পশু জবাই করার মাসায়েল। জবাইকৃত পশু হালাল হওয়ার শর্তসমূহ। পশুর গোশত।

 পশু জবাই করার মাসায়েল।জবাইকৃত পশু হালাল হওয়ার শর্তসমূহ।পশুর গোশত।

পশু জবাই সংক্রান্ত আলোচনা। 


* জবাইকারীর মুসলমান হওয়া শর্ত- কাফেরের জবাই করা জন্তু খাওয়া হারাম । 

* মুসলমান পুরুষ হোক বা মহিলা উভয়ের জবাই খাওয়া হালাল । 

* নাবালেগ ছেলে মেয়ে জবাই করতে জানলে এবং বিসমিল্লাহ ( আল্লাহর নাম ) বললে তার জবাই খাওয়া হালাল । 

* জবাই করার সময় জন্তু ও জবাইকারী উভয়ের মুখ কেবলার দিকে থাকা সুন্নাতে মুআক্কাদা । 

* জবাই করার সময় জবাইকারী কর্তৃক আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা শর্ত । বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলে সাধারণতঃ এ শর্ত পূরণ করা হয় । ইচ্ছাকৃত বিসমিল্লাহ না বললে বা অন্য কোন বাক্যে আল্লাহর নাম না নিলে সে জন্তু খাওয়া হারাম হয়ে যায় । তবে ভুলে ছুটে গেলে খাওয়া দুরস্ত আছে । 

* জবাইর মধ্যে জানোয়ারের চারটা রগ কাটতে হবে । তিনটা রগ কাটলেও দুরস্ত আছে । তিনটার কম কাটলে সে জন্তু মৃত বলে গণ্য এবং হারাম হয়ে যাবে । রগ চারটি এইঃ শ্বাসনালী , খাদ্য নালী ও দুইটা শাহরগ । 

* ধারাল ছুরি দ্বারা জবাই করা উত্তম । ভোঁতা বা কম ধারাল ছুরি দ্বারা জবাই করা মাকরূহ । 

* ছুরির অভাবে ধারাল পাথর , বাঁশ বা আখের ধারাল বাক্লা দ্বারা জবাই করা দুরস্ত আছে । 

* পাথরের আঘাতে , বন্ধুকের গুলিতে মারা গেলে খাওয়া দুরস্ত নয় । তবে বন্ধুকের গুলি বা পাথরের আঘাত লাগার পর মরে যাওয়ার পূর্বে জবাই করতে পারলে তা খাওয়া জায়েয । 

* দাঁত বা নখ দ্বারা জবাই করা দুরস্ত নয় । 

* জবাই করার সময় জানোয়ারের মাথা সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে গেলেও তা খাওয়া দুরস্ত আছে । তবে ইচ্ছাকৃতভাবে এরূপ কেটে আলাদা করে দেয়া মাকরূহ । তবে এরূপ জানোয়ার খাওয়া মাকরূহ নয় । 

* জবাই করার পর জানোয়ার ঠাণ্ডা হওয়ার পূর্বে চামড়া খসানো , হাত পা . কাটা বা ভাঙ্গা কিংবা সমস্ত গলা কেটে দেয়া মাকরূহ । 

* গোসল ওয়াজিব বা উযূ নেই- এমন অবস্থায়ও জবাই করা যায় । 

* হাঁস , মুরগি ইত্যাদির পালক ছাড়ানোর জন্য ফুটন্ত পানিতে হাস মুরগিকে যদি এতক্ষণ রাখা হয় যাতে তার পেটের নাপাকী গোশতের মধ্যে ভেদ করার প্রবল ধারণা হয় , তাহলে তার গোশত নাপাক হয়ে যায় পাক করার আর কোন উপায় থাকে না । অবশ্য পানি যদি ফুটতে না থাকে শুধু গরম হয় তাহলে তাতে দীর্ঘক্ষণ চুবিয়ে রাখলেও অসুবিধা নেই কিংবা ফুটন্ত পানিতে চুবিয়ে সাথে সাথে উঠিয়ে ফেললেও অসুবিধা নেই । 

* জবাই করার পূর্বে প্রাণীকে ক্ষুধার্থ রাখা জুলুম । 



ঘর সাজানো গোছানো ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার মাসায়েল। পরিচ্ছন্নতা। 

* ঘর এবং ঘরের আশপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা সুন্নাত । 

* বিনা প্রয়োজনে মাকড়সা মারা অনুচিত , তবে তার জাল ভেঙ্গে ঘর পরিষ্কার করা যাবে । 

* পিপড়া , ছারপোকা ইত্যাদি কোন প্রাণী আগুন দ্বারা পুড়িয়ে মারা নিষেধ । একান্ত ঠেকা অবস্থায় গরম পানি দিয়ে ছারপোকা তাড়ানো যায় । * টিকটিকি ও গিরগিটি মারা ছওয়াবের কাজ । 

* ঘরের জিনিসপত্রগুলো যথাস্থানে গুছিয়ে রাখা সাংসারিক সুব্যবস্থার অন্যতম কাজ । 

* প্রাণীর ফটো বা মূর্তি রাখা হারাম । কোন বুযুর্গ বা গুরুজনের ফটোর বেলায়ও একই হুকুম । যে ঘরে ফটো বা মূর্তি থাকে সে ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না । 

* রাতের বেলায় ঘর ঝাঁট দেয়ায় কোন দোষ নেই । 

* আয়না বা কোন প্লেটে লিখিত আল্লাহ , রাসূলের নাম , কালিমা , আয়াত সৌন্দর্যের নিয়তে রাখা বে - আদবী । তবে বরকতের নিয়তে রাখাতে অসুবিধা নেই । 

* ঘরের দরজা জানালায় পর্দা দিবে শরী'আতের পর্দার হুকুম পালন করার নিয়তে , সৌন্দর্যের নিয়তে নয় । 



সমাজনীতি সমাজ সংসার ও নতুন সমাজ গঠনের জন্য যা যা করণীয়।

১. সমাজের কুসংস্কার , বেদআত , রছম ও প্রচলিত অনৈসলামিক ধ্যান - ধারণার প্রতি সমাজ সদস্যদের বীতশ্রদ্ধ করে তুলতে হবে । 

২. সেই সাথে সাথে ইসলামের নির্ভেজাল ও শাশ্বত আদর্শ এবং ইসলামী মূল্যবোধ সমাজের সামনে তুলে ধরতে হবে । 

৩. বিজাতীয় সভ্যতা সংস্কৃতির প্রভাব থেকে সমাজকে দূরে রাখার সর্বপ্রযত্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে ।



বিশেষ আলোচনা। পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য চাই সুস্থ পরিবেশ।

ঘর - বাড়ি , রাস্তাঘাট ইত্যাদি আমাদের সেই পরিবেশেরই গুরুত্বপূর্ণ অংশ । তাই বস্ত - বাড়ি , রাস্তাঘাট , খোলা মাঠ ইত্যাদি আবর্জনামুক্ত রাখা একান্ত প্রয়োজন । রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) ইরশাদ করেন : আল্লাহ্ সুন্দর এবং সৌন্দর্যকে পসন্দ করেন ১৯৪ রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) আরো বলেন : আল্লাহ্ তা'আলা পবিত্র এবং তিনি পবিত্রতাকে পসন্দ করেন , তিনি পরিচ্ছন্ন এবং পরিচ্ছন্নতাকে পসন্দ করেন , নিজে সুমহান এবং মহত্ত্বকে পসন্দ করেন এবং তিনি দানশীল , দানশীলতাকে পসন্দ করেন । 

কাজেই তোমরা তোমাদের বাড়ির চতুর ) পরিচ্ছন্ন রাখবে হযরত মু'আয ইবন জাবাল ( রা ) থেকে বর্ণিত আছে , তিনি বলেন , আল্লাহর রাসূল ( সা ) ইরশাদ করেন : পানির ঘাটে , রাস্তার মাঝে এবং বৃক্ষের ছায়ায় মলত্যাগ থেকে বিরত থাকবে ১৪৬ হযরত আবূ হুরায়রা ( রা ) বলেন , রাসূলে কারীম ( সা ) বলেছেন : ঈমানের সত্তরের চেয়েও অধিক শাখা রয়েছে । 

এর মধ্যে উত্তম শাখা হচ্ছে ' লা - ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ ' কালেমা পাঠ করা এবং ক্ষুদ্রতম শাখা হচ্ছে রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করা । ১৪৭ নবী কারীম ( সা ) আরও বলেন : আমার নিকট আমার উম্মাতের ভালমন্দ সকল আমলের ফিরিস্তি পেশ করা হয়েছিল ।


 আমি ভাল কাজসমূহের তালিকার মধ্যে রাস্তা থেকে অপসারিত  কষ্টকর বস্তুকেও দেখতে পেয়েছি এবং মন্দ কাজসমূহের তালিকার মধ্যে দেখতে পেয়েছি মসজিদে নাকের ময়লা নিক্ষেপ করা যা সেখান থেকে মুছে ফেলা না হয় । ১৮ বর্তমানকালে পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধের ব্যাপারে যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে । আমরা মুসলমান হিসেবে ইসলামের উপরোক্ত নির্দেশনার আলোকে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতাকে যদি মেনে চলি তাহলে রোগব্যাধি ইত্যাদি থেকে মুক্ত থাকতে পারি ।

 খাদ্য ও পানীয়ের পরিচ্ছন্নতা ও মিতব্যয়িতা খাদ্য ও পানীয় পরিষ্কার - পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র না রাখলে এগুলো সংক্রমিত হতে পারে এবং তা দ্বারা খাদ্যনালী তথা পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন ধরনের রোগ হতে পারে । সে কারণেই খাদ্য পানীয়ের পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা একান্ত জরুরী । এ প্রসঙ্গে রাসূলে কারীম ( সা ) পানি ও খাদ্যদ্রবের মধ্যে ফুঁ দিতে এবং পাত্রের মধ্যে নিঃশ্বাস ফেলতে নিষেধ করেছেন । 


এ ছাড়া তিনি পানাহারের পাত্র ঢেকে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন । জীবন ধারণে পানির গুরুত্ব অপরিসীম । তাই পানি ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়া একান্ত প্রয়োজন । হযরত ইব্‌ন আব্বাস ( রা ) থেকে বর্ণিত যে , নবী কারীম ( সা ) একদা হযরত সা'দ ( রা ) -কে উযূ করার সময় অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করতে দেখে বললেন : হে সা'দ ! এ অপব্যয় কেন ? তখন তিনি বললেন , 



উযূতেও কি অপব্যয় আছে ? রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) বললেন , হ্যাঁ , যদি তুমি একটি প্রবাহমান নদীতেও থাক ১৯ স্থির পানিতে পেশাব - পায়খানা না করা স্থির পানি বা বদ্ধ জলাশয়ে পায়খানা - পেশাব করা একেবারেই অনুচিত । কোন বদ্ধ জলাশয়ে পেশাব - পায়খানা করলে তাতে রোগজীবাণু জন্ম নেয় । ফলে সেই পানিতে গোসলের সময় সেই পানি মুখে , নাকে , চোখে প্রবেশ করে নাক , মুখ , চোখ , খাদ্যনালী ও শ্বাসনালীতে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি করতে পারে । চর্মে বিভিন্ন ধরনের এ্যালার্জি রোগের সৃষ্টি হতে পারে । 

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post