হযরত উসমান রাঃ এর জীবনী। জান্নাতি এই সাহাবীর জীবন বৃত্তান্ত।
![]() |
| হযরত উসমান রাঃ এর জীবনী। |
হযরত উসমান গনী যুন - নূরাইন ( রাঃ ) নাম ও পরিচিতি।বিস্তারিত।
তাঁর নাম উসমান , কুনিয়াত আবু আবদুল্লাহ ও আবু আমর , আবু সায়লা , উপাধি যুন - নূরাইন ও গনী । তাঁর পিতার নাম আফ্ফান ইবনে আবুলআস । মাতার নাম আরওয়া বিনতে কুরাই । কুরাইশ বংশের উমাইয়া শাখার সন্তান ।
হযরত উসমান রাঃ এর বংশধারা।বিস্তারিত জানুন।
উসমান ইবনে আফ্ফান ইবনে আবুল আস ইবুনে উমাইয়া ইবনে শামস্ ইন্নে আবদে মানাফ কাসাই আল কারণী ।
হযরত উসমান রাঃ এর হুযূর ( সঃ ) -এর সাথে সম্পর্ক।
কয়েকটি দিক হতেই তাঁর সাথে হুযুর ( সঃ ) -এর সম্পর্ক রয়েছে । প্রথমতঃ তাঁর উর্ধ্বতম পুরুষ আবদে মানায়ের সাথে গিয়ে রসূলুল্লাহ ( সঃ ) -এর বংশ মিলে যায় । দ্বিতীয়তঃ তাঁর নামী বায়দা বিনতে আবদুল মুত্তালিব রসূল ( সঃ ) -এর ফুফু ।
হযরত উসমান রাঃ এর ইসলাম গ্রহণ।ঐতিহাসিক বিষয়।
ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে তাঁকে ' আসাবেকুনাল আওয়ালুন বলা হয় । তিনি বলেন , ' আমি ইসলাম গ্রহণকারী চারজনের মধ্যে চতুর্থ । তিনি হযরত আবু বকর ( রাঃ ) এর দাওয়াতে ইসলাম গ্রহণ করেন ।
হযরত উসমান রাঃ হিজরত।বিস্তারিত আলোকপাত।
মক্কার কাফেরদের অত্যাচারে মুসলমানদের যেই দলটি সর্বপ্রথম আবিসিনিয়ায় হিজরত করে তাঁদের সাথেই স্ব - পরিবারে হিজরত করেন । সেখানে বেশ কিছুদিন অবস্থানের পর তদব শুনলেন যে , মক্কার নেতারা ইসলাম গ্রহণ করেছে । তখন তিনি মক্কায় ফিরে আসলেন । রসুলুল্লাহর মদীনায় হিজরতের পর তিনি মদীনাতে হিজরত করে চলে যান ।
হযরত উসমান রাঃ এর বিভিন্ন জিহাদে অংশগ্রহণ।গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা।
ইসলামে যতগুলি জিহাদ সংঘটিত হয় তন্মধ্যে বদর এবং বাইয়াতে রিদওয়ানে উপস্থিত ছিলেন না । বাকী সকল জিহাদেই তিনি । অংশগ্রহণ করেন । বদরের সময় তাঁর স্ত্রী রুকাইয়্যা অসুস্থ থাকায় হুযূর ( সঃ ) তাঁকে রুগীর সেবার নির্দেশ দেন । আর বাইয়াতে রিদওয়ান তো তাঁর মক্কায় অবরুদ্ধ হওয়ার কারণেই সংঘটিত হয়েছিল ।
হযরত উসমান এর দৈহিক আকৃতি।
তিনি ছিলেন মধ্যম আকৃতির সুঠাম দেহের অধিকারী । তরটি গন্ডদেশ , ঘন দাড়ি , উজ্জ্বল ফর্সা , ঘন চুল , কোমর ও বুক প্রশস্ত , কান পর্যন্ত বুলানো জুলফী , পায়ের নালা মোটা , পশম ভরা লম্বা বাহু , মুখে বসন্তের দাগ , মেহেদী রংগের দাড়ি এবং স্বর্ণ খচিত দাঁত ।
হযরত উসমান এর খেলাফতের দায়িত্ব পালন।
হযরত ওমর ( রাঃ ) -এর ইতিকালের পর তাঁর অসিয়ত মুতারেক মুসলমানদের পরামর্শক্রমে ২৪ হিজরীর ১ লা মুহাররম সোমবার সকালে তিনি খেলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন । বার দিন কম বার বছর তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন ।
হযরত উসমান রাঃ এর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা।
তিনি রাসূলে পাক ( সঃ ) -এর নিকট হতে সর্বমোট ১৪৬ খানা হাদীস বর্ণনা করেছেন । ইমাম বুখারী ( রহঃ ) তন্মধ্য হতে ১১ খানা হাদীস বুখারী শরীফে উল্লেখ করেছেন ।
হযরত উসমান রাঃ এর ইনতিকাল ও দাফন
৩৫ হিজরীর ১৮ ই জিলহজ্জ শুক্রবার আসর নামাযের পর তাঁর বাসভবনে আল - আসওয়াদুত তুজিবী তাঁকে হত্যা করে । তখন তাঁর বয়স কত হয়েছিল এই নিয়ে মতভেদ রয়েছে । তবে ৮২ হতে ৯০ এর মধ্যেই ছিল । জান্নাতুল বাকী কববৃস্তানের হাশশে কাওকার অংশে শনিবার রাতে মাগরিব ও এশার মাঝামাঝি সময়ে গোসল না দিয়ে রক্তাক্ত পোশাক সজ্জিত এ মজলুদ শহীদকে দাফন করা হয় । হযরত যুবাইর ইবনে মুতআম ( রাঃ ) তাঁর জানাযার নামায পড়ান । উসমান গনী ( রাঃ ) ছিলেন বেহেশতের সুসংবাদ প্রাপ্ত সাহাবীদের মধ্যে তৃতীয় ।
