যানবাহনের সুন্নাত , আদব ও আমল সমূহ।সফরে যাওয়ার সুন্নাত , আদব ও বিধি - নিষেধ সমূহ।দিকনির্দেশনা।
![]() |
| যানবাহনের সুন্নত। |
* বিসমিল্লাহ বলে যানবাহনে আরোহন করা সুন্নাত ।
* প্রথমে ডান পা যানবাহনে রাখা সুন্নাত । বিসমিল্লাহ বলতে বলতে পা রাখবে ।
* ভালভাবে আসন গ্রহণের পর আলহামদু লিল্লাহ বলবে ।
* তারপর ( যানবাহন চলতে শুরু করলে ) নিম্নোক্ত দুআ পড়া সুন্নাত سبحان الذي سخر لنا هذا وما كنا له مقرنين وانا إلى ربنا لمنقلبون - ( ترمدی ) অর্থঃ পবিত্র ঐ আল্লাহ , যিনি একে আমাদের আয়ত্বাধীন করে দিয়েছেন , অথচ একে আমরা নিজেদের অধীন করতে পারতাম না । আর নিশ্চয় আমরা আপন প্রভূর কাছে ফিরে যাব ।
* তারপর তিনবার " আলহামদু লিল্লাহ ” বলবে ।
* তারপর তিনবার “ আল্লাহু আকবার ” বলবে ।
* তারপর নিম্নোক্ত দুআ পড়বে سبحانك إني ظلمت نفسي فاغفر لي فإنه لا يغفر الذنوب إلا أنت . ( ترمذی ) অর্থঃ হে আল্লাহ ! তুমি পবিত্র , আমিতো আমার নিজের উপর অবিচার করেছি । অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা কর । কেননা , তুমি ছাড়া আর কেউ পাপরাশি ক্ষমা করার নেই । বিঃ দ্রঃ নবী কারীম ( সাঃ ) এই দুআটি পড়ে মুচকি হেসেছিলেন এবং কারণ জিজ্ঞেস করা হলে বলেছিলেন , আল্লাহ তা'আলা বান্দার এরূপ দুআ করায় খুশি হয়ে বলেন , আমার বান্দা জানে যে , আমি ছাড়া গোনাহ ক্ষমা করার আর কেউ নেই । উল্লেখ্য , দুআটির মধ্যে এই বলা হয়েছে যে , তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও , অবশ্যই তুমি ব্যতীত আর কেউ ক্ষমা করার নেই ।
* নৌকা , জাহাজ , পুল ইত্যাদিতে চড়লে পড়বে بسم الله مجرها ومرسها إن ربى لغفور رحيم - ( كتاب الاذكار عن ابن السني ) অর্থঃ আল্লাহ্র নামেই এর চলা ও থামা । নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়ালু ।
* গাড়ীর মালিককে গাড়ীর সামনে এবং সওয়ারীর মালিককে সওয়ারীর সামনে বসতে দিবে , এটা তার হক । অবশ্য মালিক কাউকে সামনে বসার অনুরোধ করলে তিনি সামনে বসতে পারেন ।
সফরে যাওয়ার সুন্নাত , আদব ও বিধি - নিষেধ সমূহ।গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
* নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৃহস্পতিবার সফরে যাওয়াকে অধিক পছন্দ করতেন । সোমবার সফর করাও সুন্নাত । এ ছাড়া যে কোন দিন সফর করা যায় । ইসলামে অমুক অমুক দিন বা অমুক অমুক সময় যাত্রা নাস্তি - এরূপ কোন ধারণা নেই ।
* সফরের ইচ্ছা হলে নিম্নোক্ত দুআ পড়বে اللهم بك أصول وبك أحول وبك أسير - অর্থঃ হে আল্লাহ , তোমার সাহায্যেই আমি ( শত্রুর উপর আক্রমণ করি , তোমার সাহায্যেই তাদের প্রতিরোধের চেষ্টা করি এবং তোমার সাহায্যেই সফর করি ।
* যথাসম্ভব একাধিক ব্যক্তি সফরে যাওয়া উত্তম ; একাকী সফরে না যাওয়া উচিত । কমপক্ষে তিনজনে সফর করার প্রতি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উৎসাহিত করেছেন।চারজন হওয়া খুবই ভাল ।
* তিনজনের ( বা আরও অধিক হলে তাদের ) মধ্যে এক জনকে আমীর বানিয়ে নিবে ।
* সফরে কুকুর এবং ঘন্টা সাথে রাখা নিষেধ ।
* রওয়ানা হওয়ার সময় নিম্নোক্ত দুআ পড়বে اللهم إنا نسألك في سفرنا هذا البر والتقوى ومن العمل ما ترضى - اللهم هون علينا سفرنا هذا واطو عنا بعدة ـ اللهم أنت الصاحب في السفر والخليفة في الأهلي - اللهم إني أعوذبك من وعثاء الشفر وكابة المنظر وسوء المنقلب في المال والأهل - ( مسلم- كتاب الحج ) অর্থঃ হে আল্লাহ , এই সফরে তোমার কাছে আমি নেকী ও পরহেযগারীর প্রার্থনা করি এবং ঐসব কাজের তাওফীক চাই যাতে তুমি সন্তুষ্ট হও ।হে আল্লাহ , আমার এই সফর সহজ কর এবং ভ্রমণ পথের দূরত্ব কমিয়ে দাও ( অর্থাৎ , সহজে অতিক্রম করিয়ে দাও ) । হে আল্লাহ ,
তুমিই আমার সফরের সাথী এবং আমার অবর্তমানে আমার পরিবারের তত্ত্বাবধায়ক । হে আল্লাহ , সফরের যাবতীয় কষ্ট - ক্লেশ থেকে তোমার কাছে পরিত্রাণ চাই এবং পানাহ চাই এই সফরের সমস্ত কদশ্য হতে , ঘরে প্রত্যাবর্তন করে মাল ও পরিবারের দুরাবস্থা দর্শন হতে । আর তোমার কাছে পানাহ চাই গঠিত হওয়ার পর ভাঙ্গন হতে এবং মাজলূমের বদ - দুআ হতে ।
* সফরে রওয়ানা হওয়ার সময় দুই বা চার রাকআত নফল নামায পড়ে নেয়া উত্তম ।
* রওয়ানা হওয়ার সময় এই বলে পরিবার থেকে বিদায় নেয়া সুন্নাত أستودعكم الله الذي لا يضيع ودائعه - ( شرعة الاسلام و كتاب الاذكار ) অর্থঃ তোমাদেরকে আল্লাহ্র কাছে আমানত রেখে গেলাম , যার আমানত নষ্ট হয় না ।
* বিদায় দানকারীগণ বলবেন : أستودع الله دينكم وأمانتكم وخواتيم أعمالكم ۔ ( رواه الترمذي وقال . অর্থঃ তোমাদের দ্বীন , তোমাদের আমানতদারীর গুণাবলী এবং তোমাদের কাজের ফলাফল আল্লাহর উপর সোপর্দ করলাম ।
* বিদায় দেয়ার সময় অনেকে “ খোদা হাফেজ " বলে বিদায় দেন , এ ব্যাপারে মাসআলা হল- যদি সালামের স্থলে খোদা হাফেজ বলা হয় , তাহলে এতে শরী'আতের বিকৃতি ঘটানো হয় , কেননা শরী'আত বিদায়ের সময় সালাম ও উপরোক্ত দুআর তা'লীম দিয়েছে । আর যদি সালাম এবং উক্ত দু'আর সাথে অতিরিক্ত এই “ খোদা হাফেজ ” কথাটা বলা হয় , তাহলে তা শরী'আতের একটি আমলের মধ্যে বৃদ্ধি ঘটানো হয় । অতএব এ সবের প্রেক্ষিতে খোদা হাফেজ বলা জায়েয নয় । আর যদি দু'আ হিসেবে এ কথাটি মাঝে মধ্যে বলা হয় এবং কখনও অন্য বাক্যও দু'আ হিসেবে বলা হয় , তাহলে নাজায়েয হওয়ার কথা নয় , তবে বর্তমানে খোদা হাফেজ বলাটা একটা রছম ও নিয়মে পরিণত হয়েছে বিধায় এটা পরিত্যাগ করা উচিত ।
* ঘর থেকে বের হওয়ার সময় এবং পথ চলার সময় সংশ্লিষ্ট আমল সমূহ করবে । এমনিভাবে সওয়ারীতে আরোহণের সময় সংশ্লিষ্ট আমল সমূহ করবে ।
* কোন মঞ্জিল বা স্টেশনে নামলে পড়বে أعوذ بكلمات الله التامات من شر ما خلق ۔ ( مسلم وترمذی ) ৪৯৩ অর্থঃ আল্লাহ্র পরিপূর্ণ বাণীসমূহের ওছীলা দিয়ে আমি তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ঠ থেকে পানাহ কামনা করছি ।
* ইত্যাদি।
বিশেষ আলোচনা। হায়েয ও নিফাস।
বালিগ হওয়ার পর স্বভাবগতভাবে মহিলাদের জরায়ু থেকে রোগব্যাধির কারণ ব্যতিরেকে যে রক্ত নির্গত হয় , একে শরী'আতের পরিভাষায় হায়িয বলে । ” হায়িয হওয়ার বয়স কমপক্ষে নয় বছর । নয় বছরের পূর্বে যদি ক্লোন বালিকার রক্তস্রাব হয় তাহলে তা হায়িয বলে গণ্য হবে না । সাধারণত পঞ্চান্ন বছর পর্যন্ত মহিলাদের হায়িয হয়ে থাকে ।
পঞ্চান্ন বছরের পর রক্তস্রাব হলে হায়িয বলে গণ্য করা হবে না । তবে এ বয়সে রক্তের রঙ যদি গাঢ় লাল হয় অথবা কালচে লাল হয় তাহলে তা হায়িয বলে গণ্য হবে । * হায়িযের সময়কাল কমপক্ষে তিন দিন তিন রাত এবং ঊর্ধ্বে দশ দিন দশ রাত । তিন দিন তিন রাতের কম রক্তস্রাব হলে তা হায়িয বলে গণ্য হবে না । তেমনি দশ দিন দশ রাতের বেশি রক্তস্রাব হলে তাও হায়িয বলে গণ্য হবে না । একে বলা হবে ' ইস্তিহাযা । * যা রোগের কারণে হয়ে থাকে ।
এর হুকুম হায়িযের হুকুম থেকে ভিন্নতর । হায়িযের নির্দিষ্ট দিনগুলোতে একেবারে সাদা রঙ ব্যতীত যে রঙের রক্তই আসবে তা লাল , হলুদ , সবুজ , কালো , ধূসর যা - ই হোক না কেন , সবই হায়িয বলে গণ্য হবে । হায়িযের মাসাইল যদি কোন মেয়ের তিন - চারদিন রক্ত আসার অভ্যাস থাকে । তারপর কোন মাসে তার অধিক দিন এলো ,
তাহলে তা হায়িয হবে । যদি দশ দিনের বেশি সময় রক্ত আসে তাহলে যতদিনের অভ্যাস ছিল ততদিন হায়িয বলে গণ্য করা হবে এবং বাকী অংশ ' ইস্তিহাযা দু'হায়িযের মধ্যে পবিত্র অবস্থার সময়কাল কমপক্ষে পনের দিন ।
বেশির কোন নির্দিষ্ট সীমা নেই । কোন মহিলার হায়িযের সময়কালের কম সময় অর্থাৎ দু'একদিন রক্ত আসার পর পনের দিন সে পবিত্র থাকলো । তারপর আবার দু'একদিন রক্ত এলো । এ পনের দিন সে পবিত্র থাকবেই । তারপর যে রক্ত এলো সেটা হবে ' ইস্তিহাযা ' । যদি কোন মহিলার অভ্যাস নির্দিষ্ট না থাকে —
কখনো চার দিন , কখনো সাত দিন কখনো দশ দিন স্রাব তাহলে এসব হায়িয বলে গণ্য হবে । তবে যদি দশ দিনের বেশি রক্ত আসে , তাহলে দেখতে হবে গত মাসে কত দিন এসেছিল , ততদিন হায়িয ধরা হবে । আর বাকী ইস্তিহাযা ৮৪ নিফাসের পরিচয় সন্তান প্রসবের পর স্ত্রীলোকের জরায়ু থেকে যে রক্ত বের হয় তাকে ‘ নিফাস ' বলে । নিফাসের সময়কাল নিফাসের সময়কাল ঊর্ধ্বে চল্লিশ দিন ।
আর কমের নির্দিষ্ট সীমা নেই । সন্তান প্রসবের পর যদি কোন স্ত্রীলোকের রক্তস্রাব না হয় তবুও তার গোসল করা ওয়াজিব । গর্ভপাত হওয়ার অবস্থায় সন্তানের অঙ্গ গঠন হয়ে থাকলে যে স্রাব আসে তা নিফাসের রক্ত বলে গণ্য হবে । চল্লিশ দিনের বেশি রক্তস্রাব হলে প্রথম সন্তানের ক্ষেত্রে চল্লিশ দিন নিফাসের এবং বাকী ইস্তিহাযার ।
আর যদি প্রথম সন্তান না হয় এবং নির্দিষ্ট অভ্যাস থাকে , তাহলে তার অভ্যাসের দিনগুলো নিফাসের । বাকী দিনগুলো ইস্তিহাযার । হায়িয ও নিরসের আহকাম হায়িয ও নিফাসের দিনগুলোতে নামায আদায় করা নিষিদ্ধ । তার কাযাও আদায় করতে হবে না । হায়িযের সময় মুস্তাহাব হলো নামাযের সময় হলে উযূ করে নামায আদায় করার।
