হযরত মুহাম্মাদ সাঃ এর জন্ম এবং শৈশবকাল।অলৌকিক এক উপাখ্যান।ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট।
![]() |
| হযরত মুহাম্মাদ সাঃ এর জীবনী। |
রাসুল সাঃ এর বংশ পরিচয়।বিস্তারিত আলোচনা।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর পবিত্র বংশ সারা বিশ্বের সবচেয়ে সম্ভ্রান্ত ও পবিত্র বংশ । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর এই বংশগত মর্যাদা এমন একটি বিষয় , মক্কার কোনো কাফির এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর কোনো দুশমনও তা অস্বীকার করতে পারেনি । হযরত আবু সুফিয়ান রাঘি , কাফির থাকা অবস্থায় রোম সম্রাটের সামনে অকপটে এ বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন । অথচ সে সময় তিনি এটাই চেয়েছিলেন , যদি সুযোগ হয় তাহলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর উপর কোনো না কোনো দোষ চাপাবেন । দালায়েলে আবূ নাঈমে মারফূ রিওয়ায়েতে বর্ণিত আছে যে , হযরত জিবরাঈল আ বলেছেন , “ আমি প্রাচ্য থেকে পাশ্চাত্য পর্যন্ত ভ্রমণ করেছি , কিন্তু বনি হাশিম অপেক্ষা উত্তম কোনো বংশ দেখিনি ” । ( মাওয়াহিব )
মুহাম্মাদ সাঃ এর পিতার বংশধারা।বিস্তারিত আলোচনা।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর পিতার দিক থেকে বংশধারা হল : মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম ইবনে আবদে মানাফ ইবনে কুসাঈ ইবনে কিলাব ইবনে মুররাহ ইবনে কাব ইবনে লুওয়াই ইবনে গালিব ইবনে ফিহর ইবনে মালিক ইবনে নযর ইবনে কিনানা ইবনে খুযাইমা ইবনে মুদরিকা ইবনে ইলিয়াস ইবনে মুযার ইবনে নিযার ইবনে মাআদ ইবনে আদনান । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর বংশধারা এ পর্যন্ত সর্বসম্মতিভাবে প্রমাণিত । এখান থেকে আদম আলাইহিস সালাম পর্যন্ত বংশ তালিকা সর্বসম্মত নয় । তাই এখানে তা উল্লেখ করা হলো না ।
মুহাম্মাদ সাঃ এর মাতৃকুল বংশধারা।ধারাবাহিক আলোচনা।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর মায়ের বংশধারা হল : মুহাম্মদ ইবনে আমিনা বিনতে ওহাব ইবনে আবদে মানাফ ইবনে যুহরা ইবনে কিলাব । এ বংশধারা দ্বারা বুঝা গেল , কিলাব ইবনে মুররা পর্যন্ত গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর পিতা ও মাতা উভয়ের বংশ একত্রে মিলে যায় ।
জন্মের পূর্বেই বরকত প্রকাশ সূর্য উদিত হওয়ার পূর্বক্ষণে সুবহে সাদিকের দিগন্ত বিস্তৃত আলোকরশ্মি অতঃপর রক্তিম আভা যেমন বিশ্বজগতকে সূর্যোদয়ের সুসংবাদ প্রদান করে , তেমনি নবুয়তের সূর্য উদয়ের সময় যখন ঘনিয়ে এল , তখন পৃথিবীর দিক দিগন্তে এমন বহু ঘটনা ঘটতে লাগল , যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর আগমনী বার্তা প্রচার করছিল ।
মুহাদ্দিস ও ঐতিহাসিকদের পরিভাষায় এগুলোকে ইরহাসাত ( অপেক্ষমান নিদর্শন ) বলা হয় । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর মায়ের বর্ণনা , নবীজী তাঁর গর্ভে আসার পর একদিন স্বপ্নে তাকে সুসংবাদ দেওয়া হল , তোমার গর্ভের সন্তানটি এই উম্মতের কর্ণধার । ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর তার জন্য তুমি এই দুআ করবে , আমি একে এক আল্লাহর আশ্রয়ে সোপর্দ করছি । আর তার নাম মুহাম্মদ রাখবে ।
তিনি আরো বলেন , মুহাম্মদ আমার গর্ভে থাকা অবস্থায় আমি একটি নূর দেখতে পেলাম । যার আলোকে বসরা ও সিরিয়ার প্রাসাদসমূহ আমার চোখের সামনে ভেসে উঠে ।
( ইবনে হিশাম ) তিনি আরও বলেন আমি কোনো মহিলাকে মুহাম্মদ অপেক্ষা সহজ ও আরামদায়ক গর্ভধারণ করতে আর দেখিনি । গর্ভাবস্থায় মহিলাদের সাধারণত যে মাথা ঘোরা , বমিভাব ও অলসতা প্রভৃতি উপসর্গ দেখা দেয় , আমি তার কিছুই অনুভব করিনি ।
শুভ জন্ম অধিকাংশ আলেমগণই একমত , যে বছর আসহাবে ফীল বাইতুল্লাহ শরীফ আক্রমণ করে এবং আল্লাহ তাআলা ক্ষুদ্র এক ঝাঁক পাখি দ্বারা তাদের ধ্বংস করেন , ( যে ঘটনার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা কুরআন মাজিদেও রয়েছে ) ঠিক সে বছরের রবিউল আউয়াল মাসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্মগ্রহণ করেন ।
বস্তুত আসহাবে ফীলের ঘটনাটিও ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর দুনিয়ায় আগমনের বরকত সমূহের ভূমিকা মাত্র । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে ঘরে জন্মলাভ করেন , পরবর্তীতে সে ঘরটি হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের ভাই মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফের হাতে এসেছিল । ( সীরাতে মুগলতাঈ ৫ ) কোনো কোনো ঐতিহাসিকের মতে আসহাবে ফীলের ঘটনাটি ঘটেছিল ৫৭১ সনের ২০ শে এপ্রিল । এ থেকে প্রতীয়মান হয় , নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর জন্ম হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম - এর জন্মের ৫৭১ বছর পরে হয়েছিল ।
( দুরূসুত তারীখ আল ইসলামী : ১৪ ) সর্বসম্মত মতানুসারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর পুণ্যময় জন্ম রবিউল আউয়াল মাসের সোমবারে হয় । কিন্তু তারিখ নির্ধারণের ব্যাপারে ৪ টি বর্ণনা প্রসিদ্ধ । হাফেয মুগলতাঈ রহ . ২ তারিখ গ্রহণ করে দ্বিতীয় বর্ণনাকে দুর্বল গণ্য করেছেন । কিন্তু প্রসিদ্ধ বর্ণনা হল ১২ তারিখ ।
হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ পৃথিবীতে শুভাগমন করেন । এদিকে পৃথিবীর দিকে দিকে নবুয়তের সূর্যকিরণ আত্মপ্রকাশ করতে লাগল , ওদিকে পারস্যের রাজপ্রাসাদে ভূমিকম্প হতে শুরু করল । যার ফলে প্রাসাদের চৌদ্দটি গম্বুজ ভেঙ্গে পড়ল । হঠাৎ শুকিয়ে গেল পারস্যের খরস্রোতা শ্বেতসাগর । নিস্তেজ হয়ে গেল এক হাজার বছর ধরে প্রজ্বলিত পারসিকদের সেই অগ্নিকুণ্ড , যা প্রজ্জ্বলনের পর এক মুহূর্তের জন্যও হাজার বছরে একবারও নির্বাপিত হয়নি । ( সীরাতে মুগলতাঈ : ৫ ) বস্তুত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর জন্মকালীন এসব আশ্চর্য ঘটনা ছিল অগ্নিপূজা , মূর্তিপূজা ও অন্যসব গোমরাহীর পরিসমাপ্তির ঘোষণা এবং পারস্য ও রোমসাম্রাজ্যের পতনের প্রতি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত ।
মুহাম্মাদ সাঃ এর পিতার ইন্তিকাল।বিস্তারিত আলোকপাত।
এক রেওয়ায়েতে এরূপও আছে , তাঁর জন্যের ৭ মাস পর তাঁর পিতার মৃত্যু ঘটে । কিন্তু যাদুল মাআদ - এ ইবনে কাইয়ুম রহ . এ অভিমত দুর্বল বলে অভিহিত করেছেন । বিভিন্ন সহি হাদীসে আছে , নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর জন্মের সময়
মুহাম্মাদ সাঃ এর মায়ের ইন্তিকাল।বিস্তারিত আলোকপাত।
মায়ের ইনতেকাল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - এর বয়স যখন চার কিংবা ছয় বছর , তখন মদিনা থেকে ফেরার পথে আবওয়া নামক স্থানে মা আমিনা দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়ে যান । ( সীরাতে মুগলভাঈ ১০ ) ছয় বছরের শিশু ।
মাথার উপর থেকে পিতার স্নেহছায়া তো জন্মের আগেই বিদায় নিয়েছে । এবার জননীর মমতার কোলেরও পরিসমাপ্তি ঘটল । কিন্তু যে রহমতের কোলে লালিত হবেন এ এতিম , তিনি তো এ সকল উপায় উপকরণের মুখাপেক্ষী নন । দাদার ইনতেকাল পিতামাতা হারিয়ে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাদা আব্দুল মুত্তালিবের আশ্রয়ে লালিত - পালিত হচ্ছিলেন ।
কিন্তু মহান আল্লাহ তাআলা দেখাতে চেয়েছিলেন , এই শিশু একমাত্র রহমতের কোলেই পালিত হবেন । জাগতিক উপায় উপকরণের মূল নিয়ামক যাঁর হাতে তিনি নিজেই এই শিশুর জিম্মাদার । যেদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর বয়স ৮ বছর ২ মাস ১০ দিনে উপনীত হল , সেদিন দাদা আব্দুল মুত্তালিবও চিরবিদায় গ্রহণ করেন । সিরিয়া সফর দাদার ইনতেকালের পর আপন চাচা আবু তালিব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -
এর লালন - পালনের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন । চাচার কাছে নবীজি বড় হতে লাগলেন । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর বয়স যখন বার বছর দু'মাস দশ দিন তখন চাচা আবু তালিব ব্যবসা উপলক্ষে সিরিয়া সফর করার মনস্থ করলেন ।
দশ দিন তখন চাচা আবু তালিব ব্যবসা উপলক্ষে সিরিয়া সফর করার মনস্থ করলেন । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সাথে নিয়ে তিনি সিরিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন । পথে তায়মা নামক স্থানে যাত্রা বিরতি করলেন ।
ইয়াহুদি পণ্ডিতের ভবিষ্যৎবাণী।গুরুত্বপূর্ণ মূহুর্ত।
চাচার সঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তায়মায় অবস্থান করছিলেন । ঘটনাক্রমে এক ইহুদি পণ্ডিত যাকে বুহায়রা পাদ্রী বলা হত , রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর কাছ দিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন ।
তাকে দেখে ইহুদি পণ্ডিত আবু তালিবকে জিজ্ঞাসা করলেন , আপনার সঙ্গের এই ছেলেটি কে ? আবু তালিব বললেন , এ আমার ভাতিজা । বুহায়রা বললেন , এ ছেলেটির প্রতি কি আপনার মমতা আছে ? আপনি কি একে রক্ষা করতে চান ? আবু তালিব বললেন , অবশ্যই । বুহায়রা এবার আল্লাহর শপথ করে বললেন , আপনি একে যদি সিরিয়া নিয়ে যান , তাহলে ওখানকার ইহুদিরা নির্ঘাত একে খুন করবে । কারণ , বালকটি আল্লাহর নবী , যিনি ইহুদিদের ধর্মকে রহিত করে দেবেন ।
এর যাবতীয় গুণাগুণ আমি আসমানি কিতাবে দেখতে পেয়েছি । বুহায়রা যেহেতু তাওরাতের আলেম ছিলেন এবং তাওরাতে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর দৈহিক আকার - আকৃতির পূর্ণ বিবরণ ছিল , তাই তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখে চিনে ফেলেছিলেন- এ বালকই সেই শেষনবি , যিনি তাওরাতকে রহিত এবং ইহুদি পণ্ডিতদের রাজত্ব খতম করে দেবেন । বুহায়রার কথা শুনে আবু তালিব শঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মক্কায় ফেরত পাঠিয়ে দেন ।
বিশেষ আলোচনা।কন্যা সন্তানের প্রতি ইসলামের বিশেষ বিবেচনা।
ইসলাম সন্তানকে চোখ জুড়ানো সম্পদ বলে বিবেচনা করে থাকে । সন্তান পুত্র হোক বা কন্যা হোক , আচরণের ক্ষেত্রে এ দু'য়ের মধ্যে কোনরূপ পার্থক্য করা ইসলাম সমর্থন করে না ।
মহানবী ( সা ) ছেলে ও মেয়ের মধ্যে পার্থক্য বিধান এবং মেয়েদের উপরে ছেলেদের অহেতুক প্রাধান্যদানে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন । হাদীস শরীফে বর্ণিত রয়েছে : عن ابن عباس رضي الله عنه قال قال رسول اللہ ﷺ من كانت له أنثى فلم يادها ويهنها ولم يوثر ولده عليها يعني الذكور أدخله الله الجنة . হযরত ইবন আব্বাস ( রা ) থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন , রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) বলেছেন : যার তত্ত্বাবধানে কোন শিশু বালিকা থাকে আর সে তাকে জীবিত দাফন না করে , তার প্রতি তাচ্ছিল্য প্রদর্শন না করে এবং বালকদেরকে তার উপর কোনরূপ প্রাধান্য না দেয় , আল্লাহ্ তা'আলা তাকে জান্নাতে দাখিল করবেন । ইসলাম কন্যা সন্তানের প্রতি তাচ্ছিল্য প্রদর্শন কঠোরভাবে নিষেধ করেছে ।
কুরআন মার্জীদের বিভিন্ন স্থানে তাদের মর্যাদার কথা উল্লেখ রয়েছে । এমনকি কুরআন মাজীদে ' সূরাতুন নিসা ' নামে একটি স্বতন্ত্র সূরা স্থান পেয়েছে । সূরা আলে ইমরান , নিসা , মারইয়াম , নূর , আহ্যাব - এ কন্যা সন্তানের অধিকার সম্পর্কে বিশেষভাবে আলোচনা করা হয়েছে । ইরশাদ হয়েছে : فاستجاب لهم ربهم انى لا أضيع عمل عامل منكم من ذكر أو أنثى بعضكم من بعض . তারপর তাদের প্রতিপালক তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে বলেন , আমি তোমাদের মধ্যে কর্মনিষ্ঠ কোন নর অথবা নারীর কর্ম বিফল করি না । তোমরা একে অপরের অংশ ।
( সূরা আলে ইমরান , ৩ : ১৯৫ ) মহানবী ( সা ) পিতার অন্তরে কন্যা সন্তানের প্রতি গভীর মমত্ববোধ জাগ্রত করার উদ্দেশ্যে বহু উপদেশ দিয়েছেন । তিনি বলেছেন : “ যে ব্যক্তি তিনটি কন্যা সন্তান অথবা তিন বোন প্রতিপালন করল , তাদেরকে শিষ্টাচারিতা শিক্ষা দিল এবং তাদের প্রতি দয়া করল , অবশেষে আল্লাহ্ তা'আলা তাদেরকে মুখাপেক্ষীহীন করে দিলেন ।
তাহলে তার জন্য আল্লাহ্ জান্নাত অবধারিত করে দিবেন । " তখন জনৈক সাহাবী জিজ্ঞাসা করলেন , হে আল্লাহর রাসূল ! দু'টি কন্যা সন্তান প্রতিপালন করলে ? তিনি উত্তরে বললেন : দু'টি করলেও । বর্ণনাকারী বলেন , এমনকি তারা যদি একটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন তবে তিনি একটি সম্পর্কেও এরূপ বলতেন ।
তিনি আরও বলেছেন : কন্যা সন্তান সুগন্ধি ফুল । আমি তার সুগন্ধি গ্রহণ করি আর তার রিযিক তো আল্লাহর হাতে । মহানবী ( সা ) আরও বলেছেন : তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম যার প্রথম সন্তান মেয়ে। হযরত আনাস ( রা ) বলেন মহানবী ( সা ) বলেছেন : যে ব্যক্তি দু'টি কন্যা সন্তানকে বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়া পর্যন্ত প্রতিপালন করবে , তিনি তাঁর হাতের আঙ্গুলগুলো একত্র করে বললেন , কিয়ামতের দিন আমি এবং সে এরূপ কাছাকাছি থাকব । ” হাদীস শরীফে আরও বর্ণিত আছে , রাসূলুল্লাহ ( সা ) বলেন : যে ব্যক্তিকে কন্যা সন্তান প্রতিপালনের দায়িত্ব দেওয়া হয় আর সে তাদেরকে সুন্দরভাবে প্রতিপালন করে , সে কন্যা সন্তানগুলো তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে আড় স্বরূপ হবে ।
