কোন কোন সম্পদে যাকাত ফরজ হয়। কোন কোন সম্পদে ফরজ হয়না। যাকাত ফরজ হওয়ার শর্তসমূহ। যাকাত বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা।

 কোন কোন সম্পদে যাকাত ফরজ হয়।কোন কোন সম্পদে ফরজ হয়না।যাকাত ফরজ হওয়ার শর্তসমূহ।যাকাত বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা। 


যাকাত সংক্রান্ত আলোচনা। 


কোন কোন  সম্পদ কি পরিমাণ থাকলে যাকাত ফরয হয়।বিস্তারিত আলোচনা। 

* যদি কারও নিকট শুধু সোনা থাকে- রুপা , টাকা - পয়সা ও ব্যবসায়িক পণ্য কিছুই না থাকে , তাহলে সাড়ে সাত তোলা বা তার বেশী ( সোনা ) থাকলে বৎসরান্তে তার উপর যাকাত ফরয হয় । 

* যদি কারও নিকট শুধু রুপা থাকে- সোনা , টাকা - পয়সা ও ব্যবসায়িক পণ্য কিছুই না থাকে , তাহলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা ( রুপা ) থাকলে বৎসরান্তে তার উপর যাকাত ফরয হয় । 

* যদি কারও নিকট কিছু সোনা থাকে এবং তার সাথে কিছু রুপা বা কিছু টাকা - পয়সা বা কিছু ব্যবসায়িক পণ্য থাকে তাহলে এ ক্ষেত্রে সোনার সাড়ে সাত তোলা বা রুপার সাড়ে বায়ান্ন তোলা দেখা হবে না বরং সোনা , রুপা এবং টাকা - পয়সা ও ব্যবসায়িক পণ্য যা কিছু আছে সবটা মিলে যদি সাড়ে সাত তোলা সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার যে কোন একটার মূল্যের সমপরিমাণ হয়ে যায় , তাহলে ( বৎসরান্তে ) তার উপর যাকাত ফরয হবে । 

* যদি কারও নিকট শুধু টাকা - পয়সা থাকে - সোনা , রুপা ও ব্যবসায়িক পণ্য কিছু না থাকে , তাহলে সাড়ে সাত তোলা সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার যে কোন একটার মূল্যের সমপরিমাণ ( টাকা - পয়সা ) থাকলে বৎসরান্তে তার উপর যাকাত ফরয হবে । 

* কারও নিকট সোনা , রুপা ও টাকা - পয়সা কিছুই নেই শুধু ব্যবসায়িক পণ্য রয়েছে , তাহলে উপরোক্ত পরিমাণ সোনা বা রুপার যে কোন একটার মূল্যের সমপরিমাণ থাকলে বৎসরান্তে তার উপর যাকাত ফরয হবে । 

* কারও নিকট সোনা , রুপা নেই শুধু টাকা - পয়সা ও ব্যবসায়িক পণ্য রয়েছে , তাহলে টাকা - পয়সা ও ব্যবসায়িক পণ্যের মূল্য মিলিয়ে যদি উক্ত পরিমাণ সোনা বা রুপার যে কোন একটার মূল্যের সমপরিমাণ হয় তাহলে বৎসরান্তে তার উপর যাকাত ফরয হবে । 



যে সব অর্থ / সম্পদের যাকাত আসে না।বিস্তারিত আলোচনা। 

* ব্যবসায়িক পণ্য ছাড়া ঘরে যে সব আবসাবপত্র , কাপড় - চোপড় , থালা বাসন , হাড়ি - পাতিল , ফ্রিজ , আলমারি , শোকেজ , পড়ার বই ইত্যাদি থাকে তার উপর যাকাত আসে না । 

* থাকা বা ভাড়া দেয়ার উদ্দেশ্যে যে ঘর - বাড়ী নির্মাণ করা হয় বা ক্রয় করা হয় কিংবা অনুরূপ উদ্দেশ্যে যে জমি ক্রয় করা হয় সে ঘর - বাড়ী ও জমির মূল্যের উপর যাকাত আসে না । তবে ব্যবসা / বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ক্রয়কৃত বাড়ী ও জমির মূল্যের উপর যাকাত আসে । 

* কারও কারখানা থাকলে এবং উক্ত কারখানায় কোন উৎপাদন হলে সে উৎপানের কাজে যে মেশিন যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র ব্যবহৃত হয় , মিল - ফ্যাক্টরীতে যে গাড়ী ও যানবাহন ব্যবহৃত হয় তার মূল্যের উপর যাকাত আসে না বরং যাকাত আসে উৎপাদিত মালামাল ও ক্রয়কৃত কাঁচামালের উপর । 

* রিকশা , বেবী , টেক্সি , বাস , ট্রাক , লঞ্চ , স্টীমার ইত্যাদি যা ভাড়ায় খাটানো হয় অথবা যা দিয়ে উপার্জন করা হয় তার মূল্যের উপর যাকাত আসে না । অবশ্য এসব যানবাহনই যদি কেউ ব্যবসার ( বিক্রয়ের ) উদ্দেশ্যে ক্রয় করে থাকে তাহলে তার মূল্যের উপর যাকাত আসবে । 

* পেশাজীবীরা তাদের পেশার কাজ চালানোর জন্য যে সব যন্ত্রপাতি ও আসবাব পত্র ব্যবহার করে থাকে তার মূল্যের উপর যাকাত আসে না । যেমন কৃষকের ট্রাক্টর , ইলেকট্রিশিয়ানদের ড্রিল মেশিন ইত্যাদি । 

* যদি কারও নিকট ব্যবহারের উদ্দেশ্যে হীরা , মনি , মুক্তা , ডায়মণ্ড ইত্যাদির অলংকার থাকে , তাহলে তার মূল্যের উপর যাকাত আসে না । তবে এরূপ নিয়তে রাখা হলে যে , এটা একটা সঞ্চয় প্রয়োজনের মুহূর্তে বিক্রি করে নগদ অর্থ অর্জন করা যাবে- এরূপ হলে তাতে যাকাত ওয়াজিব হবে । 

* প্রভিডেন্ট ফাণ্ডের অর্থ হাতে পাওয়ার পূর্বে তার উপর যাকাত আসে না । তবে যে টাকাটা কর্তৃপক্ষ বাধ্যতামূলক নয় বরং চাকুরিজীবী স্বেচ্ছায় কর্তন করায় তার উপর যাকাত আসবে । এটা হল সরকারী চাকুরীর প্রভিডেন্ট ফাণ্ডের মাসআলা । আর প্রাইভেট কোম্পানীর প্রভিডেন্ট ফাণ্ডের টাকা হাতে পাওয়ার পূর্বেও তার যাকাত দিতে হবে । এমনিভাবে সরকারী চাকুরীর ক্ষেত্রেও। চাকুরিজীবী যদি প্রভিডেন্ট ফাণ্ডের টাকায় কোন ইন্সুরেন্স কোম্পানীতে অংশ নেয় তাহলেও তার যাকাত দিতে হবে । 

* না - বালেগ ও পাগল - এর অর্থ / সম্পত্তিতে যাকাত আসে না ।



যাকাত ফরয হওয়ার শর্তসমূহ । ধারাবাহিক আলোচনা। 

* আকেল ( বুদ্ধিমান ) বালেগ , ছাহেবে নেছাব মুসলমানের উপর বৎসরে একবার যাকাত আদায় করা ফরয । যে পরিমাণ অর্থের উপর যাকাত ফরয হয় তাকে বলে ‘ নেছাব ’ আর এ পরিমাণ অর্থের মালিককে বলা হয় ' ছাহেবে নেছাব ' । গরীব , পাগল ও না - বালেগের সম্পত্তিতে যাকাত ফরয হয় না । 

* নেছাব পরিমাণ অর্থের উপর পূর্ণ এক বৎসর অতিবাহিত হলে যাকাত

ফরয হয় । এক বৎসর অতিবাহিত হওয়ার পূর্বে যাকাত ফরয হয় না । যাকাতের ক্ষেত্রে ইংরেজী বা বাংলা নয় বরং চান্দ্র বৎসরের হিসাব করতে হবে । 

* অর্থ সম্পদের প্রত্যেকটা অংশের উপর পূর্ণ এক বৎসর অতিবাহিত হওয়া শর্ত নয় বরং শুধু নেছাব পরিমাণের উপর বৎসর অতিবাহিত হওয়া শর্ত । কাজেই বৎসরের শুরুতে যে পরিমাণ ছিল ( নেছাবের চেয়ে কম না হওয়া চাই ) বৎসরের শেষে যদি তার চেয়ে পরিমাণ বেশী দেখা দেয় তাহলে ঐ বেশী পরিমাণের উপরও যাকাত ফরয হবে । 


এখানে দেখা গেল ঐ বেশী পরিমাণ যেটা বৎসরের মাঝে যোগ হয়েছে , তার উপর পূর্ণ এক বৎসর অতিবাহিত না হওয়া সত্ত্বেও তার উপর যাকাত আসছে । 

* কেউ যদি বৎসরের শুরুতে মালেকে নেছাব হয় এবং বৎসরের শেষেও মালেকে নেছাব থাকে , মাঝখানে কিছু কম হয়ে যায় ( নেছাবের ন্যুনতম পরিমাণের চেয়ে কমে গেলেও ) তাহলে বৎসরের শেষে তার নিকট যে পরিমাণ থাকবে তার উপর যাকাত ফরয হবে । তবে মাঝখানে যদি এমন হয়ে যায় যে , মোটেই অর্থ সম্পদ না থাকে , তাহলে পূর্বের হিসাব বাদ যাবে । পুনরায় যখন নেছাবের মালিক হবে তখন থেকে নতুন হিসাব ধরা হবে এবং তখন থেকেই বৎসরের শুরু ধরা হবে। 



বিশেষ আলোচনা। রোগব্যাধি থেকে সতর্কতা অবলম্বনে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি।

 রোগব্যাধি থেকে সতর্কতা অবলম্বনে ইসলাম বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে । আজকের বিশ্বে এ কথা বলা হয় " Prevention is better than cure " রোগ - প্রতিরোধ রোগ নিরাময় থেকে শ্রেয় । শুধু তাই নয় , বর্তমানে এ কথাও বলা যায় যে , " Prevention is Cheaper than cure " , রোগ প্রতিরোধ হচ্ছে নিরাময়ের চাইতে সস্তা । 


এ কারণেই ইসলাম এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে । হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আব্বাস ( রা ) থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন , রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) পানপাত্রের মধ্যে নিশ্বাস ফেলতে ও তার মধ্যে ফুঁ দিতে নিষেধ করেছেন । ৭ এটাও এক ধরনের প্রতিরোধ ব্যবস্থা । 


কারণ নাক ও মুখের ভিতর অনেক ধরনের রোগজীবাণু থাকতে পারে , যেগুলো পানিকে দূষিত করে থাকে । আর এতে দেহের মধ্যে রোগের সৃষ্টি হতে পারে । আল্লাহ্ তা'আলা বলেন : يخرج من بطونها شراب مختلف الوئه فيه شفاء للناس - তার ( মৌমাছির ) উদর থেকে নির্গত হয় বিবিধ বর্ণের পানীয় ( মধু ) যাতে মানুষের জন্যে রয়েছে আরোগ্য । 


( সূরা নাহল , ১৬ : ৬৯ ) কালোজিরা সম্পর্কে হযরত আবূ হুরায়রা ( রা ) বর্ণনা করেছেন , তিনি রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) -কে বলতে শুনেছেন , কালোজিরার মধ্যে মৃত্যু ব্যতীত আর সমস্ত রোগের আরোগ্য রয়েছে । * বর্তমানে মধু ও কালোজিরা নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় গবেষণা হচ্ছে । রোগ প্রতিরোধ এবং রোগ নিরাময়ে এর যে অপরিমেয় শক্তি তা ক্রমশ আবিষ্কার হচ্ছে । ইসলামে পুত্র সন্তানদের খাৎনা করানোর যে নিয়ম এটা তাকে বিভিন্ন রোগব্যাধি থেকে মুক্ত রাখে । স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য দাঁত ও মুখ সর্বদাই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরী ।


 পক্ষান্তরে দাঁত ও মুখ অপরিষ্কার থাকলে এতে বিভিন্ন প্রকারের রোগব্যাধি সৃষ্টি হতে পারে । এ কারণে রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) দাঁত ও মুখ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারে বিশেষভাবে তাকীদ দিয়েছেন । তিনি বলেছেন : আমি যদি মানুষের জন্য এটা কষ্টকর হবে বলে মনে না করতাম তাহলে প্রত্যেক নামাযের উযূর সাথে মিস্ওয়াক করার নির্দেশ দিতাম । উযূর মধ্য দিয়ে দিনে পাঁচবার কনুই থেকে হাতের আঙ্গুল পর্যন্ত , পায়ের কবৃজি থেকে পায়ের আঙ্গুল পরিষ্কার করা সম্ভব হয় । নাক , মুখ , কান ও চোখ দিনে পাঁচবার পরিষ্কার করা সম্ভব হয়ে থাকে । এর ফলে এই সমস্ত অঙ্গে শরীরে কোন ধূলিকণা বা রোগজীবাণু লেগে থাকতে পারে না । 


ইসলামে মদ নিষিদ্ধ করা হয়েছে । ফলে মানুষ হৃদরোগ এবং ক্যান্সারের মত ভয়াবহ রোগ থেকে রক্ষা পেতে পারে । নিরাময় সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত স্পষ্ট । হযরত আবূ হুরায়রা ( রা ) থেকে বর্ণিত , নবী কারীম ( সা ) বলেন : আল্লাহ্ তা'আলা এমন কোন রোগ সৃষ্টি করেননি যার নিরাময়ের ব্যবস্থা দেননি ।  শিশু - কিশোর পরিচর্যায় ইসলাম ১৫৩ জন্মের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে শিশুকে নিয়মিতভাবে মারাত্মক কয়েকটি রোগের প্রতিরোধক টিকা অবশ্যই দিতে হবে । এ ক্ষেত্রে উপরোক্ত হাদীস স্মরণ রাখতে হবে যে , রোগও আল্লাহ সৃষ্টি আর নিরাময়ের ব্যবস্থাও তাঁরই । যদি জ্বর হয় তাহলে জ্বর কমানোর জন্য আধুনিক বিশ্বের চিকিৎসা হল ঠাণ্ডা পানি দিয়ে শরীর ধুয়ে ফেলা কিংবা ঠাণ্ডা পানি দিয়ে গা মুছে ফেলা । রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) বলেন :



 জ্বর জাহান্নামের উত্তাপ থেকে সৃষ্ট , তাই পানি দিয়ে তা ঠাণ্ডা কর । ১ শিশুর জীবনরক্ষা ও পরিবর্ধনে পিতামাতার দায়িত্ব শিশুদের নিরাপত্তা ও বিকাশ সাধনে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত পরিষ্কার । রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) বলেন : যদি আল্লাহ্ তা'আলা কাউকে অধীনস্থদের উপর কর্তৃত্ব দান করেন আর সে তাদের কল্যাণ কামনা থেকে বিরত থাকে তাহলে জান্নাতের ঘ্রাণ তার নসীব হবে না ।১০২ রাসলল্লাহ ( সা ) ইরশাদ করেন : তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককেই তার।

 

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post