কাদের উপর কুরবানী দেয়া ওয়াজিব।কোন জন্তু দ্বারা কুরবানী করা জায়েয ও জন্তুর বয়স।গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা।
![]() |
| কোরবানি সংক্রান্ত আলোচনা। |
* ১০ ই যিলহজ্জের ফজর থেকে ১২ ই যিলহজ্জের সন্ধা পর্যন্ত অর্থাৎ , কুরবানীর দিনগুলোতে যার নিকট সদকায়ে ফিতর / ফিতরা ওয়াজিব হওয়া পরিমাণ অর্থ / সম্পদ থাকে তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব । * মুসাফিরের উপর ( সফরের হালতে থাকলে ) কুরবানী করা ওয়াজিব হয়না ।
* কুরবানী ওয়াজিব না হলেও নফল কুরবানী করলে কুরবানীর ছওয়াব পাওয়া যাবে ।
* কুরবানী শুধু নিজের পক্ষ থেকে ওয়াজিব হয় - সন্তানাদি , মাতা - পিতা ও স্ত্রীর পক্ষ থেকে ওয়াজিব হয় না , তবে তাদের পক্ষ থেকে করলে তা নফল কুরবানী হবে ।
* যার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয় সে কুরবানীর নিয়তে পশু ক্রয় করলে সেই পশু কুরবানী করা তার উপর ওয়াজিব হয়ে যায় ।
* কোন মকসূদের জন্য কুরবানীর মান্নত করলে সেই মকসূদ পূর্ণ হলে তার উপর ( গরীব হোক বা ধনী ) কুরবানী করা ওয়াজিব হয়ে যায় ।
* যার উপর কুরবানী ওয়াজিব সে কুরবানী না করলে কুরবানীর দিনগুলো চলে যাওয়ার পর একটা বকরীর মূল্য সদকা করা ওয়াজিব ।
কোন্ কোন্ জন্তু দ্বারা কুরবানী করা দুরস্ত আছে।
* বকরী , পাঠা , খাসী , ভেড়া , ভেড়ী , দুম্বা গাভী , ষাড় , বলদ , মহিষ , উট এই কয় প্রকার গৃহপালিত জন্তু দ্বারা কুরবানী করা দুরস্ত ।
কুরবানী - র জন্তুর বয়স প্রসঙ্গ।
* বকরী , খাসী , ভেড়া , ভেড়ী , দুম্বা কম পক্ষে পূর্ণ এক বৎসর বয়সের হতে হবে । তবে ভেড়া , ভেড়ী ও দুম্বার বয়স যদি কিছু কমও হয় কিন্তু এরূপ মোটা তাজা হয় যে , এক বৎসর বয়সীদের মধ্যে ছেড়ে দিলেও তাদের চেয়ে ছোট মনে হয় না , তাহলে তার দ্বারা কুরবানী দুরস্ত আছে ; তবে অন্ততঃ ছয় মাস বয়স হতে হবে । বকরীর ক্ষেত্রে এরূপ ব্যতিক্রম নেই । বকরী কোন অবস্থায় এক বৎসরের কম বয়সের হতে পারবে না ।
* গরু ও মহিষের বয়স কম পক্ষে দুই বৎসর হতে হবে ।
* উট - এর বয়স কম পক্ষে পাঁচ বৎসর হতে হবে ।
পোশাক - পরিচ্ছদের ক্ষেত্রেও ইসলামী বিধি - বিধানের অনুসরণ আবশ্যক
পোশাক - পরিচ্ছদের ক্ষেত্রেও ইসলামী বিধি - বিধানের অনুসরণ আবশ্যক । লেবাস পোশাকের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দু'টো , ১. সতর ঢাকা ও ২. সৌন্দর্য । এ সম্বন্ধে কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে : يبنى أدم قد انزلنا عليكم لباسا يواري سواتكم وريشا ولباس التقوى ذلك خير . হে বনী আদম !
তোমাদের লজ্জাস্থান ঢাকার ও বেশভূষার জন্য আমি তোমাদেরকে পরিচ্ছদ দিয়েছি এবং তাওয়ার পরিচ্ছদই সর্বোৎকৃষ্ট । ( সূরা আ'রাফ ৭ : ২৬ ) লেবাস - পোশাকের অন্যতম উদ্দেশ্য হল সৌন্দর্য লাভ । এ প্রসঙ্গে কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে : يبني ادم خذوا زينتكم عند كل مسجد وكلوا واشربوا ولا تسرفوا إنه لا يحب المسرفين . হে বনী আদম ! তোমরা প্রত্যেক সালাতের সময় সুন্দর পরিচ্ছদ পরিধান করবে । আহার করবে ও পান করবে কিন্তু অপব্যয় করবে না ।
নিশ্চয়ই তিনি অপব্যয়কারীদেরকে পসন্দ করেন না । ( সূরা আ'রাফ , ৭ : ৩১ ) প্রথমোক্ত আয়াতে এ কথা উল্লেখ করা হয়েছে যে , “ তাওয়ার পরিচ্ছদই সর্বোৎকষ্ট । " কাজেই মুসলমান নর - নারী ও বালক - বালিকা সকলেরই এ পোশাক পরিধান করা বাঞ্ছনীয় । মুসলমান পুরুষ ও মহিলাদের জন্য উত্তম পোশাক হল , সমাজের নামাযী ও পরহেযগার লোকদের অনুসরণে নিজের পোশাক নির্বাচন করা । যা শালীন , মার্জিত , রুচিশীল ও শোভনীয় । লেবাসের ক্ষেত্রে পুরুষের জন্য মহিলার অনুকরণ ও মহিলাদের জন্য পুরুষের অনুকরণ হারাম । কুসুম ও জাফরানী রঙের কাপড় পরিধান করা পুরুষের জন্য জায়িয নেই ।
অহংকার প্রকাশ পায় এমন পোশাক পরিধান করা উচিত নয় । এমন কাপড় পরিধান করা , যাতে শরীরের অঙ্গসমূহ দেখা যায় , তা পরিধান করাও সমীচীন নয় । রেশমী কাপড় পরিধান করা পুরুষের জন্য জায়িয নেই ।
স্বর্ণের আংটি এবং স্বর্ণের চেইন ব্যবহার করাও পুরুষের জন্য হারাম । টাখনু গিরার নিচ পর্যন্ত জামা , পায়জামা ও প্যান্ট পরিধান করা এবং গলায় টাই বাঁধা বৈধ নয় ১২২ সামর্থ্যবান লোকের জন্য জরাজীর্ণ মানুষের পোশাক পরিধান ইসলাম পসন্দ করেনি । ধনীরা প্রয়োজনের অতিরিক্ত পোশাক দরিদ্রদের মধ্যে সাদাকা করে দিবে । কাপড় পরিধান করার সময় ডানদিক থেকে এবং খোলার সময় বামদিক থেকে শুরু করবে ।
যেমন জামার ডান আস্তিন প্রথমে পরবে । পায়জামার ডান পা প্রথমে পরবে । আর খোলার সময় বাম আস্তিন এবং বাম পা প্রথমে খুলবে । নতুন কাপড় পরিধান করে নিম্নের দু'আটি পাঠ করেব : الحمد لله الذي كساني هذا ورزقنيه من غير حول منى ولا قوة . বেশি শান - শওকতের পোশাক পরিধান করা এবং একেবারে ময়লা কাপড় ব্যবহার করা উচিত নয় ।
বরং সর্বদা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকবে । চুলের যত্ন করবে । তবে সর্বদাই চুল পরিপাটি করার পেছনে লেগে থাকা উচিত নয় । সুরমা ব্যবহার করা মুস্তাহাব । এক পায়ে জুতা পরিধান করে হাঁটা উচিত নয় । হাদীসে এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে ।
১৯৬ খাওয়ার শুরুতে " বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম " বলে ডান হাতে আহার আরম্ভ করবে । খাওয়ার পূর্বে ও পরে হাত ধোবে এবং কুলি করবে । এক পাত্রে কয়েকজন খেতে বসলে নিজের সামনে থেকে খাদ্য গ্রহণ করবে । এক মজলিসে কয়েকজন খেতে বসলে সকলের সামনে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছার পর সকলে “ বিসমিল্লাহ্ ” বলে খাওয়া শুরু করবে । নিজে আগে খাওয়া।
