আল্লাহ তায়ালার জাত বা সত্তার প্রতি ঈমান রাখার বিষয়ে কয়েকটি মৌলিক বিষয়। খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
![]() |
| আল্লাহ তায়ালার একত্ববাদ। |
আল্লাহর যাত বা সত্তার প্রতি ঈমান / বিশ্বাস রাখার পর্যায়ে কয়েকটি মৌলিক বা বুনিয়াদী বিষয় রয়েছে । যথা : ১. তাঁর সত্তা সমস্ত গুণাবলীসহ আপনা আপনি অস্তিত্বশীল । ২. তাঁর সত্তা এমন , যিনি নিজ সত্তায় সুপ্রতিষ্ঠিত তবে কোন নিদৃষ্ট স্থানের সাথে সংশ্লিষ্ট বা নিদৃষ্ট স্থানে সমাহিত ও গণ্ডিবদ্ধ নন । তিনি স্থান ও কালের গণ্ডি হতে মুক্ত । কারণ স্থান হয়ে থাকে দেহ বিশিষ্ট বস্তুর জন্য , আর আল্লাহ তা'আলা দেহ থেকে পবিত্র । তাঁর কোন স্থান নেই অর্থাৎ ,
না তিনি আসমানে থাকেন , না যমীনে , না পূর্বে না পশ্চিমে । সমগ্র জগত তাঁর সামনে একটা অনু পরিমাণ বস্তু সমতুল্য , তিনি কিভাবে তার মধ্যে সমাহিত হতে পারেন ? বরং তিনি সর্বত্র বিরাজমান । কোন স্থানের কোন কিছু তাঁর অগোচর নয় । .
৩. তিনি / অর্থাৎ , কোন দেহের সাথে সংযুক্ত বিষয় নন । কেননা বলা হলে তাঁর সত্তার সূচিত বিষয় বা অনিত্ব ( 36 ) হওয়া অবধারিত হয়ে যায় , অথচ আল্লাহ্র সত্তা নিত্ব বা “ ই । অর্থাৎ যা অনাদিকাল থেকে বিদ্যমান । তদুপরি বললে যার সাথে তিনি সংশ্লিষ্ট , তাঁকে তার মুখাপেক্ষী বলতে হয় , অথচ আল্লাহ্ তা'আলা কোন কিছুর মুখাপেক্ষী নন । ৪. তিনি কোন উপাদান ( :) গঠিত দেহ বিশিষ্ট নন । কেননা দেহ ( এই ) একাধিক অংশের সমন্বয়ে গঠিত হয়ে থাকে । আর আল্লাহর দেহ স্বীকার করলে তাঁর একাধিক অংশ স্বীকার করতে হয় । আর একাধিক অংশের ক্ষেত্রে এক অংশ অপর অংশের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকে । অথচ আল্লাহ তা'আলা মুখাপেক্ষিতা হতে পবিত্র । ৫. তাঁর সত্তা ডান - বাম , উপর - নীচ , সন্মুখ - পশ্চাত ইত্যাদি দিক হতে মুক্ত । কেননা এতে করে আল্লাহর নির্দিষ্ট স্থানে সীমাবদ্ধ হওয়া অবধারিত হয়ে যায় । তদুপরি এতে করে আল্লাহর অঙ্গ - প্রতঙ্গ ও দেহ সাব্যস্ত হয়ে যায় । যেমন আল্লাহর উপর আছে বলতে গেলে তাঁর মাথা আছে বলতে হয় ,
কেননা উপর বলা হয় মাথার দিককে । এমনিভাবে তাঁর নীচ আছে বলতে গেলে তাঁর পা আছে বলতে হয় , কেননা নীচ বলা হয় পায়ের দিককে । ইত্যাদি । । ৬. আল্লাহ্ তা'আলা সূরত - আকৃতি , দিক ও প্রান্ত থেকে পবিত্র হওয়া সত্ত্বেও পরকালে দৃষ্টিগোচর হবেন । দুনিয়াতে তাঁর সত্তার দর্শন সম্ভব , তবে সংঘটিত হয়নি । পরকালে দৃষ্টিগোচর হওয়ার দলীল কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াত : অর্থাৎ , সেদিন ( কিয়ামতের দিন ) কতক মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হবে । তারা তাদের প্রতিপালকের দিকে তাকিয়ে থাকবে । ( সূরাঃ ৭৫ - কিয়ামাহঃ ২২-২৩ ) । ৭. আল্লাহর সত্তা কারও সত্তার মধ্যে মিশ্রিত বা দ্রবীভূত হয় না বা প্রবেশ হয় না । এবং তাঁর সত্তার মধ্যেও কেউ মিশ্রিত বা দ্রবীভূত হয় না।
বিশেষ আলোচনা। শিশুর প্রতি মহানবী ( সা ) -এর ভালোবাসা।
রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) -এর অন্তরে শিশুদের প্রতি গভীর মমত্ববোধ ও অকৃত্রিম ভালোবাসা ছিল । তিনি এ বিশ্ব চরাচরে ' রাহমাতুল্লিল আলামীন ' হিসাবে তাশরীফ এনেছেন । আল্লাহর প্রতিপালন যেমন সর্বজনীন , মহানবী ( সা ) -এর প্রেম ভালবাসাও তেমনি সর্বজনীন । হাদীসের বর্ণিত আছে : একবার মহানবী ( সা ) -এর কানে হযরত হুসাইন ( রা ) -এর কান্নার শব্দ এলো । এতে তিনি ভীষণভাবে ব্যথিত হলেন । তিনি হযরত ফাতিমা ( রা )
-কে বললেন , তুমি কি জান না , তার কান্না আমাকে কষ্ট দেয় ? হযরত আনাস ( রা ) বলেন , রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) শিশু - কিশোরদের নিকট দিয়ে যাতায়াতকালে তাদেরকে সালাম করতেন । একবার রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) ভাষণদানের নিমিত্তে মিম্বরে আরোহণ করে দেখতে পেলেন যে , হাসান ও হুসাইন ( রা ) দৌড়াদৌড়ি করছেন এবং পা পিছলে পড়ে যাচ্ছেন ।
তিনি ভাষণদান বন্ধ করে মিম্বর থেকে নেমে আসলেন । শিশু দু'টির দিকে অগ্রসর হয়ে দুই বাহুতে উঠিয়ে নিলেন । তারপর মিম্বরে আরোহণ করে বললেন : হে লোকসকল ! তোমাদের ধন - সম্পদ এক পরীক্ষার বস্তু , আল্লাহ্র এ বাণী সত্যিই ।
আল্লাহর শপথ ! আমি আমার এই দুই নাতিকে দৌড়াদৌড়ি করতে করতে পা পিছলে পড়ছে দেখে নিজেকে সংবরণ করতে পারলাম না , তাই দৌড়ে গিয়ে এদের উঠিয়ে নিলাম । একদিন রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) নামায আদায় করছিলেন । আর তখন হযরত হাসান ও হুসাইন ( রা ) এসে তাঁকে সিজদারত অবস্থায় পেয়ে একেবারে পিঠে চড়ে বসলেন । তিনি সিজদা দীর্ঘায়িত করলেন । আর তাঁরা পিঠ থেকে না নামা পর্যন্ত তিনিও তাঁদের নামিয়ে দিলেন না ।
রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) সালাম ফিরালে সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন , হে আল্লাহর রাসূল ! আমরা লক্ষ্য করলাম যে , আপনি সিজ্দা দীর্ঘায়িত করেছেন । তিনি উত্তরে বললেন , আমার নাতিদ্বয় আমাকে সওয়ারী বানিয়েছে । কাজেই তাঁদেরকে তাড়াতাড়ি নামিয়ে দেওয়াটা আমার পসন্দ হয়নি । রাসূলে কারীম ( সা ) কখনও কখনও শিশুদের কান্না শুনতে পেলে নামায সংক্ষেপ করে দিতেন এবং বলতেন : “ আমি চাই না যে , তার মায়ের কষ্ট হোক ।
একদা সকালে রাসূলে কারীম ( সা ) হযরত ফাতিমা ( রা ) -এর ঘরের পাশ দিয়ে পথ অতিক্রম করছিলেন আর তখন তাঁর কানে হযরত হুসাইন ( রা ) -এর কান্নার আওয়াজ এলো । নবীজীর তা অপসন্দ হল । তিনি ফাতিমাকে ভৎসনার সুরে বললেন , তুমি কি জান না যে , তার ক্রন্দন আমার মনে ব্যথা দেয় ? ” হযরত আনাস ( রা ) বলেন , রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) -এর তুলনায় সন্তান - সন্তুতির প্রতি অধিক স্নেহ - মমতা পোষণকারী আমি কাউকে দেখিনি । তাঁর পুত্র ইব্রাহীম ( রা ) মদীনায় উঁচু প্রান্তে ধাত্রী মায়ের কাছে দুধপান করতেন ।
তিনি প্রায়ই সেখানে যেতেন এবং আমরাও তাঁর সাথে যেতাম । তিনি ঐ ঘরে যেতেন অথচ সেই ঘরটি প্রায়ই ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকত । কারণ ইব্রাহীমের ধাত্রী মায়ের স্বামী ছিল একজন কর্মকার । তিনি ইব্রাহীমকে কোলে তুলে নিতেন এবং আদর করে চুমু দিতেন , এরপর চলে আসতেন । বর্ণনাকারী বলেন , যখন ইব্রাহীম ( রা ) ইতিকাল করেন তখন রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) বললেন : ইব্রাহীম আমার পুত্র । সে দুধপানের বয়সে ইতিকাল করেছে । সুতরাং জান্নাতে তাকে একজন ধাত্রী দুধপান করাবে । হযরত ইবন উমর ( রা ) বলেন , রাসূলে কারীম ( সা ) -এর নেতৃত্বাধীন কোন যুদ্ধে এক মহিলাকে নিহত অবস্থায় পাওয়া গেল । এতে রাসূলে কারীম ( সা ) গভীরভাবে মর্মাহত হন এবং নারী ও শিশুদের হত্যা করতে নিষেধ করেন মহানবী ( সা ) বলেছেন : “ তোমরা তোমাদের সন্তানদের যত্ন নিবে এবং তাদের আদব কাযার শিষ্টাচার শিক্ষা দিবে ।
