কাপড়ে প্রস্রাবের ছিটা লাগলে করণীয়।কতোটুকু লাগলে ধৌত করা ওয়াজিব।এসংক্রান্ত জরুরি আলোচনা।
![]() |
| কাপড়ে নাপাক লাগলে করণীয়। |
অনেক সময় দেখা যায় যে , পেশাব করার সময় পেশাবের ছিটা লুঙ্গি অথবা পায়জামায় লেগে যায় তখন নামাযের জন্য কাপড় পাল্টাতে হলে বাড়ীতে যেতে হয় । এতে জামাআত ছুটে যায় । আর জামাআত ধরতে গেলে পেশাবের ছিটা সহ নামায পড়তে হয় । এমতাবস্থায় করণীয় কি ? অনেক মুরুব্বিদের মুখে শুনি এমতাবস্থায় কাপড়ের মাথা থেকে চার আঙ্গুল পরিমাণ তিন বার ধুয়ে নিলে পাক হয়ে যাবে । এটা শরীয়ত সম্মত কিনা জানাবেন
প্রস্রাব করার জন্য তৈরীকৃত নির্ধারিত স্থান তথা প্যান বা ঢালু স্থানে ব্যতীত অন্যত্র যথা অসমতল ভূমিতে পেশাব করার প্রয়োজন দেখা দিলে তার জন্য সুন্নত তরিকা হচ্ছে , এমন স্থানে পেশাব করা যাতে পেশাবের ছিটা কাপড়ে বা শরীরে না লাগে । সুতরাং শক্ত জায়গা , পাথর বা বাতাসের বিপরীতে পেশাব করা সুন্নতের খেলাফ ।
যদি পেশাবের ছিটা কাপড়ে লাগে আর তা যদি সুচের মাথার ন্যায় ক্ষুদ্র - ক্ষুদ্র হয় তাহলে তা ক্ষমাযোগ্য এবং কোন সমস্য ছাড়াই নামায সহীহ হয়ে যাবে । আর যদি বেশী হয়ে আয়তনে অনূর্ধ এক দিরহাম ( হাতের তালুর মাঝের নিচু অংশ ) পরিমাণ হয়ে যায় তাহলে ধুয়ে নেয়া ওয়াজিব । না ধুয়ে নামায পড়লে মাকরূহে তাহরীমীর সাথে নামায হয়ে যাবে , অবশ্য উক্ত নামায দ্বিতীয়বার দোহরায়ে পড়তে হবে । আর যদি এক দিরহামের চেয়ে কম হয় তাহলে মাকরূহে তাহরীমীর সাথে নামায আদায় হয়ে যাবে । তবে উত্তম হচ্ছে কাপড় ধুয়ে তার পর নামায পড়ে নেয়া ।
আর যদি এক দিরহামের চেয়ে বেশী হয় বা বিভিন্ন জায়গায় ছিটা লাগে কিন্তু সবগুলো মিলে আয়তনে এক দিরহামের চেয়ে বেশী হয়ে যায় , তাহলে ধুলে নামায হবে না । বরং উক্ত কাপড়ে নামায পড়তে হলে নাপাকী দূর করার জন্য তা ধুয়ে নেয়া ফরয । তবে যদি কেউ কাপড়ের পেশাব লাগার স্থানটি ভুলে যায় , সুনির্ধারিতভাবে বুঝতে না পারে যে , কাপড়রের কোন অংশে পেশার লেগেছে তাহলে চিন্তা - ফিকির করে একটি জায়গা নির্ধারণ করে ঐ জায়গাটি ধুয়ে নিবে ।
এভাবেও উক্ত কাপড় পাক হয়ে যাবে । কিন্তু যদি তার নিকট পরবর্তিতে স্পষ্ট হয়ে যায় যে , পেশার অন্য জায়গায় লেগেছে , তাহলে ঐ কাপড় পরিধান করে যে কয় ওয়াক্ত নামায পড়েছে তা আবার দোহরায়ে নিতে হবে । ( প্রমাণ ফতাওয়া আলমগীরী ১৪৫০ , ৪৩ , দুররুল মুখতার ১ , ফাতাওয়া দারুল উলূম ১ : ২৮৩ )
বিশেষ আলোচনা। উমরা আদায়ের পদ্ধতি।
মীকাত থেকে হজ্জের ইহরামের মত ইহরাম বেঁধে ইহুরামের নিষিদ্ধ ও মাকরূহ বিয়য়াদি থেকে বিরত থেকে আদব - কায়দার দিকে পূর্ণ খেয়াল রেখে তালবিয়া পাঠ করতে করতে মক্কা মুকাররামায় প্রবেশ করতে হয় । বাবুস সালাম মতান্তরে বাবুল উমরা ধরে মাসজিদুল হারামে প্রবেশ করে রমল ও ইযতিবাসহ তাওয়াফ করতে হয় ।
হাজরে আসওয়াদে প্রথম চুম্বনের সাথে সাথে তালবিয়া বন্ধ করে দিতে হয় । তাওয়াফ অন্তে দুই রাকা'আত নামায আদায় করে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করে বাবুস সাফার পথে সাঈ - এর জন্যে বের হয়ে এসে যথানিয়মে সাঈ সম্পন্ন করতে হয় ।
সাঈ - এর পর পুনরায় মাতাফে এসে দুই রাকা'আত নামায আদায় করে মারওয়ায় ক্ষৌরকার্য সম্পন্ন করে ইহরাম ছেড়ে হালাল হয়ে যেতে হয় । এভাবে উমরা আদায় করতে হয় । মক্কা মুহাররামা থেকে ইহরাম পালনকারীদের জন্য ' হিল ' এলাকা মীকাত হলেও তানঈম ও জি'রানা থেকে ইহরাম বাঁধা উত্তম । উমরার ইহ্রাম , শর্তাবলী ও আহকাম হজ্জের মতই ।
তবে হজ্জ ও উমরার মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে হজ্জের সময় সুনির্ধারিত । উমরা বছরের যে কোন সময় করা যায় । কেবল ৯ ই যিলহজ্জ থেকে ১৩ ই যিলহজ্জ এই পাঁচদিন উমরা নিষিদ্ধ , মাকরূহ তাহরীমী । উমরায় আরাফাতে বা মুযদালিফায় অবস্থান , দুই ওয়াক্তের নামাযের একত্রীকরণ , তাওয়াফে কুদূম , তাওয়াফে বিদা , কংকর নিক্ষেপ প্রভৃতি নেই ।
এ ছাড়া উমরার মীকাত পর্বত এলাকা মানে হরম শরীফের সীমানার বাইরে থেকেই ইব্রাম বেঁধে উমরা করা চলে কিন্তু হজ্জের জন্য সুনির্দিষ্ট মীকাত রয়েছে । উমরাতে তাওয়াফ করার সাথে সাথে তালবিয়া বন্ধ হয়ে যায় । কিন্তু হজ্জের ক্ষেত্রে কংকর নিক্ষেপের পূর্ব পর্যন্ত তালবিয়া অব্যাহত রাখতে হয় ।
উমরার মাসাইল উমরার ফরয দু'টি : ইহুরাম ও তাওয়াফ । ইহরামের মধ্যে তালবিয়া ও নিয়্যাত উভয়ই ফরয । পক্ষান্তরে তাওয়াফের জন্যে কেবল নিয়্যাত ফরয । উমরার ওয়াজিব দু'টি : ১. সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সাঈ করা , ২. মাথার চুল মুণ্ডন করা বা ছাঁটা । আইয়ামে তাশরীকের দিনগুলোতে ৯ ই যিলহজ্জ থেকে ১৩ ই যিলহজ্জ পর্যন্ত পাঁচ দিন যেহেতু উমরা পালন মাকরূহ তাহরীমী , তাই সময় উমরার নিয়্যাতে ইহরাম বাঁধলেও তা তরক করা ওয়াজিব ।
কিন্তু এ দিনগুলোর পর উমরা ও দম উভয়টাই ওয়াজিব হবে । আর যদি উমরা ঐ সময়ে করেও ফেলেন , তবুও মাকরূহ কাজ করার কারণে একটি দম ওয়াজিব হবে । অধিক সংখ্যক উমরা পালনের চেয়ে অধিক সংখ্যক তাওয়াফ পালনেই সওয়াব বেশি । মদীনা শরীফ যিয়ারত মদীনাতুন্নবী ( সা ) বা নবীর শহর সোনার মদীনা বিশ্ব মুসলিমের আবেগ - উচ্ছ্বাসের কেন্দ্রস্থল । মক্কার কুরাইশরা যখন সাইয়্যেদুল মুরসালীন ও খাতামুন্ -
নাবিয়্যীন তথা মানবকুল শিরোমণি হজ্জ ৩৭৫ মুহাম্মাদ ( সা ) -কে নির্দয় নিষ্ঠুর আচরণ করে দেশছাড়া করেছিল , তখন যে পবিত্র ভূমি তাঁকে তার কোলে আশ্রয় দিয়ে চিরধন্য হয়েছিল , সেই পবিত্র নগরী হচ্ছে এই মদীনা মুনাওয়ারা । তাঁর পবিত্র দেহকে ধারন করে এ নগরী লাভ করেছে পৃথিবীর বুকে জান্নাতের মর্যাদা । কুরআন শরীফে এ নগরীকে আখ্যায়িত করা হয়েছে ' আরদুল্লাহ্ ' ( আল্লাহ্র ভূমি ) ' আরদুল হিজর ' ( হিজরতের ভূমি ) , আদ্দার -- বিশিষ্ট বাড়ি এবং বিশ্বাস ভূমি বলে । এ কারণেই ইমাম মালিক ( র ) মদীনাকে দুনিয়ার সকল শহরের সেরা ও সর্বোত্তম শহর বলতেন ।
