হযরত মুহাম্মাদ সাঃ এর মহান চরিত্র। ঐতিহাসিক একটি ঘটনা। ইসলামের সৌন্দর্য।

হযরত মুহাম্মাদ সাঃ এর মহান চরিত্র।ঐতিহাসিক একটি ঘটনা।ইসলামের সৌন্দর্য। 

হযরত মুহাম্মাদ সাঃ। 


 হিজরী ৩ য় সালে দা'সুর ইবনে হারেস মুহারিবী ৪৫০ জন সৈন্য নিয়ে পবিত্র মদীনা আক্রমণের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলো । নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাধা দেওয়ার জন্য অগ্রসর হইলে তারা পালাইয়া পাহাড়ে আশ্রয় গ্রহণ করে । । 

হুযূর ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিশ্চিন্তে ময়দান হইতে ফিরিয়া আসিলেন । এই সময় ঘটনাক্রমে বৃষ্টিতে তাঁহার কাপড় ভিজিয়া যায় । তিনি তাহা শুকাইবার জন্য খুলিয়া একটি গাছের উপর বিছাইয়া দিলেন এবং নিজে ইহার ছায়ায় শুইয়া পড়িলেন । দা'সূর পাহাড়ের উপর হইতে তাহা লক্ষ্য করিতেছিল । 

যখন দেখিল , নবী করীম ( দঃ ) নিশ্চিন্তে শুইয়া পড়িয়াছেন , তখন সে সরাসরি তাহার শিয়রে আসিয়া উপস্থিত হইল এবং তরবারী উচাইয়া বলিতে লাগিল— “ বল , এখন তোমাকে আমার হাত হইতে কে রক্ষা করিবে ? " কিন্তু তাহার প্রতিপক্ষ ছিলেন আল্লাহর প্রিয় রাসূল ! কোন প্রকার ভীত না হইয়া তিনি উত্তর দিলেন , “ ই !, আল্লাহ্ তা আলাই রক্ষা করিবেন । ” এই কথা শোনামাত্র দা'সুরের গায়ে কম্পন সৃষ্টি হইল এবং তরবারীটি হাত হইতে খসিয়া পড়িল ।

 তখন নবী করীম ( দঃ ) তরবারীখানা তুলিয়া লইলেন এবং বলিলেন , “ এখন তুমি বল , তোমাকে আমার হাত হইতে কে রক্ষা করিবে ? ” তাহার নিকট “ কেহই না " বলা ছাড়া আর কোন উত্তরই ছিল না । রাসূলুল্লাহ্ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার এই করুণ দশা দেখিয়া দয়ায় গলিয়া গেলেন এবং তাহাকে ক্ষমা করিয়া দিলেন । — দা'সুর এখান হইতে এই প্রতিক্রিয়া নিয়া উঠিল যে , সে নিজেই শুধু ইসলাম গ্রহণ করিল না , বরং নিজের গোত্রে পৌঁছিয়া ইসলামের একজন শক্তিশালী প্রচারকে পরিণত হয়। ।

বিশেষ আলোচনা। মদীনা শরীফে করণীয় ও দর্শনীয়।

মদীনা শরীফ হচ্ছে নবী কারীম ( সা ) -এর কর্মস্থল , জীবনের পবিত্র স্মৃতি বিজড়িত নগরী । এখানকার অলিতে গলিতে তাঁর হাজারো স্মৃতি ছড়িয়ে রয়েছে । তাই যিয়ারত ছাড়াও এখানে অনেক করণীয় রয়েছে । সর্বাধিক স্মৃতি বিজড়িত স্থানটি হচ্ছে মসজিদে নববী যা ছিল তাঁর ধর্ম - কর্ম , ইবাদত - বন্দেগী , শাসন - শৃংখলা সংক্রান্ত আদেশ - নিষেধ জারী , 


বিভিন্ন গোত্রে মু'আল্লিম ও মুবাল্লিগ প্রেরণ , বিশ্বের সেরা রাজ - রাজড়ার কাছে দূত প্রেরণ ও বিভিন্ন যুদ্ধে তাঁর বাহিনীসমূহ প্রেরণ প্রভৃতি সর্বপ্রকার কার্যক্রমের প্রাণকেন্দ্র । এ মসজিদের মিম্বরে দাঁড়িয়ে প্রদত্ত তাঁর খুত্বাসমূজ বিশ্ব মুসলিম তথা বিশ্বমানবের পথের দিশারী হয়ে রয়েছে । এ সমস্ত স্মৃতি ও শিক্ষাবলীকে অস্তরে জাগরুক করে তোলা হচ্ছে মদীনা শরীফের অন্যতম করণীয় ।


 ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল ( র ) হযরত আনাস ( রা ) থেকে বর্ণনা করেন যে , রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) ইরশাদ করেন : যে ব্যক্তি আমার মসজিদে একাধারে ৪০ ওয়াক্ত নামায আদায় করবে তার জন্যে দু'টি মুক্তি রয়েছে । একটি দোযখ থেকে তার মুক্তি এবং অপরটি আযাব ও নিফাক ( মুনাফিকী ) থেকে মুক্তি । এ জন্য মসজিদে নববীতে একাধারে ৪০ ওয়াক্ত নামায আদায় মদীনা শরীফে বিশেষ করণীয় । ‘ রিয়াযুল জান্নাত ’ বা বেহেশতের বাগিচা বলে রওয়া শরীফ ও রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) 


-এর মিম্বরের মধ্যবর্তী অংশে দুই রাকা'আত নামায সকলেই আদায় করতে চান , তাই ওখানে সংক্ষিপ্তভাবে নামায আদায় করে অন্যদের জন্যে স্থান করে দেওয়া বাঞ্ছনীয় । কুবার মসজিদ রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) প্রতি শনিবার কুবার সেই ঐতিহাসিক মসজিদে গিয়ে নামায আদায় করতেন যা মদীনায় হিজরতের পরেই তিনি নির্মাণ করেছিলেন । মুসলিম শরীফে হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন দীনার ( রা ) বর্ণিত একটি হাদীস রয়েছে , যাতে তিনি বলেন : ان ابن عمر كان يأتى قبا : كل سبت وكان يقول رأيت رسول اللہ ﷺ بأتبه كل سبت .



 হযরত ইবন উমর ( রা ) প্রতি শনিবার কুবায় যেতেন এবং তিনি বলতেন , আমি প্রতি শনিবার রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) -কে কুবায় যেতে দেখেছি । ” অপর হাদীসে আছে , কুবার মসজিদে নামায আদায়ে উমরা তুল্য সাওয়াব মিলে  কুরআন শরীফে কুবার মসজিদকে shall stand ' তাওয়ার ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত মসজিদ এবং আদি মুসল্লীগণের শানে abe je as ' যেখানে এমন সব লোক 16 . রয়েছে যারা পবিত্রতাকে পসন্দ করে ' বলে প্রশংসা করা হয়েছে । 


মসজিদে জুমু'আ কুবার নতুন রাস্তার পূর্বদিকে রানুনা উপত্যকার বুত্তয়ানুল জাযা - এর নিকট এ মসজিদের নিকট বনী সলিমা গোত্রের বসবাস ছিল । রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) সর্বপ্রথম জুমু'আর নামায এ মসজিদেই আদায় করেছিলেন বলে এর একটা ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে । মসজিদ গামামা এর অপর নাম মসজিদে মুসাল্লা । এ স্থানটিতে রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) উভয় ঈদের নামায আদায় করতেন । মসজিদে সুরাইয়া।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post