একাধিক স্ত্রীর সাথে মিলনের পর গোসল।সহবাসের পর তায়াম্মুম।বিবস্ত্র হয়ে গোসল করার হুকুম।ফজরের আগে গোসল।
![]() |
| একাধিক স্ত্রীর সাথে মিলন। |
একাধিক স্ত্রীর সাথে সহবাসের পর গোসল। বিধিনিষেধ।
যদি কেউ একাধিক স্ত্রীর সাথে পর্যায়ক্রমে দৈহিক মিলনে লিপ্ত হয় , তাহলে সর্বশেষে একবার গোসল করলেই হবে কি ? নাকি প্রতিবার মিলনের পর গোসল করতে হবে ?
সর্বশেষে একবার গোসল করে নিলেই হবে । তবে প্রতিবার মিলনের পর লজ্জাস্থান ভালভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করা সহ অজু করে নেয়া উত্তম । ( প্রমাণঃ ফাতাওয়া আলমগীরী , ১৪১৫ / আহসানুল ফাতাওয়া , ২:৩৫ )
বিবস্ত্র হয়ে গোসল গোসলখানায় একাকী উলঙ্গ হয়ে গোসল করা জায়েয আছে কি ?
চারিদিকে ঘেরা গোসলখানা যেখানে অন্য কারো দৃষ্টি পড়তে পারে না , সেখানে বস্ত্রহীন অবস্থায় গোসল করা জায়েয আছে , তবে বিনা ওজরে এমন ভাবে গোসল করার অভ্যাস করা নির্লজ্জতা ও রুচিবোধের পরিপন্থী বিষায় তা না করা ভাল । ( প্রমাণ : ফাতাওয়া আবদুল হাই , ১৪ ১৬৫ ফাতাওয়া দারুল উলূম , ১৪১৩৪ )
মিলনের পর পবিত্রতা অর্জন অনেছি- স্বামী - স্ত্রীর মিলনের পর সাথে সাথে তায়াম্মুম করতে হবে । তা না করলে সাতশত নদীর পানি দিয়েও গোসল করলে গোসল হবে না । কথাটুকু ঠিক কিনা ? গোসল না করে ফ্লোরে হাঁটলে কি ফ্লোর নাপাক হয়ে যাবে ?
মিলনের পর তায়াম্মুম করতেই হবে এমন কোন কথা নেই । ভায়াম্মুম না করলে গোসল হবে না - এ কথাও ঠিক নয় । তবে গোসল করতে বিলম্ব হলে তাৎক্ষণিক লজ্জাস্থান ধুয়ে অজু বা তায়াম্মুম করে নেয়া মুস্তাহাব বলে কথা রয়েছে । গোসল না করে ফ্লোরে হাঁটলে ফ্লোর নাপক হবে না । ।
ফজরের আগে গোসল।কিছু দিকনির্দেশনা।
ফরয গোসল কি ফজরের আজানের পূর্বে করতে হবে ? রমজান মাসে সাহরীর আগে গোসল করতে হবে , নাকি সাহরী খেয়ে ফরয গোসল করতে হবে?
ফরয গোসল ফজরের আজানের পূর্বে করা জরুরী নয় , তবে ফজরের সময়ের ভিতর অবশ্যই করতে হবে । ফজরের নামাযের ওয়াক্তের ভিতরে গোসল শেষ করে ফজরের নামায আদায় করে নিতে হবে । অলসতা করে কোন ক্রমেই যেন ফজরের নামায কাজা না হয় , সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে । সাহরী খেয়েও গোসল করা যাবে । ( প্রমাণ : ফাতাওয়া আলমগীরী ; ১ : ২০৪ )
বিশেষ আলোচনা। ইসলাম শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম।
ইসলাম শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম ইসলাম নিজেদের মত অন্যদেরকেও ভালবাসতে উদ্বুদ্ধ করে । ইসলাম মানুষকে নিজের স্বজনের স্বদেশের তথা বিশ্ববাসীর কল্যাণের জন্য সক্রিয় ভূমিকা পালনে ও ত্যাগ স্বীকারের প্রেরণা যোগায় । আর তাতেই বিশ্ববাসীর জীবনধারায় নেমে আসে প্রশান্তি এবং বিদূরিত হয়ে অশান্তি , হিংসা , বিদ্বেষ এবং হানাহানি ।
ইসলামের শিক্ষা হল , মানুষে মানুষে কোন ভেদাভেদ নাই । সাদা - কালো সকল মানুষই আল্লাহর বান্দা । সমগ্র মানবজাতি একই পরিবারভুক্ত । রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) বলেন : الخلق عيال الله সকল সৃষ্টি আল্লাহর পরিবারের ন্যায় । বস্তুত মানব জাতি একটি দেহের মত ।
কেননা আমরা সকলেই আদম ও হাওয়া ( আ ) -এর সন্তান । আল - কুরআনে ইরশাদ হয়েছে : يايها الناس انا خلقنكم من ذكر وأنثى وجعلنكم شعوبا وقبائل لتعارفوا إن أكرمكم ع له أتقكم ان الله عليم خبير الله أن হে মানুষ ! আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক স্ত্রী হতে , পরে তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে , যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পার । তোমাদের মধ্যে আল্লাহর নিকট সে ব্যক্তিই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে অধিক মুত্তাকী ।
নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সব কিছু জানেন , সমস্ত খবর রাখেন । ( সূরা হুজুরাত , ৪৯:১৩ ) মানুষের দৈনন্দিন জীবন যাপনে প্রাণী ও প্রাকৃতিক সম্পদ আবশ্যক । তাই পৃথিবীতে শান্তি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে ইসলাম শুধু মানুষের প্রতিই সদয় ব্যবহারের নির্দেশ দেয়নি , উপরন্তু প্রাণীর পরিচর্যা , প্রাকৃতিক সম্পদ ও উদ্ভিদের যথার্থ ব্যবহার সম্পর্কেও ইসলাম গুরুত্ব আরোপ করেছে ।
রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) বলেছেন : الرحمون يرحمهم الرحمن ارحموا من في الأرض يرحمكم من في السماء . যারা দয়া করে , দয়াময় আল্লাহ্ তাদের প্রতি দয়া করেন । তোমরা পৃথিবীবাসীদের প্রতি দয়া কর , তাহলে আকাশবাসী ( আল্লাহ্ ) তোমাদের প্রতি দয়া করবেন । ( তিরমিযী ও আবূ দাউদ ) হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন আব্বাস ( রা ) থেকে বর্ণিত , একদা তিনি রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) -এর সঙ্গে আরাফা হতে মুযদালিফার দিকে যাচ্ছিলেন । তখন নবী কারীম ( সা ) তাঁর পিছনে উট হাঁকানো এবং প্রহারের আওয়াজ শুনতে পেলেন ।
তিনি তাদের দিকে ফিরে চাবুক দিয়ে ইশারা করে বললেন : হে লোকসকল ! তোমরা ধীর - স্থিরভাবে চল । কেননা উট দৌড়িয়ে নিয়ে যাওয়া কোন নেকীর কাজ নয় । ( মিশকাত , হজ্জ অধ্যায় ) মোটকথা সমস্ত সৃষ্টি জড় , অজড় , প্রাণী ও প্রকৃতি সকলেই ইসলামের উদারতায় উদ্ভাসিত । ইসলাম শুধু বিশ্বাসভিত্তিক ধর্ম নয় ; বরং তা বিশ্বাস ও কর্মের এক সুষম সমন্বয়ের বাস্তব অভিব্যক্তি ।
সে জন্যই বৈরাগ্য ইসলামে নিষিদ্ধ । রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) ইরশাদ করেন : لا رهبانية في الاسلام ইসলামে বৈরাগ্যের স্থান নেই । এ হাদীসের এ বাণী প্রতিটি মানুষকে নিজের জন্য , আত্মীয় - স্বজনের জন্য , পরের জন্য , দেশের জন্য , জাতির জন্য তথা বিশ্বের জন্য কর্মে উদ্বুদ্ধ করে । কর্মই মূলত মানুষের মানবীয় পরিচয় বিকাশের এবং মনুষত্ব প্রকাশের সুযোগ এনে দেয় । কাজেই প্রত্যেক মুসলমানকে তার নিত্যদিনের চিন্তা - কর্মে এ কথা প্রমাণ করতে হবে যে , সে আল্লাহর বান্দা এবং নবীজীর উম্মাত । আল - কুরআনে ইরশাদ হয়েছে।
