নাভীর নিচের লোমের হুকুম। বীর্য লাগা লুঙ্গিতে শুকনো কাপড় লাগা। মযীর হুকুম। এসংক্রান্ত জরুরী আলোচনা।

নাভীর নিচের লোমের হুকুম।বীর্য লাগা লুঙ্গিতে শুকনো কাপড় লাগা।মযীর হুকুম।এসংক্রান্ত জরুরি আলোচনা। 

নাভীর নিচের লোম সংক্রান্ত হুকুম।


আমি শুনেছি যে , মানুষের নাভীর নীচের পশম ৪০ দিনের মধ্যে না কাটলে শরীর নাপাক হয়ে যায় এবং নামায - রোয়া কিছুই হয় না । কথাটি কতটুকু সত্য ? 

অন্ততপক্ষে প্রতি চল্লিশ দিন অন্তর এ পশম একবার পরিষ্কার করা জরুরী । অন্যথায় গুনাহগার হবে । কিন্তু এ কারণে শরীর নাপাক হওয়ার বা নামায - রোযা না হওয়ার কথাটি ঠিক নয় । ( প্রমাণ : শামী -৬ / ৪০৬ )

 বীর্য লাগা লুঙ্গিতে শুকনো কাপড় লাগা।এসংক্রান্ত আলোচনা। 

 ঘুমের ভেতর স্বপ্নদোষ হওয়ার পর বীর্য যদি লুঙ্গিতে লেগে শুকিয়ে যায় এবং ঐ স্থানে অন্য কোন কাপড়ের ছোঁয়া লাগে সেই কাপড়ও কি নাপাক হয়ে যাবে ? আর স্বপ্নদোষ হলে খানাপিনা ও খালি পায়ে চলাফেরা এবং ইসলামী বই পড়া যাবে কি ? 

 না , বীর্য শুকিয়ে যাওয়ার পর তাতে অন্য কাপড় লাগলে তা নাপাক হবে না । গোসল ফরয হওয়ার পরও হাত ভালোভাবে ধুয়ে এবং কুলি করে পানাহার করতে পারবে । খালি পায়ে চলােফরা করা বা ইসলামী বইপত্র পড়াও জায়েয । তবে কুরআন মাজীদ পড়বে না এবং কোন বইতে কুরআনের আয়াত থাকলে সে আয়াতে হাত লাগাবে না । 


মযীর হুকুম।এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা। 

আমি পেশাব করতে বসলে পেশাবের আগে - পরে কোন প্রকার উত্তেজনা ছাড়াই এক প্রকার তরল ধাতু নির্গত হয় । এ অবস্থায় গোসল না করে নামায বা কুরআন তিলাওয়াত করা যাবে কি ? 
পেশাবের আগে বা পরে আপনার যে তরল ধাতু নির্গত হয় , তাকে ' ময়ী ' বলা হয় । ময়ী বের হলে অযু ভেঙ্গে যায় । তবে তাতে গোসল ফরয হয়  । সুতরাং বের হলে , গোসল না করে শুধু উক্ত স্থান ধৌত করে অযু করেই নামায বা কুরআন তিলাওয়াত করা যাবে । ( প্রমাণ : ফাতাওয়া আলমগীরী , ১ )



বিশেষ আলোচনা। জিনায়াত - এর প্রতিবিধান।

 ১. কোন সুস্থ মস্তিষ্ক ও প্রাপ্তবয়স্ক ইরামকারী যদি কোন বড় অঙ্গ যেমন মাথা , উরু , দাড়ি , হাত , হাতের তালু প্রভৃতি কোন একটিতে পূর্ণাঙ্গভাবে বা এক অঙ্গের কিছু বেশি স্থানে সুগন্ধি লাগালো , তবে ' দম ' ওয়াজিব হবে । আর যদি কোন পূর্ণ অঙ্গে আংশিকভাবে লাগালো অথবা কোন ছোট অঙ্গে যেমন নাক , কান , ঘাড় , আঙ্গুল বা কব্জায় লাগালো , তাহলে ' সাদাকা ' ওয়াজিব হবে । ফুল বা কোন সুগন্ধিযুক্ত ফল শোঁকার কারণে কোন কাফ্ফারা ওয়াজিব হবে না ।

 তবে এরূপ করাটা মাকরূহ । অঙ্গ ছোট - বড় হওয়ার কারণে পার্থক্য তখনই হবে যখন সুগন্ধির পরিমাণ বা তীব্রতা কম হবে । কিন্তু কস্তুরীর মত তীব্র সুগন্ধি যে কোন অঙ্গে সামান্য পরিমাণ ব্যবহার করলেও ‘ দম ' ওয়াজিব হবে । 

ওযরের ক্ষেত্রে তিনটি রোযা রাখা অথবা ছয়টি ফিত্রা পরিমাণ সাদাকাও দেওয়া যেতে পারে । ( যুবদাহ ) বিভিন্ন অঙ্গে মাখা সুগন্ধির পরিমাণ একটি বড় অঙ্গের সমপরিমাণ হয়ে গেলে দম ওয়াজিব হবে । ( মু'আলিমুল হুজ্জাজ ) ২. যদি অসুস্থতার কারণে সেলাই করা কাপড় পরে অথবা চুল কেটে বা মাথা অথবা চেহারা আবৃত করে অথবা মহিলা কাপড়দ্বারা তার চেহারা এমনভাবে ঢাকে যে , কাপড় তার চেহারা স্পর্শ করে , এসব অবস্থায় পূর্ণ ত্রুটির ক্ষেত্রে ' দম ' দিবে অথবা তিনটি রোযা রাখবে অথবা ছয়জন মিস্কীনকে ফিত্রা পরিমাণ সাদাকা দিবে । 

অর্থাৎ প্রত্যেক মিসকীনকে পৌনে দুই সের ( ১ কেজি ৭৫০ গ্রাম ) করে গম বা এর মূল্য দিবে । পূর্ণ ত্রুটি না হওয়ার ক্ষেত্রে তিনটি রোযা রাখবে অথবা ছয়জন মিসকীনকে ফিত্রা পরিমাণ সাদাকা দিবে । তিন অথবা দু'টি বিষয়ে শুধু ওযরের অবস্থায় এ সুযোগ রয়েছে । বিনা ওযরে করা হলে পূর্ণ ত্রুটির ক্ষেত্রে ' দম ' এবং আংশিক ত্রুটির সময় সাদাকা নির্ধারিত রয়েছে । রোযাদ্বারা কাফ্ফারা হবে না । শায়িত অবস্থায় মাথা ঢেকে গেলে সাদাকা ওয়াজিব হবে ।

 এক - চতুর্থাংশ মাথা বা চেহারা ঢাকা সমস্ত মাথা বা চেহারা ঢাকার শামিল । ( যুবদাহ ) ৩. সুগন্ধি মিশ্রিত কাপড় পরলে সুগন্ধির পরিমাণ যদি অধিক হয় আর তা বিঘত দুই বিঘতের বেশি পরিমাণ স্থানে লেগে থাকে এবং সে কাপড় সারা দিন বা সারা রাত পরে থাকে , তাহলে দম ওয়াজিব হবে । যদি সুগন্ধির পরিমাণ সামান্য হয় যা এক 

- দুই বিঘতের কম স্থানে ' হজ্জ ৩৭১ লেগেছে এরূপ ক্ষেত্রে সাদাকা ওয়াজিব হবে । একদিনের কম সময় ধরে পরার ক্ষেত্রেও সাদাকা প্রযোজ্য । ( যুবদাহ ) ৪. সুগন্ধি মিশ্রিত করে রান্না করা খাবার গ্রহণে কিছুই ওয়াজিব হয় না । অবশ্য খাদ্য গ্রহণকালে সুগন্ধি আসলে তা মাকরূহ হবে । 




কিন্তু অরান্নাকৃত সুগন্ধি যেমন চাট্‌নী , আচার ইত্যাদিতে যদি অধিক পরিমাণ সুগন্ধি থাকে , তাহলে তা খেলে ' দম ' ওয়াজিব হবে । আহার্যের পরিমাণ যদি অধিক হয় এবং তা থেকে সামান্য পরিমাণ খেয়ে থাকে , তাহলে সাদাকা দিতে হবে , যদি সুগন্ধি না আসে । কিন্তু যদি এ ধরনের খাবার কয়েকবার খায় তাহলে দম ওয়াজিব হবে । কিন্তু রন্ধন ব্যতীত খাদ্যদ্রব্যের মধ্যে যদি সুগন্ধি মিশ্রিত করে এবং ঐ খাদ্যদ্রব্য অধিক পরিমাণও হয় , তাহলে অধিক পরিমাণ খেলেও কিছুই ওয়াজিব হবে না । 

কিন্তু যদি সুগন্ধি আসে তাহলে মাকরূহ হবে । ( আহকামুল হাজ্জ ওয়াল উমরা ) ৫. বোতলে সামান্য সুগন্ধি মিশ্রিত পানীয় এক - আধবার পানে সাদাকা ওয়াজিব হবে । কিন্তু তা কয়েকবার পান করলে দম ওয়াজিব হবে । ৬. হাজরে আসওয়াদে যদি সুগন্ধি লাগানো থাকে আর তাতে চুমু দিতে গিয়ে অধিক পরিমাণ সুগন্ধি মুখে বা হাতে লেগে যায় , তাহলে ইহুরামকারীর উপর দম ওয়াজিব হবে । পরিমাণ কম হলে সাদাকা ওয়াজিব হবে । ৭. ইরাম অবস্থায় মাথা , হাত অথবা দাড়িতে মেহদী লাগান নিষিদ্ধ । যদি পূর্ণ মাথা। 

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post