হুযূর আকরাম ( সাঃ ) সম্পর্কিত দূর্লভ তথ্যাবলী। অজানা কিছু তথ্য।
![]() |
| হুজুর আকরাম সাঃ। |
প্রঃ রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালামকে তাঁর আসল আকৃতিতে কতবার দেখেছেন এবং কখন কখন দেখেছেন ?
উঃ হুযূর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সমগ্র জীবনকালে হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালামকে চারবার আসল আকৃতিতে দেখেছেন : ( ১ ) একবার তিনি যখন হেরা গুহায় অবস্থান করছিলেন , তখন হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম সেখানে আগমন করেন । এ সময় তিনি হযরত জিবরাঈল ( আঃ ) কে তাঁর আসল আকৃতি দেখানোর অনুরোধ করেন । হুযুরের অনুরোধের প্রেক্ষিতে হযরত জিবরাঈল ( আঃ ) তাঁর আসল আকৃতি ধারণ করে দেখান ।
( ২ ) দ্বিতীয়বার মে'রাজ শরীফের ঘটনায় তাঁকে আসল আকৃতিতে দেখেছেন অর্থাৎ ‘ সিদরাতুল মুনতাহা ’ নামক সেই ঊর্ধ্বজগতে । ( ৩ ) তৃতীয়বার মক্কার ‘ আজয়াদ ’ নামক স্থানে দেখেছেন । এই ঘটনা নবুওয়ত প্রাপ্তির নিকটবর্তী সময়ে সংঘটিত হয়েছিল ।
( ফতহুল বারী ঃ খণ্ড ঃ ১ , পৃষ্ঠা ঃ ১৮–১৯ , মাআরিফুল কুরআন ঃ খণ্ড : ১ , পৃষ্ঠা ২৪ , তফসীরে খাযেন : খণ্ড ঃ ৪ , পৃষ্ঠা ঃ ১৯১ ) ( ৪ ) চতুর্থবার হুযূরের শ্রদ্ধেয় চাচা হযরত হামযা ( রাযিঃ ) যখন অনুরোধ করেছিলেন যে , আমি হযরত জিবরাঈল ( আঃ ) কে তাঁর আসল আকৃতি সহকারে দেখতে চাই , তখন প্রথমতঃ হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে নিষেধ করলেন যে ,
আপনি তাঁকে দেখতে পারবেন না । কিন্তু তিনি আবারো আরয করলেন যে , আপনি অনুগ্রহ করে দেখিয়ে দিন । তখন হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আপনি বসুন । হযরত হামযা ( রাযিঃ ) তাঁর পাশে বসে গেলেন । এ সময়ে হযরত জিবরাঈল ( আঃ ) তাঁর আসল আকৃতি নিয়ে কা'বা শরীফের উপর অবতরণ করেন । হুযূর ( সঃ ) হযরত হামযা ( রাযিঃ ) কে বললেন ঃ ঐ যে চেয়ে দেখুন । হযরত হামযা ( রাযিঃ ) দৃষ্টি উঠিয়ে দেখলেন ।
হযরত জিবরাঈল ( আঃ ) এর দেহ সবুজাভ পাথরের ন্যায় চমকাচ্ছিল । হযরত হামযা ( রাযিঃ ) এই ঔজ্জ্বল্য সহ্য করতে না পেরে বেহুঁশ হয়ে পড়ে গেলেন । ( নশরুত — তীবঃ পৃষ্ঠা ১৭৩ , দালায়েলে নবুওয়ত , তাবাকাতে ইবনে সাদ )
প্রঃ হুযূর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কুনিয়াত বা উপনাম “ আবু ইবরাহীম ” কে রেখেছিল ?
উঃ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের শেষ দিকে একদিন হযরত জিবরাঈল ( আঃ ) তাঁর নিকট আগমন করেন এবং অর্থাৎ ' হে আবূ ইবরাহীম ' বলে ডাক দেন । এ থেকেই তাঁর কুনিয়াত হয় ‘ আবূ ইবরাহীম ' বা ইবরাহীমের পিতা । ( মুসতাদরাকে হাকেম ) يا ابا إبراهيم
প্রঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পৃষ্ঠদেশে ‘ মোহরে নবুওয়ত ’ কে স্থাপন করেছিল এবং তাতে কি লেখা ছিল ?
উঃ বেহেশতের প্রহরী ‘ রিদওয়ান ’ হুযূরের পৃষ্ঠদেশে নবুওয়তের মোহর স্থাপন করেছিলেন । এতে লেখা ছিল— سرفانت منصور অর্থাৎ ‘ অগ্রসর হও ; তুমি ( আল্লাহর ) সাহায্যপ্রাপ্ত । কেউ কেউ বলেছেন যে , এতে লেখা ছিল محمد رسول الله ( খাসায়েলে নববী ঃ পৃষ্ঠাঃ ১৬ ; আশরাফুল মুকালামা : পৃষ্ঠা ১২ )
প্রঃ বেহেশতে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে দুনিয়ার কোন্ কোন্ মহিলার বিবাহ হবে ?
উঃ বেহেশতে দুনিয়ার তিনজন মহিলার সাথে হুযূরের বিবাহ হবে । ( ১ ) মরিয়ম বিনতে ইমরান ( ২ ) ফেরাউনের স্ত্রী আছিয়া ( ৩ ) হযরত মূসা ( আঃ ) এর বোন কুলসূম , যিনি ফেরাউনকে হযরত মূসা ( আঃ ) -এর জন্য ধাত্রীর সংবাদ দিয়েছিলেন । ( জালালাইন শরীফের হাশিয়া ঃ খণ্ডঃ ২ , পৃষ্ঠাঃ ৩২৭ , পারা : ২০ ) ৯ প্রঃ হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওয়াফাতের পর কি মোহরে নবুওয়ত অবশিষ্ট ছিল , না বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল ? উঃ হযরত আসমা ( রাযিঃ ) বলেন , হুযূরের ওয়াফাতের পর তাঁর পৃষ্ঠদেশে অংকিত মোহরে নবুওয়ত লুপ্ত হয়ে গিয়েছিল । এটা দেখেই আমার বিশ্বাস হয়েছিল যে , তিনি ওয়াফাত লাভ করেছেন । ( খাসায়েলে নববীঃ পৃষ্ঠাঃ ১৬ )
প্রঃ হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্ষ কতবার বিদীর্ণ করা হয়েছিল , কেন করা হয়েছিল এবং কে বিদীর্ণ করেছিলেন ?
উঃ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র বক্ষ চারবার দ্বিদীর্ণ করা হয়েছিল । সর্বপ্রথম তিন বছর বয়সে হুযুরের দুধভাই আবদুল্লাহর সঙ্গে চারণভূমিতে । দ্বিতীয়বার , দশ বছর বয়সে মরুভূমিতে । তৃতীয়বার , রমযান মাসে নবুওয়ত প্রাপ্তির পূর্বে হেরা পর্বতের গুহায় । চতুর্থবার , মেরাজের রাত্রে । হযরত শাহ আবদুল আযীয ( রহঃ ) এই চারবার বক্ষ বিদারণের ঘটনা সম্পর্কে এই তথ্য ও রহস্য উল্লেখ করেন যে , প্রথমবার হুযূর ( সাঃ ) এর বক্ষ মুবারক বিদীর্ণ করে তাঁর মন থেকে খেলাধুলার আকর্ষণ বের করা হয়েছে , যা সাধারণতঃ শিশুদের মনে হয়ে থাকে । দ্বিতীয়বার বক্ষ বিদীর্ণ করে তাঁর মন থেকে যৌবনের সেই সমস্ত বৈশিষ্ট্য দূর করা হয়েছে , যেগুলোর কারণে যুবকরা মহান আল্লাহর অসন্তুষ্টিজনিত কাজে লিপ্ত হয় । তৃতীয়বার বক্ষ বিদীর্ণ করা হয়েছিল অহীর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য অনুধাবন ও ওহীর ওজন বহনে তাঁর মনকে অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন করার জন্য এবং চতুর্থবার বক্ষ বিদীর্ণ করে তাঁর মনের মধ্যে ঊর্ধ্বজগতের অলৌকিক নিদর্শনসমূহ প্রত্যক্ষ করার শক্তি দান করা হয়েছিল । ( তারীখে হাবীবে এলাহ - এর বরাতে ‘ নশরুত - তীব ’ ) প্রঃ হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তলোয়ারের নাম কি ছিল , তিনি এটা কাকে দান করেছিলেন ?
উঃ তাঁর তলোয়ারের নাম ছিল ‘ যুলফিকার ' । এটা তিনি হযরত আলী ( রাযিঃ ) -কে দান করেছিলেন । ( লামে উদ - দারারী )
প্রঃ হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতটুকু ( পরিমাণ ) পানির দ্বারা উযূ ও গোসল করতেন ? উঃ তিনি উযূ করতেন এক মুদ পানির দ্বারা আর গোসল করতেন এক ‘ সা ’ পানির দ্বারা ।
প্রঃ উঃ মুদ এবং ‘ সা’র পরিমাণ কি ? এক মুদ সমান ৭৯৫ গ্রাম ও ৯৫৮ মিলিগ্রাম এবং এক সা সমান তিন কিলোগ্রাম ও ১৫০ গ্রাম । ( ইমদাদুল আওযান : পৃষ্ঠা ঃ ৬ )
প্রঃ ‘ ইবনে যবীহাইন ’ বা দুই যবেহের পুত্র কার উপাধি ? আর যবীহাইন দ্বারা কে কে উদ্দেশ্য ?
উঃ ‘ ইবনে যবীহাইন ' আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপাধি । দুই যবেহের মধ্যে একজন হলেন হযরত ইবরাহীম ( আঃ ) -এর প্রাণপ্রিয় পুত্র হযরত ইসমাঈল যবীহুল্লাহ । যার বংশধারায় আমাদের হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্মগ্রহণ করেছেন । দ্বিতীয় যবেহ হলেন হুযূরের সম্মানিত পিতা হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিব । হযরত আবদুল্লাহর যবীহ নামে নামকরণের একটি চমকপ্রদ ঘটনা রয়েছে । একদা আবদুল মুত্তালিব স্বপ্নে যমযম কূপের নিদর্শন দেখলেন ।
স্বপ্ন মুতাবেক তিনি কূপের অনুসন্ধানে স্বপ্ন - নির্দেশিত স্থানে খনন কার্য আরম্ভ করেন । কিন্তু এটা ছিল সেই স্থান যেখানে ‘ ইসাফ ’ ও ‘ নায়েলা ’ নামক দুটি মূর্তি স্থাপিত ছিল । কুরাইশগণ তাঁর খনন কার্যে বাধা দিল । এমনকি এক পর্যায়ে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়ে গেল । আবদুল মুত্তালিবের তাসনিম সাথে ছিল তাঁর এক ছেলে । বাপ , বেটা মাত্র এই দুইজন ।
তাদের পক্ষে আর কোন সাহায্যকারী ও সহযোগী ছিল না । কিন্তু তা সত্ত্বেও আবদুল মুত্তালিবই প্রবল রইলেন এবং কূপ খননের কাজ চালিয়ে যেতে থাকলেন । এ সময়ে আবদুল মুত্তালিব স্বীয় একাকিত্ব উপলব্ধি করে মান্নত মানলেন যে , যদি আল্লাহ তা'আলা তাঁকে দশটি পুত্র সন্তান দান করেন এবং যমযম কূপের পানি বের হয়ে আসে , তবে তিনি তার ছেলেদের মধ্য হতে একজনকে আল্লাহর নামে কুরবানী করে দিবেন ।
কয়েক দিন নিরলস চেষ্টার পর কূপ বের হয়ে গেল । এদিকে আল্লাহ তা'আলা আবদুল মুত্তালিবকে একে একে দশটি সন্তান দান করেন । যমযম আবিষ্কৃত হওয়ার কারণে কুরাইশদের মধ্যে আবদুল মুত্তালিবের প্রভাব - প্রতিপত্তি বেড়ে গিয়েছিল । লোকেরা তাঁকে অত্যন্ত সম্মানিত ও মর্যাদাশীল মনে করত । আবদুল মুত্তালিবের ছেলেরা বড় হওয়ার পর তিনি তাঁর কৃত মান্নত পুরা করতে উদ্যত হলেন ।
ছেলেদেরকে সাথে নিয়ে কাবা ঘরে যান এবং সেখানে হুবল নামক মূর্তির সম্মুখে ছেলেদের নামে লটারী দেন । ঘটনাক্রমে লটারীতে যবেহের জন্য কনিষ্ঠ ছেলে হযরত আবদুল্লাহর নাম ভেসে উঠে । আবদুল্লাহ ছিলেন তাঁর নিকট সর্বাধিক প্রিয় ও আদরের পুত্র ।
কিন্তু তিনি তার মান্নত পুরা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন ; তাই বাধ্য হয়েই আবদুল্লাহকে সাথে নিয়ে কুরবানগাহের দিকে যাত্রা করেন । তাঁর অন্যান্য সন্তান - সন্ততি এবং কুরাইশ সর্দারগণ আবদুল্লাহকে যবেহ করা থেকে বিরত থাকার জন্য আবদুল মুত্তালিবকে পীড়াপীড়ি করেন । কিন্তু আবদুল মুত্তালিব কারো কথা মানতে রাজী হলেন না ।
পরিশেষে প্রচণ্ড বাদানুবাদের পর এই বিষয়টি ফায়সালার জন্য ‘ সাজা ’ নাম্নী জনৈকা মহিলা গণকের নিকট সোপর্দ করা হলো । সে বলল , তোমাদের নিকট একটি খুনের বদলা দশটি উটের সমান । সুতরাং তোমরা একদিকে দশটি উট রাখ এবং অপরদিকে আবদুল্লাহকে রেখে লটারী দাও । যদি লটারী উটের নামে উঠে তবে দশটি উট কুরবানী করে দেবে ।
আর যদি লটারী আবদুল্লাহর নামে উঠে তাহলে আরো দশটি উট বাড়িয়েদিয়ে আবদুল্লাহর বিপরীতে বিশটি উট রেখে লটারী দেবে । এইভাবে যতক্ষণ না উটের নাম লটারীতে উঠবে প্রত্যেকবার দশটি করে উট বৃদ্ধি করে যেতে থাকবে ।
অতএব , তাই করা হলো এবং প্রত্যেকবার লটারীতে আবদুল্লাহর নামই উঠতে থাকলো । এভাবে যখন উটের সংখ্যা একশত হলো তখন লটারীতে উটের নাম উঠলো । আবদুল মুত্তালিব তাঁর মনের প্রশান্তির জন্য আরো দু'বার লটারী দিলেন কিন্তু প্রত্যেকবার উটের নামই উঠল । অতঃপর একশত উট কুরবানী করে দেওয়া হলো ।
আর এভাবেই আবদুল্লাহর জীবন রক্ষা পেয়ে গেল । তখন থেকেই কুরাইশদের নিকট একটি খুনের বদলা একশত উট নির্ধারিত হয় । বস্তুতঃ এ কারণেই দ্বিতীয় যবীহ দ্বারা হযরত আবদুল্লাহকেই উদ্দেশ্য করা হয় । ( তারীখে ইসলাম : খণ্ডঃ ১ , পৃষ্ঠা ৮৬-৮৭ )
রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোন সম্মানিতা স্ত্রীর বিবাহ আসমানে হয়েছিল ? উঃ উম্মুল মুমেনীন হযরত যায়নাব বিনতে জাহাশ ( রাযিঃ ) -এর বিবাহ । ( জালালাইন শরীফের হাশিয়া : পৃষ্ঠাঃ ৩৫৫ )
প্রঃ হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আদম ( আঃ ) -এর কত বছর পর জন্মগ্রহণ করেন ?
উঃ তিনি হযরত আদম ( আঃ ) - এর ছয় হাজার একশত পঞ্চাশ বছর পর জন্মগ্রহণ করেন । ( শরফুল মুকালামা : পৃষ্ঠাঃ ১৮ )
প্রঃ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কোন্ কোন্ মহিলা দুধপান করিয়েছেন এবং কয় দিন পান করিয়েছেন ? উঃ হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুগ্ধপান সম্পর্কে দুই প্রকার উক্তি রয়েছে । প্রথম উক্তি হলো এই যে , জন্মের পর থেকে সাতদিন পর্যন্ত আবূ লাহাবের আযাদকৃত বাঁদী সুওয়াইবা দুগ্ধপান করিয়েছেন । ( কামেল : পৃষ্ঠা : ২৩৯ ) অষ্টম দিনে হযরত হালীমা সাদিয়ার কাফেলা মক্কায় আগমন করে এবং এ দিন থেকে দুগ্ধমাতা হালীমা তাঁকে দুই বছর কাল দুগ্ধপান করান । ( তারীখে ইসলাম )
প্রঃ হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়ভাবে বসে আহার করতেন এবং কি ভাবে বসতেন ? উঃ - তিনি দুই অবস্থায় বসে আহার করতেন – ( ১ ) উভয় পা খাড়া করে বসতেন । ( ২ ) দোজানু হয়ে এমনভাবে বসতেন যে , বাম পায়ের তালু ডান পায়ের পিঠের সাথে থাকত । তিনি তিন আঙ্গুলে অর্থাৎ মধ্যমা , তর্জনী ও বৃদ্ধাঙ্গুলী দ্বারা আহার করতেন । ( নশরুত - তীব : পৃষ্ঠা ঃ ১৯১ ) ( এখানে যে দুই অবস্থায় বসার কথা বলা হয়েছে , এই অবস্থাগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে ধর্তব্য হবে । নতুবা কোন কোন রেওয়ায়াতে চারজানু হয়ে বসে আহার করারও প্রমাণ পাওয়া যায় । )
প্রঃ আহারের শুরু ও শেষে কিরূপ জিনিস খাওয়া সুন্নত । মিষ্টি জাতীয় , না লবণাক্ত জিনিস ?
উঃ আহার লবণাক্ত জিনিস দিয়ে শুরু করা এবং লবণাক্ত জিনিস দিয়ে শেষ করা সুন্নত । এতে সত্তরটি রোগ থেকে মুক্ত থাকা যায় । ( শামীঃ খণ্ডঃ ৫ , পৃষ্ঠা ঃ ২১৬ , হাশিয়া , মালাবুদ্দা মিনহুঃ পৃষ্ঠাঃ ১১৮ )
প্রঃ সেই তরকারী কোন্টি , যা হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালুনের রাটি থেকে তালাশ করে খেতেন ?
উঃ সেই তরকারী হলো কদু বা লাউ । ( তিরমিযী শরীফ ঃ খণ্ড : ২ , পৃষ্ঠাঃ ৬ , নশরুত - তীব )
প্রঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পানি পান করার জন্য কয়টি পেয়ালা ছিল এবং এগুলো কিসের তৈরী ছিল ?
দুইটি পেয়ালা ছিল । একটি কাঠের আরেকটি কাঁচের । ( নশরুত - তীব ) হেরা গুহায় অবস্থান করার সময় হুযূর কি আহার করতেন এবং এই খানা কোত্থেকে আসত ?
উঃ হেরা গুহায় অবস্থান কালে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাতু এবং পানি আহার করতেন । এই আহার্য্য দ্রব্য কখনো হযরত খাদীজা ( রাযিঃ ) নিয়ে আসতেন । আবার কখনো তিনি নিজে বাড়িতে চলে যেতেন এবং দুই / তিন দিনের খাদ্য ও পানীয় সাথে নিয়ে আসতেন । ( নশরুত - তীব ) প্রঃ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিধানের কাপড় কয়টি ছিল এবং এগুলো কি ধরনের কাপড় ছিল ?
উঃ হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের লেবাস - পোশাকের মধ্যে ছিল ,কোর্তা , লুঙ্গি , পাগড়ী ও চাদর । কোর্তা ছিল সুতির । আর তার প্রান্ত ও আস্তিন লম্বা ছিল না । তিনি কাতান এবং পশমী কাপড় ব্যবহার করেছেন কিন্তু বেশীর ভাগ সুতির কাপড়ই ব্যবহার করতেন । তাঁর নিকট দুইটি সবুজ চাদর ছিল । দুইটি মোটা সুতী কাপড়ও ছিল । এর মধ্যে একটি ছিল লাল এবং একটি ছিল কালো রঙের । ডোরা কাটা একটি কম্বল ছিল । একটি বালিশ ছিল যার মধ্যে খেজুর গাছের বাকল ও খোসা ভরা ছিল । ( নশরুত - তীব )
প্রঃ হুযূরের লুঙ্গির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ কি ছিল ?
উঃ লুঙ্গির দৈর্ঘ্য সাড়ে চার হাত এবং প্রস্থ ছিল আড়াই হাত । ( নশরুত তীব )
প্রঃ হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাগড়ী বাঁধার পদ্ধতি কি ছিল ? উঃ তাঁর পাগড়ী বাঁধার পদ্ধতি ছিল এই যে , কখনো পাগড়ীর শিমলা বা প্রান্ত দুই কাঁধের মাঝে ছেড়ে দিতেন আবার কখনো বা শিমলা ছাড়াই পাগড়ী বাঁধতেন । পাগড়ীর নীচে কখনো টুপি ব্যবহার করতেন , কখনো বা টুপি ছাড়া শুধু পাগড়ী ব্যবহার করতেন ।
( নশরুত - তীব ঃ পৃষ্ঠাঃ ১৯২ ) প্রঃ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট কয়টি ঘোড়া ছিল এবং এগুলোর নাম কি কি ছিল ? উঃ হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাতটি ঘোড়া ছিল । যাদের নাম নিম্নরূপ ঃ ( ১ ) সাকাব ( ২ ) মুরতাযিয ( ৩ ) তাইফ ( ৪ ) লাযযার ( ৫ ) যরব ( ৬ ) সাবহা ( ৭ ) দার । প্রঃ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট খচ্চর কয়টি ছিল এবং এগুলো কোত্থেকে এসেছিল ? উঃ পাঁচটি খচ্চর ছিল । ( ১ ) দুলদুল , যা মিসরের বাদশাহ মুকাউকিস পাঠিয়েছিল । ( ২ ) কিযযা , যা জুযাম গোত্রের ফরওয়া নামক ব্যক্তি পাঠিয়েছিল ।
( ৩ ) একটি সাদা খচ্চর , যা ‘ আইলা’র শাসক উপহার দিয়েছিল । ( ৪ ) দণ্ডমাতুল জন্দল এর শাসক একটি খচ্চর দিয়েছিল । ( ৫ ) পঞ্চমটি হাবশার বাদশাহ আসহামা পাঠিয়েছিল । ( নশরুত - তীব : পৃষ্ঠা ঃ ১৯২ ) প্রঃ হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গাধা কয়টি ছিল ? এগুলোর নাম কি ছিল ? কোত্থেকে এসেছিল ? উঃ তাঁর নিকট তিনটি গাধা ছিল । ( ১ ) আফীর — যা মিশরের বাদশা পাঠিয়েছিল । ( ২ ) দ্বিতীয়টি ফারওয়াহ পাঠিয়েছিল । ( ৩ ) তৃতীয়টি হযরতসা'আদ ইবনে উবাদা উপহারস্বরূপ দিয়েছিলেন ।
( যাদুল মাআদ , নশকত -তীব ) প্রঃ হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কয়টি উট ছিল এবং এগুলোর নাম কি ছিল ? উঃ হুযূর ( সাঃ ) -এর দুইটি বা তিনটি উট ছিল : ( ১ ) কাসওয়া ( ২ ) আযবা ( ৩ ) জাদআ — কেউ কেউ শেষোক্ত দুইটিকে একই উট বলেছেন , তবে এর নাম ছিল দুইটি । ( যাদুল মাআদ , নশরুত— তীব প্রঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট দুধ দেয় এমন উটনী কয়টি ছিল ? উঃ পঁয়তাল্লিশটি উটনী ছিল ।
( পূর্বোক্ত ) প্রঃ হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বকরী কয়টি ছিল ? উঃ তাঁর বকরী ছিল একশতটি —– এরচেয়ে বেশী হতে দিতেন না । কোন বকরী বাচ্চা দিলেই বকরী একটি যবেহ করে দিতেন । ( যাদুল মাআদ , আবূ দাউদ : পৃষ্ঠা : ১৯ ) প্রঃ হজ্জাতুল বেদা এবং উমরাতুল কাযার সময় হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাথা মুবারক মুণ্ডানোর সৌভাগ্য কার কার হয়েছিল ? এই সৌভাগ্য হজ্জাতুল বেদায় হযরত মা'মার ইবনে আবদুল্লাহ ( রাযিঃ ) এবং উমরাতুল কাযায় হযরত খিরাশ ইবনে উমাইয়া ( রাযিঃ ) লাভ করেছিলেন । ( বুখারী শরীফের বাইনাস সতুর ঃ খণ্ড : ২ , পৃষ্ঠা ঃ ৬৩৩ )
যে সকল শিশু হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোলে পেশাব করেছে , তারা কারা ?
উঃ এরকম শিশু ছিলেন পাঁচজন । তারা হলেনঃ ( ১ ) সুলাইমান ইবনে হিশাম ( ২ ) হযরত হাসান ( ৩ ) হযরত হোসাইন ( ৪ ) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর ( ৫ ) ইবনে উম্মে কায়েস । জনৈক কবি এই নামগুলোকে নিম্নের দুটি পঙক্তিতে একত্রিত করে দিয়েছেন— قدبال في حجرالنّبي اطفال حسن حسين وابن الزبيربالوا وكذا سليمان بن هشام وابن المقيس جاء في الختام ( আওজাযুল মাসালিক : খণ্ড : ১ , পৃষ্ঠা : ১৬২ ) প্রঃ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর তাঁকে গোসল ও কাফন কোন্ কাপড়ে দেওয়া হয়েছিল ?
উঃ হযরত আয়েশা ( রাযিঃ ) থেকে বর্ণিত ঃ যখন প্রিয়নবী ( সাঃ ) কে গোসল দেওয়ার সময় হলো , তখন প্রশ্ন দেখা দিল যে , অন্যান্য মৃত ব্যক্তির ন্যায় হুযূর ( সাঃ ) -এর দেহ মুবারকের কাপড় খুলে ফেলা হবে , না কাপড়সহ গোসল দেওয়া হবে ? এই প্রশ্নে যখন মতভেদ দেখা দিল , তখন আল্লাহর হুকুমে সকলে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লেন এবং গৃহের এক কোণ হতে কোন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি বলে দিল যে , কাপড়সহই গোসল দাও । সুতরাং কাপড়সহ গোসল দেওয়া হলো । হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তিনখানা ইয়ামনী সুতি কাপড় দ্বারা কাফন দেওয়া হয়েছিল । ( নশরুত — তীব )
প্রঃ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জানাযার নামায কিভাবে পড়া হয়েছিল এবং প্রথমে কে পড়েছিলেন ?
উঃ হুযূর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জানাযার নামায জামাআতে পড়া হয় নাই । বরং আলাদা আলাদাভাবে বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে নামায আদায় করা হয়েছে । যেহেতু সাহাবায়ে কেরাম হুযূরের শেষ সময়ে জানতে চেয়েছিলেন যে , তাঁর ওয়াফাতের পর জানাজার নামায কে পড়াবেন ? তখন হুযূর ( সাঃ ) ইরশাদ করেছিলেন যে , গোসল ও কাফনের কাজ সমাধা করার পর আমার জানাযা কবরের নিকট রেখে তোমরা সরে যাবে ।
প্রথমে ফেরেশতাগণ নামায পড়বেন । অতঃপর প্রথমে আহলে বাইতের পুরুষগণ অতঃপর আহলে বাইতের মহিলাগণ নামায পড়বেন । অতঃপর তোমরা অন্যান্য লোকেরা দলে দলে বিভক্ত হয়ে আসতে থাকবে এবং নামায পড়তে থাকবে ।
সাহাবাগণ আরয করলেন , আপনাকে কবরে কে রাখবে ? তিনি বললেন , আমার আহলে বাইত এবং তাদের সাথে ফেরেশতাগণ থাকবেন । ( নশরুত - তীবঃ পৃষ্ঠা : ২০৩ ) হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর মুবারক কে খনন করেছিলেন এবং কিভাবে করেছিলেন ?
উঃ হযরত আবূ তালহা ( রাযিঃ ) হুযূরের বগলী কবর খনন করেছিলেন । ( তিরমিযী শরীফ ঃ খণ্ডঃ ১ , পৃষ্ঠা : ১২৪ ) প্রঃ হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কবরে কে কে রেখেছিলেন ? উঃ হযরত আলী ( রাযিঃ ) , হযরত আব্বাস ( রাযিঃ ) এবং হযরত আব্বাস ( রাযিঃ ) -এর দুই পুত্র হ । ( নশরুত - তীব : পৃষ্ঠা : ২০৬ )
প্রঃ হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দাফন করার সময় তাঁর কোমর মুবারকের নীচে কে কাপড় বিছিয়ে দিয়েছিল এবং কি কাপড় বিছিয়েছিল ? উঃ হুযূর ( সাঃ ) -এর আযাদ করা গোলাম শাকরান তার নিজের বিবেচনা মতে নাজরানে তৈরী তার নিজের ব্যবহারের একটি কম্বল বিছিয়ে দিয়েছিলেন । ( তিরমিযী শরীফ ) কিন্তু ইবনে আবদুল বার ( রাযিঃ ) বর্ণনা করেন যে , পরে কবর থেকে তা তুলে নেওয়া হয়েছিল । ( নশরুত তীব : পৃষ্ঠা : ২০৬ )
প্রঃ হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর মুবারকে কে পানি ছিটিয়ে দিয়েছিলেন , কি পরিমাণ পানি ছিটিয়েছিলেন এবং কোন দিক থেকে শুরু করেছিলেন ? উঃ হযরত বিলাল ( রাযিঃ ) এক মশক পানি নিয়ে কবরের মাথার দিক থেকে শুরু করে সারা কবরে ছিটিয়ে দিয়েছিলেন । ( নশরুত - তীব ) ঃ পৃষ্ঠাঃ ২০৬ )
প্রঃ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে নববীতে যে সাহাবীর জানাযার নামায পড়িয়েছিলেন সেই সৌভাগ্যবান সাহাবী কে ? সেই সাহাবী হলেন হযরত সাহল ইবনে বাইযা ( রাযিঃ ) । ( মুসলিম শরীফঃ বহাওয়ালা মিশকাত শরীফ ঃ খণ্ড : ১ , পৃষ্ঠা : ১৪৫ )
প্রঃ হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র হস্তে দাফন হওয়ার সৌভাগ্য লাভকারী সাহাবী কে ? উঃ তিনি হলেন হযরত আবদুল্লাহ যুল বাজাদাতাইন ( রাযিঃ ) । ( তিরমিযী শরীফ , হেদায়া )
প্রঃ সে ব্যক্তি কে , যাকে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে বর্শা দ্বারা আঘাত করেছেন এবং এতে তার মৃত্যু হয়েছে ?
উঃ সে হলো কট্টর কাফের উবাই ইবনে খালফ । ওহুদ যুদ্ধে হুযূর ( সাঃ ) এর বর্শার আঘাতে তার মৃত্যু হয় । ( বুখারী শরীফ )
প্রঃ আহযাবের যুদ্ধে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামকে নিয়ে যে খন্দক খনন করেছিলেন , তা কতদিনে শেষ হয়েছিল এবং এই খন্দকের পরিমাপ কি ছিল ? উঃ এই খন্দক খনন করতে পূর্ণ ছয় দিন সময় লেগেছিল । খন্দকটি ছিল সাড়ে তিন মাইল লম্বা এবং প্রায় পাঁচ গজ গভীর । ( মাআরিফুল কুরআনঃ পৃষ্ঠা : ১০৩ ও ১০৭ , পারা : ২১ )
প্রঃ হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বপ্রথম কোন্ যুদ্ধ করেন ? উঃ তিনি সর্বপ্রথম যে যুদ্ধ করেন , তাহলো গাযওয়ায়ে আবওয়া অতঃপর বাওয়াত অতঃপর আশীর । ( বুখারী শরীফ ঃ খণ্ড ঃ ১ , পৃষ্ঠা ঃ ৫৬৩ ) প্রঃ সর্বমোট কতগুলো গাযওয়া হয়েছে ? উঃ গাযওয়ার সর্বমোট সংখ্যা ঊনত্রিশ ।
( বুখারী শরীফ : খণ্ড : ১ , পৃষ্ঠাঃ ৫৬৩ ) প্রঃ যে সকল গাযওয়ায় কাফিরদের সাথে সংঘর্ষ হয়েছে , এরূপ গাযওয়া কয়টি হয়েছে এবং সেই গাযওয়া কোনগুলো ? উঃ এরূপ গাযওয়ার সংখ্যা মোট নয়টি । সেগুলো হলো- ( ১ ) গাযওয়ায়ে বদর ( ২ ) গাযওয়ায়ে ওহুদ ( ৩ ) গাযওয়ায়ে আহযাব ( ৪ ) গাযওয়ায়ে বনী কুরাইযা ( ৫ ) গাযওয়ায়ে বনী মুস্তালিক ( ৬ ) গাযওয়ায়ে খায়বর ( ৭ ) গাযওয়ায়ে ফতহে মক্কা ( ৮ ) গাযওয়ায়ে হুনাইন এবং ( ৯ ) গাযওয়ায়ে তায়েফ । ( বুখারী শরীফের হাশিয়া : খণ্ড : ১ , পৃষ্ঠা ঃ ৫৬৩ ) রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে রুখ করে কতদিন নামায আদায় করেন ? উঃ ষোল বা সতর মাস ।
অতঃপর বাইতুল্লাহ শরীফের দিকে রুখ করে নামায পড়ার হুকুম দেওয়া হয় । ( জালালাইন শরীফ : পৃষ্ঠা : ২১ , পারা ঃ ২ ) রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওয়াফাতের অসুস্থতা কোন্ দিন থেকে শুরু হয় এবং তিনি অসুস্থ অবস্থায় কয়দিন ছিলেন ? হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অসুস্থতা সোমবার থেকে শুরু হয় ।
কেউ কেউ বলেন শনিবার , আবার কেউ কেউ বুধবারের কথাও বলেছেন । অসুস্থ অবস্থার সর্বমোট সময় কারো মতে তের দিন , কারো মতে চৌদ্দ দিন , কারো মতে বারো দিন আর কারো মতে দশদিন । এই মত বিরোধের মাঝে এইভাবে সামঞ্জস্য বিধান করা যায় যে , অসুস্থতার প্রাথমিক অবস্থা হালকা মনে করে অনেকে গণনা করেন নাই ; আর অনেকে গণনা করেছেন । ( নশরুত — তীব ঃ পৃষ্ঠা : ২০২ )
বিশেষ আলোচনা। ইসলামের দৃষ্টিতে শিশু - কিশোরদের শিক্ষা - দীক্ষা।
সন্তান জন্মের পর পর পিতামাতার উপর তাদের প্রাথমিক পর্যায়ের কতকগুলো হক কার্যকর হতে থাকে এবং তখন থেকেই সে হক অনুযায়ী আমল করা পিতামাতার কর্তব্য হয়ে যায় । রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) ইরশাদ করেন : حق الولد على الوالد ثلثه أشياء أن يحسن إسمه إذا ولد ويعلمه الكتاب إذا عقل ويزوجه إذا أدرك . পিতামাতার প্রতি সন্তানের হক্ হচ্ছে প্রথমত তিনটি —
১ . জন্মের পর পরই তার জন্য একটি উত্তম নাম রাখা , ২. জ্ঞান - বুদ্ধি হলে তাকে কুরআন তথা দীন শিক্ষা দেওয়া , ৩. আর সে যখন বালিগ হবে তখন তার বিয়ের ব্যবস্থা করা ১২৯ রস্তুত সন্তানের ভাল নাম না রাখা , কুরআন ও দীন শিক্ষা দান না করা এবং বালিগ হওয়ার পর তার বিয়ের ব্যবস্থা না করা মাতাপিতার জন্য অপরাধের মধ্যে গণ্য ।
এসব কাজ না করলে পিতামাতার পারিবারিক দায়িত্ব পালিত হতে পারে না এবং ভবিষ্যত সমাজও ইসলামী আদর্শ মুতাবিক গড়ে উঠতে পারে না । এ কারণেই ইসলাম উপরোক্ত বিষয়াদির প্রতি , বিশেষভাবে শিক্ষা - দীক্ষার প্রতি জোর তাকীদ প্রদান করেছে । ইসলামে প্রত্যেক মুসলিম নর - নারীর উপর জ্ঞানার্জন ফরয ।
এ ফরয কোন বিশেষ শ্রেণী , দল বা জাতির জন্য নয় , বরং এ হচ্ছে এমন একটি সার্বজনীন অধিকার যা প্রতিটি মানুষকে শামিল করে । এ ক্ষেত্রে ছেলে বা মেয়ের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই । রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) বলেন : ' তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে শিক্ষা দাও । কেননা তারা এমন এক যুগে বসবাস করার জন্য সৃষ্টি হয়েছে , যা তোমাদের যুগ নয় শিশুর বয়স যখন পাঁচ বছর হবে তখন কোন বুযর্গ আলিম ব্যক্তির মাধ্যমে দু'আ করিয়ে ' বিসমিল্লাহ্ ' শুরু করাবে এবং মক্তবে যাওয়ার ব্যবস্থা করবে । প্রথমে কুরআন শরীফ তথা দীনি ইল্ম শিক্ষা দিবে ।
বাইরে এ শিক্ষার ব্যবস্থা না থাকলে গৃহে শিক্ষক রেখে ব্যবস্থা করবে । শৈশবেই শিশুকে আল্লাহর কালাম শিক্ষা না দেওয়া হলে তার চরিত্র গঠন করা আর সম্ভব নয় । কাজেই শিশু শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম । এ কারণেই বদর যুদ্ধের বন্দীদের মধ্যে কিছু সংখ্যক বন্দীর মুক্তির শর্ত ছিল দশজন করে মুসলিম সন্তানকে লেখাপড়া শিখানো ১০১ শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য হল , আল্লাহ্ তা'আলাকে রাজী ও সন্তুষ্ট করা এবং এর লক্ষ্য হল রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) -এর ওয়ারিস হওয়া । এর জাগতিক লক্ষ্য হল নিজেকে যোগ্যতম সুনাগরিক হিসাবে গড়ে তোলা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ সাধন করা । শিক্ষার পদ্ধতি শিশুকে দুইভাবে দেওয়া যায় —
১ . পারিবারিক শিক্ষা , ২. প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা । শিশু কথা বলতে আরম্ভ করতেই তাকে আল্লাহ্ ও কালেমা শিক্ষা দেওয়া যায় । অতঃপর ক্রমান্বয়ে তাকে দীন সম্বন্ধে বিভিন্ন কথা শিখানো যায় । দীনি শিক্ষার সাথে সাথে তাদেরকে জাগতিক শিক্ষাও দেওয়া যায় । এমনি করে শৈশবেই তাদেরকে শিক্ষার প্রতি মনোযোগী করে গড়ে তোলা যায় । প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষক মহোদয়কে শিশুদের শিক্ষার প্রতি খুব বেশি সতর্ক নযর রাখতে হবে । উস্তাদ শিশুদেরকে মিষ্টভাষায় , মধুর ব্যবহারের মাধ্যমে এমনভাবে সবক দিবেন ও নিবেন ; যাতে শিশুরা বাড়িতে থাকার চেয়ে প্রতিষ্ঠানে থাকতে বেশি পসন্দ করে । পড়াশুনা শিদের সাথে করে বারবার করবে না । শ্রেণীতে।
