হযরত মুহাম্মাদ সাঃ এর চার কন্যা। নাম ও সংক্ষিপ্ত জীবনি। ধারাবাহিক পরিচয়পর্ব।

 হযরত মুহাম্মাদ সাঃ এর চার কন্যা।নাম ও সংক্ষিপ্ত জীবনি।ধারাবাহিক পরিচয়পর্ব। 

হযরত মুহাম্মাদ সাঃ এর কন্যাগণ।


উম্মতের সর্বসম্মত মত অনুসারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর ৪ কন্যার মধ্যে ফাতেমা ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠা । নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সম্পর্কে বলেছিলেন , ফাতেমা জান্নাতী নারীদের নেত্রী হবে । পনের বছর পাঁচ মাস পনের দিন বয়সে হযরত আলি রাযি . এর সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয় । বিবাহে মহর ছিল ৪৮০ দিরহাম ।


 যা প্রায় ১৫০ তোলা রূপার সমান । রমণীকূল শিরোমনি ফাতেমার বিবাহের উপঢৌকন ছিল একটি চাদর , একটি বালিশ , যাতে খেজুর গাছের ছাল ভরা ছিল । একটি চামড়ার গদি , একটি দড়ির চৌকি , চামড়ার তৈরি একটি পানির পাত্র , দুটি মাটির কলস , দুটি মশক এবং একটি আটার । ( তাবাকাতে ইবনে সাদ ) চাৰ্জীতে আটা পেষণসহ ঘরের যাবতীয় কাজ ফাতেমা রাখি , নিজ হাতেই করতেন । 


এ হলো উভয় জগতের সরদার নবীজির সবচেয়ে আদরের কন্যার বিবাহ এবং তার উপঢৌকন আর মহর । এই হলো তাঁর দারিদ্রপীড়িত জীবনের বাস্তব চিত্র । 


এরপরও কি সেসব মহিলার চোখে এতটুকু লজ্জাও আসে না , যারা বিবাহ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতায় নিজেদের দীন - ধর্ম সব কিছুই খোয়াচ্ছেন ? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর পুত্র সন্তানদের কেউই জীবিত না থাকার পেছনে আল্লাহ পাকের বিশেষ হেকমত নিহিত আছে । কেবল কন্যা সন্তানদের দ্বারা দুনিয়াতে তাঁর বংশধারা টিকে আছে । আবার মেয়েদের মধ্যেও হযরত ফাতেমা রাযি . এর সন্তানরাই বেঁচে ছিলেন । অন্যান্য মেয়েদের কারো সন্তানই হয় নি । আবার কারো সন্তান জন্মাবার পর শৈশবেই মারা যায় ।

হযরত যয়নব রাযি . - এর বিবাহ হয় আবুল আস ইবনে রবী রাযি . এর সঙ্গে । তাঁর একটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করে অল্প বয়সেই মারা যায় । একটি কন্যা সন্তানও জন্মলাভ করে । তার নাম ছিল উমামা । 

রুকাইয়া রাযি . - কে বিবাহ করেন হযরত উসমান রাযি .। হাবশা হিজরতের সময় তিনি স্বামী উসমান রাযি . - এর সঙ্গে ছিলেন । দ্বিতীয় হিজরিতে বদর যুদ্ধ থেকে ফেরার সময় নিঃসন্তান অবস্থায়ই তিনি ইনতেকাল করেন ।

এরপর তৃতীয় হিজরীতে তাঁর অপর একবোন হযরত উম্মে কুলসুমকে রাসুল সাঃ হযরত উসমান রাঃ এর সঙ্গে  বিয়ে দেন।এজন্যই হযরত উসমান রাঃ যুননূরাইন উপাধিতে ভূষিত হোন।


বিশেষ আলোচনা। শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলাম। 

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান । মানুষের ইহলৌকিক ও পারলৌকিক কল্যাণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইসলামের কোন বিকল্প নেই । ইসলামে প্রাপ্তবয়স্ক লোকদের অধিকারের স্বীকৃতি যেমন রয়েছে , অনুরূপ শিশুদের অধিকারের নিশ্চয়তাও এতে পুরোপুরি রয়েছে । ক . সন্তানের বেঁচে থাকার অধিকার শিশুদের বেঁচে থাকার অধিকার ইসলাম কর্তৃক স্বীকৃত ও সুরক্ষিত । 


কাজেই পিতামাতা কোন অবস্থাতেই সন্তান হত্যা করতে পারবে না । এমনকি চরম দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত হলেও নয় । কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে : . ولا تقتلوا أولادكم خشية املاق نحن نرزقهم واياكم ان قتلهم كان خطئا كبيرا তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে দারিদ্র্যের ভয়ে হত্যা করো না । তাদেরকেও আমিই রিযিক দেই এবং তোমাদেরকেও । 


তাদেরকে হত্যা করা মহাপাপ । ( সূরা বানী ইসরাঈল , ১৭ : ৩১ ) অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে : قد خسر الذين قتلوا اولادهم سفها بغير علم . যারা নির্বুদ্ধিতার দরুন ও অজ্ঞানতাবশত নিজেদের সন্তানদেরকে হত্যা করে , তারা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে । ( সূরা আন'আম , ৬ : ১৪০ ) আরো ইরশাদ হয়েছে : واذا الموؤدة سئلت باي ذنب قتلت . যখন জীবন্ত সমাধিস্থ কন্যাকে জিজ্ঞাসা করা হবে , 


কোন অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছিল ? ( সূরা তাকভীর , ৮১ : ৮-৯ ) আল্লাহ্ তা'আলা রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) -কে নারীদের বায়'আত গ্রহণকালে তাদের থেকে যেসব বিষয়ে শপথ নেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন , তন্মধ্যে একটি ছিল সন্তান হত্যা না করা ।


ইসলামী শরী'আতে শিশুর জীবন রক্ষায় পিতামাতার দায়িত্ব অপরিসীম । শিশু পিতামাতার নিকট এক পবিত্র আমানত । এ আমানত সম্পর্কে তারা অচিরেই জিজ্ঞাসিত হবে । যদি পিতামাতা শিশুদের প্রতিপালনে মনোযোগী না হয় , তবে অবশ্যই তাদের জবাবদিহি করতে হবে । মানুষের দায়িত্ব সম্পর্কে হাদীস শরীফে বর্ণিত রয়েছে , রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) ইরশাদ করেছেন : তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্ববান এবং প্রত্যেকেই আপন দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে । প্রতিটি মানুষ তার পরিবার রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে দায়িত্ববান ।


 তাকে এ দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে । স্ত্রী তার স্বামীর সম্পদ ও সন্তানের ব্যাপারে দায়িত্ববান । সে এসবের রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে । ” মোটকথা , আল্লাহ্ তা'আলা সকলের জন্য তাদের সন্তান হত্যা করা হারাম করে দিয়েছেন ।  



শিশু - কিশোর পরিচর্যায় ইসলাম ১২৯ খ . সন্তানদের মাঝে সমতা বিধান হাদীসে আছে , “ সন্তানদের দান করার ব্যাপারে সমতা রক্ষা কর । " অন্য হাদীসে আছে , “ তোমাদের সন্তানদের মাঝে সুবিচার প্রতিষ্ঠা কর , তোমাদের সন্তানদের মাঝে ইনসাফ কায়েম কর । ২২ এ সম্পর্কে প্রায় সকল হাদীস গ্রন্থে , নু'মান ইব্‌ন বাশীর ( রা ) বর্ণিত হাদীসটি উদ্ধৃত হয়েছে । বাশীর আনসারীর স্ত্রী উমরাহ তাঁর পুত্র নু'মান ইবন বাশীরকে একটি বাগান অথবা ক্রীতদাস দান করার জন্য স্বামীকে পীড়াপীড়ি করেন । এতে বাশীর ঐ ছেলেকে তা দান।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post