ইস্তেনজার বা পেশাব পায়খায় যাওয়ার সুন্নাত , আদব ও বিধি - নিষেধ সমূহ।

ইস্তেনজার বা পেশাব পায়খায় যাওয়ার সুন্নাত , আদব ও বিধি - নিষেধ সমূহ।তদসংশ্লিষ্ট আলোচনা। 

ইস্তিঞ্জার মাসাঈল। 


*ইস্তেনজা খানায় প্রবেশের পূর্বে মাথা ঢেকে নেয়া মোস্তাহাব । টুপি বা কোন কিছু দ্বারা মাথা ঢাকার সময় বিসমিল্লাহ বলে নিবে । জুতা / স্যান্ডেল পরিধান পূর্বক ইস্তেনজা করা । জুতা / স্যান্ডেল পরিধান করার সময় বিসমিল্লাহ বলে নিবে । 

* প্রথমে ডান পায়ের জুতা / স্যান্ডেল পরবে । 

* নামাযের কাপড় ব্যতীত অন্য কাপড়ে ইস্তেনজা করা উত্তম । অন্যথায় নাপাকী থেকে খুব সতর্ক থাকতে হবে ।  

* বিসমিল্লাহসহ ইস্তেনজা খানায় প্রবেশের দুআ পড়া । খোলা স্থান হলে কাপড় উঁচু করার সময় দুআ পড়তে হয় । আর মনে না থাকলে প্রবেশের পর বা কাপড় উঠানোর পর মনে মনে দুআ পড়া যায় , মুখে উচ্চারণ করে নয় । আল্লাহ , আল্লাহর রাসূলের নাম , ফেরেশ্তার নাম বা কুরআনের কিছু লিখিত বস্তু নিয়ে এস্তেনজায় যাওয়া মাকরূহ । অনুরূপ এগুলো উচ্চারণ করাও নিষিদ্ধ 

* বিসমিল্লাহ সহ ইস্তেঞ্জায় প্রবেশের দুআটি এই بسم الله اللهم إني أعوذبك من الخبث والخبائث ۔ অর্থঃ হে আল্লাহ ! দুষ্ট পুরুষ জিন এবং দুষ্ট মহিলা জিনদের অত্যাচার থেকে তোমার পানাহ চাই । 

* প্রথমে বাম পা দিয়ে এস্তেনজায় প্রবেশ করা । 

* বসার সময় পা দানিতে প্রথমে ডান পা রাখবে এবং নামার সময় প্রথম বাম পা নামাবে । 

* প্রয়োজনের অতিরিক্ত সতর না খোলা । ( এর সহজ উপায় হল- বসতে বসতে কাপড় উঠানো । দাঁড়ানো অবস্থাতেই সতর খোলা নিষিদ্ধ )

* বসে ইস্তেনজা করা । * বাম পায়ে ভর করে বসাই আদব ।  

* উভয় পায়ের মাঝে বেশ ফাঁক রেখে বসা আদব । 

* কেবলার দিকে মুখ বা পিঠ করে না বসা । এমনিভাবে সূর্যের দিকে মুখ করে , বায়ূর বিপরীতে , চলার পথে , কবরস্থানে , ছায়াদার বা ফলদার গাছের নীচে , প্রবাহিত নদী নালায় , বদ্ধ পানিতে , বা মানুষ বসতে পারে এমন ঘাসের উপর ইস্তেনজা না করা ।

* নজরকে সংযত রাখা অর্থাৎ , যৌনাঙ্গের দিকে , মল মীত্রের দিকে , এমনিভাবে আকাশের দিকে নজর না দেয়া এবং এদিক সেদিক বেশী না তাকানো । 

* মলমূত্রের উপর থুথু , কফ , শিকনি না ফেলা ।ডান হাত দিয়ে যৌনাঙ্গ স্পর্শ না করা । 

* ঢিলা - কুলুখ ব্যবহার করা ।

* বাম হাত দিয়ে ঢিলা / কুলুখ ব্যবহার করবে । 

* পায়খানার পর তিন বার ঢিলা / কুলুখ ব্যবহার করা মোস্তাহাব । 

* পেশাবের পর ঢিলা / কুলুখ নিয়ে হাটা চলা করে , কিম্বা কাশি দিয়ে বা নড়াচড়া করে , কিম্বা অভ্যাস অনুযায়ী যে কোন ভাবে পেশাবের কতরা বন্ধ হয়েছে এরূপ নিশ্চিত হতে হবে । মহিলাদের জন্য এটার প্রয়োজন নেই । 

* প্রথম ঢিলা / কুলুখ পেছনের দিক থেকে সামনের দিকে , দ্বিতীয়টি সামনের দিক থেকে পেছনের দিকে , তৃতীয়টা পেছন দিক থেকে সামনের দিকে- এ নিয়মে ঢিলা / কুলুখ ব্যবহার করা অধিক পবিত্রতার অনুকূল । আর যদি অন্ডকোষ ঝুলানো থাকে তাহলে প্রথমটা সামনের দিক থেকে আরম্ভ করা । মহিলাগণ সর্বদা প্রথমটা সামনের দিক থেকে শুরু করবে ।

* পানি ব্যবহারের পূর্বে হাতের কবজি পর্যন্ত ধৌত করা । এক হাদীছের বর্ণনার ভিত্তিতে এ স্থলে উভয় হাত ধৌত করার একটি মতও পাওয়া যায় । 

* তারপর পানি দ্বারা ধৌত করা সুন্নাত , নাপাকী এক দেরহামের ( হাতের তালুর নীচ স্থান সমপরিমাণ বিস্তৃত ) বেশী পরিমাণ স্থান ছড়িয়ে পড়লে পানি দ্বারা এস্তেনজা করা ওয়াজিব 1 

* পানি ব্যবহার করার সময় প্রথমে বাম হাতের মধ্যমা আঙ্গুল - এর পেট দ্বারা মর্দন করা , তারপর অনামিকাসহ প্রয়োজনে আরও দুই এক আঙ্গুল ব্যবহার করা । মহিলাগণ প্রথমেই দুই আঙ্গুল ( মধ্যমা ও অনামিকা ) ব্যবহার করবে ।

* রোযা অবস্থায় না হলে পেছনের রাস্তা খুব ঢিলা করে বসে পানি ব্যবহার করা । 

* দুর্গন্ধ সম্পূর্ণ দূর না হওয়া পর্যন্ত পরিষ্কার করতে থাকবে । 

* প্রথমে পেছনের রাস্তা তারপর সামনের রাস্তা ধৌত করা ।দুই রাস্তার মধ্যখানের স্থানটুকুও মধ্যমা বা কনিষ্ঠ আঙ্গুল দ্বারা মর্দন করে ধৌত করা ।

* সৌচ কার্যের পর মাটি বা সাবান ইত্যাদি দ্বারা পুনরায় হাত পরিষ্কার করে নেয়া উত্তম । 

* রোযা অবস্থায় হলে সতর্কতার জন্য ওঠার পূর্বে কাপড় ( বা এ জাতীয় কিছু ) ব্যবহার করে কিংবা বাম হাত দ্বারা বার বার ঘষে পেছনের রাস্তার পানি মুছে ফেলা উচিৎ । আর যাদের রোগের কারণে মলদ্বার বের হয়ে যায় তাদের জন্য জরুরী । রোযাদার না হলেও এরূপ করা মোস্তাহাব । 

* যথা সম্ভব দ্রুত এস্তেনজা সেরে বের হয়ে আসা । 

* বের হওয়ার সময় প্রথমে ডান পা বের করা সুন্নাত । 

* বের হয়ে নিম্নোক্ত দুআ পড়বে غفرانك الحمد لله الذي أذهب عنى الأذى وعافانی ۔ অথবা শুধু অর্থ : তোমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি । সমস্ত প্রশংসা আল্লহর জন্য , যিনি কষ্টদায়ক বস্তুসমূহ আমার থেকে দূর করে দিয়েছেন এবং আমাকে শান্তি দান করেছেন । 

* প্রথমে বাম পায়ের জুতা / স্যান্ডেল খোলা সুন্নাত 



বিশেষ আলোচনা। তাকদীরের প্রতি ঈমান আনার গুরুত্ব।

 আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের প্রতি বিশ্বাসের ন্যায় তাত্পীরের উপর বিশ্বাস রাখাও ঈমানের অপরিহার্য অঙ্গ । বহু হাদীসে তাকদীরের উপর ঈমান আনার কথা বিবৃত হয়েছে : عن علي رضي الله عنه قال قال رسول الله ﷺ لا يؤمن عبد حتى يؤمن باربع يشهد أن لا إله الا الله وأتى رسول اللہ ﷺ بعثني بالحق ويؤمن بالـمـوت والبعث بعد الموت হযরত আলী ( রা ) থেকে বর্ণিত , রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) ইরশাদ করেন : কোন বান্দাই মু'মিন হতে পারবে না যতক্ষণ না এই চারটি কথায় বিশ্বাস করে —১ . এ সাক্ষ্য দেয়া যে , আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহ্র রাসূল । তিনি আমাকে সভ্যসহ প্রেরণ করেছেন ।


 ২. মৃত্যুতে বিশ্বাস করবে ; ৩. মৃত্যুর পর পুনরুত্থানে বিশ্বাস করবে ; ৪. তাকদীরে বিশ্বাস করবে । " ويؤمن بالقدر . তাকদীরের উপর অবিশ্বাস করা মূলত আল্লাহ্ তা'আলার ' ইলমে আযলী ' ( চিরন্তন জ্ঞান ) -কে অস্বীকার করারই নামান্তর । এ অবিশ্বাস মানুষকে একাধিক স্রষ্টার বিশ্বাসের দিকে নিয়ে যায় । অন্য হাদীসে আছে , রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) ইরশাদ করেন : আমার উম্মাতের মধ্যে দুই শ্রেণীর মানুষ এমন আছে যাদের জন্য ইসলামের কোন অংশ নেই ।


 তারা হল মুরজিয়া ও কাদরিয়া সম্প্রদায় । অপর এক হাদীসে আছে , রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) ইরশাদ করেছেন : আমার উম্মাতের মধ্যে খাফ ( ভূমি ধসে যাওয়া ) ও মাস্খ ( আকৃতি বিকৃত হওয়া ) সংঘটিত হবে এবং তা তাক্‌দীরে অবিশ্বাসীদের মধ্যেই হবে । 93 তাব্দীরে বিশ্বাস করা কেবল আল্লাহ্ তা'আলার ইলমে আযলী ( চিরন্তন জ্ঞান ) -কে স্বীকার করার প্রয়োজনেই আবশ্যক নয় ; বরং স্রষ্টার সাথে সৃষ্টির সম্পর্ক স্থাপনের জন্যও তাকদীরে বিশ্বাস করা জরুরী । কেননা যারা তাক্‌দীরে বিশ্বাসী নয় তারা হয়তো নিজেকে আল্লাহ্ তা'আলার মুখাপেক্ষী নয় বলে মনে করে অথবা আল্লাহ্‌কে এমন পর্যায়ে মনে করে যে , তাঁকে মানা বা না মানাতে কোন ব্যবধান বা পার্থক্য নেই । 


বস্তুত তাক্‌দীরকে অস্বীকার করা আল্লাহ্ তা'আলাকে অস্বীকার করারই নামান্তর । হযরত ইব্‌ন আব্বাস ( রা ) বলেন : ایمان بالقدر نظام التوحيد فمن أمن وكذب بالقدر فقد نقض للتوحيد আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাসী হওয়া তাক্‌দীরের বিশ্বাসের উপর নির্ভরশীল । কাজেই যে ব্যক্তি ঈমান আনল কিন্তু তাদীরকে অস্বীকার করল প্রকৃতপক্ষে সে একত্ববাদকেই প্রত্যাখ্যান করল ** তাক্‌দীরে অবিশ্বাস এমন গুরুতর অপরাধ যে , রাহমাতুলল্লিল আলামীন ( সা ) -ও তাদেরকে লা'নত করেছেন । তাকদীরের উপর সন্তুষ্ট থাকা ফরয । রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) বলেন , আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেছেন.



“ কেউ যদি আমার নির্ধারিত তাকদীরের উপর সন্তুষ্ট না থাকে এবং বিপদে ধৈর্যধারণ না করে তবে সে যেন আমি ছাড়া অন্য কাউকে রব বানিয়ে নেয় । ১ তাকদীর সম্বন্ধে বিভিন্ন অভিমত আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের মতে , বান্দার কর্মের স্বাধীনতা রয়েছে । সৎকর্ম করলে তাদেরকে প্রতিদান দেওয়া হবে আর অসৎকর্ম করলে তাদেরকে শাস্তি প্রদান করা হবে । ইমাম আযম আবূ হানীফা ( র ) বলেন : أن التكليف أمر بين البين لا جبر ولا قدر ولا كره ولا تسليط . মানুষকে শরী'আত পালনে দায়িত্বশীল ( মুকাল্লাফ ) করার বিষয়টি মাঝামাঝি ধরনের।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post