জরুরী মাসাঈল সমূহ। সারাজীবন ভুল থেকে বাঁচতে এখনি জেনে নিন। নতুবা আপনার সারাজীবনের ঈবাদত কবুল হবেনা। পর্ব-১

জরুরী মাসাঈল সমূহ।সারাজীবন ভুল থেকে বাঁচতে এখনি জেনে নিন।নতুবা আপনার সারাজীবনের ঈবাদত কবুল হবেনা।পর্ব-১

বিশেষ আলোচনা।জরুরি মাসআলা। 

নামাজের মাঝখানে মুকাব্বির হওয়া।গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা। 

প্রশ্ন।ঈমাম সাহেব মাইকে নামাজ শুরু করার এক রাকাতপর কারেন্ট চলে গেলো।পরে পিছন থেকে মুআযযিন সাহেব মুকাব্বির হলেন এবং কয়েকবার জোরে তাকবির বললেন।পরে আবার কারেন্ট চলে এলো।এবং মুআযযিন সাহেব তাকবির বলা বন্ধ করে দিলেন।এতে মুআযযিন সাহেবের কী নামাজের কোনো ক্ষতি হবে? 

 উত্তর- কারেন্ট চলে যাওয়ায় মুআযযিন সাহেবের তাকবির বলায় এবং পুনরায় কারেন্ট আসায় তাকবির বন্ধ করায় নামাজের কোনো ক্ষতি হবেনা।কারণ আকস্মিক জরুরতের কারণে তা করতে হয়েছে। ফজরের সুন্নাত নমাজ পড়ার বিভিন্ন হুকুম।

প্রশ্ন।ফজরের জামাআত শুরু হয়ে গেলে সুন্নাত পড়ার নিয়ম কী?

  উত্তর।ফজরের জামাআত শুরু গেলে সুন্নত পড়ার নিয়ম হলো ঈমামের সাথে যদি দ্বিতীয় রাকাতের তাশাহহুদ পরিমাণ পড়তে পারে এ সময়টুকু পাওয়ার প্রবল ধারণা থাকলে সুন্নত আগে পড়ে নিবে।যদি এতোটুকু পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকে তাহলে জামাআতে শরিক হয়ে যাবে।


বিশেষ আলোচনা। ভেড়া - ছাগলের নিসাব ও যাকাতের হার।

 যাকাতের ব্যাপারে ভেড়া - ছাগল - দুম্বা সকলের একই হুকুম । সকলের একই নিসাব এবং যাকাতের হার একই । যদি কারো কাছে দুম্বাও থাকে এবং ছাগলও থাকে এবং উভয়ের নিসাব পূর্ণ হয় , তাহলে উভয়ের পৃথক পৃথক যাকাত দিতে হবে । আর যদি উভয়ের একত্র করলে নিসাব পূর্ণ হয় , তাহলে যার সংখ্যা বেশি হবে যাকাতে সেই পশুই দিতে হবে । উভয়ের সংখ্যা সমান হলে যেটা ইচ্ছা দেওয়া যায় । ভেড়া / ছাগলের সংখ্যা ৪০ এর কম হলে কোন যাকাত দিতে হবে না । 
- ভেড়া / ছাগলের সংখ্যা ৪০ থেকে ১২০ পর্যন্ত হলে যাকাতের পরিমাণ হবে = ১ টি ভেড়া / ছাগল । ভেড়া / ছাগলের সংখ্যা ২০০ পর্যন্ত হলে যাকাতের পরিমাণ হবে । ২ টি ভেড়া / ছাগল । ভেড়া / ছাগলের সংখ্যা ৩০০ পর্যন্ত হলে যাকাতের পরিমাণ হবে = ৩ টি ভেড়া / ছাগল 

 ভেড়া / ছাগলের সংখ্যা ৪০০ পর্যন্ত হলে যাকাতের পরিমাণ হবে = ৪ টি ভেড়া / ছাগল । ৪০০ এর পরের প্রতি ১০০ পূর্ণ হলে প্রতি শতের জন্য একটি করে ছাগল বা ভেড়া যাকাত দিতে হবে । অর্থাৎ শতকরা একটি করে । ভেড়া - ছাগলের ক্ষেত্রে এক বছর বা তার বেশি বয়সের একটি বাচ্চা যাকাত হিসেবে দিতে হবে । গরু - মহিষের নিসাব ও যাকাতের হার যাকাতের ব্যাপারে গরু ও মহিষের একই হুকুম । হযরত উমর ইবন আবদুল আযীয ( র ) মহিষকে গরু হিসেবে ধরে তার উপর ঐ ধরনের যাকাত আরোপ করেন যা নবী কারীম ( সা ) গরুর জন্য নির্ধারণ করেছিলেন । 

উভয়ের নিসাব ও যাকাতের হার এক । কারো কাছে উভয় ধরনের পশু থাকলে উভয়কে মিলিয়ে নিসাব পূর্ণ হলে যাকাত ফরয হবে । যার সংখ্যা বেশি হবে তার মধ্য থেকে যাকাত দিতে হবে । উভয়ের সংখ্যা সমান হলে যে কোন একটি যাকাত দেওয়া যাবে । যে ব্যক্তি ৩০ টি গরু - মহিষের মালিক হবে তার উপর যাকাত ফরয হবে । এর কম হলে যাকাত নেই । 

৩০ টি গরু - মহিষের মধ্যে গরু বা মহিষের একটি বাচ্চা দিতে হবে , যার বয়স পূর্ণ এক বছর হয়েছে ।৩১ টি থেকে ৩৯ টি পর্যন্ত অতিরিক্ত কোন যাকাত নেই । ৪০ টি গরু - মহিষ হলে এমন একটি বাচ্চা যাকাত দিতে হবে যার বয়স পূর্ণ দু'বছর । ৪১ টি থেকে ৫৯ পর্যন্ত অতিরিক্ত কোন যাকাত নেই । ৬০ টি গরু - মহিষ হলে এক বছরের দু'টি বাচ্চা যাকাত দিতে হবে । ৬০ এর পরে প্রতি ৩০ টি গরু - মহিষের জন্য এক বছরের একটি বাচ্চা এবং প্রতি ৪০ টি গরু.






- মহিষের জন্য দু'বছরের একটি বাচ্চা যাকাত দিতে হবে । উটের নিসাব ও যাকাতের হার যে ব্যক্তি পাঁচটি উটের মালিক হবে সে ' সাহিবে নিসাব ' হবে । তার উপর যাকাত ফরয । এর কম উটের যাকাত নেই । ৫ টি থেকে ৯ টি পর্যন্ত উটের জন্য একটি ছাগল যাকাত দিতে হবে । 

১০ টি উট হলে ২ টি ছাগল এবং ১৪ টি পর্যন্ত ঐ ২ টিই দিতে হবে । ১৫ টি উট হলে ৩ টি ছাগল এবং ১৯ টি পর্যন্ত ঐ একই । ২০ টি উটের ৪ টি ছাগল এবং ২৪ টি পর্যন্ত ঐ একই । ২৫ টি উটের উপর এমন এক উটনী যার বয়স দ্বিতীয় বছর শুরু হয়েছে । ২৬ টি থেকে ৩৫ টি পর্যন্ত অতিরিক্ত কিছু দিতে হবে না । ৩৬ টি উট হলে এমন এক উটনী দিতে হবে যার বয়স তৃতীয় বছর শুরু হয়েছে । ৩৭ টি থেকে ৪৫ টি পর্যন্ত অতিরিক্ত কোন যাকাত নেই । 
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post