মান্নতের মাসায়েল।মান্নত পূর্ণ করা বা না করার বিধান। মান্নতের বৈধতা।
![]() |
| মান্নতের মাসাঈল। |
* কোন ইবাদত জাতীয় মান্নত মানলে যদি যে উদ্দেশ্যে মান্নত করেছে সে উদ্দেশ্য পূর্ণ হয় তাহলে ঐ মান্নত পূরা করা ওয়াজিব । উদ্দেশ্য পূর্ণ না হলে মান্নত আদায় করা ওয়াজিব হয় না । আর কোন উদ্দেশ্য ব্যতীত এমনিতেই আল্লাহর নাম নিয়ে কোন কিছুর মান্নত করলে তা পূর্ণ করা ওয়াজিব । * শরী'আতের খেলাফ মান্নত মানলে তা পূর্ণ করা যাবে না , যেমন মাযারে কোন কিছু দেয়ার মান্নত করলে বা নাচ গানের মান্নত করলে ইত্যাদি ।
* মীলাদের মান্নত মানলে সে মান্নত বাতিল তা পুরা করার দরকার নেই । (* নির্দিষ্ট গরু , বকরী বা মুরগি মান্নত করলে সেটাই দিতে হবে । আর যদি নির্দিষ্ট করে না বলে , তাহলে কুরবানীর উপযুক্ত যে কোন গরু বা খাশী দিতে হবে ।
* নির্দিষ্ট কোন স্থানে দেয়ার মান্নত করলে সেখানেই দেয়া জরুরী নয় , যেমন মক্কা শরীফে বা মদীনায় দেয়ার মান্নত করলে সেখানেই দেয়া জরুরী নয়- অন্য স্থানেও দেয়া যাবে । * নির্দিষ্ট কোন দিনে বা নির্দিষ্ট কোন মিসকীনকে দেয়ার মান্নত করলে সেই নির্দিষ্ট দিনে বা সেই নির্দিষ্ট মিসকীনকে দেয়া জরুরী নয় অন্য যে কোন দিন বা অন্য যে কোন মিসকীনকে দিলেও চলবে ।
* নির্দিষ্ট কোন মসজিদে নামায পড়ার মান্নত করলে সে মসজিদেই নামায পড়া জরুরী নয় , বরং যে কোন মসজিদে নামায পড়লে মান্নত আদায় হয়ে যাবে ।
* যদি কেউ মান্নত করে যে , দশ জন হাফেজ বা দশজন আলেমকে খাওয়াব , তাহলে হাফেজ বা আলেমকে খাওয়ানো জরুরী নয় - দশজন মিসকীনকে খাওয়ালেও চলবে ।
* যে কয়জন মিসকীনকে খাওয়ানোর মান্নত করবে সে ক্ষেত্রে দেখতে হবে তার নিয়ত কি ছিল ; যদি এক ওয়াক্ত খাওয়ানোর নিয়ত থাকে তাহলে এক ওয়াক্ত খাওয়ালেই চলবে । আর যদি দুই ওয়াক্ত খাওয়ানোর নিয়ত থাকে বা কিছু নিয়ত ঠিক করে না বলে থাকে তাহলে দুই ওয়াক্ত পেট ভরে খাওয়াতে হবে ।
* যদি এক বা একাধিক মিসকীনকে কোন পরিমাণ নির্দিষ্ট না করেই চাউল ডাউল ইত্যাদি দেয়ার মান্নত করে থাকে , তাহলে প্রত্যেক মিসকীনকে একটি সদকায়ে ফিতর - এর পরিমাণ দিতে হবে ।
* এক আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও নামে মান্নত মানা দুরস্ত নয় ।
বিশেষ আলোচনা।শিশুর বিনোদন ও শরীরচর্চা।
বিনোদন ও শরীরচর্চা শিশুর জীবনে আনয়ন করে সুখ ও আনন্দ এবং তার অন্তরে সৃষ্টি করে এক হাস্যোজ্জ্বল মানসিকতা । মানসিক আনন্দই অন্তরে উপলব্ধি ও জ্ঞানের চোখ খুলে দিতে সাহায্য করে । জায়িয পদ্ধতিতে বিনোদন ও আনন্দ প্রকাশ করাতে শরী'আতে কোন বাধা নেই ।
অবশ্য এ ক্ষেত্রে নাজায়িয পদ্ধতি অবলম্বন করার কোন অবকাশ শরী আতে নেই । নির্মল আনন্দ দানের উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) শিশুদের সাথে কৌতুকপূর্ণ কথা বলতেন । হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে , আনাস ( রা ) বলেন , রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) আমাদের সাথে মেলামেশা করতেন । এমনকি তিনি আমার ছোট ভাইকে বলতেন , হে আবূ উমায়র !
তোমার নুগায়র পাখির খবর কি ? বস্তুত আবূ উমায়র ( রা ) -এর একটি নুগায়র পাখি ছিল । তা দিয়ে তিনি খেল - তামাসা করতেন । পরে পাখিটি মারা যায় । ১০৯ এ হাদীস থেকে প্রতীয়মান হয় যে , বাচ্চাদের হৃদয়কে আকৃষ্ট করা এবং তাদেরকে আনন্দ দান করা উত্তম । ব্যায়াম ও শরীরচর্চা শিশুকাল থেকেই হওয়া বাঞ্ছনীয় । সুস্থ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হলে শিশুকালেই শরীর বলিষ্ঠ করা প্রয়োজন । এর জন্য ব্যায়াম শরীরচর্চার প্রয়োজন রয়েছে ।
রাসূলে কারীম ( সা ) নিজে কুপ্তি করেছেন , ঘোড়া চালনা করেছেন এবং তীর চালনা করেছেন । আবার অন্যদিকে হাবশীদের মাঝে বর্শা চালানোর প্রতিযোগিতায় পৃষ্ঠপোষকতাও করেছেন ।
এর প্রত্যেকটিই সুস্থ শরীর গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখে । কাজেই শিশুকাল থেকেই শিশুকে ব্যায়াম ও শরীরচর্চা করার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা উচিত । শিশুর চরিত্র গঠনে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি শিশুরাই আগামী দিনের কর্ণধার । কাজেই আদর্শ সমাজ ও উন্নত পরিবেশ গঠন করতে হলে শিশুরা কেমন করে উন্নত চরিত্র এবং অনুপম আদর্শের অধিকারী হতে পারে সে বিষয়ের প্রতি মনোযোগী হওয়া আবশ্যক । কেননা শিশুদেরকে আদর্শবান করে গড়ে তুলতে না পারলে আদর্শ সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব নয় , যদি কারো আহ্লাক -
চরিত্র নষ্ট হয়ে যায় তবে এর কারণে সে নিজেই শুধু ক্ষতিগ্রস্ত হয় না , বরং এ ক্ষতির প্রভাব ব্যক্তি , পরিবার , সমাজ , রাষ্ট্র ইত্যাদি সকল কিছু পরিব্যাপ্ত হয়ে উপরোক্ত ক্ষেত্রসমূহে বিরাট অকল্যাণ ডেকে আনে ।
কাজেই শিশুর চরিত্র গঠনের ব্যাপারে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সদা সচেতন থাকা আবশ্যক । কুরআন ও হাদীসে শিশুদের চরিত্র গঠনের ব্যাপারে জোর তাকীদ রয়েছে । চরিত্র গঠন বলতে তাদের মধ্যে আখলাকে • যমীমা তথা দুষ্ট চরিত্রের প্রতি ঘৃণার মনোভাব সৃষ্টি করা এবং আখলাক হাযীদা তথ্য উন্নত চরিত্র মাধুরীর দ্বারা তাদেরকে বিভূষিত করা বুঝায় । যেমন অহংকার , মিথ্যা , ধোঁকাবাজী , গীবত , চোগলখোরী , মূর্খতা , উদাসীনতা , অঙ্গীকার ভঙ্গ করা , কারো প্রতি হিংসা - বিদ্বেষ পোষণ করা ইত্যাদির প্রতি তাদের হৃদয়ে ঘৃণা সৃষ্টি করা ।
সাথে সাথে তাদের মাঝে আল্লাহ্ , রাসূল , ফিরিশতা , আসমানী কিতাব , কুরআন , হাদীস ইত্যাদির প্রতি অগাধ বিশ্বাস সৃষ্টি করা এবং সততা , আমানতদারী , অঙ্গীকার পূরণ করা , দানশীলতা , পিতামাতা এবং আত্মীয় - স্বজনের সাথে সদাচার ইত্যাদি মহৎ গুণাবলী শিক্ষা দেওয়া । রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) ইরশাদ করেন : من ولدله ولد فليحسن إسمه وأدبه - কারো সন্তান জন্মগ্রহণ করলে সে যেন তার জন্য একটি সুন্দর নাম রাখে এবং উত্তমরূপে তাকে আদব - কায়দা , শিষ্টাচার শিক্ষা দেয় । ১৯০ এছাড়া বহু হাদীসে এ বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ বিদ্যমান রয়েছে । শিশুর সুন্দর চরিত্র গঠনে পিতামাতার দায়িত্ব।
