মু'জিযা ও যাদুর মধ্যে পার্থক্য।মু'জিযা ও কারামতের মধ্যে পার্থক্য। গুরুত্বপূর্ণ তাহকিক।
![]() |
| মু'জিযা ও যাদুর মাঝে পার্থক্য। |
দার্শনিক আলিমদের মতে যাদু ও মু'জিযার মধ্যে বহুবিধ পার্থক্য বিদ্যমান । যথা : ১. কোন ওয়াসিতা বা মাধ্যম প্রয়োগ করে যাদু প্রদর্শন করা হয় । অর্থাৎ , যাদু কোন উপকরণ ( −৮ ) -এর মাধ্যমে সংঘটিত হয় । পক্ষান্তরে মু'যিজার পেছনে কোন উপকরণ থাকে না । কোন উপকরণের মাধ্যমে মু'জিযা প্রদর্শন করা যায় না । বরং আল্লাহ্ যখন ইচ্ছা করেন তখনই তিনি নবী বা রাসূলগণের মাধ্যমে মু'জিযার বহিঃপ্রকাশ ঘটান । এটাই হচ্ছে যাদু ও মু'যিজার মধ্যকার মূল তাৎপর্যগত পার্থক্য । ২. যাদুবিদ্যা শিক্ষার মাধ্যমে অর্জন করা যায় ।
পক্ষান্তরে মু'জিযা শিক্ষার মাধ্যমে হাসিল করা যায় না । বরং আল্লাহ্ নবী - রাসূলগণের মাধ্যমে নিজ ইচ্ছায়ই এর প্রকাশ ঘটান । ৩. যাদুর মোকাবিলা করা সম্ভব । তাই এক যাদুকর অন্য যাদুকরের যাদুকে সম্পূর্ণ রূপে ব্যর্থ করে দিতে পারে । পক্ষান্তরে মু'জিযার মুকাবিলা করা কোন মানুষের পক্ষে আদৌ সম্ভব নয় । তাই হযরত মূসা ( আঃ ) এর মু'জিযার সামনে ফিরাউনের আনীত দেড় লক্ষ যাদুকর ব্যর্থ হতে বাধ্য হয় ।
৪. যাদুকরদের যাদুর মধ্যে পরস্পর বৈপরিত্য থাকতে পারে , কিন্তু নবীদের মু'জিযার মধ্যে কোন বৈপরিত্য ছিল না এবং হতে পারে না । ৫. যাদুর কোন বাস্তবতা বা প্রকৃত স্বরূপ নেই । বরং যাদু হচ্ছে একটি অবাস্তব বিষয় । পক্ষান্তরে মু'জিযা হচ্ছে বাস্তব সত্য এক কুদরতী বিষয় । এর বাস্তবতার কথা অমুসলিম ব্যক্তিগণও স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে । ৬. যাদু স্থান ও কালের সাথে সম্পর্কিত নয় । যেমন আল্ কুরআন সর্বকালের ও সর্ব স্থানের মানুষের জন্যই এক মু'জিযানা কিতাব । ৭. যাদু প্রদর্শন করা হয় পার্থিব স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য ।
আর মু'জিযার প্রকাশ ঘটানো হয়েছিল ধর্মীয় স্বার্থ হাসিলের জন্য । ৮. সাধারণতঃ মূর্খ ও নির্বোধ ধরনের লোকদের মধ্যেই যাদু প্রদর্শিত হয়ে থাকে এবং তারাই তা গ্রহণ করে থাকে । পক্ষান্তরে মু'জিযা প্রদর্শিত হয়েছিল সর্বস্তরের মানুষের সামনে ।
তারপর বুদ্ধিমান লোকেরাই এর থেকে হেদায়েত গ্রহণ করেছে । এখানে এ কথাও স্মরণ রাখতে হবে মু'জিযা ও কারামতের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে । পরবর্তিতে তা উল্লেখ করা হবে । ৯. সাধারণভাবে সব নবী - রাসূলদের ব্যাপারে যেসব আকীদা রাখতে হয় , তার মধ্যে হল নবী রাসূলগণের মধ্যে পারষ্পরিক মর্যাদার পার্থক্য রয়েছে । এটা কুরআন দ্বারা প্রমাণিত ইয়াকীনী বিষয় । আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেনঃ অর্থাৎ ,
আমি কতক নবীকে কতকের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি । ( সূরাঃ ১৭ - বানী ইসরাঈল : ৫৫ ) তবে খাস করে কোন্ নবী কোন্ নবীর চেয়ে শ্রেষ্ঠ , তা ইয়াকীনী বিষয় নয় বরং এই তবে এর মধ্যে ব্যতিক্রমও রয়েছে । ১০. নবী রসূলগণ মা'সূম বা নিষ্পাপ - তাঁদের দ্বারা কোন পাপ সংঘটিত হয় না । নবুওয়াতের আগে ও পরে সগীরা ও কবীরা সব ধরনের গোনাহ থেকে তাঁরা পবিত্র।
মু'জিযা ও কারামতের মধ্যে পার্থক্য। বিশেষ তাহকিক।
মু'জিযা ও কারামতের মধ্যে বিভিন্ন দিক থেকে পার্থক্য বিদ্যমান । যথা : ( ১ ) মু'জিযার উদ্দেশ্য হল , নবুওয়াত অস্বীকারকারী লোকদের নিকট নবীর সত্যতা প্রমাণ করা । আর কারামতের উদ্দেশ্য হল , ওলী ও বুযুর্গ ব্যক্তির সম্মান বৃদ্ধি করা ।
( ২ ) মু'জিযা নবী রাসূলের সাথে খাস । অর্থাৎ , নবী - রাসূল ব্যতীত অন্য কারো থেকে ঘটিত অলৌকিক বিষয়কে মু'জিযা বলা হয় না । পক্ষান্তরে ওলী - দরবেশ সকলের থেকেই কারামত প্রকাশ পেতে পারে । ( ৩ ) ওলী তার অলৌকিক বিষয় গোপন রাখবেন । কিন্তু পয়গম্বরের দায়িত্ব হল , তার অলৌকিক ক্ষমতা প্রকাশ করে দেয়া । ( 8 ) ওলী নিজ কারামত সম্বন্ধে ওয়াকেফহাল নাও হতে পারেন । কিন্তু নবী - রাসূল তার মু'জিযা না জেনে পারেন না ।
বিশেষ আলোচনা। শিশু - কিশোরদের চরিত্র গঠনে পারিবারিক জীবনের গুরুত্ব।
পরিবার হচ্ছে সমাজ জীবনের প্রথম স্তর । স্বামী - স্ত্রী , সন্তান - সন্তুতি , পিতা - মাতা , ভাইবোন প্রভৃতি ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গড়ে উঠে পরিবার । বহু সংখ্যক পরিবারের সমন্বিত রূপ হচ্ছে সমাজ । আর পরিবার থেকেই শুরু হয় মানুষের সামাজিক জীবন । সামাজিক জীবনের শৃংখলা ও স্বচ্ছতা নির্ভর করে পারিবারিক জীবনের সুষ্ঠুতার উপর ।
মানুষ সামাজিক জীব । পারিবারিক জীবনের মাধ্যমেই এ সামাজিক জীবনের সূচনা হয় । মানুষ সকল যুগে ও সকল কালেই কোন না কোনভাবে সামাজিক জীবন যাপন করেছে । প্রাচীনকাল থেকেই পরিবার সামাজিক জীবনের প্রথম ক্ষেত্র বা প্রথম স্তর হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছে । কাজেই আদর্শ সমাজ গঠনে আদর্শ পরিবারের গুরুত্ব অপরিসীম ।
সন্তান প্রতিপালনের জন্যে পরিবারের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ । পরিবারেই সন্তানের শারীরিক , মানসিক ও নৈতিক শিক্ষার ভিত রচিত হয় । শিশু সর্বপ্রথম প্রভাবান্বিত হয় তার পিতামাতার দ্বারা । কেননা শিশু তার আচার - আচরণে তাঁদেরকেই আদর্শরূপে গ্রহণ করে । তাই সন্তানদের সামনে সুন্দর চরিত্র ও উত্তম আচরণ প্রকাশ করাই পিতামাতার কর্তব্য ।
তারা যেন নিজেদেরকে উত্তম উদাহরণরূপে সমাজের সামনে পেশ করেন । সমাজ জীবনের বিভিন্ন দিক ও বিভাগকে সুস্থ ও সর্বাঙ্গ সুন্দর করতে হলে পারিবারিক জীবনকে সুন্দর কাঠামোতে গড়ে তোলা আবশ্যক ।
অন্যথায় সমাজ সংস্কার ও আদর্শ জাতি গঠনের কোন প্রচেষ্টাই সফল হয় না । পারিবারিক জীবনের গুরুত্ব ও অপরিহার্যতার প্রতি ইঙ্গিতবহ কয়েকটি আয়াত নিম্নে পেশ করা হলো : ইরশাদ হয়েছে : والله جعل لكم من أنفسكم أزواجا وجعل لكم من أزواجكم بنين وحفدة . আর আল্লাহ্ তোমাদের থেকেই তোমাদের জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের যুগল হতে তোমাদের জন্য পুত্র ও পৌত্রাদি সৃষ্টি করেছেন । ( সূরা নাহল , ১৬ : ৭২ ) । অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে : . وهو الذي خلق من الماء بشرا فجعله نسبا وصهرا وكان ربك قديرا তিনিই মানুষকে সৃষ্টি করেছেন পানি হতে ।
তারপর তিনি তার বংশগত ও বৈবাহিক সম্বন্ধ স্থাপন করেছেন । তোমার প্রতিপালক সর্বশক্তিমান । ( সূরা ফুরকান , ২৫ : ৫৪ ) তিনি আরো ইরশাদ করেছেন : ১২৬ يأيها الذين امنوا قوا انفسكم وأهليكم نارا হে মু'মিনগণ ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার - পরিজনকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা কর । ( সূরা তাহরীম , ৬৬ : ৬ ) বস্তুবাদী সমাজ পারিবারিক প্রথা বিলুপ্তির জন্য খুবই সচেষ্ট । এতে করে তাদের জীবনে নেমে এসেছে চরম অশান্তি ও বিপর্যয় । প্রকৃতপক্ষে মানুষের শান্তি , স্বস্তি ও নিরাপত্তার জন্যে পরিবার একটি দুর্গ স্বরূপ ।
এ দুর্গ অক্ষুণ্ন ও সুরক্ষিত থাকার উপরই নির্ভর করে ইসলামী সমাজ ও জাতীয় জীবনের নিরাপত্তা , সুস্থতা এবং স্থিতি । পরিশেষে বলা যেতে পারে যে , পারিবারিক জীবন ব্যতীত যেমন মানব সভ্যতার বিকাশ অচিন্ত্যনীয় , তেমনি শিশু - কিশোরদের চরিত্র গঠনে পারিবারিক জীবনের বিকল্প নেই । তাই ইসলাম সুস্থ পারিবারিক জীবনের প্রতি সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছে । মাতৃগর্ভে শিশুর বিকাশে পিতামাতার দায়িত্ব সম্পর্কে ইসলাম ইসলাম প্র ৪ যে জানার পর থেকেই শিশুদের প্রতিহত দান করেছে তা নয় বরং পূর্ব।
