ঈমান, ইসলাম, শিরক, কুফর, নেফাক, মুলহিদ, যিনদীক ইত্যাদী পরিভাষার অর্থ। সবাই জেনে রাখুন।

ঈমান,ইসলাম,শিরক,কুফর,নেফাক,মুলহিদ,যিনদীক ইত্যাদী পরিভাষার অর্থ।সবাই জেনে রাখুন।

ইসলামের বিভিন্ন পরিভাষা। 

ঈমান এর পরিচয়।ঈমান সংক্রান্ত জরুরী আলোচনা। 

“ ঈমান ” শব্দের শাব্দিক অর্থ বিশ্বাস করা , স্বীকার করা , ভরসা করা , নিরাপত্তা প্রদান করা ইত্যাদি । শরী'আতের পরিভাষায় ঈমান বলা হয় রাসূল ( সাঃ ) কর্তৃক আনীত ঐ সকল বিষয়াদি যা স্পষ্ট ভাবে এবং অবধারিত রূপে প্রমাণিত , সে সমুদয়কে রাসূল ( সাঃ ) -এর প্রতি আস্থাশীল হয়ে বিশ্বাস করা এবং মুখে তা স্বীকার করা ( যদি স্বীকার করতে বলা হয় ) আর কুরআন হাদীছ এবং সাহাবায়ে কেরাম ও উম্মতের সর্বসম্মত ব্যাখ্যা অনুযায়ী ধর্মের অবধারিত ( বদীহী ) বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করা । সংক্ষেপে ও সাধারণ ভাবে ইসলামের ধর্মীয় বিশ্বাসকে ঈমান বলা হয় । 

মু'মিন  এর পরিচয়। মুমিনদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা। 

যার মধ্যে ঈমান আছে তাকে মু'মিন বলা হয় । 

ইসলাম  এর পরিচয়।ইসলাম সংক্রান্ত আলোচনা। 

ইসলাম " শব্দের শাব্দিক অর্থ মেনে নেয়া , আনুগত্য করা । শরী'আতের পরিভাষায় ইসলাম বলা হয় ( ঈমান সহ ) আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যকে মেনে নেয়া । সংক্ষেপে ও সাধারণ ভাবে হযরত মুহাম্মাদ ( সাঃ ) কর্তৃক আনীত ধর্মকে ইসলাম বলা হয় বা ধর্মীয় কর্মকে ইসলাম বলা হয় । বিঃ দ্রঃ ' ঈমান ' ও ' ইসলাম ' শব্দ দুটো সমার্থবোধক ভাবেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে ।

মুসলমান / মুসলিম  এর পরিচয়।ইসলাম সংক্রান্ত আলোচনা। 

ইসলাম ' ধর্ম অনুসারীকে মুসলমান বা মুসলিম বলা হয় । 

কুফুরের পরিচয়।কুফুর সংক্রান্ত আলোচনা। 

যে সব বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস রাখাকে ঈমান বলা হয় , প্রকাশ্যে তার কোন কিছুকে মুখে অস্বীকার করা বা তার প্রতি অন্তরে বিশ্বাস না রাখা হল কুফ্র । * কাফের : যার মধ্যে কুফর্ থাকে সে হল ' কাফের ' । 

শিরক এর পরিচয়।শিরক সংক্রান্ত আলোচনা। 

আল্লাহর জাত ( সত্তা ) , তাঁর ছিফাত ( গুণাবলী ) এবং তাঁর ইবাদতে কাউকে শরীক বা অংশীদার বানানো হল শিরক।

 মুশরিক এর পরিচয়।মুশরিক সংক্রান্ত আলোচনা। 

যে শিরক করে তাকে বলা হয় মুশরিক। 

 নেফাক / মুনাফেকী এর পরিচয়।এসংক্রান্ত আলোচনা।

মুখে ঈমান প্রকাশ করা , প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণ করা অথচ অন্তরে কুফ প্রচ্ছন্ন রাখা - এরূপ কপটতাকে বলা হয় নেফাক বা মুনাফেকী । 

 মুনাফেক  এর পরিচয়।এসংক্রান্ত আলোচনা। 

যে মুনাফেকী করে তাকে বলা হয় মুনাফেক

 মুল্‌হিদ / যিন্দীক এর পরিচয়।এসংক্রান্ত আলোচনা  

যে মৌলিক ভাবে ও প্রকাশ্যে ইসলাম এবং ঈমান - এর অনুসারী কিন্তু নামায , রোযা , হজ্জ , যাকাত , জান্নাত , জাহান্নাম ইত্যাদি বদীহী ও অবধারিত বিষয়গুলোর এমন ব্যাখ্যা দেয় , যা কুরআন হাদীছের স্পষ্ট বিরুদ্ধ , এরূপ লোক প্রকৃত মু'মিন মুসলমান নয় , কুরআনের পরিভাষায় তাকে বলা হয় মুল্‌হিদ আর হাদীছের পরিভাষায় তাকে বলা হয় যিন্দীক । কারও কারও ব্যাখ্যা মতে সব ধরনের ধর্ম বিরোধী বা মুরিকদেরকেও যিন্দীক বলা হয় । যারা দারিয়্যা বা নাস্তিক , তাদেরকেও যিন্দীক বলা হয়ে থাকে ।

 মুরতাদ এর পরিচয়।এসংক্রান্ত আলোচনা। 

ইসলাম ধর্মের অনুসারী কোন ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম পরিত্যাগ করলে কিংবা ঈমান পরিপন্থী কোন কথা বললে বা ঈমান পরিপন্থী কোন কাজ করলে তাকে মুরতাদ বলে । সংক্ষেপে মুরতাদ অর্থ ধর্মত্যাগী । 

ফাসেক এর পরিচয়।এসংক্রান্ত আলোচনা। 

প্রকাশ্যে যে ব্যক্তি গোনাহে কবীরা করে বেড়ায় তাকে বলা ফাসেক । আবার ব্যাপক অর্থে সব ধরনের অবাধ্যকে ফাসেক বলা হয় । এ হিসেবে একজন কাফেরকেও ফাসেক বলা হতে পারে , যেহেতু সেও অবাধ্য । *  ও তাঁর অস্তিত্বে বিশ্বাস করা । 


বিশেষ আলোচনা। মসজিদুল কাযীহ।

 মদীনার উঁচু এলাকার উত্তরদিকে অবস্থিত এ মসজিদে নবী কারীম ( সা ) ইয়াহূদী বনূ নযীর গোত্রকে অবরোধকালে নামায আদায় করেছিলেন । কার্যীহ্ হচ্ছে খেজুর থেকে তৈরি মদ । হযরত আবূ আইউব আনসারী ( রা ) প্রমুখ সাহাবীগণ এখানে কার্যীহ্ পানরত অবস্থায় মদ্ হারাম হওয়া সংক্রান্ত আয়াত নাযিল হলে তাঁরা সমস্ত পানপাত্র ও মদের মটকা ভেঙ্গে ফেলে তাৎক্ষণিকভাবে আল্লাহর নির্দেশ পালন করেন । এ স্মৃতির সাথে জড়িত বলে এ মসজিদটির এরূপ নামকরণ করা হয় ।

 উঁচুস্থানে অবস্থিত বিধায় এ মসজিদে সূর্যোদয় সর্বাগ্রে দৃশ্যমান হয় বলে এ মসজিদটিকে ' মাসজিদুল শামস ' বা সূর্যের মসজিদও বলা হয়ে থাকে । মসজিদে বনু কুরায়ধা ইয়াহুদী বনু কুরায়যা গোত্রকে অবরোধকালে নবী কারীম ( সা ) এখানে অবস্থান করেন । ইয়াহুদীরা হযরত সা'দ ইবন মু'আয ( রা ) -কে সালিশরূপে মেনে নিলে তিনি এখানে বসেই তাঁর রায় ঘোষণা করেন । এ মসজিদটি কার্যীহ্ থেকে সামান্য উত্তরে অবস্থিত ।

 মসজিদুল ইজাবা জান্নাতুল বাকী - এর উত্তরদিকে ' বুস্তানুল সাম্মাম ' - এর নিকটে অবস্থিত এ মসজিদটিতে অবস্থানকালে একদা নবী কারীম ( সা ) উম্মাতের জন্যে তিনটি দু'আ করেছিলেন যার দু'টি কবূল হয়েছিল । এজন্য একে মসজিদুল ইজাবা বা দু'আ কবূলের মসজিদ বলা হয়ে থাকে । দু'টি ছিল , গোটা উম্মাত যেন দুর্ভিক্ষে এবং পানিতে ডুবে ধ্বংস না হয় । তৃতীয় যে দু'আটি কবূল হয়নি তা হল , তারা যেন আত্মকলহে লিপ্ত না হয় ।

 এছাড়াও মসজিদে সাজ্দ , মসজিদে উবাই , মসজিদে বারাখ , মসজিদে মুসাল্লার নিকটবর্তী মসজিদে আবূ বকর ও মসজিদে আলী এবং মসজিদে ইব্রাহীম প্রভৃতি স্থানেও নবী কারীম ( সা ) নামায আদায় করেছেন । এছাড়াও রয়েছে নবী কারীম ( সা ) -এর স্মৃতিধন্য অনেকগুলো কূপ ।

 যতদূর জানা যায় নবী কারীম ( সা ) -এর আমলে মদীনার ১৭ টি কূপ ছিল । সে সব কূপের মধ্যে বীরে আবস , বীরে জুমা'আ , আবূ তালহা ( রা ) -এর স্মৃতিধন্য বীরে রুবাহ ( বর্তমানে নাম বীরে উসমান ) প্রভৃতি অত্যন্ত প্রসিদ্ধ । মদীনাবাসীদের সহিত সম্মানজনক ও সহানুভূতিপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে নবী কারীম ( সা ) ও তাঁর প্রতিবেশীদের হক আদায় করা উচিত । তাঁদের কোন আচার - ব্যবহারে কোনরূপ ফাঁক - ফোকর থাকলেও ধৈর্যধারণ করা উচিত ।




 কেননা নবী কারীম ( সা ) -কে আশ্রয়দানকারী নবী প্রেমিক সাহাবীদের বংশধর ও উত্তরাধিকারীরূপে গোটা উম্মাত তাঁদের কাছে ঋণী রয়েছে ।

 হজ্জ থেকে ফেরা ও করণীয় মদীনা শরীফ থেকে বাড়ি ফেরার পূর্বে মসজিদে নববীতে হাযির হয়ে মিরাবে নববীতে বা নিকটবর্তী স্থানে দু'রাকা'আত নামায আদায় করে রওয়া মুবারকে হাযির হয়ে অত্যন্ত আদবের সাথে যিয়ারত সম্পন্ন করে দু'আ করবেন :  اللهم لا تجعل هذا أخر العهد بنبيك ومسجده وحرمه ويسرلى العود اليه والعكوف لديه وارزقنى العفو والعافية في الدنيا والآخرة وردنا الى أهلنا سالمين غانمين اتين برحمتك يا أرحم الراحمين . বিরহ বিধুর মনে কান্নাকাটি করবেন । দেশে ফিরে বাড়িঘর বা গ্রাম দৃষ্টিগোচর হলে নিম্নের দু'আ পড়বেন : آنیون تاثيون لربنا حامدون।
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post