দাজ্জাল,হযরত ঈসা আঃ, ঈমাম মাহদি সম্পর্কে আলোচনা এবং কিয়ামতের বড় লক্ষণ।
![]() |
| দাজ্জাল,হযরত ঈসা,ঈমাম মাহদি। |
দাজ্জাল সম্পর্কে হাদীস গ্রন্থগুলোতে বিস্তারিত বিবরণ বিদ্যমান রয়েছে । ইমাম কুরতুবী ( রঃ ) ' আত্তাযকিরা ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে , নবী করীম ( সাঃ ) থেকে দাজ্জাল সম্পর্কিত বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ রয়েছে । যেমন দাজ্জালের প্রকৃত পরিচয় , আত্মপ্রকাশের কারণ , আত্মপ্রকাশের জায়গা , চেহারার গঠন - আকৃতি , চরিত্র , যাদুকরী কার্যকলাপ , খোদায়ীত্বের দাবী , তার হত্যাকারীর পরিচয় , হত্যার স্থান , কাল , ইত্যাদি সবই নবী করীম ( সাঃ ) -এর হাদীসে বিদ্যমান রয়েছে । এমন কি দাজ্জাল কি ইব্ন সায়্যাদ নামক লোকটি ছিল না অন্য কেউ তাও পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ।
* হাদীসে দাজ্জালের আকৃতি সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে যে , তার দেহ স্থুল , বৰ্ণ লোহিত , কেশ কুঞ্চিত ও বাম চোখ কানা হবে । কানা চোখটি একটি ফুলে উঠা আঙ্গুলের মত দেখাবে ( বুখারী ) ।
* দাজ্জালের কপালে আরবী ভাষায় ' কাফির ' শব্দটি লিখিত থাকবে এবং তা কেবল মু'মিনগণই দেখতে পাবে । ( বুখারী )
* তার বের হওয়ার পূর্বে একাধারে তিন বছর পর্যন্ত ফসল উৎপাদিত না হওয়ার কারণে ভীষণ দুর্ভিক্ষ থাকবে ( আমাদ ) ।
* দাজ্জালের কোন সন্তান সন্ততি হবে না ( মুসলিম ) ।
* তার অনুসারীরা হবে ইয়াহূদী । ( মুসলিম )
* মুনাফিকরাও তার অনুসরণ করবে ( আহমাদ ) ।
দাজ্জাল যেভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করবে।মানুষ যখন ঈমান হারাবে।
দাজ্জাল প্রথমতঃ নিজেকে নবী এবং পরে খোদা বলে দাবী করবে । তারপর পৃথিবীর অধিকাংশ জায়গা ঘুরে ঘুরে লোকজনকে এ দাবী সমর্থন করতে বাধ্য করবে । হাদীসে উল্লেখ রয়েছে , দাজ্জাল যখন পথে বের হবে তখন তার সাথে আগুন ও পানি থাকবে । লোকেরা বাহ্যত যে বস্তুটিকে আগুন দেখবে প্রকৃতপক্ষে সেটি হবে শীতল পানি আর যে বস্তুটিকে পানি দেখবে সেটা হবে প্রকৃতপক্ষে আগুন ( বুখারী ) ।
কোন মুসলিম তাকে রব বলে অস্বীকার করলে সে তাকে আগুনে নিক্ষেপ করবে । অথচ প্রকৃতপক্ষে সে ব্যক্তি মহা শান্তি স্থলে পৌঁছে যাবে । আর যে তাকে রব বলে স্বীকার করবে দাজ্জাল তাকে পানির মধ্যে নিক্ষেপ করবে । প্রকৃতপক্ষে এটি হবে জ্বলন্ত আগুন । আল্লাহ্ তা'আলা দাজ্জালকে এ পরিমান শক্তি দান করবেন যে , সে কোন ব্যক্তিকে হত্যা করার পর পুনরায় তাকে জীবিত করতে সক্ষম হবে । তবে একবারের বেশী নয় ।
কেউ একবার পুনরুজ্জীবিত হওয়ার পর দ্বিতীয়বার দাজ্জাল , তাকে হত্যা করতে সক্ষম হবে না । ( বুখারী ) সে মক্কা ও মদীনা ব্যতিরেকে পৃথিবীর সর্বত্র বিচরণ করবে । মদীনায় প্রবেশের জন্য মদীনার নিকটস্ত প্রস্তরময় ভুখণ্ডে অবতরণ করবে । এ সময় মদীনায় সাতটি প্রবেশ দ্বার থাকবে কিন্তু দাজ্জাল তন্মধ্যে কোন দ্বার দিয়েই প্রবেশ করতে সক্ষম হবে না । অবশেষে ফিরে চলে যাবে । ( বুখারী ) -1 তার দৌরাত্বকাল হবে ৪০ বছর কিম্বা ৪০ দিন । এরপর হযরত ঈসা ( আঃ ) কর্তৃক দাজ্জাল নিহত হবে ( মুসলিম )
হযরত ঈসা ( আঃ ) -এর পৃথিবীতে অবতরণ ( স্থান - কাল ও সময় )তিনি কীভাবে আসবেন।
ইমাম মাহদীর সাথে দাজ্জালের যুদ্ধ যখন আসন্ন হবে । ঠিক এমনি সময়ে হযরত ঈসা ( আঃ ) বাইতুল মুকাদ্দাসে আসরের সময় অবতীর্ণ হবেন এবং তিনি ইমাম মাহদীর সাথে মিলিত হবেন । ওদিকে দাজ্জাল তার বিপুল সংখ্যক সৈন্য নিয়ে মুসলামানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অভিযান করবে । মুসলমানগণও এর মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবে ।
তারা দাজ্জাল বাহিনীর মোকাবেলায় অগ্রসর হবে । উভয় পক্ষে ঘোরতর যুদ্ধ হবে । যুদ্ধে দাজ্জাল হযরত ঈসা ( আঃ ) -এর হাতে নিহত হয়ে মুসলমানদের বিজয় সূচিত হবে । এরপর ইমাম মাহদী অল্প কিছুদিন জীবিত থাকবেন । তাঁর মৃত্যুর পর হযরত ঈসা ( আঃ ) মুসলিম সাম্রাজ্যের অধিপতি হবেন । অনেক বছর ধরে তিনি শান্তি ও শৃখংলার সাথে দেশ শাসন করবেন । সব লোক আল্লাহর ইবাদতে এবং সৎকাজে মশগুল হবে । হযরত ঈসা ( আঃ ) -এর মৃত্যুর পর ধীরে ধীরে লোকগণ আবার অসৎ পথ অবলম্বন করবে ।
এবং আল্লাহকে ভুলে যাবে । দেশে পাপের বন্যা প্রবাহিত হতে থাকবে । ধর্মভীরু লোকগণ আবার নানাদিক থেকে অতিষ্ট এবং বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়বে । হযরত ঈসা ( আঃ ) -এর অবতরণ প্রসঙ্গে মাওলানা শাহ রফী উদ্দীন ( রঃ ) লিখেন , দাজ্জাল দামেশ্ক পৌঁছবার পূর্বেই ইমাম মাহদী সেখানে পৌছে যাবেন । তিনি দাজ্জালের সাথে যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করতে থাকবেন ।
এ অবস্থায় একদিন আসরের নামাযের আযান হলে লোকজন নামাযের প্রস্তুতি নিতে থাকবে । এমন সময় হযরত ঈসা ( আঃ ) দু'জন ফিরিশতার কাঁধে ভর করে আর্কাশ থেকে অবতরণ করবেন এবং জামি‘মসজিদের পূর্ব মিনারে দাঁড়িয়ে সিঁড়ি দেওয়ার জন্য ডাকতে থাকবেন । তখন সিঁড়ির ব্যবস্থা করা হবে । তিনি নীচে অবতরণ করে ইমাম মাহদীর ( আঃ ) সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন ।
ইমাম মাহদী ( আঃ ) অত্যন্ত আদব ও বিনয়ের সাথে তাঁকে নামাযের ইমামত করতে অনুরোধ জানাবেন । তখন হযরত ঈসা ( আঃ ) বলবেন , না ইমামত আপনাকেই করতে হবে । আল্লাহ্ তা'আলা এ সম্মান শুধু এই উম্মতকেই দান করেছেন । তারপর ইমাম মাহদী ( আঃ ) নামায পড়াবেন । আর হযরত ঈসা ( আঃ ) একজন মুক্তাদী হিসাবে তাঁর পেছনে নামায আদায় করবেন ।
নামায শেষে ইমাম মাহদী হযরত ঈসা ( আঃ ) কে বলবেন , হে আল্লাহর নবী ! সৈন্য পরিচালনার ভার আপনার উপর অর্পিত থাকল । আপনি নিজ ইচ্ছামতে সমাধা করুন । তিনি বলবেন , সেনাবাহিনীর পরিচালনার দায়িত্ব আপনাকেই পালন করতে হবে । আমি শুধু দাজ্জালকে নিপাত করতেই এসেছি । কারণ তার মৃত্যু আমার হাতেই নির্ধারিত ( আলামাতে কিয়ামত ) ।
হযরত ঈসা ( আঃ ) -কে চেনার কিছু নিদর্শন।উনাকে মানুষ কীভাবে চিনবে।
* মুসনাতে আমাদ গ্রন্থে হযরত ঈসা ( আঃ ) -কে চেনার কিছু নিদর্শনের কথা উল্লেখ রয়েছে । তিনি মধ্যমাকৃতির ও গৌর বর্ণের হবে । শরীরে লালচে দু'টি চাদর জড়ানো থাকবে । দেখতে তাঁকে এমন দেখাবে যেন তিনি এইমাত্র গোসল করে বের হয়েছেন ।
হযরত ঈসা ( আঃ ) সম্পর্কে খৃষ্টানদের ভ্রান্ত ধারণা হযরত ঈসা ( আঃ ) আল্লাহর বান্দা ও অন্যতম “ উলূল আযম ” পয়গাম্বর । আল্লাহ্র অপার কুদরতের নিদর্শন স্বরূপ পিতা বিহীন জন্ম তার । পৃথিবীতে তিনি নির্ধারিত সময় অবস্থান করেন । এরপর তাঁকে জীবিতাবস্থায় সশরীরে আসমানে তুলে নেওয়া হয় । তাঁর মৃত্যু হয়নি ।
কিয়ামতের প্রাক্কালে উম্মতে মুহাম্মদী হিসাবে পুনরায় তিনি আগমন করবেন । দাজ্জালকে হত্যা করা এবং রাষ্ট্র পরিচালনা সহ আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদনের পর তিনি স্বাভাবিক অবস্থায় ইন্তিকাল করবেন ।
বিশেষ আলোচনা। জানাযার নামাজ সংক্রান্ত আলোচনা।
জানাযা নামাযে ফরয দু'টি । যেমন : ১. আল্লাহু আকবার চারবার বলা । প্রতিটি তাকবীর এক রাকা'আতের স্থলাভিষিক্ত । জানাযার নামাযে রুকূ ' ও সিজদা নেই । ২. দাঁড়ানো । ওযর ব্যতীত বসে জানাযার নামায পড়া জায়িয নয় । কোন কিছুর উপর উঠে নামায পড়াও জায়িয নয় । জানাযা নামাযের সুন্নাত জানাযা নামাযের সুন্নাত তিনটি ।
যথা : ১. আল্লাহর হাম্দ ও সানা পড়া ; ২. নবী কারীম ( সা ) -এর উপর দুরূদ পড়া ও ৩. মৃতব্যক্তির জন্য দু'আ করা । জানাযা নামায পড়ার পদ্ধতি জানাযা নামায পড়ার জন্য অন্যূন তিন কাতার করা সুন্নাত । এর চেয়ে বেশি কাতার করা যাবে । তবে কাতার বেজোড় হওয়া উচিত । মৃতকে কিবলার দিকে সম্মুখে রেখে বক্ষ বরাবর ইমাম দাঁড়াবেন । সবাইকে নিম্নের দু'আ আরবী বা বাংলায় পড়তে হবে : نويت أن أؤدى لله تعالى أربع تكبيرات صلوة الجنازة فرض الكفاية والدعاء لهذا الميت والثناء الله تعالى والصلوة على رسول الله متوجها إلى جهة الكعبة الشريفة الله আমি জানাযার ফরযে কিফায়া নামায চার তাক্বীরের সাথে কিবলামুখী হয়ে এ ইমামের পিছনে দাঁড়িয়ে মৃতব্যক্তিকে দু'আ করার উদ্দেশ্যে আদায় করছি , আল্লাহু আকবার । মৃত ব্যক্তি মহিলা হলে ।
ligh- এর স্থলে ajgl বলতে হবে । এরপর উচ্চস্বরে 101 বলে হস্তদ্বয় কান পর্যন্ত উঠিয়ে তাক্বীরে তাহরীমার মত হাত বেঁধে নিম্নের দু'আ পড়তে হয় : سبحانك اللهم وبحمدك وتبارك اسمك وتعالى جدك وجل ثناءك ولا اله غيرك হে আল্লাহ্ ! সকল প্রশংসা তোমার ।
তুমি সব ধরনের ত্রুটি - বিচ্যুতি থেকে পবিত্র । তোমার নাম মঙ্গল ও বরকতপূর্ণ , তোমার মহত্ত্ব অতি বিরাট , তোমার প্রশংসা অতি মহত্ত্বপূর্ণ এবং একমাত্র তুমি ছাড়া আর কোন প্রভু নেই । + সানা পড়ার পর পুনরায় হাত না উঠিয়ে তাক্বীর বলে নিম্নের দু'আ পড়তে হয় : اللهم صل على محمد وعلى آل محمد كما صليت على إبراهيم وعلى إلى ابـرهـيـم إنك حميد مجيد ، اللهم بارك على محمد وعلى آل محمد كما باركت على ابرهيم وعلى آل ابراهيم انك حميد مجيد . সালাত বা নামায ২৮৭ হে আল্লাহ্ ! মুহাম্মাদ ( সা ) এবং তাঁর পরিজনের উপর তুমি তোমার খাস রহমত অবতীর্ণ করো যেমন ইব্রাহীম ( আ ) এবং তাঁর পরিজনের উপর খাস রহমত অবতীর্ণ করেছো ।
নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসারযোগ্য এবং সর্বোচ্চ সম্মানের অধিকারী । হে আল্লাহ্ ! তুমি মুহাম্মাদ ( সা ) এবং তাঁর পরিজনের উপর খাস বরকত নাযিল কর যেমনি নাযিল করেছো ইব্রাহীম ( আ ) এবং তাঁর পরিজনের উপর । এরপর তাক্বীর বলে মৃতের জন্য দু'আ পড়তে হয় । মৃত ( পুরুষ বা মহিলা ) প্রাপ্তবয়স্ক হলে এ দু'আ পড়তে হবে : اللهم اغفر لحينا وميتنا وشاهدنا وغائبنا وصغيرنا وكبيرنا وذكرنا وأنثانا اللهم من أحييته منا فأحيه على الإسلام ومن توفيته منا فتوفه على الإيمان برحمتك يا أرحم
