চিকিৎসা বিষয়ক বিধি - বিধান। খতমে ইউনুস,খতমে বোখারী,খতমে জালালী ইত্যাদির বিধান। করণীয় ও বর্জনীয়।

 চিকিৎসা বিষয়ক বিধি - বিধান।খতমে ইউনুস,খতমে বোখারী,খতমে জালালী ইত্যাদির বিধান।করণীয় ও বর্জনীয়। 


চিকিৎসা বিষয়ক আলোচনা। 


* রোগ - ব্যাধিতে চিকিৎসা করানো এবং ঔষধ সেবন করা মোস্তাহাব । কেউ কেউ বলেন চিকিৎসা করানো সুন্নাত । চিকিৎসা করাতে থাকবে , কিন্তু রোগ নিরাময়ের ব্যাপারে আল্লাহর উপর ভরসা রাখতে হবে । 

* ঔষধে হারাম জিনিস ব্যবহার করবে না । কোন হারাম বস্তুকে ঔষধ হিসেবে সেবন করা বা হারাম বস্তু মিশ্রিত ঔষধ সেবন করা জায়েয নয় । তবে কখনও যদি এমন অনন্যোপায় অবস্থা হয় যে , উক্ত ঔষধ ব্যতীত জীবন রক্ষা করা মুশকিল , তাহলে জরুরত পূর্ণ হয়- এতটুকু পরিমাণ উক্ত ঔষধ সেবন করা জায়েয হবে । আর যদি জীবনের আশংকা দেখা না দেয় , শুধু চিকিৎসার জন্য অনুরূপ ঔষধের প্রয়োজন হয় , সে ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ডাক্তার যদি উক্ত ঔষধ ব্যতীত রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করা সম্ভব নয় বলে সিদ্ধান্ত দেন , তাহলে তা ব্যবহার করা জায়েয হবে । 

* শরী'আতের বরখেলাপ তাবীয তুমার , ঝাড় - ফুঁক ব্যবহার করা জায়েয নয় । শরী'আত সম্মত তাবীয ও ঝাড় ফুঁক হলে তা করা যায় , তবে উত্তম নয় । 

* শরীরে যদি অস্বাভাবিকতা থাকে ( যেমন আঙ্গুল বেশী আছে ) তাহলে প্লাস্টিক সার্জারি করা জায়েয । নিছক সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য জায়েয নয় । 

* কালজিরা এবং মধুর মধ্যে আল্লাহ তা'আলা বহু রোগ নিরাময়ের শক্তি রেখেছেন বলে হাদীছে বর্ণিত রয়েছে । 

* চিকিৎসা অবস্থায় রোগের জন্য ক্ষতির বস্তু থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক । 



খতমে ইউনুস / খতমে শেফা। বিভিন্ন খতমের হুকুম আহকাম। 

* উলামায়ে কেরামের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে সেয়া লক্ষ বার দুআয়ে ইউনুস পাঠ করে দুআ করা হলে রোগ - ব্যাধি ও বিপদ - আপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায় । এটাকে খতমে ইউনুস বা খতমে শেফা বলা হয় । উল্লেখ্য যে , হযরত ইউনুস ( আঃ ) মাছের পেটে আঁটকা পড়ে এই দুআটি পাঠ করলে আল্লাহ তা'আলা তাকে মাছের পেট থেকে উদ্ধার করেন । দুআয়ে ইউনুস এইঃ


لا إله إلا أنت سبحنك اني كنت من الظلمين - অর্থঃ হে আল্লাহ , তুমি ছাড়া কোন মা'বূদ নেই । তুমি পবিত্র , আমি পাপীদের অন্তর্ভুক্ত । 

* উল্লেখ্য যে , এই দুআটি সোয়া লক্ষ্য বার পাঠ করে দু'আ করলে বিপদ - আপদ বা রোগ - ব্যাধি থেকে মুক্তি লাভ হবে এ বিষয়টি কুরআন সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত নয়- এটা অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত । অতএব খতমে ইউনুস / খতমে শেফা - কে শরীয়ত - নির্ধারিত পদ্ধতি মনে করা যাবে না , এরূপ মনে করলে তা বিদআত হয়ে যাবে । * বিপদ - আপদ বা রোগ - ব্যাধি থেকে মুক্তির উদ্দেশ্যে খতমে ইউনুস পাঠ করা হলে পাঠকারীকে বিনিময় বা পারিশ্রমিক প্রদান করা ও পাঠকারীর জন্য তা গ্রহণ করা জায়েয । 



খতমে জালালী।ইত্যাদি খতম বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা। 

 * কোন পার্থিব উদ্দেশ্যে এক লক্ষ বার কালিমায়ে তইয়্যেবা পাঠ করলে সে উদ্দেশ্য হাছিল হয়ে থাকে । এটাকে জালালী খতম বা লাখ কালিমা পাঠ বলা হয়ে থাকে । এটা অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত বিষয়- কুরআন হাদীছ দ্বারা  প্রমাণিত নয় । অতএব এটাকে সুন্নাত মনে করলে তা বিদআত হয়ে যাবে । কোন পার্থিব উদ্দেশ্যে এ খতম পাঠ করা হলে তার পারিশ্রমিক দেয়া ও নেয়া উভয়ই জায়েয । 



খতমে বোখারী।কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা।

 * বোখারী শরীফ খতম করে দু'আ করা হলে দুআ কবূল হয়ে থাকে এবং কোন পার্থিব উদ্দেশ্যে বোখারী খতম করে দু'আ করা হলে সে উদ্দেশ্য পূর্ণ হয়ে থাকে । এটা ওলামা ও বুযুর্গদের অভিজ্ঞতা দ্বারা প্রমাণিত- কুরআন হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত নয় । 


* পার্থিব কোন উদ্দেশ্যে বোখারী খতম করালে পাঠকারীকে তার বিনিময় প্রদান ও পাঠকারীর জন্য তা গ্রহণ উভয়টি জায়েয । খতমে খাজেগান 


* খাজেগান অর্থ সাহেবগণ অর্থাৎ , মনীষী ও বুযুর্গানে দ্বীন । বুযুর্গানে দ্বীন যে খতম পড়ে দু'আ করতেন সে খতমকে ' খতমে খাজেগান ' বলে । খতমে খাজেগান পাঠ করে দু'আ করা হলে কবূল হয়ে থাকে- এ ব্যাপারে বুযুর্গানে দ্বীনের অভিজ্ঞতা রয়েছে । তবে এটা কুরআন হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত নয় । অতএব এটাকে শরীয়ত - নির্ধারিত পদ্ধতি মনে করলে বিদআত হয়ে যাবে ।


বিশেষ আলোচনা।ওজুর নিয়ম।

 উজুকারী ব্যক্তি প্রথমে এ নিয়্যাত করবে যে , আমি পবিত্রতা অর্জন , নামায আদায় এবং আল্লাহর নৈকট্যলাভের উদ্দেশ্যে উযূ করছি  ে তারপর কিবলার দিকে মুখ করে কিছুটা উঁচু স্থানে বসবে যাতে উযূর পানির ছিটা শরীরে বা কাপড়ে না লাগে ।


 ” “ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম ' বলে উযূ শুরু করবে । তারপর ডান হাতে পানি নিয়ে প্রথমে ডান হাত পরে বাম হাত কব্জি পর্যন্ত তিনবার ধুবে । মিওয়াক করে তারপর ডান হাতে পানি নিয়ে তিনবার কুলি করবে । রোযাদার না হলে তিনবার গড়গড়া করে কুলি করবে । তারপর তিনবার এমনভাবে নাকে পানি দিবে যেন নাকের নরম গোশত পর্যন্ত তা পৌঁছে । অবশ্য রোযাদার ব্যক্তি হলে এ ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করবে । 


বাম হাতের আঙ্গুল দিয়ে নাক সাফ করবে । প্রত্যেকবার নাকে নতুন পানি দিতে হবে । তারপর দু'হাতের তালু ভরে পানি নিয়ে তিনবার সম্পূর্ণ চেহারা এমনভাবে ধুবে যেন চুল পরিমাণ স্থানও শুক্ক্না না থাকে । দাড়ি ঘন হলে তার মধ্যে খিলাল করতে হবে । 


তারপর দু'হাত কনুই সহ ভালো করে ধুবে । প্রথমে ডান হাত এবং পরে বাম হাত তিন - তিনবার ধুবে । হাতে আংটি থাকলে এবং মেয়েলোকের হাতে চুড়ি - গয়না থাকলে তা নড়াচড়া করতে হবে যেন সবস্থানে ভালোভাবে পানি পৌঁছে ।


 তারপর দু'হাত ভিজিয়ে সম্পূর্ণ মাথা এবং কান মাসেহ করবে । মাসেহ্ করার পর দু'পা গোড়ালি সহ তিনবার এমনভাবে ধুবে যে , ডান হাত দিয়ে পানি ঢালবে এবং বাম হাত দিয়ে ঘষবে । বাম হাতের ছোট আঙ্গুল দিয়ে পায়ের আঙ্গুলগুলো খিলাল করবে  ডান পায়ের কনিষ্ঠ আঙ্গুল থেকে খিলাল শুরু করে বৃদ্ধাঙ্গুলে শেষ করবে । 


বাম পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুল থেকে শুরু করে কনিষ্ঠাঙ্গুলে শেষ করবে । উযূ ভঙ্গের কারণসমূহ নিম্নবর্ণিত কারণে উযূ ভঙ্গ হয় অর্থাৎ নষ্ট হয়ে যায় : ১. পেশাব - পায়খানার রাস্তা দিয়ে কোনকিছু বের হলে । ২. স্ত্রীলোকের সন্তান প্রসব দ্বারা , যদিও তাতে রক্ত না দেখা যায় । ৩. পেশাব - পায়খানার রাস্তা ব্যতীত শরীরের যে কোন স্থান থেকে যে কোন নাপাক বস্তু বের হয়ে গড়িয়ে গেলে । যেমন , রক্ত , পুঁজ ৪. থুথু , কাশি ব্যতীত বমির সাথে রক্ত , পুঁজ খাদ্য অথবা অন্য কিছু বের হলে এবং মুখ ভরে বমি হলে । ৫. থুথুর সাথে রক্ত এলে এবং রক্তের পরিমাণ বেশি বা সমান হলে । ৬. চিৎ হয়ে , কাত হয়ে অথবা ঠেস দিয়ে ঘুমালে ৭. বেহুঁশ হলে । 


যানবাহনের সুন্নাত , আদব ও আমল সমূহ। সফরে যাওয়ার সুন্নাত , আদব ও বিধি - নিষেধ সমূহ।


৮. পাগল হলে । ৯. নেশাগ্রস্ত হলে । ১০. জানাযা নামায ব্যতীত অন্য কোন নামাযে অট্টহাসি দিলে । ১১. পুরুষ ও মহিলার গুপ্তাঙ্গ কোন অন্তরায় ব্যতীত একত্রিত হলে ; বীর্যপাত ছাড়াও উযূ নষ্ট হবে । উযূর মাকরূহসমূহ প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি ব্যয় করা । প্রয়োজনের চেয়ে কম পরিমাণ পানি ব্যয় করা । চোহারার উপর এমন জোরে পানি নিক্ষেপ করা যে , পানির ছিটা অন্যত্র পড়ে । উযুর সময় অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলা । বিনা ওযরে অন্যের সাহায্য নেওয়া । নতুন পানি নিয়ে তিনবার।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post