অসুস্থ অবস্থায় স্বপ্নদোষ হলে করণীয়। মেয়েদের খোপা বেঁধে গোসলের হুকুম। গোসলের পর অযু। এ-সংক্রান্ত আলোচনা।

 অসুস্থ অবস্থায় স্বপ্নদোষ হলে করণীয়।মেয়েদের খোপা বেঁধে গোসলের হুকুম।গোসলের পর অযু। এসংক্রান্ত আলোচনা। 


অসুস্থ অবস্থায় স্বপ্নদোষ হলে করণীয়। 


অসুস্থ অবস্থায় স্বপ্নদোষ হলে করণীয়।

 যদি কারো শরীর খুব খারাপ থাকে সে সময় গোসল করতে তার মন চায় না বা গোসল করা তার পক্ষে সম্ভব নয় । তখন যদি তার স্বপ্নদোষ হয় , তাহলে সে কি করবে ?

কারো স্বপ্নদোষ হলে , তার উপর গোসল করা ফরয তার মনে চায় বা না চায় , তাকে গোসল করতে হবে । তবে যদি কারো অবস্থা এমন হয় যে , তার গোসল করার দ্বারা রোগ হওয়ার বা তার রোগ বেড়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা হয় , তাহলে সেক্ষেত্রে সে তায়াম্মুম করে নাপাক কাপড়াদি বদলিয়ে নামায ইত্যাদি যথাসময়ে আদায় করবে । ( প্রমাণ  ঃ কুদুরী , ফাতাওয়া আলমগীরী , ১ ) 

মেয়েরা চুল বেনী লাগিয়ে বা খোপা বেঁধে গোসল করলে গোসল কী শুদ্ধ  হবে ?

গোসল ফরয হলে গোসলে সমস্ত শরীরে পানি পৌঁছানো করব । মেয়েদের ফরয গোসলের সময় চুল বেনী পাকানো বা খোঁপা বাঁধা থাকলে সেক্ষেত্রে চুলের গোড়াতে পানি পৌঁছলেই গোসল হয়ে যাবে । বেনী বা খোঁপা খোলার প্রয়োজন নেই । তবে এক্ষেত্রে চুলের গোড়াতে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পানি পৌঁছাতে হবে । আর পুরুষদের চুলে বেনী বা খোপা থাকলে , ফরয গোসলে তা খুলে গোসল করা জরুরী । পুরুষদের বেনী না খুলে শুধু চুলের গোড়াতে পানি পৌছালেই যথেষ্ট হবে না বা গোসল আদায় হবে না । ( প্রমাণ  ঃ ফতহুল কাদীর , ১ : ৫২ / ফাতাওয়া আলমগীরী , ১ : ২৩ )

গোসলের পর অযু। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা। 

 কোন ব্যক্তি গোসল করল , সেই গোসলের আগে বা পরে অযু না করে উক্ত গোসল দ্বারাই কি নামায আদায় করা সহীহ হবে ? উত্তর : হ্যাঁ , সহীহ হবে , ফরয , ওয়াজিব , সুন্নত বা মুস্তাহাব যে কোন প্রকারেরই গোসল হোক না কেন , সে গোসলের আগে বা পরে অযু করা ছাড়াই উক্ত গোসল দ্বারা নামায পড়া , কুরআন স্পর্শ ইত্যাদি সবই জায়েয হবে । 


কেননা , গোসল করার দ্বারাই পবিত্রতা অর্জন হয় এবং অযুর সকল ফরয আদায় হয়ে যায় । তবে গোসলের সময় অযু না করলে গোসলের মুহূর্তে অযুর নিয়ত না থাকায় নিয়তের সুন্নাত আদায় হচ্ছে না বিধায় সে অবস্থায় গোসলের পর পুনঃ অযু করা মুস্তাহাব । কিন্তু গোসলের সময় অয়ু করলে / অম্বুর নিয়ত করলে , পুনঃ আবার অযু করা অপচয় ও মাকরূহ হবে । ( প্রমাণ ৪ হিদায়া , ১১৯,২০ , ফাতাওয়া দারুল উলুম ১৪১৩৪ , ৩১৭ , ১৩৯ , নূরুল ইজাহ , ৬ )


বিশেষ আলোচনা। ইসলাম মানুষের স্বভাবজাত ধর্ম।

 ইসলাম মানুষের স্বভাবজাত ধর্ম — দীনে ফিত্রাত । আল্লাহ্ তা'আলা মানুষকে যে সহজাত প্রকৃতি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন , তা - ই হল ‘ ফিত্রাত ' । হাদীস শরীফে বর্ণিত রয়েছে : প্রতিটি শিশুই সহজাত প্রকৃতি তথা ইসলামের উপর জন্মগ্রহণ করে । كل مولود يولد على الفطرة . এখানে ফিাত বা ইসলামের কথা উল্লেখ করে হিদায়াত গ্রহণের যোগ্যতার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে । এ কারণেই প্রতিটি মানুষের মধ্যে উচ্চতর শক্তির সামনে আত্মসমর্পণের সহজাত প্রেরণা পরিলক্ষিত হয় । 

ভক্তি আপুত হৃদয়ে সে নিজেকে একান্ত করে সঁপে দিয়ে পেতে চায় আত্মিক পরম তৃপ্তি । এ সুপ্ত প্রেরণা - জবাকে বাস্তবে রূপায়িত করতে গিয়ে কখনও কখনও মানুষ হয়েছে দিভ্রান্ত । কেউ তো চন্দ্র - সূর্যকে মহাশক্তি মনে করে সেগুলোর কাছে মাথানত করেছে । কেউবা আগুনের পূজা করেছে । আবার কেউ নিজের চাইতে অধিকতর শক্তিমান মানুষের পূজায় আত্মনিয়োগ করেছে । কখনো তারা নিজেদের কল্পিত দেব - দেবীর মূর্তি তৈরি করে সেগুলোর সামনে নতশির হয়েছে । আবার কখনো অহংকার স্ফীত হয়ে নিজেকে প্রভু বলে ঘোষণা করেছে । 


এক কথায় মানবতার ক্রমবিকাশের সকল স্তরে এ সহজাত প্রেরণা মানুষের মধ্যে বিদ্যমান ছিল । এক মুহূর্তের জন্যও মানুষ এর থেকে মুক্ত হতে পারেনি । পক্ষান্তরে মানুষের এ সহজাত প্রেরণার চাহিদা এটাই ছিল যে , মানুষ এমন এক মহান ও শাশ্বত সত্তার সামনে নিজেকে উৎসর্গিত করবে যিনি সকল শক্তি , সকল ক্ষমতা ও সৌন্দর্যের উৎস ; মানুষের জ্ঞান -

 বুদ্ধির সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে যাঁর অবস্থান , যিনি মানুষের সকল দাবি ও চাহিদা পূরণে এবং তাদের সহজাত প্রেরণা ও উচ্ছ্বাসকে তৃপ্ত করতে সক্ষম । এই পূর্ণতম সত্তাই হলেন মহান রাব্বুল আলামীন — সারা জাহানের পালনকর্তা । আল - কুরআনে মানুষের এ সুপ্ত প্রেরণাকে তৃপ্ত করার লক্ষ্যে ঘোষণা করা হয়েছে : فاقم وجهك للدين حنيفا فطرت الله التي فطر الناس عليها لأتبديل لخلق الله ذلك الدين القيم ولكن أكثر الناس لا يعلمون . তুমি একনিষ্ঠ হয়ে নিজেকে দীনে প্রতিষ্ঠিত কর ।

 আল্লাহর ফিাত তথা প্রকৃতির অনুসরণ কর , যে প্রকৃতি অনুযায়ী তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন , আল্লাহর সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নেই । এটাই সরল দীন ; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না । ( সূরা রূম , ৩০ : ৩০ ) ইসলাম আল্লাহর মনোনীত একমাত্র দীন ও পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা হযরত মুহাম্মদ ( সা ) আল্লাহ্ তা'আলার আখেরী নবী । কুরআন তাঁর প্রতি নাযিলকৃত আখেরী কিতাব । 




মহানবী ( সা ) -এর আগমনের পর পূর্ববর্তী শরী'আত ও কিতাব সবই রহিত হয়ে গেছে । এরপর আর কোন নবী আসবেন না এবং কোন কিতাবও নাযিল হবে না । যাঁরা এ আকীদা পোষণ করবেন তাঁরা মুসলিম । আর যারা এ আকীদা পোষণ করবে না , তারা অমুসলিম - কাফির । ইসলাম পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা । এতে কোন খুঁত নেই , নেই কোন অপূর্ণতা । আল - কুরআনে ইরশাদ হয়েছে : . اليوم أكملت لكم دينكم واتمم عليكم نعمتی ورضیت لکم الاسلام دينا আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীন পূর্ণাঙ্গ করলাম ও তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দীন মনোনীত করলাম । ( সূরা মায়িদা , ৫ : কুরআন মাজীদে আর ও ইরশাদ হয়েছে :।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post