কিয়ামতের পূর্ব মূহুর্তে যে ভয়াবহ ঘটনাগুলো ঘটবে। জেনে রাখুন।

 কিয়ামতের পূর্ব  মূহুর্তে যে ভয়াবহ  ঘটনাগুলো ঘটবে।জেনে রাখুন।


কিয়ামতের আলামত। 

 হযরত ঈসা ( আঃ ) এর ওফাতের পর কিয়ামতের পূর্বে পৃথিবীতে তিনটি ভয়ানক ভূমিধস হবে । একটি পূর্বাঞ্চলে । এ এলাকা সম্পর্কে এক হাদীসে বলা হয়েছে যে , এটি মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী বায়দা মরুঅঞ্চলে ঘটবে ( নিবরাস , পৃষ্ঠা ৩৫২ ) । ইতিমধ্যে ধোঁয়া সমস্ত পৃথিবীকে আচ্ছন্ন করে ফেলবে । ফলে মুসলমানগণ স্নায়ু দুর্বলতা ও সর্দিতে আক্রান্ত হবে আর মুনাফিক ও কাফিররা সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়ে থাকবে । এ অবস্থা চল্লিশ দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে । তারপর পৃথিবী ধোয়ামুক্ত হবে । 


পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয় ও তাওবার দরজা বন্ধ।

বিভিন্ন হাদীসের আলোকে বুঝা যায় যে ' দাব্বাতুল আরদ ' প্রকাশের কিছু পূর্বে কিংবা তার পর পরই সিঙ্গায় ফুৎকারের আগে পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদয়ের ঘটনা ঘটবে । এ অস্বাভাবিক ঘটনার পর থেকে কোন কাফিরের ঈমান কিংবা ফাসিকের তাওবা কবূল হবে না । 

ফলে ঈমানদারগণ সতর্কিত হয়ে রাতভর আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করবেন । এই রাতের পর সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হয়ে আবার পশ্চিম দিকেই অস্তমিত হবে । পরের দিন থেকে পুনরায় স্বাভাবিকভাবে পূর্ব দিক থেকেই সূর্যোদয় হতে থাকবে । 

এর কিছু দিন পরেই কিয়ামত সংঘটিত হবে । ( নিবরাস , পৃষ্ঠা -৩৫২ ) কুরআনের অক্ষর বিলোপ পশ্চিম দিকে সূর্যোদয় হতে দেখে আতংকগ্রস্থ মানুষ দেখতে পাবে কুরআনে কোন অক্ষর নেই , শুধু সাদা কাগজই অবশিষ্ট রয়েছে । তখন তারা তাদের পাপ কার্যের জন্য অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর নিকট তাওবাহ করতে চাইবে । এ সময় এক অদৃশ্য আওয়াযের মাধ্যকে তাদেরকে জানিয়ে দেয়া হবে , তোমাদের তাওবাহর দরজা বন্ধ হয়ে গেছে । কারও তাওবাহ আল্লাহ এখন কবুল করবেন না । 



দাব্বাতুল আরদ নামক অদ্ভুত একটি প্রাণী।

এ সম্পর্কে আলোচনা واذا وقع القول عليهم أخرجنا لهم كابة من الأرض تكلمهم أن ২৫ الناس كانو بأياتنا لأيوقنون “ যখন ঘোষিত শাস্তি তাদের নিকট আসবে তখন আমি মাটিগর্ভ থেকে এক জন্তু নির্গত করব । এ জন্তু মানুষের সাথে কথা বলবে , এই জন্য যে , তারাবআমার নিদর্শনে ছিল সম্পূর্ণ অবিশ্বাসী ” । ( ২৭ঃ নামল ২৮ নং আয়াত ) কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার আগে বায়তুল্লাহ্ শরীফের পূর্বদিকে অবস্থিত সাফা পর্বত ভুমিকম্পে ফেটে যাবে এবং সেখান থেকে বিচিত্র আকৃতির এক অদ্ভুত জন্তু বের হয়ে আসবে । 


এই অদ্ভুত জন্তুটির মুখমন্ডলের আকৃতি মানুষের ন্যায় , পা উটের ন্যায় , ঘাড় ঘোড়ার ন্যায় , লেজ চিলের ন্যায় , নিতম্ব হরিণের নিতম্বের ন্যায় , শিং বহুশাখা বিশিষ্ট হরিণের শিং এর ন্যায় এবং হাত বানরের হাতের ন্যায় হবে । উক্ত জন্তুটি অত্যন্ত বাকপটু হবে এবং উচ্চমানের ভাষায় কথা বলবে । 

তা সমস্ত শহরে এত দ্রুত গতিতে বিচরণ করবে যে , কেউ তার নাগাল পাবে না । অথচ কোন মানুষ এর নাগালের বাইরেও থাকবে না । 


তার নিকট হযরত মূসা ( আঃ ) -এর লাঠি থাকবে । সেই লাঠির দ্বারা সে মু'মিনদের স্পর্শ করবে । এতে তাদের মুখমন্ডল উজ্জ্বল হয়ে উঠবে এবং সকলেই তাদেরকে মু'মিন বলে চিনতে সক্ষম হবে । আর সুলায়মান ( আঃ ) এর আংটির দ্বারা কাফিরদের নাকের উপর ' কাফির ' শব্দ শীল করে দেবে । 


ফলে সকলেই তাদেরকে কাফির বলে চিনতে পারবে ( আলামাতে কিয়ামত ) দক্ষিণের বায়ু ‘ দাব্বাতুল আরদ ' অদৃশ্য হওয়ার পর দক্ষিণ দিক থেকে এক প্রকার বায়ু প্রবাহিত হবে । এই বায়ুর প্রভাবে মু'মিনগণ কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়বেন এবং এরপর থেকে তারা একে একে দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে থাকবেন । তারপর  পৃথিবীতে নিগ্রো দলের আধিপত্য কায়িম হবে । 


তারা কা'বা শরীফ ধ্বংস করবে এবং হজ্জ পালন বন্ধ করে দিবে । মানুষের জীবন থেকে লজ্জা সম্ভ্রম সম্পূর্ণ বিদায় নিবে । রাস্তায় - ঘাটে প্রকাশ্যে যিনা - ব্যভিচার ছড়িয়ে পড়বে । মানুষের মধ্যে হানাহানি , মারামারি মাত্রাধিকভাবে বৃদ্ধি পাবে । দুর্ভিক্ষ , মহামারী , হত্যা , লুণ্ঠন একের পর এক হতে থাকবে ।

 পৃথিবীতে ‘ আল্লাহ ’ শব্দ বলার মত কেউই আর অবশিষ্ট থাকবে না । মহা অগ্নিশিখা সে সময় দক্ষিণ দিক থেকে একটি মহা অগ্নিশিখা প্রকাশিত হয়ে মানুষকে ধাওয়া করতে শুরু করবে । লোকজন অগ্নিশিখার ভয়ে ক্রমে উত্তর দিকে গিয়ে জড়ো হবে । কিয়ামত অতি নিকটবর্তী হওয়ার এটিই হল সর্বশেষ নিদর্শন । 



মহা প্রলয়ের পদধ্বনি ( সিঙ্গায় ফুৎকার )।

 চরম পাপাচার ও অশান্ত অবস্থায় পৃথিবী কিছুকাল এভাবে চলবে । অবশেষে একদা একটি আওয়াজ শোনা যাবে এই আওয়াজ ক্রমে মৃদু থেকে ধীরে ধীরে প্রচন্ডতর হতে থাকবে এবং সর্বত্র একই রকম শোনা যাবে এটিই সে শিঙ্গার ফুৎকার ।

আওয়াজটি কোথা থেকে আসছে তা নির্ণয় করা যাবে না । কিন্তু তার কর্কশ ও রুঢ়তা ক্রমশ ভয়াবহ আকার ধারণ করলে মানুষ ঘরবাড়ী ছেড়ে মাঠের দিকে ছুটবে । আওয়াজের ভীতিকর অবস্থা বনবাদাড়ের জীব জন্তুদেরকেও মাঠের দিকে নিয়ে আসবে । 

সমুদ্র স্ফীত হয়ে নিকটবর্তী স্থান সমূহ নিমজ্জিত করে দিবে । পাহাড়গুলো বাতাসের সাথে ধূনিত তুলোর ন্যায় উড়তে থাকবে । এদিকে সিঙ্গার আওয়াজও বৃদ্ধি পেতে থাকবে । তখন আকাশ ফেটে যাবে । গ্রহ নক্ষত্রগুলো বিক্ষিপ্তভাবে এদিক ওদিক পড়তে থাকবে । 

এ অবস্থা ছয়মাস চলবে । আকাশ , বাতাস , গ্রহ , নক্ষত্র , পাহাড় , পর্বত , সাগর , মহাসাগর সবকিছু সম্পূর্ণ ফানা হয়ে যাবে । এক পর্যায়ে ফিরিশ্তাদেরও মৃত্যু ঘটবে । আল্লাহ পাকের আরশ্ , কুরসী , লাওহ - কলম , জান্নাত জাহান্নাম , সিঙ্গা ও রূহ্ সমূহ ব্যতিরেকে সকল কিছু ধ্বংস হয়ে যাবে । ইরশাদ হয়েছে- القارعة ما القارعة وما أدراك ما القارعة يوم يكون الناس كالفراش المبثوث وتكون الجبال كالعهن المنفوش - " মহাপ্রলয় কি ? মহাপ্রলয় সম্বন্ধে তুমি কি জান ? সেদিন মানুষ হবে বিক্ষিপ্ত পতঙ্গের মত । আর পর্বতগুলো হবে ধূনিত রঙ্গীন পশমের মত ( ১০১৪ কারিয়া ৫ নং আয়াত ) 



বিশেষ আলোচনা। রোজার ফযীলত ও উপকারিতা।

 রোযার ফযীলত ও উপকারিতা অনেক । হাদীসে এ সম্বন্ধে বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে । বুখারী শরীফে বর্ণিত এক হাদীসে আছে : عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول اللہ ﷺ قال الصيام جنة فلا يرفث ولا يجهل وإن أمرؤ قاتله أوشاتمه فليقل اني صائم مرتين والذي نفسي بيده لخلوف فم الصائم أطيب عند الله تعالى من ربح المسك يترك طعامه وشرابه وشهوته من أجلي - الصيام لي وانا أجزي به والحسنة بعشر أمثالها হযরত আবূ হুরায়রা ( রা . ) থেকে বর্ণিত । রাসূলুল্লাহ ( সা ) বলেন : রোযা ঢাল স্বরূপ ।

 সুতরাং রোযা অবস্থায় যেন অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকে এবং অজ্ঞ মূর্খের মত কোন কাজ না করে । কেউ যদি তার সাথে ঝগড়া - ফাসাদ করতে চায় , অথবা গালি দেয় , তবে সে যেন দুইবার বলে , আমি রোযাদার । ঐ সত্তার শপথ যাঁর নিয়ন্ত্রণে আমার প্রাণ , অবশ্যই রোযাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর নিকট মিকের ঘ্রাণের চেয়েও অধিক উৎকৃষ্ট । 


সে আমারই জন্য পানাহার এবং কাম প্রবৃত্তি পরিত্যাগ করে । রোযা আমারই জন্য , তাই এর পুরস্কার আমি নিজেই দান করব । আর প্রত্যেক নেককাজের বিনিময় দশগুণ এব অপর এক হাদীস আছে : عن سهل رضي الله عنه عن النبي ﷺ قال قال إن للجنة بابا يقال له الريان يدخل منه الصائمون يوم القيامة لا يدخل منه أحد غيرهم يقال ابن الصائمون فيقومون لا يدخل منه أحد غيرهم فاذا دخلوا أغلق فلم يدخل منه أحد .  সাওম বা রোযা ২৯৯ হযরত সাহল ( রা ) থেকে বর্ণিত । নবী কারীম ( সা ) বলেন , জান্নাতের মধ্যে রায়্যান নামক একটি দরজা আছে । এ দরজা দিয়ে কেবলমাত্র কিয়ামতের দিন রোযাদার লোকেরা প্রবেশ করবে । তাদের ছাড়া আর কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না । 


ঘোষণা দেওয়া হবে , রোষাদার লোকেরা কোথায় , তখন তারা দাঁড়াবে । তাদের ছাড়া আর কেউ . এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে না । তাদের প্রবেশের পরই দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে । যাতে এ দরজা দিয়ে আর কেউ প্রবেশ না করে । * হযরত আবদুল্লাহ ইবন আমর ( রা ) থেকে বর্ণিত । রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) বলেন : রোযা এবং কুরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে । 


রোষা বলবে , হে আমার রব ! আমি তাকে দিনের বেলা পানাহার ও যৌনক্রিয়া থেকে বিরত রেখেছি । তার সম্পর্কে আমার সুপারিশ কবুল করুন । কুরআন বলবে , আমি তাকে রাতে নিদ্রা থেকে বিরত রেখেছি । তার সম্পর্কে আমার সুপারিশ কবূল করুন । তখন এদের সুপারিশ কবুল করা হবে । রোযার মধ্যে অনেক উপকারিতা নিহিত আছে ।



এগুলো সম্বন্ধে মাওলানা আশরাফ আলী থানভী ( র ) “ আহকামে ইসলাম আকল কী নযর মেঁ ” নামক গ্রন্থে দীর্ঘ আলোকপাত করেছেন । এর মধ্য থেকে কতিপয় বিষয় নিম্নে উল্লেখ করা হল : ১. রোযাদ্বারা প্রবৃত্তির উপর আলের পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয় । অর্থাৎ এরদ্বারা মানুষের পাশবিক শক্তি অবদমিত হয় এবং রূহানী শক্তি বৃদ্ধি পায় । 


কেননা ক্ষুধা ও পিপাসার কারণে মানুষের জৈবিক ও পাশবিক ইচ্ছা হ্রাস পায় । এতে মনুষ্যত্ব জাগ্রত হয় এবং অন্তর বিগলিত হয় মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের প্রতি কৃতজ্ঞতায় । ২. রোযার দ্বারা মানুষের অন্তরে আল্লাহর ভয় - ভীতি এবং তাওয়ার গুণ সৃষ্টি হয় । এ কারণেই আল্লাহ্ তা'আলা বলেছেন : SKw " যাতে তোমরা তাওয়ার গুণ অর্জন করতে সক্ষম হও । " ৩. রোযার দ্বারা মানুষের স্বভাবে নম্রতা ও বিনয় সৃষ্টি হয় এবং মানব মনে আল্লাহর

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post