সহবাসের সুন্নাত , আদব ও বিধি - নিষেধ সমূহ।হায়েয নেফায অবস্থায় সহবাসের হুকুম। যা বর্জনীয়।

 সহবাসের সুন্নাত , আদব ও বিধি - নিষেধ সমূহ।হায়েয নেফায অবস্থায় সহবাসের হুকুম।যা বর্জনীয়। 


সহবাসের সুন্নত।


 ১. সংগম শুরু করার পূর্বে নিয়ত সহীহ করে নেয়া ; অর্থাৎ , এই নিয়ত করা যে , এই হালাল পন্থায় যৌন চাহিদা পূর্ণ করা দ্বারা হারামে পতিত হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে , তৃপ্তি লাভ হবে এবং তার দ্বারা কষ্ট সহিষ্ণু হওয়া যাবে , ছওয়াব হাছেল হবে এবং সন্তান লাভ হবে । 

২. কোন শিশু বা পশুর সামনে সংগমে রত না হওয়া । 

৩. পর্দা ঘেরা স্থানে সংগম করা । 

৪. সংগম শুরু করার পূর্বে শৃঙ্গার ( চুম্বন , স্তন মর্দন ইত্যাদি ) করবে । ৫. বীর্য , যৌনাঙ্গের রস ইত্যাদি মোছার জন্য এক টুকরা কাপড় রাখা । 

৬. বিসমিল্লাহ বলে কার্য শুরু করা । ৭. শয়তান থেকে পানাহ চাওয়া । উভয়টিকে একত্রে এভাবে বলা : بسم الله اللهم جنبنا الشيطان وجنب الشيطان ما رزقتنا ۔ ( متفق عليه ) অর্থঃ আমি আল্লাহ্র নাম নিয়ে এই কাজ আরম্ভ করছি । হে আল্লাহ , শয়তানকে আমাদের থেকে দূরে রাখ এবং যে সন্তান তুমি আমাদেরকে দান করবে তার থেকেও শয়তানকে দূরে রাখ । ৮. সংগম অবস্থায় বেশী কথা না বলা ।  

৯. সংগম অবস্থায় স্ত্রী - যোনীর দিকে নজর না দেয়া । হযরত ইবনে ওমর ( রাঃ ) সংগম অবস্থায় স্ত্রী - যোনীর দিকে দৃষ্টি দেয়া উত্তেজনা বৃদ্ধির সহায়ক বিধায় এটাকে উত্তম বলতেন । ১০. বীর্যপাতের সময় নিম্নোক্ত দুআ পড়বে اللهم لا تجعل للشيطان فيما رزقتني نصيبا - অর্থঃ হে আল্লাহ , যে সন্তান তুমি আমাদেরকে দান করবে তার মধ্যে শয়তানের কোন অংশ রেখ না । 

১১. বীর্যের প্রতি দীর্ঘ দৃষ্টি না দেয়া । ১২. বীর্যপাতের পরই স্বামীর নেমে না যাওয়া বরং স্ত্রীর উপর অপেক্ষা করা , যেন স্ত্রীও তার খাহেশ পূর্ণ মাত্রায় মিটিয়ে নিতে পারে । 

১৩. সংগম শেষে পেশাব করে নেয়া জরুরী । 

১৪.সংগমের পর সাথে সাথে গোসল করে নেয়া উত্তম । অন্ততঃ উযূ করে নেয়া ।

১৫. স্বপ্নদোষের পর সংগম করতে হলে পেশাব করে নিবে এবং যৌনাঙ্গ ধুয়ে নিবে । 

১৬. এক সংগমের পর পুনর্বার সংগমে লিপ্ত হতে চাইলে যৌনাঙ্গ এবং হাত ধুয়ে নিতে হবে । 

১৭. সংগমের পর অন্ততঃ কিছুক্ষণ ঘুমানো উত্তম । 

১৮. জুমুআর দিন সংগম করা মোস্তাহাব । 

১৯.সংগমের বিষয় কারও নিকট প্রকাশ করা নিষেধ । এটা একদিকে নির্লজ্জতা , অন্যদিকে স্বামী / স্ত্রীর হক নষ্ট করা । 




হায়েয নেফাস অবস্থায় সংগম ইত্যাদির বিধি - নিষেধ। বিশেষ আলোচনা। 

* হায়েয নেফাস অবস্থায় যৌন সংগম থেকে বিরত থাকা ফরয এবং যৌন সংগমে লিপ্ত হওয়া হারাম । 

* হায়েয অবস্থায় স্বামীর সঙ্গে একত্রে শয়ন ও একত্রে পানাহার অব্যাহত রাখা সুন্নাত । ( এতে মাজুসী বা অগ্নিপূজকদের বিরুদ্ধাচরণ করা হয় । ) 

* পুরাতন আকর্ষণহীন কাপড় - চোপড় পরিহিত থাকবে , যাতে তাকে দেখলে স্বামীর উত্তেজনা হ্রাস পায় , বৃদ্ধি না ঘটে । 

* হায়েয নেফাস অবস্থায় নামায পড়বে না । 

* নামাযের সময়ে উযূ করে নামাযের স্থানে নামায আদায় পরিমাণ সময় বসে থেকে সুবহানাল্লাহ , লা - ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়তে থাকবে , যেন ইবাদতের অভ্যাস বজায় থাকে । এটা মোস্তাহাব । 

* হায়েয অবস্থায় মহিলা প্রতি নামাযের ওয়াক্তে সত্তর বার এস্তেগফার পাঠ করবে ।



জানাবাত ( বে - গোসল ) অবস্থার বিশেষ বিধি - নিষেধ সমূহ।করণীয় সমূহ। 

* জানাবাত অবস্থায় নখ , কাটা বা নাভির নীচের হাজামত ( ক্ষৌরকার্য ) বানানো মাকরূহ । 

* জানাবাত অবস্থায় মসজিদে গমন করা , কাবা শরীফ তওয়াফ করা , কুরআন শরীফ স্পর্শ করা বা তিলাওয়াত করা এবং নামায পড়া নিষেধ । তবে দুআ হিসেবে কোন আয়াত পড়তে পারে । 

* জানাবাত অবস্থায় কালিমা , দুরূদ শরীফ , যিকির , এস্তেগফার বা কোন ওজীফা পাঠ করতে নিষেধ নেই । 

* জানাবাত অবস্থায় কুলি করা ব্যতীত পানি পান করা মাকরূহ তানযীহী ।


বিশেষ আলোচনা। তায়াম্মুমের বিবরণ।

‘ তায়াম্মুম ' - এর আভিধানিক অর্থ হচ্ছে ইচ্ছা করা । শরী'আতের পরিভাষায় ' তায়াম্মুম ' বলা হয় পবিত্র মাটিদ্বারা ( নাজাসাতে হুকুমী থেকে ) পাক হওয়ার নিয়্যাতে মুখমণ্ডল ও উভয় হাত কনুইসহ মাসেহ করা । তায়াম্মুম উযূ ও গোসল উভয়ের পরিবর্তে করা যায় । তায়াম্মুমের এ অনুমতি উম্মাতে মুহাম্মাদীর জন্য আল্লাহ্ তা'আলার এক বিশেষ দান । 


বস্তুত তাহারাত হাসিল করার আসল মাধ্যম হল পানি , যা আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর বান্দাদের জন্য প্রচুর পরিমাণে সরবরাহ করে রেখেছেন । 


তথাপি এমন অবস্থারও সৃষ্টি হতে পারে যে , কোন স্থানে পানি পাওয়া যাচ্ছে না অথবা পাওয়া গেলেও পানি দিয়ে তাহারাত হাসিল করা কারো সাধ্যের বাইরে অথবা পানি ব্যবহারে রোগবৃদ্ধি অথবা প্রাণের আশংকা রয়েছে । 


এসব অবস্থায় আল্লাহ্ তা'আলা মাটি দিয়ে তাহারাত হাসিল করার অনুমতি দিয়েছেন এবং তার পদ্ধতিও বাতলিয়ে দিয়েছেন , যাতে করে বান্দা দীনের উপর আমল করতে কোন ধরনের অসুবিধার সম্মুখীন না হয় । আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেন : فلم تجدوا ماء فتيمموا صعيدا طيبا فامسحوا بوجوهكم وأيديكم منه مايريد الله ليجعل عليكم من حرج ولكن يريد ليطهركم وليتم نعمته عليكم لعلكم تشكرون . আর তোমরা যদি পানি না পাও , তবে পবিত্র মাটিদ্বারা তায়াম্মুম করবে এবং তা দ্বারা তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত মাসেহ্ করবে । আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদেরকে কষ্ট দিতে চান না , বরং তিনি তোমাদেরকে পবিত্র করতে চান ও তোমাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করতে চান , যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর ।


 ( সূরা মায়িদা , ৫ : ৬ ) যে যে অবস্থায় তায়াম্মুম করা যায় বে - উষু অবস্থায় , জানাবাত অবস্থায় , হায়িয ও নিফাসের শেষে পানি না পাওয়া গেলে অথবা পানি ব্যবহারে অপারগ হলে তায়াম্মুম করা জায়িয ।


 অপারগতার ব্যাখ্যা এই যে , পানি আছে কিন্তু ব্যবহারে রোগ বৃদ্ধির আশংকা রয়েছে , অথবা স্বাস্থ্যের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে । এমতাবস্থায় তায়াম্মুম জায়িয । অথবা পানি আছে তার পার্শ্বে শত্রু অথবা হিংস্র প্রাণী আছে । সফরে পানি সঙ্গে আছে ; কিন্তু সামনে কোথাও পানি পাওয়া না যেতে পারে । অথবা উযূ বা গোসল করলে নামাযের ওয়াক্ত চলে যাওয়ার আশংকা আছে যার কাযা নেই ; যেমন জানাযা । পানি কেনার সামর্থ্য অথবা কিনলে সংকটে পড়ার আশংকা রয়েছে । এসব অবস্থায় তায়াম্মুম করা জায়িয তায়াম্মুমের আহকাম : ফরয , সুন্নাত ও মুস্তাহাব তায়াম্মুমের ফরয ৩ টি : ১ . পবিত্রতা অর্জনের নিয়্যাত করা । 



* ২. উভয় হাত পবিত্র মাটিতে মেরে তা দিয়ে সমস্ত মুখমণ্ডল মাসেহ্ করা এবং ৩. তারপর উভয় হাত পাক মাটিতে মেরে তা দিয়ে উভয় হাত কনুই সহ মাসেহ করা । তায়াম্মুমের সুন্নাত ৭ টি : ১. তায়াম্মুমের শুরুতে ' বিসমিল্লাহ্ ' বলা , ২. উভয় হাত পাক মাটিতে মেরে সামনের দিকে নেওয়া , ৩. তারপর পিছনের দিকে নিয়ে আসা , ৪. হাত মাটিতে মারার পর মাটি ঝেড়ে ফেলা , ৫. মাটিতে হাত মারার সময় আঙ্গুলগুলো ফাঁক করে রাখা , ৬. তারতীব রক্ষা করা । অর্থাৎ প্রথমে মুখমণ্ডল , তারপর উভয় হাত মাসেহ্ করা ।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post