যার কোন সন্তান হয় না তার জন্য কিছু কথা।গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা।
![]() |
| যার কোনো সন্তান হয়না। |
যার ছেলে মেয়ে কোন সন্তানই হয় না তাকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো চিন্তা করতে হবে
১. সন্তান না হওয়াই তার জন্য ভাল । আল্লাহ পাক প্রত্যেকেরই কল্যাণ চান এবং সব কিছুর রহস্য তাঁর জানা আছে । সে মতে তার সন্তান না হওয়ার মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে , যা আল্লাহ অবগত আছেন ।
২. সন্তান থাকলে যে সব পেরেশানী হয় সেগুলো চিন্তা করে মনে করবে যে , আল্লাহ আমাকে সে সব পেরেশানী থেকে মুক্তি দিতে চেয়েছেন ।
বস্তুতঃ সন্তান দেয়া যেরকম আল্লাহর নেয়ামত , সন্তান না দেয়াও এক একম নেয়ামত । সুতরাং সন্তান না হওয়ার জন্য শুকরিয়ার মনোভাব রাখতে হবে না শুকরিয়ার মনোভাব নয় । সন্তান না হওয়ার কারণে স্ত্রীর প্রতি অসন্তুষ্ট হওয়া অন্যায় । কারণ এটা স্ত্রীর এখতিয়ারভুক্ত বিষয় নয় , এটা স্ত্রীর কোন অন্যায় নয় । এজন্য আল্লাহর প্রতিও নারাজ হওয়া যাবে না । কেননা আল্লাহ হয়ত এরই মধ্যে তার কল্যাণ নিহিত রেখেছেন ।
৪. একথা মনে করবে না যে , সন্তান ও বংশধর না থাকলে আমার নাম টিকে থাকবে না । মূলতঃ আল্লাহর প্রিয় বান্দা হতে পারলেই নাম টিকে থাকে , সন্তান দ্বারা নয় বরং সন্তান হয়ে যদি খারাপ হয় তাহলে উল্টা বদনামী হয়ে থাকে ।
৫. সন্তান লাভের জন্য নিম্নোক্ত আমলগুলো করা যায় - ( ক ) এই দু'আ করবে- এটাও অর্থাৎ , হে আমার প্রতিপালক , তুমি আমাকে বংশধরহীন রেখ না , তুমিই উত্তম উত্তরাধিকারী । ( সূরা আম্বিয়াঃ ৮৯ ) ( খ ) ( গ ) প্রত্যেক নামাযের পর তিনবার পড়বে رب هب لي من لدنك ذرية طيبة إنك سميع الدعاء - অর্থাৎ , হে আমার প্রতিপালক ! তুমি নিজ অনুগ্রহে আমাকে উত্তম আওলাদ দান কর । অবশ্যই তুমি দু'আ শ্রবণকারী । ( সূরা আলে ইমরানঃ ৩৮ ) ( ঘ ) বন্ধা মহিলা সাত দিন পর্যন্ত রোযা রাখবে এবং পানি দ্বারা ইফতার করবে এবং ইফতার করার পর ২১ বার নিম্নোক্ত আয়াত পাঠ করবে ,তাহলে আল্লাহ চাহেতো গর্ভ সঞ্চার হবে । أو كظلمات في بحر لجي يغشاه موج من فوقه موج من فوقه شحات ، ظلمات بعضها فوق بعض ، إذا أخرج يده لم يكد يراها ، ومن ثم يجعل الله له نورا فما له من نور ۔
যার পুত্র সন্তান হয় না তার জন্য কিছু কথা।গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়।
১. পুত্র না হওয়ার মধ্যেই তার কল্যাণ- একথা চিন্তা করবে ।
২. পুত্র সন্তানের কারণে মানুষ যেসব পেরেশানীর সম্মুখীন হয় সেগুলো চিন্তা করবে , তাহলে সান্ত্বনা পাবে এবং আল্লাহর প্রতি শোকর আসবে এই ভেবে যে , আল্লাহ আমাকে সে সব পেরেশানী থেকে হয়ত নাজাত দিতে চান ।
বাস্তবেও দেখা যায় পুত্র সন্তানই বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে মাতা - পিতার অবাধ্য হয়ে থাকে , পক্ষান্তরে কন্যা সন্তান মাতা - পিতার অনুগত ও ফরমাবরদার হয়ে থাকে । আহকামে যিন্দেগী
৩. পুত্র সন্তান না হওয়ার কারণে স্ত্রীর প্রতি অসন্তুষ্ট হওয়া এবং তার সাথে দুর্ব্যবহার করা অন্যায় । কারণ এটা স্ত্রীর এখতিয়ারভুক্ত বিষয় নয় , সে চাইলেই তার গর্ভে পুত্র সন্তান আনতে পারে না । এর জন্য আল্লাহর প্রতিও নারাজ হওয়া যাবে না । কেননা আল্লাহ হয়ত এরই মধ্যে তার কল্যাণ নিহিত রেখেছেন , যা হয়ত তার জানা নেই , তার বুঝে আসছে না , কিন্তু আল্লাহ সব জানেন , সব বুঝেন , তিনি অত্যন্ত হেকমতওয়ালা !
বিশেষ আলোচনা।ইলমের উৎস।
ওহীভিত্তিক ইলম আল্লাহ্ তা'আলার গুণবাচক নামসমূহের অন্যতম দু'টি নাম হলো ৩ , me ( আলীম ও হাকীম ) অর্থাৎ তিনি সর্বজ্ঞ এবং প্রজ্ঞাবান । কুরআন শরীফের অসংখ্য স্থানে তাঁর এ দু'টি গুণবাচক নামের উল্লেখ রয়েছে । এর দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে , ইল্ম বা জ্ঞানের প্রকৃত উৎস হচ্ছেন আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন নিজে । তিনি দয়া করে যাকে যতটুকু ইল্স দান করছেন , সে ততটুকু জ্ঞানই লাভ করেছে । তাই সৃষ্টির প্রথম মানব হযরত আদম ( আ ) -এর জ্ঞান সম্পর্কে আল্লাহ্ তা'আলা বলেছেন : Ge T আর তিনি আদমকে যাবতীয় নাম শিক্ষা দিয়েছেন । ( সূরা বাকারা , ২:৩১ ) বলাবাহুল্য , বস্তুসমূহের নামই শুধু নয় , এগুলোর বস্তুগুণ এবং বৈশিষ্ট্যসমূহও আল্লাহ্ শিক্ষা দিয়েছেন বলে তাফসীর গ্রন্থসমূহে উল্লেখিত হয়েছে ।
[ দ্র : বয়ানুল কুরআন , হযরত থানভী ; তাফসীরে উসমানী ; তাফসীরে মা'আরেফুল কোরআন , মুফতী মুহাম্মাদ শফী ( র ) ] তারপর আল্লাহ্ তা'আলা যখন ফিরিশ্তাগণকে সেসব বস্তুর নাম বলতে আদেশ করলেন তখন তাঁরা যে জবাব দিয়েছিলেন তা থেকেও প্রতীয়মান হয় যে , সকল জ্ঞানের উৎস হচ্ছেন স্বয়ং আল্লাহ্ তা'আলা । তাঁরা বলেছিলেন : ✦ سبحنك لا علم لنا إلا ما علمتنا إنك أنت العليم الحكيم আপনি মহান , পবিত্র । আপনি আমাদেরকে যা শিক্ষা দিয়েছেন তা ছাড়া আমাদের তো কোন জ্ঞানই নেই ।
বস্তুত আপনি জ্ঞানময় ও প্রজ্ঞাময় । ( সূরা বাকারা , ২ : ৩২ ) সূরা আলে ইমরানে নিম্নোক্ত আয়াতে প্রতীয়মান হয় যে , আল্লাহ্ প্রদত্ত কিতাব ও হিকমাতের শিক্ষালাভের পূর্বে মানুষ স্পষ্ট ভ্রান্তিতে ছিল । ইরশাদ হয়েছে : لقد من الله على المؤمنين اذ بعث فيهم رسولا من أنفسهم يتلوا عليهم أنته ويزكيهم ويعلمهم الكتب والحكمة وان كانوا من قبل لفي صلل مبين - আল্লাহ্ মু'মিনদের প্রতি অবশ্যই অনুগ্রহ করেছেন যে , তিনি তাদের নিজেদের মধ্য থেকে তাদের নিকট রাসূল ( সা ) প্রেরণ করেছেন , যিনি তাঁর আয়াতসমূহ তাদের নিকট তিলাওয়াত করেন , তাদেরকে পরিশোধন করেন এবং কিতাব ও হিকমাত শিক্ষা দেন , যদিও তারা পূর্বে স্পষ্ট ভ্রান্তিতে ছিল । ( সূরা আলে ইমরান , ৩ : ১৬৪ ) ইল্ম বা জ্ঞানের প্রকৃত উৎস হচ্ছে ওহী বা আল্লাহ্ তা'আলার প্রত্যাদেশ । এই ওহীর মাধ্যমেই যেহেতু জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তিনি মনগড়া কথাও বলেন না ।
( সূরা নাজম , ৫৩ : ৩ ) এবং আল্লাহ্ তা'আলা এ মর্মে নির্দেশ দিয়েছেন : এ وما الكم الرسول فخذوه وما تهكم عنه فانتهوا রাসূল ( সা ) তোমাদেরকে যা দেন তা গ্রহণ কর এবং যা থেকে তোমাদেরকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাক । ( সূরা হাশূর , ৫৯ : ৭ ) সুতরাং নবী কারীম ( সা ) তাঁর হাদীসের মাধ্যমে যা শিক্ষা দিয়েছেন তাও ওহীভিত্তিক ইলম হাদীস বিশারদগণ তাই হাদীসকে ' ওহীয়ে গায়ের মাতলু ' নামে অভিহিত করেন । কুরআন এবং হাদীসের এই ওহীভিত্তিক জ্ঞানসম্ভার থেকে যারা সরাসরি উপকৃত হয়ে নিজেদেরকে আকাশের নক্ষত্রসম আলোর দিশারীরূপে গড়ে তোলার সুবর্ণ সুযোগ লাভ করেছিলেন সেই সাহাবায়ে কিরামের নিকট থেকে যে ইল্ম বা জ্ঞানসম্ভার পাওয়া যায় , তাও নির্ভরযোগ্য ইম । তাই বিশ্বখ্যাত ইসলামী মনীষী ইমাম আওয়াঈ ( র ) তাঁর শাগরিদ বাকিয়্যাকে উদ্দেশ্য কার বলেন।
