সারাদেশে বন্যা।পানি বিপদসীমার উর্ধ্বে। করণীয় কী?গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা।
![]() |
| সারাদেশে বন্যা।করণীয়গুলো কি। |
বাংলাদেশের মানুষের সাথে বন্যা একটি পরিচিত নাম।প্রতিবছর বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলগুলোতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়।বন্যার পানিতে অনেক মানুষ প্রাণ হারায়।ক্ষতি হয় হাজার হাজার কোটি টাকার ফসল।দেখা দেয় বিভিন্ন রোগ ব্যাধি ও মানবিক সংকট।
বাংলাদেশে বন্যার কারণ।কি কি কারণে বন্যা হয়।
বন্যা যদিও প্রাকৃতিক দুর্যোগ। কিন্তু এই বন্যার পিছনেও মানুষের ভুলের ভুূমিকা রয়েছে।খাল বিল নদী নালা সহ বিভিন্ন ভূমি বিষয়ক অব্যবস্থাপনা এবং ত্রুটির কারণে প্রতিবছর বন্যা ভয়াবহ অবস্থা তৈরী করে।যেসব জায়গায় ভূমি বাঁধ থাকার কথা সেখানে বাঁ নেই।আর যেখানে আছে সেখানকার দূর্বল বাঁধগুলো একটু পানির চাপে ভেঙে যায়।যার দরুণ বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয়।
বন্যা কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়।বন্যার প্রতিকার।
বন্যাকে যদিও প্রাকৃতিক দূর্যোগ বলা হয় কিন্তু এগুলো মূলত আসমানি গজব।এগুলো মোকাবেলা করার শক্তি কারো নেই।তবে বন্যা থেকে আত্মরক্ষার চেষ্টা করা যেতে পারে।বন্যা থেকে বাঁচতে ব্যক্তিগতভাবে একজন মানুষের কাজ হলো নিজের ঘরবাড়ি উঁচু জায়গাতে তৈরী করা।আর রাষ্ট্রের কাজ হলো ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় বড়বড় বাঁধ নির্মাণ করা। এবং পরিকল্পনা মাফিক কাজ করা।যেমনঃ খাল বিল নদী খনন করে পানি আটকানোর ব্যবস্থা করা।
বন্যার সময় কী কী করা উচিত নয়।গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা।
বন্যার পানিতে গোসল করা।কাপড়চোপড় ধোয়া।থালাবাসন পরিস্কার করা একদম উচিত নয়।বন্যার পানি পান করা তো মৃত্যুর নামান্তর। সব দোষিত জায়গার পানি বন্যার পানির সাথে মিশ্রিত হয়ে ভাইরাসে পরিণত হয়।বন্যার পানি কখনো পান করা উচিৎ নয়।
বন্যার প্রকারভেদ। বন্যা কয় প্রকার ও কী কী।
বন্যা সাধারণ দুইকারণে হয়ে থাকে।১,অব্যবস্থাপনার কারণে।যেমন দূর্বল বাঁধগুলো ভেঙে শুধু নির্দিষ্ট একটি এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরী হয়,ইত্যাদি।এরকম বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি একটু কম হয়।২,সারাদেশব্যাপি একসাথে বন্যা দেখে দেখা দেয়। বাঁধের সাথে এই বন্যার কোনো সম্পর্ক নেই।অতিরিক্ত বৃষ্টি এবং ভারতের পানি এদেশে নেমে আসলে বন্যা দেখা দেয়।
বিশেষ আলোচনা। যাকাত না দেওয়ার পরিণাম।
ধন - সম্পদের যাকাত আদায় করা আল্লাহর হুকুম ও জনগণের হক । তাই যাকাত না দেওয়া শরী'আতের দৃষ্টিতেই অপরাধ নয় , বরং এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিণতিও অত্যন্ত ভয়াবহ বটে । যাকাত না দিলে সমাজে অর্থনৈতিক অসামঞ্জস্য ও অসাম্য বৃদ্ধি পেতে থাকে । যেহেতু সালাতের ন্যায় যাকাতও ইসলামের অন্যতম রুকন ও মৌলিক ভিত্তি , সেহেতু যাকাত আদায় না করা শরী'আতের দৃষ্টিতে কতো জঘন্য অপরাধ তা সহজেই অনুমেয় ।
যে ব্যক্তির উপর যাকাত ফরয সে যাকাত না দিলে আখিরাতে তাকে ভীষণ শাস্তি ভোগ করতে হবে । কুরআন মাজীদে যাকাত না দেওয়ার পরিণাম সম্পর্কে ঘোষণা করা হয়েছে : والذين يكنزون الذهب والفضة ولاينفقونها في سبيل الله فبشرهم بعذاب أليم يوم يحمى عليها في نار جهنم فتكوى بها جباههم وجنوبهم وظهورهم هذا ما كنزتم لأنفسكم . فذوقوا ما كنتم تكنزون . যারা সোনা
- রূপা পুঞ্জীভূত করে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না ( এখানে যাকাত অর্থে ) তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শক্তির সংবাদ দিন , যেদিন জহান্নামের আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে এবং তা দিয়ে তাদের কপাল , পার্শ্বদেশ এবং পিঠে দাগ দেওয়া হবে । সেদিন বলা হবে , এটাই তা , যা তোমরা নিজেদের জন্য পুঞ্জীভূত করতে । সুতরাং তোমরা যা পুঞ্জীভূত করেছিলে তা আস্বাদন কর ।
( সূরা তাওবা ৯ : ৩৪-৩৫ ) যাকাত না দেওয়ার ইহকালীন পরিণতি সম্পর্কে নবী কারীম ( সা ) বলেছেন : ' যেসব লোক যাকাত দিতে অস্বীকার করবে , আল্লাহ্ তাদের কঠিন ক্ষুধা ও দুর্ভিষ্কে নিমজ্জিত করে দেবেন। অপর এক হাদীসে বলা হয়েছে , ' যাকাত যে মালের সাথে মিশ্রিত হয় সে মালকে যাকাত অবশ্যই ধ্বংস করে দেয় । " অপর একটি হাদীসেও এর সমর্থন পাওয়া যায় , যাতে বলা হয়েছে , ' স্থল ও জলভাগে ধন - মাল বিনষ্ট হয় , শুধু মাল জমা রাখার দরুন ।
' যাকাত আদায় না করে কৃপণতা প্রদর্শনের শান্তি সম্পর্কে আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেন ولا يحسبن الذين يبخلون بما أنهم الله من فضله هو خير لهم بل هو شر لهم سيطوقون ما يخلوا به يوم القيمة - আর আল্লাহ্ নিজ অনুগ্রহে যা তাদেরকে দিয়েছেন তাতে যারা কৃপণতা করে , তাদের জন্য তা মঙ্গল এ যেন তারা কিছুতেই মনে না করে ।
না , এটা তাদের জন্য অমঙ্গল । যাতে তারা কৃপণতা করবে কিয়ামতের দিন তাই তাদের গলায় বেড়ি হবে । ( সূরা আলে ইমরান , ৩ : ১৮০ ) হাদীস শরীফেও যাকাত আদায় না করার ভয়াবহ পরিণতির কথা উল্লেখ রয়েছে । হযরত আবূ হুরায়রা ( রা ) বর্ণনা করেছেন , রাসূলুল্লাহ ( সা ) বলেন : ' আল্লাহ্ যাকে ধন - সম্পদ দিয়েছেন , সে যদি তার যাকাত আদায় না করে তা হলে কিয়ামাতের দিন তা একটি বিষধর অজগরের রূপ ধারণ করবে যার দু'চোখের উপর দু'টি কালো চিহ্ন থাকবে । কিয়ামতের দিন তার গলায় জড়িয়ে দেওয়া হবে ।
সাপটি তার মুখের দু'পাশে কামড়াতে থাকবে এবং বলবে , আমিই তোমার সম্পদ , আমিই তোমার পুঞ্জীভূত ধন । তারপর নবী কারীম ( সা ) এ আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন : ( অর্থ ) ' আর আল্লাহ্ নিজ অনুগ্রহে যা তাদেরকে দিয়েছেন তাতে যারা কৃপণতা করে , তাদের জন্য তা মঙ্গল এ যেন তারা কিছুতেই মনে না করে । না , এটা তাদের জন্য অমঙ্গল । যাতে তারা কৃপণতা করবে কিয়ামতের দিন তা - ই তাদের গলায় বেড়ি হবে । ' ( সূরা আলে ইমরান , ৩ : ১৮০ )।
বিশেষ আলোচনা। যেসব কারণে রোযা ভঙ্গ হয় না।
রোযার কথা ভুলে গিয়ে রোযাদার ব্যক্তি যদি পানাহার করে বা সঙ্গমে লিপ্ত হয় , তাহলে রোযা ভঙ্গ হয় না , রোযা নফল হোক আর ফরয হোক । এক ব্যক্তি দেখতে পেল এক রোযাদার ব্যক্তি ভুলক্রমে খানা খাচ্ছে ।
লোকটি যদি এরূপ সবল হয় যে রাত পর্যন্ত তার পক্ষে রোযা পূর্ণ করা সম্ভব , তবে ঐ রোযাদারকে রোযার কথা স্মরণ করিয়ে না দেয়া মাকরূহ । বয়োঃবৃদ্ধতার ফলে লোকটি যদি দুর্বল হয় , তবে তাকে স্মরণ করিয়ে না দেয়ার অনুমতি আছে । কুলি করার ও নাকে পানি দেয়ার সময় যদি পানি পেটের ভিতর চলে যায় এমতাবস্থায় যদি রোযার কথা স্মরণ না থাকে তবে ফাসিদ হয় না ।
আর যদি রোযার কথা স্মরণ থাকে তবে রোযা ফাসিদ হয় । দাঁতের ফাঁকে বুটের চেয়ে ছোট কিছু থাকলে তা গিলে ফেললে রোযা ফাসিদ হয় না । গমের একটি দানা চিবালে রোযা ফাসিদ হয় না । কুলি করার পর পানির আর্দ্রতা মুখে বাকি থাকলে তা থুথুর সাথে গিলে ফেললে রোযা ফাসিদ হয় না ।
যে জিনিস খাদ্যদ্রব্য নয় আর তা হতে সাধারণত বেঁচে থাকা যায় না , যেমন মশা - মাছি ইত্যাদি গলার ভিতরে চলে গেলে রোযা ভঙ্গ হয় না । ধুলোবালি এবং ধোঁয়া গলার ভিতর চলে গেল তাতে রোযা ভঙ্গ হয় না । এক - দুই ফোঁটা চোখের পানি মুখে প্রবেশ করলে , মুখমণ্ডলের ঘাম মুখে প্রবেশ করলে অথবা লোমকূপ দিয়ে তেল শরীরের ভেতর প্রবেশ করলে রোযা ভঙ্গ হয় না । চোখে ঔষধের ফোঁটা ঢাললে তার স্বাদ গলায় চলে গেলেও রোযা ফাসিদ হয় না । থুথু ফেলার সময় থুথুতে সুরমার লক্ষণ এবং তার রঙ দেখা গেলে রোযা ফাসিদ হয় না ।
কোন মহিলার প্রতি দৃষ্টিপাত করা অথবা সহবাসের ধ্যান করার ফলে বীর্য নির্গত হলে রোযা ফাসিদ হবে না । স্ত্রীকে স্পর্শ করার পর তার শরীরে উষ্ণতা অনুভব করার ফলে বীর্য নির্গত হলে রোযা ফাসিদ হবে । শরীরের উষ্ণতা অনুভব না করলে ফাসিদ হবে না । । পানিতে ডুব দেয়ার ফলে কানে পানি প্রবেশ করলে রোযা ফাসিদ হয় না । তীর পেটের একদিক দিয়ে প্রবেশ করে অন্য দিক দিয়ে বের হয়ে গেলে রোযা ফাসিদ হয় না ।
কেউ পান খেয়ে ভালভাবে কুলি গরগরা করে মুখ পরিষ্কার করা সত্ত্বেও থুথু লাল থেকে গেলে এতে রোযার কোন ক্ষতি হয় না । রাতে গোসলের প্রয়োজন হওয়া সত্ত্বেও দিনে গোসল করলে রোযার ক্ষতি হবে না । সারা দিনের মধ্যে গোসল না করলেও রোযা ভঙ্গ হবে না , তবে গুনাহগার হবে । " শরীরে ইনজেকশন নিলে রোযা ফাসিদ হয় না ।
যেসব কারণে রোযা মাকরূহ হয় এবং যেসব কারণে মাকরূহ হয় না বিনা ওযরে কোন কিছুর স্বাদ গ্রহণ করা ও চিবানো মাকরূহ । স্বামী যদি বদমেজাজী হয় তাহলে স্ত্রীর জন্য খাদ্যের স্বাদ জিহবাদ্বারা পরীক্ষা করে নেওয়া মাকরূহ নয় । অনুরূপভাবে অনন্যোপায় হয়ে শিশুর খাদ্য চিবিয়ে দিলে রোযা মাকরূহ হবে না । ইতিজার সময় অধিক মাত্রায় পানির ব্যবহার রোযাদারের জন্য মাকরূহ । কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়ার সময় এমনভাবে পানি ব্যবহার করা যে , পানি ভিতরে প্রবেশ করার আশঙ্কা হয় এভাবে করা মাকরূহ । ” পানিতে বায়ু নিঃসরণ করা মাকরূহ ।
রোযা অবস্থায় ইচ্ছাপূর্বক মুখে থুথু জমা করে তা গিলে ফেলা মাকরূহ । রোযাদার ব্যক্তির জন্য দিনের যে কোন সময় মিস্ওয়াক করা জায়িয এতে রোযার কোন ক্ষতি নেই । চোখে সুরমা লাগানো এবং গোঁফে তেল মাখা রোযাদারের জন্য মাকরূহ নয় । তবে সৌন্দর্য্য বর্ধনের জন্য এরূপ করা রোযাদার অরোযাদার সবার জন্যই মাকরূহ ।
