খাওয়ার সুন্নাত ও আদব সমূহ।কীভাবে খাওয়া দাওয়া করবেন।
![]() |
| খাওয়ার সুন্নত ও আদব। |
১. খাওয়ার পূর্বে জুতা খুলে নেয়া আদব ।
২. উভয় হাত কবজি পর্যন্ত ধৌত করা সুন্নাত ।
৩. কুলি করা সুন্নাত , যদি প্রয়োজন হয় ।
৪. খানা সামনে আসলে এই দুআ পড়বে । اللهم بارك لنا فيما رزقتنا وقنا عذاب النّار -( کتاب الاذکار ) অর্থঃ হে আল্লাহ , তুমি আমাদেরকে যে রিযিক দান করেছ তাতে আমাদেরকে বরকত দাও এবং জাহান্নামের আগুন থেকে আমাদেরকে রক্ষা কর ।
৫. বিনয়ের সাথে , বিনয়ের ভঙ্গিতে বসা ’ আদব।
৬. সামনের দিকে ঝুঁকে নত হয়ে বসা ।
৭. দস্তর খানা বিছানো সুন্নাত ।
৮. জমীনের উপর বসা এবং বসার বরাবর খাদ্যের বরতন রাখা ।
৯. হেলান দিয়ে না খাওয়া ( এমনকি হাতে ভর করেও না ) । ( বিসমিল্লাহি ওয়ালা
১০. খাওয়ার শুরুতে বিসমিল্লাহি ওয়ালা বারাকাতিল্লাহ ) পড়া সুন্নাত এবং এটি জোরে পড়া মোস্তাহাব , যাতে অন্যরাও শুনতে পারে । শুরুতে পড়তে ভুলে গেলে এবং খাওয়ার মাঝে ৩ স্মরণ হলে পড়বে ( বিসমিল্লাহি আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু ) ।
১১. ডান হাতে খাওয়া সুন্নাত । প্রয়োজনে বাম হাতের সহযোগিতা নেয়া যায় ।
১২. নিজের শরীরের ইছলাহ এবং আল্লাহর নির্দেশ পালনের নিয়তে খেতে হবে ।
১৩. তিন আঙ্গুলের ( বৃদ্ধ , তর্জনী ও মধ্যমা ) দ্বারা খাওয়া সুন্নাত । প্রয়োজনে তিনের অধিকও ব্যবহার করা যেতে পারে ।
১৪. এক পদের খানা হলে নিজের সম্মুখ থেকে খাওয়া অন্যের সম্মুখ থেকে না নেয়া ।
১৫. প্রথমেই খানা দিয়েই আরম্ভ করবে । কেউ কেউ নেমক ( লবণ ) দ্বারা খানা শুরু এবং শেষ করাকে সুন্নাত বলেছেন , কিন্তু যে হাদীছের ভিত্তিতে তা বলা হয়েছে সে হাদীছটি মাওযূ ' বা ভিত্তিহীন ।
১৬. প্রথমে পাত্রের মাঝখান থেকে খানা নিবে না বরং পাশ থেকে নিতে থাকবে , কেননা মাঝখানে বরকত নাযিল হয় ।
১৭. খেজুর বা এ জাতীয় খাদ্য যেমন বিস্কুট মিষ্টান্ন একটা একটা করে খাওয়া , এক সঙ্গে একাধিক সংখ্যক করে না খাওয়া ।
১৮. এক লোকমা গলাধকরণ করার পূর্বে আরেক লোকমা না উঠানো এতে লোভ প্রকাশ পায় ।
১৯. খুব গরম খাবার না খাওয়া । ২০. গরম খাদ্য / পানীয় ফুঁক দিয়ে ঠান্ডা না করা ।
২১. খাদ্য দ্রব্য পড়ে গেলে তা উঠিয়ে ( প্রয়োজনে পরিষ্কার করে ) খাওয়া সুন্নাত ।
২২. খাদ্য দ্রব্যের মধ্যে কোন দোষত্রুটি না লাগানো উচিত । উল্লেখ্য যে , রান্নার দোষ বলা খাদ্য দ্রব্যের দোষ বলার অন্তর্ভুক্ত নয় । ২৩. খাওয়ার সময় এমন সব কথা বা আচরণ থেকে বিরত থাকা উচিৎ , যাতে অন্যের মনে ভয় বা ঘৃণার উদ্রেক হতে পারে ।
২৪. খাওয়ার মাঝে অন্য কোন কাজ না করাই খাওয়ার আদব ।
২৫. পেটে কিছু ক্ষুধা থাকা অবস্থায়ই খানা শেষ করা উত্তম ।
২৬. খাবারের বর্তন , পেয়ালা ইত্যাদি ছাফ করে ওয়া এবং আঙ্গুল সমূহ ভাল করে চেটে খাওয়া সুন্নাত । আঙ্গুল চাটার সুন্নাত তারতীব হল- প্রথমে মধ্যমা , তারপর তর্জনী , তারপর বৃদ্ধা । আর খাওয়ার মধ্যে পাঁচ আঙ্গুল ব্যবহৃত হলে তারপর অনামিকা , তারপর কনিষ্ঠা ।
২৭. খানা শেষ হলে এই দুআ পড়বে الحمد لله الذي أطعمنا وسقانا وجعلنا مسلمين ۔ ( سنن اربعة ) অর্থঃ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্র জন্য যিনি আমাদেরকে খাওয়ালেন , পান করালেন এবং মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন । ।
২৮. দস্তরখানা উঠানোর পূর্বে সকলে উঠে যাবে না । এটাই আদব ।
২৯. দস্তরখানা উঠানোর দুআ الحمد لله حمدا كثيرا طيبا مباركا فيه غير مكفي ولا مودع ولا مستغنى عنه ربنا ۔ ( رواه الترمذي وقال حديث حسن صحيح ) অর্থঃ আল্লাহর জন্য সমস্ত প্রশংসা ; এমন প্রশংসা যা অশেষ , পবিত্র ও বরকতময় । হে আমার প্রভু ! এই খাবারকে অপ্রচুর মনে করে বা চিরদিনের জন্য বিদায় দিয়ে বা এর প্রতি বিমুখ হয়ে উঠলাম না । ৩০. খাওয়ার শেষে উভয় হাত কব্জিসহ ধৌত করা সুন্নাত । সাবান , বেশন ইত্যাদি ব্যবহার করে হাত পরিষ্কার করাতেও ক্ষতি নেই ।
৩১. খাওয়ার শেষে কুলি করা সুন্নাত ৩২. দাঁতে খেলাল করা সুন্নাত ।
৩৩. নবী ( সাঃ ) খাওয়ার শেষে হাত এবং মাথায় ভিজা হাত বুলিয়ে নিতেন । রূমাল ইত্যাদি দ্বারা হাত মুছে নেয়াতেও দোষ নেই ।
৩৪. খাওয়া শেষে সামান্য কিছু তিলাওয়াত ও যিকির করবে ।
৩৫. খাওয়ার শেষে সাথে সাথে ঘুমাবে না , তাহলে অন্তর শক্ত হয়ে যাবে ।
বিশেষ আলোচনা। নামযের উপকারিতা ও ফযীলত।
নামায আদায়ের বহু উপকারিতা ও ফযীলত রয়েছে । যেমন : ১. আত্মিক , ২. শারীরিক , ৩. সামাজিক ও ৪. পারলৌকিক ইত্যাদি । নামাযের আত্মিক উপকারিতা হল , নামায যেহেতু আল্লাহর প্রতি বান্দার আনুগত্যের বাস্তব রূপ ও আল্লাহর সাথে মি'রাজ সমতুল্য , কাজেই আল্লাহ্কেই হাযির - নাযির জেনে অন্তরে আল্লাহর ভয় রেখে শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য যদি আল্লাহর প্রতি চরম আনুগত্যের ধ্যান সহ নামায আদায় করা হয় তবে এ নামাযে অবশ্যই মুসল্লীর আত্মিক উন্নতি হবে । কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে : . قد أفلح المؤمنون الذين هم في صلاتهم خشعون . অবশ্যই সফলকাম হয়েছে মু'মিনগণ , যারা বিনয় - নম্র নিজেদের সালাতে ।
( সূরা মুমিনূন , ২৩ : ১-২ ) এ ধরনের নামায মানুষকে অন্যায় ও অপকর্ম থেকে ফিরিয়ে রাখে । মানুষের আত্মাকে কলুষমুক্ত রাখে । এ সম্পর্কে আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেন : . ان الصلوة تنهى عن الفحشاء والمنكر ولذكر الله اكبر والله يعلم ما تصنعون নিশ্চয়ই সালাত বিরত রাখে অশ্লীল ও মন্দকাজ থেকে । আল্লাহ্র স্মরণই সর্বশ্রেষ্ঠ । তোমরা যা কর আল্লাহ্ তা জানেন ।
( সূরা আনকাবৃত , ২৯ : ৪৫ ) নবী কারীম ( সা ) বলেন : . اذا قام أحدكم إلى الصلوة فلا يبصق أمامه قائما يناجي مادام في مصلاة . তোমাদের কেউ যখন নামায পড়তে দাঁড়ায় তখন সে যেন সামনের দিকে থুথু না ফেলে । কেননা যতক্ষণ সে তার মুসল্লায় থাকে ততক্ষণ সে আল্লাহর সাথে মুনাজাত তথা গোপন কথায় লিপ্ত থাকে । ১০ নামাযের শারীরিক উপকারিতা হলো , পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করতে হলে দৈনিক পাঁচবার উযূ করতে হয় , যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী ।
নামায আদায় করতে শারীরিক নড়াচড়া হয় তাও স্বাস্থ্যের জন্য কল্যাণকর । তাছাড়া মসজিদে গিয়ে নামায আদায়ের জন্য কিছু হাঁটাচলা করতে হয় তাও শরীরের জন্য খুবই উপকারী । বিশেষ করে ফজরের সময় ঘুম থেকে জেগে মসজিদে যাতায়াত করে সকালের মৃদুমন্দ বাতাস উপভোগ করা স্বাস্থ্যের জন্য বড়ই কল্যাণকর ।
চিকিৎসা বিজ্ঞানীগণও এ কথা অকুণ্ঠচিত্তে সমর্থন করেছে।নামাযের সামজিক উপকারিতা হল , নামায আদায় মানুষকে নিয়মানুবর্তিতা ও কর্তব্যবোধ শিক্ষা দেয় । নিয়মিত নামাযী ব্যক্তি কখনো কর্তব্যে অবহেলা এবং অনিয়ম প্রদর্শন করতে পারে না । জামা'আতের নামাযে তো এ ছাড়া আরো অনেক উপকারিতা নিহিত রয়েছে ।
নামাযের পারলৌকিক উপকারিতা হল , নামায যেহেতু আল্লাহ্র মহব্বত ও আনুগত্য প্রকাশের অন্যতম পন্থা , নামাযের মাধ্যমে আল্লাহ্ ও বান্দার মধ্যে গভীর সম্পর্ক সৃষ্টি হয় , তাই নামায হচ্ছে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও আখিরাতে জান্নাত লাভের অন্যতম উপায় বা উসীলা । এ কারণেই ' নামাযকে জান্নাতের চাবি ' বলা হয়েছে । সে স্থানে পৌঁছার জন্য মানুষের গুনাহ এবং পাপমোচন করিয়ে যোগ্যতম করে তোলে এ নামাযই । রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) ইরশাদ করেন : الصلوات الخمس والجمعة إلى الجمعة ورمضان إلى رمضان مكفرات لما بينهما اذا 201 a পাঁচ ওয়াক্ত নামায , এক জুমু'আ হতে অন্য জুমু'আ এবং এক রমযান থেকে অপর রমযান সে সকল গুনাহ্ মোচনকারী , যে সকল গুনাহ্ মধ্যবর্তী সময়ে করা হয় । যদি কবীরা গুনাসমূহ থেকে বেঁচে থাকা হয় ।
