জ্বীন বা পরীর সাথে সহবাস। সহবাসের সময় পরিধেয় কাপড়ের হুকুম।

জ্বীন বা পরীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক ।ওতির সময় পরিধেয় কাপড়ের হুকুম।

জ্বীন বা পরীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক। 


কোনো পুরুষ বা মহিলা যদি স্বপ্নে জ্বিন বা পরীর সাথে ওতি করে তবে কী তার গোনাহ হবে বা তার ওপর গোসল ওয়াজিব হবে?

এ অবস্থায় ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে যদি দেখে যে বীর্যপাত হয়ে গেছে তাহলে অবশ্যই গোসল করা ওয়াজিব হবে।অন্যথায় গোসল করা ওয়াজিব হবেনা।স্বপ্নে এরূপ ঘটনা ঘটলে তার জন্য গোনাহগার হতে হবেনা।

ওতির সময় পরিধেয় কাপড়ের হুকুম।বিস্তারিত আলোচনা। 

সহবাসের সময় যে কাপড় পরিধান করা থাকে সে সব পরিধেয় কাপড়ের হুকুম।

শুধু মিলনের কারণেই মিলনের সময় যে সব কাপড় পরিধান করা থাকে,সেসব কাপড় নাপাক হয়না,এমনকি পূর্বের মতোই পাক থাকে।তবে যদি মিলনের পূর্বে বা পরে শরীরের বা কাপড়ের কোনো স্থানে বীর্য বা অন্য কোনো নাপাকি লেগে যায় তাহলে সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র উক্ত স্থানই নাপাক হবে।এরূপক্ষেত্রে নাপাকির স্থান চিণ্হিত থাকলে উক্ত স্থানটুকু পাক করে নিলে সম্পূর্ণ কাপড় পাক হয়ে যাবে।আর যদি চিহ্নিত না থাকে তাহলে সম্পূর্ণ কাপড় ধৌত করে পাক করতে হবে।


বিশেষ আলোচনা। ইহরাম। 

 নামাযের উদ্দেশ্যে যেমন তাীমা বাঁধা হয় , হজ্জের জন্য ঠিক তেমনি ইহরাম বাঁধা হয় । এটি হজ্জের আনুষ্ঠানিক নিয়্যাত । তাহ্রীমা ও ইরাম একই ধাতু থেকে নির্গত একই অর্থবোধক শব্দ । এ দু'টি শব্দের অর্থই হচ্ছে হারাম করা । নামাযী যেমন তার নিয়্যাতের মাধ্যমে স্বাভাবিক অবস্থার হালাল অনেক ব্যাপারেই নিজের জন্য হারাম করে নেয় , ঠিক তেমনি একজন হজ্জযাত্রীও ইরাম বাঁধার মাধ্যমে স্বাভাবিক অবস্থায় যা তার জন্য বৈধ যেগুলো হজ্জ পালনকালে বা ইহরাম অবস্থায় নিজের জন্য হারাম করে নেন । ইহরাম বাঁধার পূর্বেই গোঁফ , বগল ও নাভীর নিচের ক্ষৌর কার্যাদি সম্পন্ন করে , নখ কেটে , গোসল করে পাক সাফ হয়ে যেতে হয় ।


 এমন কি ঋতুবর্তী মহিলাদেরও এ সময় গোসল করা মুস্তাহাব । ( হিদায়া ) । ইহরাম বাঁধার পূর্বে সুগন্ধি ব্যবহার করা মুস্তাহাব । হযরত আয়েশা সিদ্দীকা ( রা ) বলেন , আমি নিজে রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) -এর ইহরাম বাঁধার পূর্বে তাঁকে সুগন্ধি মাখিয়ে দিতাম । 


( বুখারী ও মুসলিম ) গোসল করা সম্ভব না হলে উযূ করে নিলেও হবে । অনুরূপ চুল কাটার দরকার না থাকলে চিরুণী করে চুল বিন্যস্ত করে নিতে হয় । তারপর দুই রাকা'আত নামায ইরামের নিয়্যাতে পড়তে হয় । এতে প্রথম রাকা'আতে সূরা ফাতিহার সাথে সূরা কাফিরূন এবং দ্বিতীয় রাকা'আতে সূরা ইখ্লাস মিলানো মুস্তাহাব । ইহ্রামের দুই প্রপ্ত সেলাইবিহীন কাপড় একটি লুঙ্গির মত এবং অপরটি চাদরের মত গায়ে জড়িয়ে নিতে হয় । কাপড়গুলো নতুন হওয়া উত্তম ।


 ( হিদায়া ) কিবলামুখী হয়ে বসা অবস্থায় এ ইহ্হ্রামের কাপড় দু'টি পরতে হয় এবং ইফরাদ , তামাত্তু ' বা কিরান অথবা উমরা করার জন্য এ ইহরাম বাঁধা হচ্ছে , তার নিয়্যাত করতে হয় । সাথে সাথে আল্লাহর কাছে এ দু'আও করতে হয় যে , তিনি তা পালন করা সহজ করে দেন এবং কবূল করেন । মুখে নিয়্যাতের কথা বলা উত্তম তবে জরুরী নয় । কেননা নিয়্যাত একান্তই অন্তরের ব্যাপার । নিয়্যাতের সাথে সাথে তালবিয়া পাঠ করলেই ইরাম সম্পন্ন হয় । 



- যদি ইহরাম ইফরাদ হজ্জের জন্য হয় তাহলে তিনি বলবেন : হে আল্লাহ্ ! আমি হজ্জের নিয়্যাত করলাম , তুমি তা আমার জন্য সহজসাধ্য করে দাও এবং আমার পক্ষ থেকে কবূল কর । যদি কিরান হজ্জ হয় অর্থাৎ হজ্জ ও উমরার জন্য একত্রে নিয়্যাত করা হয় তাহলে হজ্জযাত্রী বলবেন : এ হে আল্লাহ্ ! আমি হজ্জ ও উমরার নিয়্যাত করছি , 


তুমি আমার জন্য এগুলো সহজসাধ্য করে দাও এবং কবূল কর । কেবল উমরার উদ্দেশ্যে ইব্রাম বাঁধলে নিয়্যাতে কেবল হজ্জের নিয়্যাতে উক্ত -এর স্থলে । বলতে হবে । তামাত্তু কারী একবার উমরার জন্যে এবং পরে হজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধবেন । একাধিক উমরার ক্ষেত্রে হরম শরীফ থেকে নিকটবর্তী মীকাত হচ্ছে তানঈম । হরম শরীফের বাইরে অন্যত্র থেকেও ইহরাম বাঁধা চলে । 


তবে মক্কা শরীফের অধিবাসীগণ বা বহিরাগত হাজীগণ সাধারণত তানঈমে গিয়েই ইহরাম বেঁধে আসেন । ইহরাম বদলী হজ্জের উদ্দেশ্যে হলে দু'আন্তে ' না বলে হজ্জ করছেন তার নাম বলতে হয় । ১ বলে যার বদলে ইহরামকারীর করণীয় ইরামকারী ইহরাম বাঁধার সাথে সাথেই সশব্দে তিনবার তালবিয়া পাঠ করবেন এভাবে : لبيك اللهم لبيك لبيك لا شريك لك لبيك إن الحمد والنعمة لك والملك।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post