।
* বহু সংখ্যক নামাযের অল্প অল্প করে কাযা পড়তে পড়তে পাঁচ ওয়াক্ত বা তার কম চলে আসলেও তারতীব ওয়াজিব হবে না ।
* তিন কারণে তারতীব মাফ হয়ে যায় । ( ১ ) ওয়াক্ত যদি এত সংকীর্ণ হয় যে , আগে কাযা পড়তে গেলে ওয়াক্তিয়া নামাযের সময় থাকে না , তাহলে আগে ওয়াক্তিয়া নামায পড়ে নিবে
( ২ ) কাযা নামায যদি পাঁচ ওয়াক্তের অধিক হয় ।
( ৩ ) যদি আগে কাযা পড়তে ভুলে যায় ।
* শুধু ফরয এবং বেতরের কাযা পড়ার নিয়ম । নফল বা সুন্নাতের কাযা হয় না । তবে কোন নফল বা সুন্নাত শুরু করে পূর্ণ না করেই ছেড়ে দিলে তার কাযা করতে হবে । সুন্নাতের মধ্যে ফজরের সুন্নাতের ব্যাপারে কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে।
* যদি কোন কারণ বশতঃ দলশুদ্ধ লোকের নামায কাযা হয়ে যায় তাহলে তারা ওয়াক্তিয়া নামায যেমন জামা'আতে পড়ত তদ্রূপ কাযা নামাযও জামা'আতে পড়বে । ছিরিয়া নামাযের কাযার মধ্যে কিরাত চুপে চুপে পড়বে এবং জিরিয়া নামাযের কাযার মধ্যে কেরাত উচ্চস্বরে পড়বে ।
বিশেষ আলোচনা।নবজাতকের জন্য করণীয়।
নবজাতকের জন্য তিনটি কর্তব্যকর্মের প্রথমটি হল তাকে উত্তমরূপে গোসল করিয়ে শরীরে লেগে থাকা ময়লা পরিষ্কার করা । অবশ্য শীতকালে গোসল করানোর ব্যাপারে খুব সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে যেন তাকে ঠাণ্ডায় আক্রমণ করতে না পারে । গোসলের সময় খুব লক্ষ্য রাখবে যেন পানি তার নাক , কান এবং মুখে প্রবেশ করতে না পারে ।
গোসলের পরপরই শরীর পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে নিতে হবে এবং আবহাওয়া অনুযায়ী নরম জাতীয় কাপড় দ্বারা ঢেকে দিতে হবে । শিশুকে বেশি আলোকোজ্জ্বল স্থানে রাখবে না । অধিক আলোর প্রভাবে শিশুর চোখের জ্যোতি হ্রাস পেতে পারে । শিশুকে এক পার্শ্বে বেশিক্ষণ শুইয়ে রাখবে না এবং কোন একদিকে দীর্ঘসময় তাকিয়ে থাকতে দেবে না ।
এর ফলে শিশুর রাতকানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা থাকে । কোলের শিশুকে একা ঘরে রেখে কোথাও যাবে না । এতে অবাঞ্ছিত কোন ঘটনা ঘটে যেতে পারে ।
কানে আযান ও ইকামাত বলা গোসল করানোর পর শিশুর ডান কানে আযান ও বাম কানে ইকামাত দেওয়া । হাদীস শরীফে উল্লেখ রয়েছে : عن أبي رافع رضي الله عنه قال رأيت رسول اللہ ﷺ اذن في أذن حسن بن علي حين ولدته فاطمة بالصلوة . হযরত আবূ রাফি ' ( রা ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন , আমি রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) -কে দেখেছি যে , হযরত ফাতিমা ( রা ) -এর গর্ভ থেকে হযরত হাসান ( রা ) জন্ম হলে রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) তাঁর কানে নামাযের আযানের মত আযান দিয়েছিলেন । উক্ত আযানে shall ster বলার সময় ডানদিকে আর philiate এ বলার সময় বামদিকে মুখ ফিরিয়ে নেবে ।
অপর হাদীসে উল্লেখ রয়েছে : শিশু - কিশোর পরিচর্যায় ইসলাম ১৩৩ عن ابن عباس رضي الله عنه أن النبی ﷺ اذن في أذن الحسن بن علي يوم ولد وأقام في أذنه اليسرى হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন আব্বাস ( রা ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন , হাসান ইব্ন আলী ( রা ) -এর জন্মগ্রহণের দিন রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) তাঁর ডান কানে আযান ও বাম কানে ইকামাত দিয়েছিলেন ।
১৯ নবজাতকের ডান কানে আযান ও ৰাম কানে ইকামাত - দিলে মাতৃকা রোগ তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না । হাদীসে বর্ণিত আছে : عن الحسن بن علي رضي الله عنه عن النبي ﷺ قال من ولدله مولود فاذن في أذنه اليمنى وأقام في أذنه اليسرى لم نصرة أم الصبيان হযরত হাসান ইবন আলী ( রা ) থেকে বর্ণিত , রাসূলুল্লাহ ( সা ) ইরশাদ করেন : যার কোন নবজাতক জন্মগ্রহণ করবে আর সে নবজাতকের ডান কানে আযান আর বাম কানে ইকামাত দিলে মাতৃকা রোগ সে নবজাতকের কোনই ক্ষতি করতে পারবে না ।
80 কানে আযান ও ইকামাত দেওয়ার হিকমত বর্ণনা করে কেউ কেউ বলেছেন যে , নবজাতকের কানে আযান ও ইকামাত দেওয়ার অর্থ হল , তাকে এ কথা জানিয়ে দেওয়া যে , আযান ও ইকামাত হয়ে গেছে এখন শুধু নামাযের অপেক্ষা , নামায শুরু হতে যে সামান্য সময় বাকী।
