সিঙ্গায় ফুৎকার দানকারী ফেরেশতার পরিচয়।মানুষকে প্রথম সিজদাকারী ফিরিশতা।
![]() |
| সিঙ্গায় ফু দানকারী ফিরিশতা। |
প্রখ্যাত তাবেয়ী হযরত ওয়াহাব ( রহ ; ) বলেন যে , মহান আল্লাহ্ শিংগাকে কাঁচের ন্যায় পরিস্কার শুভ্র মোতির দ্বারা সৃষ্টি করেছেন । এরপর আরশকে নির্দেশ দিয়েছেন যে , তুমি শিংগা গ্রহণ কর । ফলে সে শিংগা গ্রহণ করে । এরপর মহান আল্লাহ্ নির্দেশ প্রদান করে বলেন যে , তুমি হয়ে যাও । ফলে হযরত ইসরাফীল ( আঃ ) জন্ম লাভ করেন ।
তখন মহান আল্লাহ্ তাঁকে নির্দেশ দেন , ঐ শিংগা উঠিয়ে নাও । তিনি ঐ শিংগা উঠিয়ে নেন । ঐ শিংগার মধ্যে আসমান ও জমিনের ব্যাপ্তির ন্যায় একটি বিশাল ছিদ্র আছে । হযরত ইসরাফীল ( আঃ ) ঐ শিংগার মধ্যেই নিজের মুখ রেখে বসে আছেন ।
অতঃপর মহান আল্লাহ্ হযরত ইসরাফীল ( আঃ ) কে লক্ষ্য করে বলেন ( কিয়ামত দিবসে ) ফুৎকার দেওয়া ও চিৎকার করা তোমার দায়িত্ব । হযরত ইসরাফীল ( আঃ ) আরশের সামনে আসেন এবং নিজ ডান পা আরশের নীচে রাখেন এবং বাম পা সামনে রাখেন । ( কিতাবুল আযামাহ ) অবএব জানা গেল যে , যে শিংগায় ছিদ্রে হযরত ইসরাফীল ( আঃ ) মুখ রেখেছেন সেটার আকৃতি হল আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থানের সমান । এর দ্বারাই অনুমান করা যায় যে , হযরত ইসরাফীল ( আঃ ) এর শরীর কত বড় হবে ।
মানুষকে প্রথম সিজদাকারী ফেরেশতা।
হযরত যামুরা ( রহ : বলেন , “ আমার নিকট এ সংবাদ পৌঁছেছে যে , হযরত আদম ( আঃ ) কে সর্ব প্রথম হযরত ইসরাফীল ( আঃ ) সেজদা করেছেন । তারই পরুস্কার স্বরূপ তাঁর কপালে কুরআন শরীফ লিপিবদ্ধ করা হয়েছে । ( তাফসীরে ইবনে আলী হাতিম ) হযরত ইসরাফীল ( আঃ ) শিংগায় ফুঁক দেবেন।
হযরত আবু সাঈদ খুদরী ( রাঃ ) হতে বর্ণিত , প্রিয়নবী ( সাঃ ) “ আমি কিভাবে নিশ্চিন্ত হয়ে বসে থাকব । অথচ শিংগাওয়ালা হযরত ইসরাফীল ( আঃ ) মুখে শিংগা নিয়ে বসে আছেন এবং নিজ মাথা ঝুকিয়ে দিয়েছেন এবং নিজ কর্ণ উৎকর্ণ করে রেখেছেন এবং অধীরভাবে অপেক্ষা করছেন যে , কবে তাকে শিংগায় ফুৎকারের নির্দেশ দেয়া হবে " ।
সাহাবায়ে কিরাম যে , আরয করেন যে , ইয়া রাসুল্লাল্লাহ্ তাহলে ( সে বিপদের প্রস্তুতির জন্য ) আমরা কি করব ? জবাবে মহানবী ( সাঃ ) বললেন যে , তোমরা বল ঃ অর্থঃ আমাদের জন্য মহান আল্লাহ্ই যথেষ্ট । তিনি উত্তম কর্ম বিধায়ক , আমরা তাঁর উপরই ভরসা করি ” । ( তিরমীযী শরীফ ) ইসরাফীল ( আঃ ) চক্ষুদ্বয় চমকদার তারার ন্যায়,হযরত আবু হুরাইরা ( রাঃ ) থেকে বর্ণিত , প্রিয়নবী ( সাঃ ) " নিঃসন্দেহে ইসরাফীল ( আঃ ) যে দিন থেকে শিংগায় ফুৎকারের দায়িত্বে নিয়োজিত হয়েছেন সেদিন থেকেই তিনি প্রস্তুত হয়ে বসে রয়েছেন ।
তিনি আরশের আশে পাশে এ ভয়ে দেখতে থাকেন যাতে তাঁর পলক পড়ার পূর্বেই চিৎকার দেয়ার ( শিংগা ফুৎকারের ) নির্দেশ এসে না পড়ে । তাঁর উভয় চক্ষু চমকদার তারা ন্যায় ” । ( হাকীম ৪ঃ ৫৫৯ ) হযরত ইসরাফীল ( আঃ ) কখনো হাসেন না। প্রিয় নবী ( সাঃ ) বলেন যে , “ আমি জিবরাঈল ( আঃ ) কে বলালম যে , “ হে জিবরাঈল ! ব্যাপার কি , আমি তো ইসরাফীল কে কখনো হাসতে দেখি না , অথচ আমার নিকট অন্য যত ফেরেশতাই এসেছেন সকলকে আমি হাসতে দেখেছি " ।
জিবরাঈল ( আঃ ) বলেন যে , " যেদিন থেকে জাহান্নামের সৃষ্টি সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত আমরা কখনো ইসরাফীল ( আঃ ) কে হাসতে দেখিনি । ( শুআবুল ঈমান বাইহাকী )
পুনরায় সিঙ্গায় ফুৎকার তারপর সবাই ময়দানে হাশরে গিয়ে উপস্থিত হবে ।
ইরশাদ হয়েছে , ونفخ في الصور فصعق من في السموات ومن في الأرض الأمن شاء الله ينفخ فيه أخرى فاذا هم قيام ينظرون “ এবং সিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়া হবে ফলে আল্লাহ যাদেরকে ইচ্ছা করেন তারা ব্যতিরেকে আকাশ মন্ডলী ও পৃথিবীর সকলে মুর্ছিত হয়ে পড়বে ” তারপর আবার সিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়া হবে সাথে সাথেই তারা দণ্ডায়মান হয়ে তাকাতে থাকবে । ( ৩৯৪ যুমার ৬৮ নং আয়াত ) ।
ময়দানে হাশরে বান্দাদের আমলের হিসাব হবে । নেকী - বদীর ওয়ন হবে । নেক্কার লোকদের ডান হাতে এবং বদকার লোকদের বাম হাতে আমলনামা প্রদান করা হবে । বিচারের ময়দানে একটি সূক্ষ্ম সেতু থাকবে । একে সিরাত বলা হয় । ঐ সেতু তরবারির চেয়েও তীক্ষ্ণধার এবং পশমের চেয়েও সূক্ষ্মতর হবে । এর উপর দিয়ে সকলকে পথ অতিক্রম করতে হবে ।
পাপী লোকেরা তা অতিক্রম করতে সক্ষম হবেনা । তারা হাত - পা কেটে জাহান্নামে পতিত হবে । আর সৎকর্ম পরায়ন লোকেরা আল্লাহর অনুগ্রহে অতি সহজে ঐ সেতু অতিক্রম করতে সক্ষম হবে ।
পুলসিরাত অতিক্রম করার পর নেককার বান্দাগন হাওযে কাওসার হতে শরবৎ পান করবেন । একবার যিনি এই শরবৎ পান করবেন তিনি আর কখনো পিপাসিত হবেন না । শরবৎ দুধের চেয়েও সাদা এবং মধুর চেয়েও মিষ্টি হবে । ( শরহুল আকায়িদ ) কিয়ামত ও পুনরুত্থান সম্বন্ধে পূর্বে যে বিবরণ পেশ করা হয়েছে কুরআন ও হাদীসে এ সম্পর্কে বিশদ বর্ণনা বিদ্যমান রয়েছে । কিয়ামত অবশ্যম্ভাবী ।
বিশেষ আলোচনা। রোজা সংক্রান্ত আলোচনা।
ওযরবিহীন প্রাপ্তবয়স্ক প্রত্যেক মুসলিম নর - নারীর উপর রমযান মাসের রোযা রাখা ফরয । আল - কুরআনে ইরশাদ হয়েছে : فمن شهد منكم الشهر فليصمه . তোমাদের মধ্যে যারা এই মাস পাবে , তারা যেন এ মাসে সিয়াম পালন করে । ( সূরা বাকারা ২ : ১৮৫ ) এখানে মাস বলতে নির্দিষ্ট মাস অর্থাৎ রমযান বুঝনো হয়েছে । এ আয়াত দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে , রমযানের রোযা ফরয হওয়ার জন্য রমযান মাসের উপস্থিতি একটি শর্ত ।
এমতাবস্থায় যে ব্যক্তি পূর্ণ রমযান মাস পাবে , তার উপর রমযান মাসের রোযা ফরয হবে । যে ব্যক্তি এর থেকে কিছু কম সময় পাবে , ততদিনের রোযাই ফরয হবে । ( মা'আরেফুল কোরআন , বঙ্গানুবাদ সংক্ষিপ্ত ] পৃ . ৯৪ ) । রমযানের রোযা ফরয হওয়ার শর্তাদি নিম্নরূপ : ১. মুসলমান হওয়া , ২. আকিল - সজ্ঞানে থাকা , উন্মাদ বা পাগল না হওয়া , ৩. বালিগ বা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া । রোযা আদায় ওয়াজিব হওয়ার শর্ত হল : ১. রোগমুক্ত থাকা , ২. মুকীম থাকা অর্থাৎ শরী'আতের বিধানমতে সফরে না থাকা , ৩. হায়িয অবস্থায় না থাকা , ৪. নিফাস অবস্থায় না থাকা ।
তবে রোগ , সফর এবং হায়িয ও নিফাসের ওযরের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে রোযা করয হবে না । কিন্তু পরে তার কাযা করতে হবে । ” রোযা না রাখার অপকারিতা রোযা ইসলামের একটি অন্যতম রুকন । আলিমগণের সর্বসম্মত মত হল রমযানের রোযা ফরযে আইন ।
যে ব্যক্তি রোযা ফরয হওয়া অস্বীকার করবে সে কাফির ( ২১ এক হাদীসে বর্ণিত আছে , রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) ইরশাদ করেন : যে ব্যক্তি বিনা ওযরে ইচ্ছাপূর্বক রমযানের একটি রোযা ভঙ্গ করে , অন্য সময়ের সারা জীবনের রোযা তার সমকক্ষ হবে না । সাওম বা রোযা ৩০১ কেউ রোযার প্রতি উপহাস বা বিদ্রূপমূলক আচরণ করলে তার ঈমান নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে ।
২৪ চাঁদ দেখার মাসাইল শাবান মাসের ঊনত্রিশ তারিখের সন্ধ্যা বেলায় রমযানের চাঁদ তালাশ করা মুসলমানগণের উপর ওয়াজিব । যদি চাঁদ দেখা যায় তবে পরবর্তী দিন রোযা রাখবে । আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকার কারণে যদি চাঁদ দেখা না যায় , তবে শাবান মাসকে ত্রিশ দিন গণনা করবে । ২৫ এ ব্যাপারে বুখারী ও মুসলিম শরীফে আবূ হুরায়রা ( রা ) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে , রাসুলুল্লাহ ( সা ) বলেন : - صوموا لرؤيته وأفطروا لرؤيته فإن غم عليكم فأكملوا عدة شعبان ثلثين . চাঁদ দেখে রোযা রাখবে এবং চাঁদ দেখে রোখা শেষ করবে । আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় যদি চাঁদ তোমাদের দৃষ্টিগোচর না হয় তবে শাবান মাসকে ত্রিশদিন পূর্ণ করবে ।
চাঁদ না দেখা গেলে এ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য জ্যোতির্বিদের গণনাভিত্তিক অভিমত গৃহীত হবে না । এটি বিশুদ্ধতম সিদ্ধান্ত । " আকাশ মেঘাচ্ছন্ন বা কুয়াশাচ্ছন্ন থাকলে রমযানের চাঁদ দেখার ব্যাপারে এক ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য । তবে শর্ত হল , সাক্ষ্যদানকারী যেন সত্যবাদী , ধর্মভীরু ও প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমান হয় । চাই সে মহিলা হোক কিংবা পুরুষ হোক । * এক ব্যক্তির সাক্ষ্যের উপর অন্য এক ব্যক্তি সাক্ষ্য প্রদান করলে তার সাক্ষ্যও গ্রহণযোগ্য
