প্রিয়নবী এর দুধমা হালীমা সাদিয়া। মহীয়সী এই নারীর মুখে শুনুন মহানবীর অলৌকিকভাবে বেড়ে ওঠার গল্প।

প্রিয়নবী এর দুধমা হালীমা সাদিয়া। মহীয়সী এই নারীর মুখে শুনুন মহানবীর অলৌকিকভাবে বেড়ে ওঠার গল্প।

হযরত হালিমা সাদিয়া রাঃ।


 ব্যক্তিত্বসম্পন্না , রাশভারী এই মহীয়সী নারী প্রতিটি মুসলিমের কাছে সম্মানীয়া ... প্রত্যেক মুমিনেরই প্রিয়পাত্রী কারণ , তাঁর পবিত্র স্তন থেকেই দুধপান করেছেন ভাগ্যবান শিশু মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম । তাঁর স্নেহ ও ভালবাসাপূর্ণ বুকের ওপর ঘুমিয়েছেন ... তাঁর মাতৃমমতা - উপচে - পড়া কোলে তিনি বেড়ে উঠেছেন তিনি তাঁর ও কওম বানূ সা'আদের স্পষ্ট ও মিষ্টি ভাষা থেকে উপকৃত হয়েছেন ফলে তিনি হয়েছিলেন আরবের সর্বশ্রেষ্ঠ স্পষ্টভাষী ভাষা - অলঙ্কার ও বাগ্মিতায় সর্বোত্তম ব্যক্তি তিনিই জগদ্বিখ্যাত মহীয়সী হালীমা সা'দিয়া , আমাদের প্রিয়নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দুধমা । 


*** মুবারক শিশুটিকে— যে শিশু জগৎকে ভরপুর করে দিয়েছিল সদাচার ও করুণায় ... পূর্ণ করেছিল মহত্ত্ব ও দিক নির্দেশনায় সজ্জিত করেছিল নৈতিকতা ও মর্যাদার অলঙ্কারে তাকে সা'আদ গোত্রীয় মহীয়সী হালীমার দুধপান করানোর পেছনে রয়েছে এক চমৎকার কাহিনী , যা তিনি তুলে ধরেছেন মনের মাধুরী মেশানো চিত্তাকর্ষক বর্ণনায় উত্তম। হযরত হালীমা সা'দিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন : আমি ও আমার স্বামী আমাদের শিশুপুত্রকে নিয়ে মক্কার উদ্দেশ্যে বাড়ী থেকে বের হলাম দুধপানকারী কোন শিশুবাচ্চার খোঁজে , আমাদের সঙ্গে ছিল আমার কওম বানূ সা'আদের আরো অনেক মহিলা , যারা বেরিয়েছিলেন আমার মত একই উদ্দেশ্যে । 


সেটা ছিল এক খরাকবলিত দুর্ভিক্ষের বছরে যা ধ্বংস করে দিয়েছিল ফসল দুধশূন্য করে দিয়েছিল পশুর ওলান , সেই দুর্ভিক্ষ আমাদের কিছুই রাখল না অক্ষত । এলোমেলো করে দিল সব । আমাদের ছিল বয়স পেরিয়ে যাওয়া শীর্ণ দুইটি উষ্ট্রী , যাদের থেকে পেতাম না এককাতরা দুধ । একটিতে চড়লাম আমি ও আমার ছোট্ট শিশু আমার স্বামী চড়লেন অন্যটিতে । 


আমার উষ্ট্রীটি ছিল অধিক বয়স্কা এবং বেশি দুর্বল । আল্লাহর কসম করে বলছি , সে সময় রাতে আমরা একমুহূর্তও ঘুমাতে পারতাম না তীব্র ক্ষুধার যন্ত্রণায় আমাদের শিশুপুত্রের বিরামহীন কান্নার কারণে । কেননা আমার বুকের সামান্য দুধে তার পেট ভরত না আমাদের দুটি উষ্ট্রীর ওলানেও তাকে খাওয়ানোর মত কোন দুধ ছিল না আমাদের শীর্ণকায় বাহনের ধীর ও মন্থর গতির কারণে আমরা কাফেলা থেকে পড়ে যাচ্ছিলাম পিছে । 


সফরের সঙ্গীরা রুষ্ট ও বিরক্ত হচ্ছিলেন আমাদের প্রতি আমাদের কারণে তাদের অবিরাম যাত্রা হয়ে যাচ্ছিল কষ্টকর । আমরা পৌঁছে গেলাম মক্কায় এবং প্রত্যেকেই খুঁজতে লাগলাম দুগ্ধপোষ্য শিশু Iপ্রত্যেক দাইয়ের কাছে পেশ করা হল শিশু মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহকে বাদ দেয়া হল না কাউকেই । কিন্তু তাকে গ্রহণ করতে রাজি হলাম না আমরা কেউই । কেননা সে এতিম - পিতৃহীন । আমরা মনে মনে ভাবছিলাম পিতৃহীন শিশুর মা কী দেবে আমাদের ?! কীইবা পাব আমরা তার দাদার কাছ থেকে ?! *** এরপর মাত্র দু'দিনের মধ্যেই আমার সকল সঙ্গিনী একটি করে দুধপানকারী শিশু যোগাড় করে ফেলল কিন্তু আমার ভাগ্যে জুটল না কেউ আমাদের বাড়ী ফেরার ভাবনা যখন চূড়ান্ত হয়ে গেল , আমি পড়ে গেলাম অভাবনীয় এক ভাবনায় । 


আমি বললাম আমার স্বামীকে দেখ , এইভাবে কোন শিশু ছাড়া খালি হাতে ফিরে যাওয়া এবং চরম অভাব ও দারিদ্রের মধ্যে নিজেদের ঠেলে দেওয়া আমার ভাল লাগছে না । তাছাড়া আমার সঙ্গিনী প্রত্যেক মহিলাই একটি করে শিশু সঙ্গে নিয়ে ফিরছে 1 অতএব , আমি যাচ্ছি এতিম বাচ্চাটির কাছে , তাকে নিয়েই আমি ফিরব । স্বামী সমর্থন করে বললেন- কোন অসুবিধা নেই , যাও , তাকেই নিয়ে এসো , হয়ত এতেই আল্লাহ দান করবেন কল্যাণ ও বরকত ।


 আমি গেলাম পিতৃহীন সেই শিশুর মায়ের কাছে এবং ফিরে আসলাম তাকে নিয়ে আল্লাহর কসম ! তাকে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র আর কোন শিশু না পাওয়ার কারণেই নিলাম । * তাকে নিয়ে যখন ফিরলাম আমার কাফেলায় , তাকে বসালাম আমার কোলের মাঝে এবং তার মুখে পুরে দিলাম আমার স্তন , শূন্য ও দুধহীন সেই স্তন আল্লাহর ইচ্ছায় ভরপুর হয়ে উঠল শিশুটি খেয়ে পরিতৃপ্ত হল।এরপর খেল তার ভাই এবং সেও হল পরিতৃপ্ত । 


অতঃপর তারা দু'জনেই ঘুমিয়ে গেল । আমি এবং আমার স্বামী শুয়ে পড়লাম ঘুমানোর উদ্দেশ্যে । কারণ কিছুদিন যাবৎ শিশুপুত্রের ক্ষুধাজনিত কান্নার কারণে আমাদের কপালে ঘুমের সৌভাগ্য জোটে খুব সামান্যই । হঠাৎ আমার স্বামীর দৃষ্টি পড়ল আমাদের বয়স্কা ও শীর্ণকায় দু'টি উষ্ট্রীর প্রতি দেখা গেল তাদের ওলান দু'টি স্ফীত ও দুধে ভরপুর হয়ে পড়েছে ... তিনি বিস্ময়ভরা দৃষ্টিতে এগিয়ে গেলেন , নিজের চোখ দু'টিকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না । 


তিনি দুধ দোয়ালেন , পান করলেন । আবার আমার জন্য দোয়ালেন , তার সঙ্গে আমিও পান করলাম । আমরা দু'জনেই তৃপ্ত ও পরিতৃপ্ত হলাম । আমরা জীবনের সেরা সুখময় একটি রাত কাটালাম । প্রভাতে আমার স্বামী ডেকে বললেন হালীমা ! তুমি কি বুঝতে পেরেছ একটি মুবারক শিশু জুটে গেছে তোমার কপালে ? আমি তাকে বললাম তুমি একদম ঠিক বলেছ , আমার তো মনে হয় , আরো অনেক সুদিনেরই দেখা পাব এই ভাগ্যবান শিশুর মাধ্যমে ।


 *** এবার আমরা বাড়ী ফেরার উদ্দেশ্যে মক্কা থেকে বের হলাম , আমি চড়লাম আমাদের সেই বুড়ী ও দুর্বল উটনীর পিঠে " শিশুটিকেও নিলাম আমারই সঙ্গে দেখলাম সেই উষ্ট্রী চলছে এমন প্রফুল্ল গতিতে যে , কওমের সকল বাহনকে পিছে ফেলে সে হয়ে গেল অগ্রগামী । এমন কি কোন বাহনই আর আমাদের সঙ্গে তাল রাখতে পারল না । 


আমার সঙ্গিনীরা বলতে লাগল : আরে ও আবূ যুআইবের মেয়ে ! তুমি তো আমাদের অস্থির করে ছাড়লে , আমাদের কী সঙ্গে নেবে না ! এটাই কি সেই বুড়ী উটনী , আসার সময় যে সারা পথ আমাদের বিরক্ত করেছিল ? আল্লাহর কসম ! সেটাই এটা 1 তাহলে নিশ্চয়ই ওর কিছু হয়েছে । *** আমরা সা'আদ গোত্রের ভূমিতে নিজেদের বাড়ী পৌঁছে গেলাম । জানি না আল্লাহর জমিনে এর চেয়ে মারাত্মক দুর্ভিক্ষপীড়িত অঞ্চল আর আছে কি না । 


কিন্তু বিস্ময়কর ব্যাপার হলো , আমাদের মেষপাল প্রতিদিন সকালে খরাকবলিত চারণভূমিতে বেরিয়ে যেত , সারা বেলা চরে বেড়াত ; আবার সন্ধ্যায় ফিরে আসত । আল্লাহ তাআলার মেহেরবানীতে আমরা ইচ্ছামত সেগুলো দোয়াতাম , প্রাণ ভরে পরিতৃপ্তির সাথে দুধপান করতাম । অথচ অন্যরা তাদের মেষ পাল থেকে একফোঁটা দুধও দোয়াতে পারত না । এর ফলে আমার কওমের লোকেরা নিজেদের রাখালদের বলতে শুরু করল- তোমরা করটা কি হ্যাঁ ? 


হালীমার রাখালের সঙ্গে সঙ্গে থেকে মেষ চরাতে পার না ? নির্দেশমত রাখালেরা আমাদের মেষগুলোর আশপাশ দিয়েই চরাতে থাকল তাদের মেষপাল , তবে অবস্থার কোনই পরিবর্তন হল না , ক্ষুধার্তই থাকল তাদের মেষপাল । 


দিতে পারল না তাদের দুধের একটি ফোঁটাও অথচ আমরা আল্লাহর পক্ষ থেকে অব্যাহতভাবে বরকত ও কল্যাণ পেতেই থাকলাম । এমন সুখের মধ্যে এক এক করে ফুরিয়ে এল দুধ পান করানোর দু'বছর তার দুধ ছাড়ানো হল এই দুই বছরে শিশুটির শারীরিক - মানসিক বিকাশ ও বৃদ্ধি ঘটল এতই চমৎকারভাবে যা সাধারণত দেখাই যায় না আমাদের কাছে তার অবস্থানের এখনো দু’বছর পূর্ণ হয়নি , ইতিমধ্যে সে পরিণত হয়েছে শক্ত ও প্রাণোচ্ছল একশিশুতে।সেই সময়ে আমরা তাকে নিয়ে হাজির হলাম তার মায়ের কাছে , অথচ আমাদের তখন প্রচণ্ড ইচ্ছা তাকে কাছে রাখার , তীব্র কামনা আমাদের মাঝেই তাকে রেখে দেওয়ার , কারণ আমরা তার কারণে সৃষ্ট বরকত স্বচক্ষে দেখেছি । 


যখন মুখোমুখি হলাম তাঁর মায়ের আমরা তার শিশু পুত্রের ব্যাপারে আশ্বস্ত করে বললাম , আরো একটু বড় , আরো কিছুটা শক্ত হওয়া পর্যন্ত কি ওকে আমার কাছে রাখলে হয় না মক্কায় মহামারীর কারণে তার জন্য আমার ভয় হচ্ছে ... এভাবে উদ্বুদ্ধ করতেই থাকলাম , অবশেষে তিনি রাজি হয়ে আবার তাকে আমাদের কাছে দিয়ে দিলেন তাকে পেয়ে খুশিতে হাসতে হাসতে ফিরে এলাম *** শিশুটি পুনরায় আমাদের নিকট আসার পর মাত্র কয়েকমাস যেতে না যেতেই ঘটে গেল এমন এক ঘটনা যা আমাদের করে তুলল আতঙ্কিত করে দিল অস্থির - পেরেশান । 


আপাদমস্তক আমাদের নাড়িয়ে দিয়ে গেল । এক সকালে আমাদের ছোট্ট ভেড়ার পাল চরাতে সে তার ভাইয়ের সাথে বেরিয়ে গেল । ছিল আমাদের বাড়ীর পিছনেই । সামান্য একটু পরেই তার ভাই ছুটতে ছুটতে এসে বলল ‘ তোমরা ছুটে এসো , দেখো কুরাইশী ভাইয়ের কী হল , সাদা পোশাকের দু'টিলোক এসে তাকে মাটিতে শোয়ালো তার বুক চিরে ফেলল আমি ও আমার স্বামী এক দৌড়ে চলে গেলাম সেখানে , দেখলাম তার চেহারার রঙ ফ্যাকাশে , চোখে - মুখে ভীতির ছাপ আমার স্বামী ব্যাকুল হয়ে তার পাশে বসে পড়ল । আমি তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললাম- তোমার কী হয়েছে বাবা ? সে বলল- সাদা জামা পরা দু'টিলোক এসে আমাকে শোয়ালো , আমার বুক চিরে কি যেন খুঁজল । 


কিছুক্ষণ পর ছেড়ে দিয়ে চলে গেল । আমরা চিন্তায় ব্যাকুল হলাম , অস্থির ও শঙ্কিত হয়ে তাকে নিয়ে ফিরে এলাম । যখন আমরা বাড়ী পৌছালাম , দেখলাম আমার স্বামীর দু'চোখে অশ্রুর প্লাবন , বেদনার্ত আওয়াজে তিনি বললেন আমার ভয় হচ্ছে আমাদের এখানে না জানি এই মুবারক শিশুটির এমন কোন বিপদ ঘটে যায় যা প্রতিরোধের ক্ষমতা আমাদের নেই ... সে কারণেই আমি মনে করি তুমি তাকে পৌঁছে দিয়ে এসো তার পরিজনের কাছে । 


কারণ তারাই পারবে এ ধরণের যে কোন ব্যাপার সামাল দিতে । *** ছেলেটিকে নিয়ে আমরা রওনা হলাম । মক্কায় পৌঁছার পর হাজির হলাম তার মায়ের কাছে , তিনি আমাদের দেখলেন , প্রথমে পুত্রের চেহারায় তীক্ষ্ম পর্যবেক্ষণের দৃষ্টি বুলিয়ে সরাসরি আমাকে প্রশ্ন করলেন । কী ব্যাপার হালীমা ! এত আগ্রহ দেখিয়ে ; এত আকাঙ্খার কথা বলে ; যাকে চেয়ে নিয়ে গেলে আজ সেই মুহাম্মাদ ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) কে ফেরৎ দিতে দ্রুত চলে আসলে , কী হয়েছে ! আমি জবাব দিলাম , তার হাত - পা , হাড় - হাড্ডি মজবুত হয়ে গেছে ... 


তাছাড়া তার অনন্যোপায় শৈশব কালও পূর্ণ হয়ে গেছে ... আমার দায়িত্বের মেয়াদটাও প্রায় শেষ , আমি নানা ঘটনা - দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে নিরাপদ রাখার ইচ্ছায় তাকে আপনার নিকট ফেরৎ দিতে এসেছি ... তিনি বললেন- সত্যি করে বল হালীমা ! ওর ব্যাপারে তোমার আগ্রহ হারানোর আসল কারণ শুধু ঐটুকু নয় ; যা তুমি বললে , বল , আর কী হয়েছে ? তিনি পীড়াপীড়ি করতেই থাকলেন এবং যতক্ষণ তাকে আসল ঘটনাটি না বললাম কিছুতেই ছাড়লেন না , সব কিছু শুনে তবেই তিনি শান্ত হলেন । আমাকে প্রশ্ন করলেন সরাসরি হালীমা ! তার ওপর কি শয়তানী প্রভাবের আশঙ্কা হচ্ছে তোমার ? হ্যাঁ , আমি উত্তর দিলাম।

তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তা ও আত্মপ্রত্যয়ের সঙ্গে বললেন কখনোই সম্ভব নয় , আল্লাহর কসম ! শয়তান কোনভাবেই তার কাছে ঘেঁষতে পারবে না আমার এই পুত্রের বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য আছে ... তুমি কি সেটা জানতে চাও ? আমি বললাম- অবশ্যই জানতে চাই ...


 তিনি বললেন সে যখন আমার পেটে আসে তখন দেখলাম আমার শরীর থেকে একটি নূর বের হল যার আলোকচ্ছটায় আমি স্পষ্ট দেখতে পেলাম সুদূর সিরিয়ার ' বুছরার মহল ' তাছাড়া যখন তাকে প্রসব করি সে ভূমিষ্ঠ হয় দুই হাত মাটিতে ঠেকিয়ে , আকাশের দিকে মাথা উঁচু করে এরপর তিনি বললেন সে যাই হোক , তুমি যখন নিয়ে এসেছ ওকে রেখেই যাও আমার কাছে । আমাদের সকলের বিশেষত ওর পক্ষ থেকে তোমাকে ' জাযাকাল্লা - হু খায়রান ' ( আল্লাহ তোমাকে এরজন্য সর্বোত্তম বিনিময় দান করুন । 


) আমি ও আমার স্বামী সেখান থেকে বের হলাম ব্যথিত , চিন্তিত ও বিষণ্ন হৃদয়ে । তার এই বিচ্ছেদ ব্যথা ছিল আমাদের জন্য ভীষণ ভয়াবহ এই বিচ্ছেদ ব্যথার কষ্টকর প্রভাব একটুও কম ছিল না আমাদের শিশু পুত্রের মনের উপর । সেও ছিল সাথী হারানোর বেদনায় আমাদেরই মত বেদনার্ত ও চিন্তাক্লিষ্ট । *** অবশেষে , হালীমা সা'দিয়া বেঁচে ছিলেন দীর্ঘকাল পর্যন্ত ; এমন কি বার্ধ্যক্যেরও সীমা পেরিয়েছিলেন নিজের জীবনে নিজের চোখেই তিনি দেখতে পেলেন পিতৃহীন সেই শিশু 


— যাকে তিনি একদা দুধপান করিয়েছিলেন , সে হয়েছে আরবজাতির অবিসংবাদিত নেতা ইনসানিয়্যাতের রাহবার দিশারী আর মানবতার নবী।তিনি ঈমান আনলেন তাঁর প্রতি , তাঁর প্রতি অবতীর্ণ কিতাব কুরআনকে মেনে নিয়ে একদিন নিজেই হাজির হলেন তাঁর সম্মুখে যেইমাত্র তিনি দেখলেন তাঁকে ( হালীমাকে ) , আনন্দে হয়ে গেলেন আত্মহারা , ভক্তি ও শ্রদ্ধায় বলতে লাগলেন উম্মী উম্মী ( আমার মা , ও আমার মা ) তিনি খুলে ফেললেন নিজের গায়ের চাদর , বিছিয়ে দিলেন তাঁর বসার জন্য , চূড়ান্ত সম্মান ও মর্যাদার প্রকাশ ঘটালেন তাঁর জন্যে , তাঁর আগমনের কারণে প্রকাশ করলেন চূড়ান্ত আনন্দ ও খুশি । উপস্থিত সাহাবায়ে কেরাম বিস্ফারিত চোখে তাকিয়ে রইলেন তাঁদের দু’জনের দিকে , যে দৃষ্টিতে ছিল রাজ্যের সমীহ আর ভীষণ ঈর্ষা *


** ওফাদার ও বিশ্বস্ত , সদাচারী ও সদ্ব্যবহারের শোকরগুয়ার মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি করুণাময়ের সীমাহীন করুণা বর্ষিত হোক তিনি ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ চরিত্র মাধুরীতে সুসজ্জিত হালীমা সা'দিয়ার প্রতি বর্ষিত হোক মহান আল্লাহর প্রীতি ও সন্তোষ তিনি ছিলেন মহানবীর মমতাময়ী দুধমা ।



বিশেষ আলোচনা। জান্নাত ও জাহান্নাম।

 বিচারের পর আল্লাহ্ তা'আলা নেক্কার লোকদেরকে জান্নাত এবং বদকার লোকদেরকে জাহান্নামে দাখিল করবেন । আর যারা বিচারে সাময়িকভাবে কিছু শাস্তি ভোগের উপযুক্ত বলে বিবেচিত হবে , তাদেরকেও তাদের শুনাহের শাস্তি প্রদান করার পর আল্লাহ্ জান্নাত দান করবেন ।


 জান্নাত ও জাহান্নাম সত্য এবং আল্লাহ্ তা'আলা পূর্বেই তা সৃষ্টি করে রেখেছেন । কুরআন ও হাদীসে এর স্পষ্ট বিবরণ রয়েছে । ১০১ কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে : ن تحتها الأنهر خلدين فيها وأزوج مطهرة ورضوان للذين اتقوا عند ربهم - من الله والله بصير بالعباد - যারা ভাওয়া অবলম্বন করে চলে তাদের জন্য জান্নাতসমূহ রয়েছে যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত , সেখানে তারা স্থায়ী হবে , তাদের জন্য পবিত্র সঙ্গিনী এবং আল্লাহর নিকট হতে সন্তুষ্টি রয়েছে , আল্লাহ্ বান্দাদের সম্পর্কে সম্যক অবগত । 


( সূরা আলে ইমরান , ৩ : ১৫ ) জান্নাতে আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর বান্দাদেরকে যে নি'আমত দান করবেন এ সম্বন্ধে কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে : is ! ان أصحب الجنة اليوم في سغل فكهون هم و أزواجهم في ظلل على الأرائك متكون لهم فيها فاكهة ولهم مايدعون سلم قولا من رب رحيم - এই দিন জান্নাতবাসীগণ আনন্দে মগ্ন থাকবে , তারা এবং তাদের সঙ্গিনীগণ সুশীতল ছায়ায় সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসবে । সেখানে থাকবে তাদের জন্য ফলমূল এবং তাদের জন্য বাঞ্ছিত সব কিছু ।


 পরম দয়ালু প্রতিপালকের পক্ষ হতে তাদেরকে বলা হবে সালাম । ( সূরা ইয়াসীন , ৩৬ : ৫৫-৫৯ ) অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে ; مثل الجنة التي وعد المتقون ، فيها أنهر من ماء غير اسن وأنهر من لبن لم يتغير طعمة وأنهر من خمر لذة للشربين وأنهر من عسل مصفى ولهم فيها من كل الثمرات ومغفرة  মুত্তাকীদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তার দৃষ্টান্ত , এতে আছে নির্মল পানির নহর , আছে দুধের নহর , যার স্বাদ অপরিবর্তনীয় , আছে পানকারীদের জন্য সুস্বাদু সুরার নহর , আছে পরিশোধিত মধুর নহর এবং সেখানে তাদের জন্য থাকবে বিবিধ ফলমূল ও তাদের প্রতিপালকের ক্ষমা ।


 ( সূরা মুহাম্মাদ , ৪৭:১৫ ) হযরত আবূ হুরায়রা ( রা ) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) বলেন , আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেন : আমি আমার নেক্কার বান্দাদের জন্য ( জান্নাতে ) এমন নি'আমতসমূহ প্রস্তুত রেখেছি যা চোখ দেখেনি , কান শোনেনি এবং যা মানুষের অন্তরে কল্পনায়ও আসেনি ১০২ অপর এক হাদীসে আছে , 



রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) বলেন , জান্নাতীগণ জান্নাতে যাওয়ার পর আল্লাহ্ তা'আলা বলবেন : তোমাদেরকে যে নি'আমতসমূহ দেওয়া হয়েছে তা অপেক্ষা আরো অতিরিক্ত কিছু আমি তোমাদেরকে প্রদান করবো কি ? উত্তরে তারা বলবে , আপনি কি আমাদের মুখমণ্ডল উজ্জ্বল করেননি , আমাদেরকে জান্নাতে দাখিল করেননি এবং আমাদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেননি ? 


রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) বলেন : এ সময় পর্দা সরিয়ে দেওয়া হবে , তখন তারা তাঁর ( কুরতী ) দীদার লাভ করবে । জান্নাতীদের জন্য আল্লাহর দীদারই হবে সর্বোত্তম নি'আমত । তারপর তিনি ১৩ , ( যারা মঙ্গলজনক কাজ করে , তাদের জন্য রয়েছে মঙ্গল এবং আরো অধিক ) । ( সূরা ইউনুস , ১০ : ২৬ ) আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন । 

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post