সিজদায়ে সাহোর মাসাঈল।কখন সিজদা সাহো ওয়াজিব হয়।সিজদা সাহু আদায় সংক্রান্ত আলোচনা।
![]() |
| সিজদা সাহু প্রসঙ্গ। |
সিজদায়ে সাহোর মাসায়েল।সিজদাহ্ সাহুর আবশ্যকীয়তা।
* নামাযের ওয়াজিবগুলোর মধ্যে কোন একটি বা কয়েকটি ভুলে ছুটে গেলে সিজদায়ে সাহো ওয়াজিব হয় । সাজদায়ে সাহো করতেও ভুলে গেলে নামায আবার পড়া ওয়াজিব । এমনিভাবে কোন ফরয ছুটে গেলে বা কোন ওয়াজিব ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দিলেও নামায আবার পড়তে হবে- সিজদায়ে সাহো দিলে চলবে না ।
* সিজদায়ে সাহো করার নিয়ম হলঃ শেষ রাকআতে তাশাহহুদ ( আত্তাহিয়্যাতু ... ) পড়ে ডান দিকে সালাম ফিরাবে , তারপর নিয়ম মত দুটো সাজদা করে আবার তাশাহ্হুদ , দুরূদ ও দুআয়ে মাছূরা পড়ে উভয় দিকে সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করবে ।
* ভুলবশতঃ এক রাকআতে দুই রুকূ বা তিন সাজদা করে ফেললে সিজদায়ে সাহো ওয়াজিব হবে ।
* ফরয নামাযের প্রথম দুই রাকআতে সূরা ফাতেহার সাথে সূরা / কিরাত মিলাতে ভুলে গেলে শেষের দুই রাকআতে সূরা / কিরাত মিলাবে বা যে কোন এক রাকআতে সূরা / কিরাত মিলাতে ভুলে গেলে শেষের যে কোন এক রাকআতে সূরা / কিরাত মিলাবে এবং উভয় অবস্থায় সিজদায়ে সাহো করবে । এ নিয়মে শেষের দুই রাকআত বা এ রাকআতে সূরা / কিরাত মিলাতেও যদি ভুলে যায় তবুও সাজদায়ে সাহো করলে নামায হয়ে যাবে ।
* সূরা ফাতিহা পড়ে কোন্ সূরা মিলাবে এই চিন্তা করতে করতে যদি চুপ চাপ অবস্থায় তিনবার সুবহানাল্লাহ বলা পরিমাণ সময় অতিবাহিত হয়ে যায় , তাহলে সিজদায়ে সাহো ওয়াজিব হবে । এমনিভাবে নামাযের যে কোন স্থানে ভুলে বা চিন্তা করার কারণে কোন ফরয বা ওয়াজিব আদায় করতে তিন তাসবীহ পরিমাণ বিলম্ব হয়ে যায় , তাহলে সাজদায়ে সাহো ওয়াজিব হবে ।
* তিন বা চার রাকআত বিশিষ্ট ওয়াজিব বা ফরয বা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা নামাযের দ্বিতীয় রাকআতে তাশাহ্হুদ এর পর ভুলবশতঃ দুরূদ পড়া শুরু করলে বেশী পড়ে ফেলে তাহলে সাজদায়ে সাহো ওয়াজিব হবে । এর কম পড়লে সাজদায়ে সাহো ওয়াজিব হবে না । তবে সুন্নাতে গায়র মুআক্কাদা ও নফলে ( তদ্রূপ জুমুআর পরের সুন্নাতে ) প্রথম বৈঠকে দুরূদ পড়াও জায়েয আছে ; কাজেই তাতে দুরূদ পড়লে সিজদায়ে সাহো ওয়াজিব হবে না ।
* যে কোন নামাযের প্রথম বৈঠকে ভুলে পূর্ণ তাশাহ্হুদ দুই বার পড়লে বা তার এতটুকু অংশ দ্বিতীয়বার পড়লে যা তিন তাসবীহ পরিমাণ হয়ে যায় “ তাতে সিজদায়ে সাহো ওয়াজিব হবে ।
* তাশাহ্হুদের স্থলে ভুলে ছানা বা দুআয়ে কুনূত বা সূরা ফাতিহা পড়লে সাজদায়ে সাহো ওয়াজিব হবে ।
* দুআয়ে কুনূতের স্থলে সূরা ফাতিহা বা তাশাহহুদ পড়লে সিজদায়ে সাহো ওয়াজিব হয় না ।
* ভুলে সূরা ফাতিহার স্থলে তাশাহ্হুদ পড়লে সাজদায়ে সাহো ওয়াজিব
* মাছবূক ইমামের সাথে সালাম ফিরিয়ে ফেললে সিজদায়ে সাহো ওয়াজিব হবে ।
* ইমামের জন্য যে সব নামাযে কিরাত চুপে চুপে পড়া ওয়াজিব , তাতে যদি ইমাম ছোট তিন আয়াত পরিমাণ উচ্চস্বরে পড়ে বা উচ্চস্বরের নামাযে তিন আয়াত পরিমাণ চুপে চুপে পড়ে , তাহলে সিজদায়ে সাহো ওয়াজিব হবে ।
* ফরয নামাযের প্রথম বৈঠক না করেই যদি তৃতীয় রাকআতের জন্য দাঁড়াতে উদ্যত হয় এবং শরীরের নীচের অর্ধেক সোজা হওয়ার পূর্বে বসে পড়ে , তাহলে সিজদায়ে সহো করতে হবে না । আর নীচের অর্ধেক সোজা হয়ে গেলে আর বসবে না - তৃতীয় বা চতুর্থ রাকআত পড়ে শেষ বৈঠকে সিজদায়ে সাহো করবে । সোজা হয়ে দাঁড়ানোর পর বসে তাশাহ্হুদ পড়লে গোনাহ্গার হবে তবে নামায হয়ে যাবে এবং সিজদায়ে সাহো করতে হবে ।
* ‘ সুন্নাত বা নফল নামাযের প্রথম বৈঠক না করে ভুলে উঠে গেলে তৃতীয় রাকআতের সাজদা না করা পর্যন্ত স্মরণ আসলে বসে যাবে । আর তৃতীয় রাকআতের সিজদা করার পর স্মরণ এল বসবে না- চার রাকআত পূর্ণ করে বসবে এবং এই উভয় অবস্থায় সিজদায়ে সাহো করলে নামায হয়ে যাবে ।
* ফরয নামাযের শেষ বৈঠকে তাশাহ্হুদ পড়ার পর ভুলে দাঁড়িয়ে গেলে শরীরের নীচের অর্ধেক সোজা হওয়ার পূর্বে বসে পড়লে সিজাদয়ে সাহো করতে হবে না । আর নীচের অর্ধেক সোজা হয়ে গেলেও বসে যাবে , এমনকি ঐ রাকআতের সিজদা করার আগ পর্যন্ত স্মরণ এলেও বসে পড়বে এবং বসে সাথে সাথে সাজদায়ে সাহো করবে ।
আর যদি ঐ রাকআতের সিজদা করার পর স্মরণ হয় তাহলে আরও এক রাকআত মিলাবে ; তাহলে প্রথম দুই / চার রাকআত ফরয এবং শেষ দুই রাকআত নফল হবে । এ অবস্থায় সাজদায়ে সাহোও করতে হবে । আর যদি ঐ রাকআতে সালাম ফিরায় এবং সিজদায়ে সাহো করে তাহলেও নামায হবে কিন্তু অন্যায় হবে । এ অবস্থায় প্রথম দুই / চার রাকআত ফরয হবে এবং শেষের এক রাকআত বৃথা যাবে ।
* শেষ বৈঠকে তাশাহ্হুদ পড়ার পূর্বে ভুলে উঠে গেলে শরীরের নীচের অর্ধের সোজা হওয়ার পূর্বে বসে পড়লে সিজদায়ে সাহো করতে হবে না । আর নীচের অর্ধেক সোজা হওয়ার পর স্মরণ এলেও বসে পড়বে এমনকি আর এক রাকআতের সাজদা করার আগ পর্যন্ত স্মরণ এলেও বসে পড়বে এবং সিজদায়ে সাহো করবে । কিন্তু আর এক রাকআতের সিজদা করে ফেললে আর বসবে না বরং আরও এক রাকআত মিলাবে এবং শেষে সিজদায়ে সাহো করবে না । এ অবস্থায় সব রাকআত নফল হয়ে যাবে , ফরয পুনরায় পড়তে হবে ।
বিশেষ আলোচনা। শিরক - এর বিবরণ।
শিরক ' মানে শরীক করা বা অংশীবাদিত্ব । বস্তুত শিরক দু'প্রকার —১ . শিরকে আকবার । একে শিরকে জলীও বলা হয় ; ২. শিরকে আসগর । একে শিকে খফীও বলা হয় ।
শিরকে আকবার হল আল্লাহ্র সাথে কাউকে শরীক সাব্যস্ত করা । এই শিক চার প্রকার হতে পারে : ১. আল্লাহর যাত বা সত্তায় কাউকে শরীক করা ; ২. তাঁর গুণাবলীতে কাউকে শরীক করা ; ৩. সৃষ্টি জগতের পরিচালনায় কাউকে আল্লাহর সাথে শরীক করা ; ৪. ইবাদতের মধ্যে আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করা । শিরকে আসগর হচ্ছে , ইবাদতের মধ্যে কেবলমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্য শামিল রাখা । অথবা কোন বিষয়ে আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কিছুর প্রত্যেক্ষ প্রভাবের ধারণা রাখা । আর লোক দেখানো ইবাদত ( রিয়া ) করাও এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত ।
এই কথা ইমাম রাগিব ইস্পাহানী ( র ) বর্ণনা করেছেন । ১৯০ মহান আল্লাহ্র সাথে কাউকে শরীক সাব্যস্ত করা যেমন জায়িয নেই , অনুরূপভাবে কাউকে তাঁর সমগুণসম্পন্ন মনে করাও জায়িয নেই । বিশ্বস্রষ্টা আল্লাহ্র সমতুল্য বা সমগুণসম্পন্ন ও সমশক্তিসম্পন্ন কাউকে মনে করা আল্লাহর বিরুদ্ধে বিদ্রোহের শামিল । শিক গুরুতর অপরাধ এবং এটা চরম যুলুম ।
কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে : ان الشرك لظلم عظيم নিশ্চয়ই শিরক চরম যুলম । ( সূরা লুকমান , ৩১ : ১৩ ) বান্দা আল্লাহর সাথে শিরক করলে এবং আল্লাহ্র নিরংকুশ কর্তৃত্ব ও আধিপত্যের মধ্যে কাউকে শরীক করলে আল্লাহ্ তা ক্ষমা করেন না । ইরশাদ হয়েছে :১০৩ إن الله لا يغفر أن يشرك به ويغفر ما دون ذلك لمن يشاء ومن يشرك بالله فقد ضل • Sha নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তাঁর সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না , এ ছাড়া সব কিছু যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং কেউ আল্লাহ্র সাথে শরীক করলে সে ভীষণভাবে পথভ্রষ্ট হয় । ( সূরা নিসা , ৪ : ১১৬ )
যে আল্লাহর সাথে শরীক করে তার ঠিকানা হচ্ছে জাহান্নাম । এ প্রসঙ্গে কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে : আরো ইরশাদ হয়েছে : انه من يشرك بالله فقد حرم الله عليه الجنة ومأواه النار وما للظلمين من أنصار . কেউ আল্লাহর সাথে শরীক করলে আল্লাহ্ তার জন্য জান্নাত অবশ্যই হারাম করবেন এবং তার আবাস হবে জাহান্নাম । যালিমদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই । ( সূরা মায়িদা ৭২ ) ৫ : 1 ومـن يشرك بالله فـكـائـمـا خـر من السماء فتخطفه الطير أوتـهـوى بـه الـريـح في مكان سحيق · আর যে আল্লাহর সাথে শরীক করে সে যেন আকাশ হতে পড়ল , এরপর পাখি তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল কিংবা বায়ু তাকে উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে এক দূরবর্তী স্থানে নিক্ষেপ করল । ( সূরা হাজ্জ , ২২ : ৩১ ) শিরক সম্পর্কে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) বলেন।
