ব্যবহৃত পানি পাত্রে পড়লে তার হুকুম।নাপাক ভিজা কাপড়ের সাথে পাক শুকনো কাপড়ের মিশ্রণ।গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা।
![]() |
| ব্যবহৃত পানি সংক্রান্ত আলোচনা। |
পাত্রে পানি নিয়ে গোসল করার সময় ব্যবহৃত পানির ছিটা পাত্রে পড়লে, পাত্রের পানি কি নাপাক হয়ে যাবে?
উত্তরঃ গোসলের পূর্বে শরীরের কোনো স্থানে নাপাকি লেগে থাকলে নিয়ম হলো প্রথমে সেই নাপাকি দূর করে ওজু করে নেয়া,এরপর সমস্ত শরীরে পানি পৌঁছানো,এভাবে গোসল করা সুন্নত।এ সুন্নাত তরিকায় গোসল করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত পানির ছিটা পাত্রে পড়লে পাত্রের পানি নাপাক হবেনা।কিন্তু যদি গোসলের পূর্বে শরীরে লেগে থাকা নাপাকি দূর না করা হয় আর উক্ত নাপাক সংবলিত স্থান থেকে পানির ছিটা কোনো পাত্রে পড়ে, তাহলে সেক্ষেত্রে পাত্রের পানি নাপাক হয়ে যাবে।
নাপাক ভিজা কাপড়ের সাথে পাক শুকনো কাপড়ের মিশ্রণ। বিশেষ আলোচনা।
নাপাক ভিজা কাপড়ের সাথে পাক শুকনা কাপড় রাখার ফলে শুকনো কাপড়টিও কী নাপাক হয়ে যাবে?
পাক শুকনা কাপড়টি নাপাক ভিজা কাপড়ের সাথে মিশে যাওয়ার কারণে যদি এতো বেশি ভিজে যায় যে,তা নিংড়ালে পানি বের হয়, তাহলে শুকনো পাক কাপড়টিও নাপাক হয়ে যাবে।আর এর চে কম বা সামান্য ভিজলে পাক কাপড় নাপাক হবেনা।
বিশেষ আলোচনা। হজ্জের পটভূমি ও পবিত্র স্থানসমূহ।
হজ্জের রয়েছে সুপ্রাচীন ইতিহাস ও দীর্ঘ পটভূমি । এর প্রতিটি কাজ ঐতিহাসিক স্মৃতি বিজড়িত ও তাৎপর্যপূর্ণ । জান্নাত থেকে পৃথিবীতে আসার পর হযরত আদম ও হাওয়া ( আ ) পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন । অত্যন্ত ব্যাকুল হয়ে তাঁরা একে অপরকে খুঁজতে থাকেন । অবশেষে আল্লাহর রহমতে তাঁরা আরাফাতের ময়দানে পরস্পর মিলিত হন ।
তারই কৃতজ্ঞতা স্বরূপ আদম সন্তানগণ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতি বছর আরাফাতের মহামিলন প্রান্তরে সমবেত হয়ে আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করেন । তারা তাদের হৃদয় - মন দিয়ে আল্লাহকে উপলব্ধি করার জন্যে আপ্রাণ চেষ্টা করেন । এভাবে সাফা - মারওয়ার মধ্যে সাঈ ,
মীনায় শয়তানকে কংকর মারা এবং কুরবানীর প্রেক্ষাপট , যা হযরত ইব্রাহীম ( আ ) ও বিবি হাজেরা এবং তাঁদের পুণ্যবান সন্তান হযরত ইসমাঈল ( আ ) -এরদ্বারা রচিত হয়েছে আজ থেকে প্রায় চার হাজার বছর পূর্বে । এভাবে হযরত আদম ( আ ) থেকে আজ পর্যন্ত সর্বযুগের আল্লাহ্ প্রেমিক , আল্লাহ্তে নিবেদিতপ্রাণ নবী - রাসূল , ওলী - আবদাল তথা আল্লাহ্র নেক্কার , সভ্যপ্রাণ ও মাকবূল বান্দাগণের পরম ব্যাকুলতার সাথে আল্লাহ্ ঘর তাওয়াফের মাধ্যমে হাজার হাজার বছরের আত্মনিবেদনের মাধ্যমে রচিত হয়েছে হজ্জ ও যিয়ারতের সুবিশাল প্রেক্ষাপট ।
সর্বপ্রথম হযরত আদম ( আ ) বায়তুল্লাহ্ শরীফের হজ্জ আদায় করেছেন । এরপর হযরত নূহ্ ( আ ) সহ অন্যান্য নবী - রাসূলগণ সকলেই বায়তুল্লাহর যিয়ারত ও তাওয়াফ করেছেন । হাদীসে বর্ণিত আছে , বায়তুল্লাহ্ শরীফের পুনঃনির্মাণের কাজ সমাধা করার পর হযরত জিব্রাঈল ( আ ) হযরত ইব্রাহীম ( আ ) -কে এই পবিত্র গৃহের তাওয়াফ ও হজ্জ করার জন্য বললেন ।
এ নির্দেশ পেয়ে হযরত ইব্রাহীম ও ইসমাঈল ( আ ) উভয়েই তাওয়াফ সহ হজ্জের যাবতীয় কর্মকাণ্ড সমাধা করলেন । এরপর আল্লাহ্ তা'আলা হুকুম করলেন , হে ইব্রাহীম ! তুমি গোটা পৃথিবীর মানুষের মধ্যে হজ্জের ঘোষণা ছড়িয়ে দাও ।
এ মর্মে কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে : وأذن في الناس بالحج يأتوك رجالا وعلى كل ضامر يأتين من كل فج عميق . এবং মানুষের নিকট হজ্জের ঘোষণা করে দাও ; তারা তোমার নিকট আসবে পদব্রজে ও সর্বপ্রকার ক্ষীণকায় উষ্ট্রের পিঠে , তারা আসবে দূরদূরান্তের পথ অতিক্রম করে । ( সূরা হাজ্জ , ২২:২৭ ) তখন হযরত ইব্রাহীম ( আ ) একটি উঁচুস্থানে আরোহণ করলেন এবং ডানে - বামে , পূর্ব - পশ্চিমে ফিরে হজ্জের ঘোষণা করলেন । বললেন : أيها الناس كتب عليكم الحج إلى البيت العتيق فأجيبوا ربكم " . “ হে লোক সকল ! বায়তুল্লাহ্ শরীফের হজ্জ তোমাদের উপর ফরয করা হয়েছে । তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের আহ্বানে সাড়া দাও ।
লজ্জাস্থান থেকে তরল পানি বের হওয়া। মিলন কালে শরীর হতে নির্গত ঘামের হুকুম।
” এ আহবান শুনে পূর্ব দিগন্ত হতে পশ্চিম দিগন্ত পর্যন্ত যাদের হজ্জ নসীব হবে তারা সকলেই এ হাযির হে প্রভু ! আমরা সকলেই হাযির ’ বলেছে । কেউ সাড়া দিয়েছে একবার , আবার কেউ সাড়া দিয়েছে একাধিকবার । যারা একবার সাড়া দিয়েছে , তাদের একবার হজ্জ নসীব হয় । আর যারা একাধিকবার সাড়া দিয়েছে , তাদের একাধিকবার হজ্জ নসীব হয় ।
হযরত ইব্রাহীম ( আ ) -এর পর যত নবী - রাসূল দুনিয়াতে এসেছেন তাঁরা সকলেই বায়তুল্লাহ্র যিয়ারত করেছেন , হজ্জব্রত পালন করেছেন । জাহিলিয়্যাতের যুগেও লোকেরা বায়তুল্লাহ্ শরীফের তাওয়াফ এবং যিয়ারত করতো । কিন্তু তারা তা করতো নিজেদের মনগড়া পন্থায় । নজেদের ভ্রান্ত চিন্তাধারার আলোকে জাহিলী বহু কার্য তারা সরে আর্ভেক্ত করে নিয়েছিল । এস্কোর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হয়।
