অলংকার,মেহেদী ও খেযাব ( কলপ ) ব্যবহারের বিধান।ভালবাসা ও বন্ধুত্বের নীতিমালা।কিছু বিধিনিষেধ।
![]() |
| অলংকার মেহেদী সংক্রান্ত আলোচনা। |
* মহিলাদের জন্য কাঁচ বা যে কোন ধাতুর চুড়ি পরিধান করা জায়েয ।
* মহিলাদের কান ফুটানো জায়েয । নাক ফুটানো অধিকাংশের মতে জায়েয , কেউ কেউ ভিন্ন মত পোষণ করেছেন ।
* মহিলাদের জন্য সোনা , রুপা , পিতল , তামা ইত্যাদি সব রকম ধাতুর সব রকম অলংকার ব্যবহার করা জায়েয । তবে বিধর্মীদের অনুকরণ যেন না হয় ।
* যেসব অলংকারে বাজনা হয় , সেগুলো গায়র মাহরাম পুরুষের সামনে পরা জায়েয নয় ।
* পুরুষের জন্য সোনার আংটি বা সোনার অন্য যে কোন অলংকার ব্যবহার করা সম্পূর্ণ হারাম । তবে সাড়ে চার মাশা অর্থাৎ , এক সিকি পরিমাণ ( ৩.৩৮০ গ্রাম ) রূপার আংটি ব্যবহার করা জায়েয । এর অধিক ওজনের রূপার আংটিও ব্যবহার করা নিষিদ্ধ । অন্যান্য ধাতুর আংটি যেমন তামার আংটি , অষ্ট ধাতুর আংটি ইত্যাদি পুরুষের জন্য নাজায়েয । সোনা রূপা ব্যতীত অন্যান্য ধাতুর আংটি মহিলাদের জন্য জায়েয তবে মাকরূহ ।
* লোহা , পিতল , তামা , কাঁশা , পাথর ইত্যাদি ধাতুর আংটি ব্যবহার করা পুরুষের জন্য জায়েয নয় অর্থাৎ , যখন আংটির হলকা বা বৃত্তটা এসব ধাতু দ্বারা তৈরী হবে । আর বৃত্তটা যদি সিকি পরিমাণ রূপার মধ্যে হয় আর নাগীনা বা মণিটা এসব ধাতুর হয় তাহলে তা জায়েয ।
মেহেদী ও খেযাব ( কলপ ) সম্পর্কিত বিধি - বিধান।যা করনীয় ও বর্জনীয়।
* নারীদের জন্য হাতে এবং পায়ে মেহেদী লাগানো মোস্তাহাব । কেউ কেউ পায়ে মেহেদী লাগানোকে খারাপ মনে করেন এই যুক্তিতে যে , নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাড়িতে মেহেদী লাগাতেন , অতএব তা পায়ে লাগানো বে - আদবী- এ যুক্তি ঠিক নয় । নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাড়িতে তেল লাগাতেন , তাই বলে কি পায়ে তেল লাগানো বে - আদবী হবে ?
* অন্ততঃ হাত পায়ে নখে মেহেদী লাগালেও চলবে ।
* পুরুষদের হাতে পায়ে মেহেদী লাগানো নিষেধ । তবে চিকিৎসা হিসেবে লাগানো জায়েয আছে ।
* পুরুষের জন্য দাড়ি ও চুলে খেযাব লাগানো মোস্তাহাব । কাল ব্যতীত যে কোন রংয়ের খেযাব ( কলপ ) লাগানো যায় , তবে মেহেদী দিয়ে লাল রংয়ের খেযাব করা সুন্নাত । চুলের কাল রংয়ের সাথে মিলে যায় এমন কাল রংয়ের কলপ লাগানো মাকরূহ , কারণ এতে মানুষকে নিজের বয়স সম্পর্কে ধোঁকা দেয়া হয় । তবে যুদ্ধ ক্ষেত্রে শত্রুর মনে ভীতি সৃষ্টির জন্য এরূপ করা প্রশংসনীয় । হযরত ইমাম আবূ ইউসুফ ( রহঃ ) -এর মতে স্ত্রীর কাছে নিজেকে আকর্ষণীয় করে তোলার উদ্দেশ্যেও কাল রংয়ের কলপ লাগানো যায় । ( رد المحتار ج 1 ، فقہ الحدیث ، جواہر الفقہ جہ ۲ ٫ تعلیم الدین )
ভালবাসা ও বন্ধুত্বের নীতিমালা।যা যা মানতে হবে।
* কোন অমুসলিমের সাথে আন্তরিক বন্ধুত্ব গড়ে তোলা জায়েয নয় ।
* সব মুসলমানের সাথে দ্বীনী বন্ধুত্বের সম্পর্ক রাখতে হবে ।
* কোন মুসলমান ভাইয়ের সাথে খালেস আল্লাহর ওয়াস্তে বন্ধুত্ব ও ভালবাসা সৃষ্টি হলে তাকে জানিয়ে দিবে যে , আমি আপনাকে মহব্বত করি , ভালবাসি , তাহলে তারও তোমার সাথে মহব্বত সৃষ্টি হবে ।
* ভালবাসা ও বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরী । কাউকে ভালবেসে তার কাছে নিজেকে এতখানি উন্মুক্ত করে দেয়া ঠিক নয় , তার কাছে নিজের গোপনীয়তা এতখানি ফাঁস করে দেয়া ঠিক নয় , যাতে কোন দিন সে শত্রু হয়ে গেলে ক্ষতি করতে সক্ষম হয় ।
* মহব্বত ( ভালবাসা ) ও শাহওয়াত ( কাম রিপুর তাড়না ) এক কথা নয় । বেগানা নারী ও শ্মশ্রুহীন বালকের প্রতি যে আকর্ষণকে মহব্বত বলে মনে হয় , তা প্রায়শঃ প্রকৃত পক্ষে মহব্বত নয় বরং শাহওয়াত থেকে উৎপন্ন হয়ে থাকে । এরূপ আকর্ষণ পাপ পথে ধাবিত করে থাকে বিধায় তা পাপ ও গর্হিত ।
* ভালবাসার বুনিয়াদ হতে হবে দ্বীনদারী ও পরহেযগারী । অতএব যে যত বেশী দ্বীনদার ও পরহেযগার , তার সাথেই ততবেশী ভালবাসা ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে । দোস্তী মহব্বত করার আগে তার আমল - আখলাক দেখে নিতে হবে । * স্বার্থের জন্য মহব্বত করা ভাল নয় , মহব্বত করতে হবে নিঃস্বার্থ ভাবে শুধু আল্লাহর উদ্দেশ্যে ।
বিশেষ আলোচনা। সালাত - এর তাৎপর্য ও গুরুত্ব।
• ' সালাত ' আরবী শব্দ । এর আভিধানিক অর্থ দু'আ , রহমত , ইসতিগ্ফার ইত্যাদি । শরী'আতের পরিভাষায় নির্দিষ্ট রুক্ন ও বিক্রসমূহকে বিশেষ পদ্ধতিতে নির্ধারিত সময়ে আদায় করাকে সালাত ( নামায ) বলা হয় । সালাতকে নামাযও বলা হয় । ইসলামে নামাযের গুরুত্ব অপরিসীম । ইসলামের পঞ্চস্তঙ্কের মধ্যে এটি অন্যতম । ঈমান ছাড়া অন্য চারটি রুকনের মধ্যে এটা সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বজনীন । নামাযকে দীনের খুঁটি বলা হয়েছে ।
খুঁটি ছাড়া যেমন ঘর হয় না , তদ্রুপ নামায ছাড়াও দীন পরিপূর্ণ হয় না । নামাযের ফরযিয়াত অকাট্য দলীল দ্বারা প্রমাণিত । বালিগ পুরুষ - মহিলা সকলের জন্যই তা অবশ্য পালনীয় ।
শরী'আতসম্মত ওযর ছাড়া নামায তরক করা জায়িয নেই । নামাযের ফরযিয়াতকে অস্বীকার করলে কাফির বলে গণ্য হবে । নামায আদায় করাই মু'মিন ব্যক্তির ঈমানের নিদর্শন । রাসূলুল্লাহ ( সা ) ইরশাদ করেন : بين العبد وبين الكفر ترك الصلواة - বান্দা ও কুফরীর মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে নামায ত্যাগ করা । অর্থাৎ নামাযই প্রমাণ করে দেয় যে , কে অনুগত বান্দা আর কে অস্বীকারকারী কাফির ।
সুতরাং একজন মু'মিন বান্দাকে তার ঈমানের প্রমাণ স্বরূপ প্রত্যহ পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামায আদায় করতে হবে । তাই ইসলামে ঈমানের পরই নামায কায়েমের জন্য গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে । কুরআন মজীদের বহু জায়গায় নামায কায়েমের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । ইরশাদ হয়েছে : وأقيموا الصلوة وأتوا الزكوة واركعوا مع الراكعين . তোমরা সালাত কায়েম কর ও যাকাত দাও এবং যারা রুকূ ' করে তাদের সাথে রুকূ ' কর । ( সূরা বাকারা , ২:৪৩ ) রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) এ ব্যাপারে ইরশাদ করেছেন : কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম নামাযের হিসাব হবে ।
যদি এ বিষয় ঠিক থাকে তবে সে মুক্তি পাবে এবং সফলকাম হবে । আর যদি তা ঠিক না থাকে তবে সে ব্যর্থ ও ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে । অপর এক হাদীসে আছে , একবার হযরত উমর ( রা ) তাঁর প্রশাসকদের নিকট এ মর্মে পত্র প্রেরণ করলেন যে , আমার মতে তোমাদের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ আমল হচ্ছে নামায ।
যে ব্যক্তি নামাযের হিফাযত করল এবং যথাসময় নামায আদায় করল , সে তার দীনের হিফাযত করল । আর যে ব্যক্তি তা বরবাদ করল , সে নামায ছাড়া অন্য আমলকেও চরমভাবে বরবাদ করে দিবে ।
সালাত বা নামায মি'রাজ ও পাঁচ ওয়াক্ত নামায চাঁদ - সুরুজ , গ্রহ - তারা , গাছ - পালা , বৃক্ষ - লতা , জীব - জন্তু , পশু - পাখি , এক কথায় এ পৃথিবীতে আল্লাহ্ তা'আলা যত মাখলুক সৃষ্টি করেছেন সব কিছুই নিজ নিজ পদ্ধতিতে মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে সিজ্দাবনত হয়ে তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে থাকে । তাঁর ইবাদত ও আনুগত্যে সকলেই মশগুল । কোথাও কোন অবাধ্যতা ও হঠকারিতা নেই । কোথাও নেই বিরক্তির সামান্যতম প্রকাশ ।
আদেশ পালন করে এবং সার্বক্ষণিক সিজদায় রত থেকেই সকলেই কৃতার্থ । পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে : ولله يسجد ما في السموات وما في الأرض من دابة والملئكة وهم لا يستكبرون . আল্লাহকেই সিজ্দা করে যা কিছু আছে আকাশমণ্ডলীতে , পৃথিবীতে যত জীব - জন্তু আছে সে সমস্ত এবং তাগণও । তারা অহংকার করে না । ( সূরা নাহল , ১৬ : ৪৯ ) এতে প্রমাণিত হয় যে , আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যত কিছু আছে সব কিছুই আল্লাহর দরবারে সিদ্ধান্ধাবনত হয় । তবে তাদের সিদ্ধার ধরন ও পদ্ধতি আমাদের মত নয় ।
