লজ্জাস্থান থেকে তরল পানি বের হওয়া।মিলন কালে শরীর হতে নির্গত ঘামের হুকুম।বিস্তারিত আলোচনা।
![]() |
| বিশেষ আলোচনা। গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা। |
কারো যদি উত্তেজনা অবস্থায় লজ্জাস্থান থেকে পানির মতো তরল আঠালো পদার্থ বের হয়,যা বীর্যের মতো গাঢ় নয়,তাতে কী গোসল ফরজ হবে?
বীর্য বা মনী সাদাটে হয়,এর একটু দুর্গন্ধ হয় এবং তা বের হওয়ার দ্বারা শাহাওয়াত তথা যৌন উত্তেজনা কমে যায়।এবং তা বের হলে গোসল ফরজ হয়ে যায়।কিন্তু যদি তরল পানির রং এর মতো কোনো পদার্থ যৌনাঙ্গ থেকে বের হয়ে আসে এবং সেটা বের হওয়ার দ্বারা যৌন উত্তেজনা কমেনা,এটির কোনো দুর্গন্ধও থাকেনা,তাকে মজি বলে।তাতে গোসল ফরজ হবেনা।তবে ওজু ভেঙে যাবে এবং সেটা নাপাক।
মিলন কালে শরীর হতে নির্গত ঘামের হুকুম।বিস্তারিত আলোচনা।
স্বামী-স্ত্রীর মিলন কালে শরীর হতে যে ঘাম বের হয় সেটার হুকুম কী? উক্ত ঘাম যদি কোনো কাপড় বা বিছানায় লাগে তাহলে সেটা কী নাপাক হবে?
স্বামী-স্ত্রীর মিলন কালে শরীর হতে যে ঘাম বের হয় সেটা নাপাক নয়।বরং অন্য সময়ের মতোই উক্ত শরীরের নির্গত ঘাম পাক হিসেবে গণ্য হবে।কেননা,মিলনের কারণে শরীর হুকমী ভাবে নাপাক হয় মাত্র।যার ফলে গোসল ফরজ হয়।কিন্তু বাহ্যিক শরীর পূর্বের মতো পাক থাকে।তাই উক্ত অবস্থায় শরীর থেকে ঘাম নির্গত হলে সে ঘামও নাপাক হবেনা।
বিশেষ আলোচনা। হজ্জের সামাজিক , রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক গুরুত্ব।
হজ্জ একান্তই ব্যক্তিগত আমল । ব্যক্তিগত জীবনে আল্লাহ্র নৈকট্য লাভ ও তাঁর সন্তুষ্টি হাসিলের জন্যই হাজী হজ্জ করে থাকেন । তা সত্ত্বেও সামাজিক , রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে হজ্জের বিরাট গুরুত্ব রয়েছে । বস্তুত হজ্জের মৌসুম এমন এক বসন্ত মৌসুম , যার আগমনে নতুন প্রত্যয়ে উদ্দীপ্ত হয়ে উঠে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা মুসলিম উম্মাহ্ ।
এ কারণেই হজ্জের মৌসুমে বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ মানুষ হাজার হাজার মাইল পথ অতিক্রম করে বায়তুল্লাহ্র যিয়ারতে ছুটে আসে । যারা হজ্জে গমন করেন তারা তো ধর্মীয় চেতনায় উদ্দীপ্ত থাকেনই , অনুরূপভাবে তাদের আত্মীয় - স্বজন যারা হাজীদের বিদায় সম্ভাষণ এবং ফেরার পর অভ্যর্থনা জানায় এবং হাজীদের কাছ থেকে হজ্জের বিস্তারিত অবস্থা শোনে , তাদের মধ্যেও ধর্মীয় নবচেতানার উন্মেষ ঘটে ।
এমনিভাবে হাজীদের কাফেলা যে স্থান দিয়ে রাস্তা অতিক্রম করে তাদের দেখে এবং তাঁদের লাব্বাইক আওয়াজ শুনে সেখানকার কতো মানুষের দিল ধর্মীয় ভাবাবেগে আপ্লুত হয়ে উঠে এবং কত মানুষের অচেতন আত্মায় হজ্জ করার উৎসাহ জেগে উঠে , তা সহজেই অনুমান করা যায় । বিভিন্ন দেশ হতে আগত হজ্জ যাত্রীদের শারীরিক কাঠামো ভিন্ন , ভাষা ভিন্ন , কিন্তু মীকাতের নিকটে এসে তারা নিজেদের পোশাক খুলে একই ধরনের কাপড় পরিধান করে , তখন তাদের মধ্যে একই ইলাহ্ - এর বান্দা হওয়ার চিহ্ন পরিলক্ষিত হয় ।
সকলের মুখে একই ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হয়ে আকাশ বাতাস মুখরিত করে তোলে । তারপর মক্কা ও মদীনার পবিত্র ভূমিতে কাফেলা একত্রিত হয় এবং সকলে একই পদ্ধতিতে একই ইমামের পেছনে নামায আদায় করেন । এইভাবে সমবেত মুসলিম জনতা ভাষা , জাতি এবং দেশ ও গোত্রের কৃত্রিম বৈষম্য ভেঙ্গে দিয়ে বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব স্থাপনের বিরাট সুযোগ পায় ।
প্রকৃতপক্ষে , হজ্জের এ বিশ্ব সম্মিলন হল , “ মু'মিনগণ পরস্পর ভাই ভাই ” -এর বাস্তব নমুনা । হজ্জের মৌসুমে এ চেতনা গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে । মুসলমানদের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন দেশের ইসলামী চিন্তাবিদগণ যদি সমষ্টিগত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চান , তবে হজ্জের মৌসুমই এর জন্য উৎকৃষ্ট সময় । হজ্জের মৌসুমে আলিম - উলামা এবং সূফী ও সংস্কারকগণ পবিত্র মক্কা ও মদীনায় একত্রিত হয়ে থাকেন ।
তাই এ সময় উম্মাহর সঠিক অবস্থা পর্যালোচনা করা , তাদেরকে শিরক ও বিদ'আতের অভিশাপ হতে মুক্ত করা এবং মুসলিম বিশ্বে তা'লীম ও তাবলীগী মিশন প্রেরণের বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া যায় । হজ্জ যেহেতু মুসলিম উম্মাহ্র এমন এক বিশ্ব সম্মিলন , যেখানে সব শ্রেণীর মানুষই এসে সমবেত হয় , তাই এই সময়ে বিশ্বশান্তি স্থাপনে এবং জাতিসমূহের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব - কলহ মিটিয়ে , লড়াই - ঝগড়ার পরিবর্তে ভালবাসা , বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্ব স্থাপনের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা যায় । হজ্জ সম্মিলন মুসলিম উম্মাহ্র এক বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ।
এর মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর শান - শওকতের বহিঃপ্রকাশ ঘটে । বিক্ষিপ্ত শক্তিগুলো সংহত হয় । দিকে দিকে উম্মাহর সুখ্যাতি ও গৌরব ছড়িয়ে পড়ে । এ ছাড়াও বহু কল্যাণ , উপকারিতা এবং হিমাত হজ্জের মধ্যে নিহিত রয়েছে হজ্জ্বের সময় হজ্জ - এর জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে । এর বাইরে হজ্জ আদায় করা জায়িয নয় । এ সম্পর্কে আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেন : الحد اشهر معلومات।
