মুসলমান হওয়ার বা মুসলমান বানানোর তরীকা।কীভাবে অমুসলিম মুসলিম হবে।
![]() |
| মুসলমান বানানোর পদ্ধতি। |
কোন অমুসলমানকে মুসলমান হতে হলে বা তাকে মুসলমান বানাতে হলে তার গোসল করে নেয়া মোস্তাহাব , যদি হৃদছে আকবার থেকে পাক হয় , অর্থাৎ গোছল ওয়াজিব অবস্থায় না থাকে । যে ব্যক্তি মুসলমান হতে চায় সে কালিমায়ে তাইয়্যেবা কিংবা কালিমায়ে শাহাদাত পাঠ করবে । বোবা হলে ইশারায় তাওহীদ ও রেছালাতের স্বীকৃতি দিবে।
কালিমার মধ্যে আল্লাহ তা'আলার যে একত্ববাদ ও মুহাম্মাদ ( সাঃ ) এর যে রেছালাত ( রাসূল হওয়া ) সম্বন্ধে স্বীকৃতি রয়েছে তা জেনে বুঝে মেনে নিতে হবে এবং দ্বিধাহীন চিত্তে তা গ্রহণ করতে হবে । কালিমার এই অর্থ ও বিষয়বস্তু উপলব্ধি ব্যতিরেকে কেবল মুখে মুখে কালিমা উচ্চারণ করে নিলেই সে আল্লাহর কাছে মু'মিন ও মুসলমান বলে গণ্য হবে না ।
কালিমায়ে তাইয়্যেবা এই অর্থঃ আল্লাহ ব্যতীত কোন মা'বূদ নেই ( অর্থাৎ , তিনি ব্যতীত অন্য কেউ ইবাদত ও বন্দেগী লাভের উপযুক্ত নয় ) হযরত মুহাম্মাদ ( সাঃ ) আল্লাহ্ ( সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ ) রাসূল ।
কালিমায়ে শাহাদাত এই لا إله إلا الله محمد رسول الله أشهد أن لا إله إلا الله وأشهد أن محمدا عبده ورسوله ۔ অর্থঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে , আল্লাহ ব্যতীত কোন মা'বূদ নেই , তিনি একক , তাঁর কোন শরীক বা অংশীদার নেই এবং আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে , হযরত মুহাম্মাদ ( সাঃ ) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল ।
কালিমায়ে তাওহীদ এই لا إله إلا أنت واحدا لا ثاني لك محمد رسول الله إمام المتقين رسول رب العلمین ۔ অর্থঃ ( হে আল্লাহ ! ) তুমি ছাড়া কোন মা'বুদ নেই , তুমি এক- তোমার দ্বিতীয় কেউ নেই । মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসুল,
মুত্তাকীদের ইমাম ( সরদার ) , সমস্ত জাহানের প্রতিপালকের প্রেরিত মহামানব বা রাসূল ।
কালিমায়ে তামজীদ এই لا إله إلا أنت نورا يهدى الله لنوره من يشاء محمد رسول الله امام المرسلين خاتم النبيين - অর্থঃ ( হে আল্লাহ ! ) তুমি ছাড়া কোন মা'বূদ নেই , তুমি নূর । আল্লাহ নিজ নূর দ্বারা যাকে ইচ্ছা পথ প্রদর্শন করেন । মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল , সব রাসুলদের সর্দার এবং সর্বশেষ নবী ।
কালেমায়ে তাইয়্যেবা , কালিমায়ে শাহাদাত , কালিমায়ে তাওহীদ , কালিমায়ে তামজীদ প্রভৃতি কালিমাসমূহ মুখস্ত করা জরুরী নয় , শুধু তার বিষয়বস্তুতে বিশ্বাস করাই যথেষ্ট । অতঃপর তাকে ক্রমান্বয়ে ইসলামের জরুরী আকীদা ও আমলের বিষয়ে শিক্ষা দিতে হবে । যে কোন মুসলমান অন্য যে কোন অমুসলমানকে মুসলমান বানাতে পারে । এর জন্য কোন আলেম বা বুযুর্গ হওয়া শর্ত নয় ।
বিশেষ আলোচনা।তাকদীর লিপিবদ্ধ করার হিকমাত।
সৃষ্টির পূর্বেই তাক্দীর লিপিবদ্ধ করার পিছনে বিশেষ হিক্মাত নিহিত রয়েছে । তা হল , মানুষ যেন সুখ ও সফলতায় অতিশয় আনন্দিত না হয় এবং দুঃখ ও বিপদে চরমভাবে ভেঙ্গে না পড়ে । কেননা মানুষ সাধারণত সুখ ও সফলতা পেলে আনন্দে মেতে উঠে এবং দুঃখ ও ব্যর্থতায় চরমভাবে ভেঙ্গে পড়ে । মানব চরিত্রের এ দু'টি অবস্থা মানুষকে আল্লাহ্ বিমুখতার দিকে ঠেলে দেয় । তাই এ দু'টি অবস্থাকে নৈতিক দুর্বলতা বলে চিহ্নিত করা যায় ।
তাকদীরে বিশ্বাস মানুষকে এ দু'ধরনের দুর্বলতা থেকে রক্ষা করে । কারণ তাকদীরে বিশ্বাসী ব্যক্তি এ কথা নিশ্চিতভাবে জানে যে , মানবজীবনে সুখ - দুঃখ , সফলতা ও ব্যর্থতা যা কিছুই ঘটছে সবই তাক্বীরে লিপিবদ্ধ আছে । তাকদীরের বাইরে কিছুই ঘটছে না । কাজেই সুখ ও দুঃখ কোন অবস্থাতেই সে আল্লাহ্ থেকে বিমুখ হয় না । বিপদে ধৈর্যধারণ করে এবং সুখের অবস্থায় তাঁর শো আদায় করে ।
ইরশাদ হয়েছে : ما أصاب من مصيبة في الأرض ولا في انفسكم إلا في كتب من قبل أن تبرأها ان ذلك على الله يسير الكيلا تأسوا على ما فاتكم ولا تفرحوا بما أنكم والله لا يحب كل مختال পৃথিবীতে বা ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের উপর যে বিপর্যয় আসে আমি তা সংঘটিত করার পূর্বেই তা লিপিবদ্ধ থাকে ; আল্লাহ্র পক্ষে এটা খুবই সহজ , এটি এ জন্য যে , তোমরা যা হারিয়েছ তাতে যেন তোমরা বিমর্ষ না হও এবং যা তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন তার জন্য হর্ষোৎফুল্ল না হও । আল্লাহ্ পসন্দ করেন না উদ্ধৃত ও অহংকারীদেরকে । ( সূরা হাদীদ , ৫৭ : ২২ , ২৩ ) তাকদীরের সঙ্গে তাদ্বীরের কোন সংঘাত নেই কার্য সম্পাদনের জন্য আস্বাব তথা উপায় - উপকরণ অবলম্বন করাকে তাবীর বলা হয় ।
তাকদীরের সঙ্গে তাবীরের কোন সংঘাত নেই । কাজেই আবাব অবল করা তাক্দীরে বিশ্বাসের পরিপন্থী নয় । কেননা তাক্দীরে এ আস্বাব অবলম্বনের কথাও লিখিত আছে । একবার এক সাহাবী প্রশ্ন করলেন , হে আল্লাহর রাসূল ! আমরা যে ঝাড়ফুঁক করিয়ে থাকি , চিকিৎসায় ঔষধ প্রয়োগ করে থাকি অথবা আত্মরক্ষার জন্য যে উপায় অবলম্বন করে থাকি , তা কি তাকদীরের কোন কিছুকে রদ করতে পারে ? উত্তরে রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) বললেন : তোমাদের এ সকল চেষ্টাও তাক্দীরের অন্তর্গত হযরত শাহ্ ওয়ালীউল্লাহ্ মুহাদ্দিস দেহলভী ( র ) বলেন , তাক্দীর এবং তাদ্বীরের মধ্যে কোন সংঘাত নেই ।
সংঘাত তখনই দেখা দিত যদি তাদ্বীর তাদীরের আওতা বহির্ভূত হত অথবা তাক্দীরের মধ্যে তাদ্বীরের বিষয়টি লিখিত না থাকত । তাকদীর এবং তাবীরের মধ্যে সংঘাত নেই এর একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত কুরআন শরীফে বর্ণিত হযরত ইয়াকূব ( আ )
-এর ঘটনার মধ্যে দেখা যায় । তিনি নিজ সন্তানদেরকে মিসর পাঠানোর প্রাক্কালে আপাতদৃষ্টিতে যে সমস্যা অনুভব করেছিলেন এর থেকে সন্তানদেরকে রক্ষা করার লক্ষ্যে তাদেরকে অসিয়্যাত করে বলেছিলেন : يبني لا تدخلوا من " باب واحد وادخلوا من ابواب متفرقة . হে আমার পুত্রগণ ! তোমরা এক দ্বার দিয়ে প্রবেশ করবে না । ভিন্ন ভিন্ন দ্বার দিয়ে প্রবেশ করবে । ( সূরা ইউসুফ , ১২:৬৭ ) হযরত ইয়াকূব ( আ ) সন্তানদেরকে সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য এ তাবীর অবলম্বন।
