ইতিহাসের বীর সেনাপতি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা)।অজানা কিছু তথ্য। ঐতিহাসিক আলোচনা।
![]() |
| হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রাঃ। |
মুসলিম কিংবা অমুসলিম।হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা) এর নাম শুনেনি এমন মানুষ বর্তমানে খুঁজে পাওয়া যাবেনা। ইতিহাস নিয়ে যারা পড়াশুনা করে সে অমুসলিম হলেও হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা) এর বিরত্বগাঁথা ইতিহাস একবার হলেও পড়বে।ইতিহাসের সোনালি পাতায় হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা) এর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা) এমন একজন মহান ব্যক্তি যিনি নিজের ঈমান,বীরত্ব,সাহসীকতা ও সেনাপতির দায়িত্বে যুদ্ধে নৈপুণ্যতা দেখানোর কারণে অমর হয়ে আছেন।সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মুহাম্মাদ(সা) এর পক্ষ থেকে পেয়েছেন 'সাইফুল্লাহ তথা আল্লাহর তরবারি।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা) সংক্ষিপ্ত পরিচয়।পরিচিতি।
নামঃ আবু সুলাইমান খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ ইবনে আল মুগিরা আল মাখজুমি।
জন্মঃ ৫৯২ খ্রিস্টাব্দে আরবে জন্মগ্রহণ করেন।তার পিতা ওয়ালিদ ইবনে মুগিরা ছিলেন কুরাইশের বনু মাখজুম গোত্রের লোক।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা) এর ইসলাম গ্রহণ।
৬২৮ সালে হুদাইবিয়ার ঐতিহাসিক সন্ধির ফলে মুসলিম এবং কুরাইশদের মাঝে দশ বছরের জন্য শান্তি চুক্তি কার্যকর হয়।এসময় হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা) ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা) এর যুদ্ধে অংশগ্রহণ।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাঃ) অসংখ্য যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।এবং সব যুদ্ধই অপরাজেয় থাকেন।ইয়ারমুক,মুতা ইত্যাদি যুদ্ধে নৈপুণ্যতা দেখানোর কারণে ইতিহাসে তিনি একজন শ্রেষ্ঠ জেনারেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।এই মহান যোদ্ধার শরীরের এমন কোনো জায়গা ছিলোনা যেখানে তরবারির আঘাত ছিলোনা।
আল্লাহ তায়ালা এই মহান বীরের মর্যাদা বৃদ্ধি করে দিন।আমিন।
বিশেষ আলোচনা। যাকাতের এসব হকদারের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি নিম্নে দেওয়া হল।
১. ফকীর ফকীরকে বাংলায় গরীব বলা হয় । জনগোষ্ঠীর সেই অংশ যাদের কাছে কিছু ধন - সম্পদ আছে ; কিন্তু তারদ্বারা তাদের প্রয়োজন পূরণ হয় না । অন্য কথায় যাদের কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ নেই তারাই গরীব । ২. মিসকীন : যারা নিঃস্ব , নিজের পেটের অন্নও যোগাড় করতে পারে না এবং অভাবের তাড়নায় অন্যের কাছে হাত পাততে বাধ্য হয় , সেই সব অসহায় মানব সন্তানদের বলা হয় । মিসকীন । যারা কর্মক্ষম হওয়া সত্ত্বেও কাজের অভাবে বেকার থাকতে বাধ্য এবং মানবেতর জীবন যাপন করে , হযরত উমর ( রা ) তাদেরকেও মিস্কীনদের মধ্যে গণ্য করতেন ।
৩. আমিলুন : ' আমিলুনা আলাইহা ' বলতে যাকাতের কাজে নিযুক্ত লোকদের বুঝানো হয়েছে । ইসলামী রাষ্ট্র যাকাতসমূহ আদায় , বিতরণ , হিসাব সংরক্ষণ ইত্যাদি করার জন্য যাদের নিযোগ করবে , তাদের বেতন - ভাতা যাকাত তহবিল থেকে দেওয়া যাবে । ৪. মন জয় করার জন্য : নও - মুসলিমদের সমস্যা দূর করার জন্য এবং ইসলামের উপর অবিচল রাখার উদ্দেশ্যে তাদেরকে যাকাত দেওয়া যাবে । এমনকি নও - মুসলিমগণ ধনী হলেও তাদের যাকাত দেওয়া যাবে । ৫. দাস মুক্তি মুক্তিপণ ধার্যকৃত দাস ) : দাস মুক্তি বলতে দাসত্ব শৃংখলে আবদ্ধ লোক এবং বন্দীদের মুক্ত করাকে বুঝানো হয়েছে । মানুষ একমাত্র আল্লাহর দাসত্ব করবে , অন্য কারো দাসত্ব করবে না ,
এটাই হচ্ছে আল্লাহর মৌলিক নির্দেশ । এ জন্য ইসলাম দাসমুক্ত করাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে । সাহাবায়ে কিরামের ( রা ) মধ্যে যাঁদের অর্থ ছিল তাঁরা মুকাতব পর্যায়ের দাসমুক্তির জন্য যাকাতের অর্থ ব্যয় করতেন । ৬. ঋণগ্রস্তদের ঋণ পরিশোধ : ঝণভারে জর্জরিত লোকেরা মানসিকভাবে সর্বদাই ক্লিষ্ট থাকে এবং কখনও কখনও জীবন সম্পর্কে হতাশ হয়ে পড়ে ।
তাদের জীবনী শক্তির ক্ষয় সাধিত হয় । অনেক সময় তারা অন্যায় ও অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে । সুতরাং যথার্থ প্রয়োজনে ঋণগ্রস্ত লোকদের ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত করা ইসলামী সমাজের দায়িত্ব । এ খাতেও আল্লাহ্ যাকাতের অর্থ ব্যয় করার নির্দেশ দিয়েছেন যাতে সমাজকে সুস্থ রাখা যায় । তবে কোন কোন ফকীহ্ ইমাম এ শর্তও আরোপ করেছেন যে ,
সে ঋণ যেন কোন অবৈধ কাজের জন্য না করে থাকে । কোন পাপকাজের জন্য যদি ঋণ করে থাকে , মদ কিংবা বিয়ে - শাদির নাজায়িয প্রথা - অনুষ্ঠান প্রভৃতি , তবে এমন ঋণগ্রস্তকে যাকাতের অর্থ থেকে দান করা যাবে না । ( মুফ্তী মুহাম্মাদ শফী , তাফসীরে মা'আরেফুল কোরআন , পৃ . ৭৯ ) ৭. আল্লাহর পথে ব্যয় : কুরআনের ভাষায় এ খাতের নাম বলা হয়েছে ,
' ফী সাবীলিল্লাহ্ ' , যার অর্থ হচ্ছে আল্লাহর পথে । আল্লাহর পথে কথাটি খুব ব্যাপক । মুসলমানদের সকল নেক কাজ আল্লাহ্র পথেরই কাজ । তবে এখানে আল্লাহর পথে কথাটি বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে । সেসব গাযী ও মুজাহিদ যাদের অস্ত্র ও জিহাদের উপকরণ ক্রয় করার ক্ষমতা নেই । অথবা ঐ ব্যক্তি যার উপর হজ্জ ফরয হয়ে গেছে কিন্তু এখন আর তার এমন অর্থ নেই যাতে সে ফরয হজ্জ আদায় করতে পারে । ফকীহগণের মতে দীনী ইল্ম শিক্ষার্থী কিংবা অন্যান্য সৎকাজে নিয়োজিত ব্যক্তিকে যাকাত দেওয়া যাবে , যদি তারা গরীব হয় ।
৮. মুসাফির : মুসাফির বা প্রবাসী লোকের বাড়িতে যত ধন - সম্পদই থাকুক না কেন , পথে বা প্রবাসে সে যদি অভাবগ্রস্ত হয়ে পড়ে , তাহলে তাকে যাকাত তহবিল হতে প্রয়োজনীয় সাহায্য দেওয়া যাবে । যাকাত প্রদানের নিয়ম যাকাত আদায়ের নির্ধারিত কোন মাস নেই । সাহিবে নিসাবের সম্পদের মালিকানার এক বছর পূর্ণ হলে তখনি যাকাত আদায় করবে । তবে পবিত্র মাহে রমযানে দেয়া ভাল।
