হযরত আবুবকর সিদ্দীক ( রাঃ ) এর জীবনী। বিশিষ্ট এই সাহাবীর অজানা কিছু তথ্য।বিস্তারিত আলোকপাত।
 |
| হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাঃ এর জীবনী। |
হযরত আবু বকরের (রাঃ) নাম ও পরিচিতি ।জেনে রাখুন।
তাঁর নাম আবদুল্লাহ , কুনিয়াত আবূবকর , লকব আতীকুল্লাহ , সিদ্দীক । পিতার নাম উসমান , কুনিয়াত আবু কুহাফা , মাতার নাম সালমা , কুনিয়াত উম্মুল খায়ের । রসূলুল্লাহর চিরসাথী ।
হযরত আবু বকরের বংশধারা।বিস্তারিত নিচে।
আবূবকর আবদুল্লাহ ইবনে উসমান , আবূ কুহাফা ইবনে আমর ইবনে কা'ব ইবনে সা'দ , ইবনে তাঈমি , ইবনে মুররাহ্ , ইবনে কা’ব , ইবনে লওবী আল কুরাইশী আত্ তামীমী ।
হযরত আবু বকরের জন্ম।জন্মকাল ও জায়গা।
হস্তী বর্ষের দু’বছর চার মাস পর তিনি মক্কা নগরীতে আবূ কুহাফার ঔরসে জন্মগ্রহণ করেন । তিনি বয়সে রসূলে করীম ( সঃ ) -এর ২ বছর চার মাসের মত ছোট ছিলেন ।
হযরত আবু বকরের ইসলাম গ্রহণ।গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা।
তিনি ইসলাম গ্রহণের পূর্বেই রসূরে পাক ( সঃ ) -এর সাথে সম্পর্কিত ছিলেন । ইসলাম গ্রহণকারী নারী - পুরুষের মাঝে তিনি তৃতীয় এবং বংস্ক পুরুষের মাঝে প্রথম ।
হযরত আবু বকরের দৈহিক গঠন।গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা।
তিনি উজ্জ্বল গৌরবর্ণ , প্রশস্ত ললাট বিশিষ্ট ছিলেন । তাঁর চেহারায় গোশতের পরিমাণ কম ছিল এবং তিনি হাল্কা পাতলা দেহের অধিকারী ছিলেন । শেষ বয়সে চুল দাড়ি পেকে সাদা হয়ে গিয়েছিল । দাড়িতে মিন্দীর খেজাব ব্যবহার করতেন । তাঁর চোখ ছিল মধ্যম পর্যায়ের
হযরত আবু বকরের উত্তম চরিত্র।বিশেষ আলোচনা।
তিনি কুরাইশ বংশের সম্মানিত ব্যক্তিদের মাঝে অন্যতম । জ্ঞান , মেধা , অভিজ্ঞতা , বুদ্ধিমত্তা , বাগ্মীতা , বিচক্ষণতা , সচ্চরিত্রতা ইত্যাদিতে নজীর বিহীন ছিলেন । রাতে ঘরে ফিরে যেতেন । সারাদিন রাসূলে পাক ( সঃ ) -এর সাথে থেকে অথবা পৃথক হয়ে দ্বীনের প্রচার ও তাবলীগের কাজ করতেন । রসূলে পাক ( সঃ ) -এর হিজরতের সাথী ছিলেন । একমাত্র তাঁর পরিবারের প্রত্যেকটি মানুষ ইসলাম গ্রহণ করে ধন্য হয়েছিলেন । এ জাতীয় পরিবার সাহাবায়ে কিরামের মাঝে কারোরই ছিল না ।
হযরত আবু বকরের হাদিস বর্ণনাঃ হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাঃ বিভিন্ন কারণে কম হাদিস বর্ণনা করেছেন। কারো মতে তিনি পাঁচশো হাদিস জমা করেছেন।
হযরত আবু বকর রাঃ এর ইন্তেকাল।গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা।
১৩ সালে ৭ই জমাদিউল আখের তিনি জ্বরে আক্রান্ত হোন।দীর্ঘ পনেরো দিন রোগাক্রান্ত থাকারপর ১৩ হিজরির ২১ জমাদিউল আখের রোজ মঙ্গলবার ৬৩ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
বিশেষ আলোচনা। জামারা বা কংকর নিক্ষেপের স্থান ৩ টি।
১. জামারাতুল আকাবা : মক্কার দিকে মাসজিদুল খাইফের সর্ব নিকটবর্তী কংকর নিক্ষেপ স্থল । একে জামারাতুল উখরা এবং জামারাতুল কুবরাও বলা হয় । ১০ ই যিলহজ্জ এখানে সাতবার কংকর নিক্ষেপ করে তালবিয়া পাঠ বন্ধ করে দিতে হয় ।
অন্য দুই জামারায় ঐ দিন কংকর নিক্ষেপ করতে নেই । করলে তা বিদ'আত হবে । ২. জামারাতুল উত্তা বা মধ্যম জামারা । ৩. জামারাতুল উলা বা প্রথম জামারা । ১১ ও ১২ ই যিলহজ্জ তারিখে প্রতিটি জামারায়ই ৭ টি করে কংকর মারতে হয় । তারপর মিনা ত্যাগ করা চলে । কিন্তু ১৩ তারিখ পর্যন্ত মিনায় রয়ে গেলে ১৩ তারিখেও তিন জামারায়ই কংকর নিক্ষেপ করতে হয় । ১০ তারিখে মিনায় আসার পর সর্বপ্রথম ' রমী ' করাই মুস্তাহাব ।
১১ ই যিলহজ্জের সুবহে সাদিক পর্যন্ত জামারাতুল আকাবায় কংকর নিক্ষেপ করা না হলে ' দম ' ওয়াজিব হয়ে যায় । জামারার অন্তত পাঁচ হাত দূর থেকে হাত উঁচু করে যতটুকু উঁচু করলে বগল অনাবৃত হয়ে যায় , কংকর নিক্ষেপ করতে হয় । পাঁচ হাতের কম দূরত্বে দাঁড়িয়ে কংকর নিক্ষেপ করা মাকরূহ । বেশি দূরত্বে ক্ষতি নেই । কংকর খেজুর বীচি বা ছোলার আকারের হওয়া চাই । মুযদালিফা থেকে ৭০ টি কংকর কুড়িয়ে নেওয়া মুস্তাহাব ।
বড় পাথর ভেঙ্গে ছোট করা মাকরূহ । বৃদ্ধাঙ্গুলি ও শাহাদাত অঙ্গুলিদ্বারা ধরে কংকর মারা মুস্তাহাব । শরী'আতগ্রাহ্য ওযরের কারণে একজনের রমী অন্যজনেও করতে পারেন । তবে নিজের ' রমী ' শেষ করে অন্যেরটা করতে হয় । একই সময়ে নিজের পক্ষ থেকে একটি এবং অন্যের পক্ষ থেকে আরেকটি কংকর নিক্ষেপ করা মাকরূহ । মিনাকে বামদিকে ও কা'বা শরীফকে ডানদিকে রেখে কংকর নিক্ষেপ করতে হয় এবং সাথে সাথে এরূপ বলা মুস্তাহাব : بسم الله الله اكبر رغما للشيطان رضى للرحمن اللهم اجعله حجا مبرورا وذنبا مغفورا وسعيا مشكورا . কুরবানী কিরান ও তামাত্তু হজ্জ আদায়কারীগণের উপর কুরবানী করা ওয়াজিব ।
ইফ্রাদ হজ্জ আদায়কারী ব্যক্তির জন্য তা মুস্তাহাব । মিনায় জামারাতুল আকাবায় ১০ ই যিলহজ্জ কংকর নিক্ষেপের পর এ কুরবানী আদায় করতে হয় । কিরান বা তামাত্তুকারী হাজীর যদি কুরবানী দেওয়ার সঙ্গতি না থাকে , তাহলে আরাফার দিনের পূর্বেই তিনটি রোযা এবং পরে দেশে ফিরে আরও সাতটি রোযা নিজের সুবিধামত সময়ে রাখবে ।
আরাফাতের দিন পর্যন্ত তিনটি রোযা রাখতে না পারলে কুরবানী দেওয়াই ওয়াজিব হবে এবং সে কুরবানী না দিয়েই কর বা হল্ক করে ফেলে আরেকটি কুরবানী -- মোট দু'টি কুরবানী আদায় করা ওয়াজিব হবে । ( আহ্কামুল হাজ্জ ওয়াল উমরা , সূত্র : যুবদাতুল মানাসিক ) হলক ও কস্ত্র হল্ক ও হচ্ছে মাথা মুণ্ডানো এবং কর হচ্ছে চুল ছাটা । হল্ক কেবল পুরুষের ব্যাপারেই প্রযোজ্য । মহিলাদের জন্য মাথা মুণ্ডন করা হারাম । চুল ছাঁটা নারী - পুরুষ সকলের জন্যেই বৈধ । সম্পূর্ণ মাথার চুল আঙ্গুল পরিমাণ ছাঁটতে হয় । এক - চতুর্থাংশ চুল ছাঁটলেও ছাঁটা হয়ে যায় । হাল্ক করাতে যেহেতু পূর্ণ বিনয় প্রকাশ পায় , তাই ‘ দুররুল মুখতার ' গ্রন্থে বর্ণিত আছে , পুরুষের জন্য পূর্ণ মাথায় হলক করা উত্তম ।