দুধ দিয়ে গোসল করার হুকুম।স্বামীর অনুপস্তিতিতে ফরয গোসল করা।সহবাসের পর ফরয গোসল না করে সংসারিক কাজ করা
![]() |
| দুধ দিয়ে গোসল সংক্রান্ত আলোচনা। |
কোনোকিছুতে সফল হলে দুধ দিয়ে গোসল করা যাবে কিনা।
না , যে কোন কারণেই হোক কোন ভাবে দুধ দিয়ে গোসল করা বা গোসলের পানির সাথে দুধ মেশানো জায়েয হবে না । দুধ পানের বস্তু , গোসলের নয় । এর দ্বারা গোসল করা অপচয়ের শামিল যা নিষিদ্ধ । ( প্রমাণ : সূরা বনী ইসরাঈল , ২৭ )
স্বামীর অনুপস্তিতিতে ফরয গোসল করার বিধান।
অনেক সময় স্বামী বাড়ি থাকে না । অনেকের স্বামী বিদেশে থাকে । এমতাবস্তায় স্ত্রীর স্বপ্নদোষ হয় । গোসল করে ফজরের নামায পড়তে গেলে , কেউ কোন রকম সন্দেহ করতে পারে । এমতাবস্থায় স্ত্রী কি করবে ?
স্ত্রী অবশ্যই গোসল করে ফজরের নামায পড়বে । আর কেউ সন্দেহ যেন না করতে পারে , সে ভাবেই পর্দাসহ পুরুষ থেকে দূরে গিয়ে মহলে রাত্রি যাপন করবে । এছাড়াও তখন তার স্বপ্নদোষ হয়েছে বলে শাশুড়ী বা অন্য কাউকে জানিয়ে দিতে পারে । আর স্বামীকেও স্পষ্টভাবে জানিয়ে রাখতে পারে তার এ অবস্থার কথা । আমাদের তো মনে হয় , কোন মহিলা ভালভাবে চলাফেরা করলে , কেউ তাকে এ ব্যাপারে সন্দেহ করতে পারবে না ।
স্ত্রী অবশ্যই গোসল করে ফজরের নামায পড়বে । আর কেউ সন্দেহ যেন না করতে পারে , সে ভাবেই পর্দাসহ পুরুষ থেকে দূরে গিয়ে মহলে রাত্রি যাপন করবে । এছাড়াও তখন তার স্বপ্নদোষ হয়েছে বলে শাশুড়ী বা অন্য কাউকে জানিয়ে দিতে পারে । আর স্বামীকেও স্পষ্টভাবে জানিয়ে রাখতে পারে তার এ অবস্থার কথা । আমাদের তো মনে হয় , কোন মহিলা ভালভাবে চলাফেরা করলে , কেউ তাকে এ ব্যাপারে সন্দেহ করতে পারবে না ।
সহবাসের পর ফরয গোসল না করে সংসারিক কাজ করার বিধান।
সহবাসের পর গোসল করা ছাড়া সাংসারিক কাজ করা যাবে কিনা ? স্বামী - স্ত্রী দু'জনের ব্যাপারে কি একই হুকুম?
উত্তর : সহবাসের পর গোসল ছাড়া - ই সাংসারিক কাজ , খাওয়া , খাওয়ানো , রান্নাসহ সব ধরনের সাংসারিক কাজ নারী - পুরুষ সবার জন্য জায়েয আছে । তবে লজ্জাস্থান ধুয়ে অজু করে নিয়ে এসব করা ভাল । আর গোসল ছাড়া বেশিক্ষণ থাকা ঠিক নয় । বিশেষ করে নামাযজ যেন কাযা না হয় সে ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।
বিশেষ আলোচনা। মহান আল্লাহর গুণাবলী।
আল্লাহর সত্তা অসীম । আমাদের জ্ঞান সসীম । এ সসীম জ্ঞানের মাধ্যমে অসীম প্রভুর সত্তা সম্বন্ধে যথাযথ পরিচয় লাভ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয় । তাই তিনি আল - কুরআনের বহু আয়াতে নিজের গুণবাচক পরিচয় তুলে ধরেছেন । আল্লাহ্র বহু সিফাত ও গুণাবলী রয়েছে । ইমাম আবূ মনসূর আল - মাতুরিদী ( র ) -এর মতে আল্লাহ্র সত্তাসূচক গুণ আটটি : ১. হায়াত , ২. ইল্ম , ৩. ইচ্ছা , ৪. কুরত বা শক্তি , ৫. শ্রবণ , ৬. দৃষ্টি , ৭. কালাম ও ৮. তাকভীন ।
১. হায়াত : হায়াত আল্লাহ্ তা'আলার একটি গুণ । তিনি চিরন্তন , চিরঞ্জীব । তিনি সব সময় আছেন এবং সব সময় থাকবেন । তাঁর অস্তিত্ব অবশ্যম্ভাবী । তিনি সমগ্র সৃষ্টির উৎস । তিনি নিজের ইচ্ছা ও পসন্দ অনুযায়ী যাকে ইচ্ছা অস্তিত্ব দান করেন । ২. ইল্ম বা জ্ঞান : আল্লাহ্ তা'আলা সর্বজ্ঞানী । সর্ববিষয়ে তাঁর জ্ঞান অতীত , বর্তমান ও ভবিষ্যতে সমভাবে পরিব্যাপ্ত । তাঁর জ্ঞানে ত্রুটি - বিচ্যুতির কোন সম্ভাবনা নেই । প্রকাশ্য অথবা গোপন , অতীত অথবা ভবিষ্যত , দুনিয়া অথবা আখিরাত সবকিছুই তাঁর নিকট সমান । কোন কিছুই তাঁর অগোচরে নেই ।
তাঁর ইল্ম , চিরন্তন ও বাসীত ( অবিভাজ্য ) । তাঁর ইল্ম সমস্ত সৃষ্টি পরিব্যাপ্ত । তিনি গোটা সৃষ্টির প্রতি সর্বদা নজর রাখেন । যমীনের বুকে বিশাল মরুভূমিতে যত বালুকণা আছে , সাগর - মহাসাগরে পানির যত বিন্দু আছে , বন - বনানীর গাছ - গাছালিতে যত ডালপালা রয়েছে , প্রতিটি ডালে যতটি ছড়া রয়েছে এবং প্রতিটি ছড়ায় যত শস্যদানা রয়েছে , মানুষের মাথায় ও পশুর চামড়ায় যত পশম রয়েছে সব কিছুই আল্লাহ্র ইল্মে বিদ্যমান ।
সৃষ্টি জগতের প্রতিপালনে যখন যার যা কিছু দরকার সবই তাঁর অসীম জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত । আল - কুরআনে ইরশাদ হয়েছে : وأسروا قولكم أو اجهروا به انه عليم بذات الصدور - الا يعلم من خلق وهو اللطيف الخبير তোমরা তোমাদের কথা গোপনেই বল অথবা প্রকাশ্যে বল , তিনি তো অন্তর্যামী । যিনি সৃষ্টি করেছেন তিনি কি জানেন না ? তিনি সূক্ষ্মদর্শী , সম্যক অবগত । ( সূরা মূলক , ৬৭ : ১৩-১৪ )এ সুপ্রশস্ত জ্ঞান এবং পূর্ণ অবহিতি একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার বৈশিষ্ট্য ।
তিনিই অদৃশ্য সম্বন্ধে অবগত । গায়বের ইল্ম কোন মানুষের নেই । তবে নবী - রাসূলগণকে যখন তিনি ইচ্ছা করেন অদৃশ্য সম্বন্ধে জানিয়ে দেন । সে ভিত্তিতে তাঁরা নিজ নিজ উম্মাতকে এ সম্পর্কে অবগত করেছেন । ইরশাদ হয়েছে : وعنده مفاتح الغيب لا يعلمها الا هو ويعلم ما في البر والبحر وما تسقط من ورقة الأ يعلمها ولا حبة في ظلمت الأرض ولا رطب ولا بابس الأ في كتب مبين . সমস্ত গায়বের চাবিকাঠি তাঁরই হাতে । তিনি ছাড়া আর কেউই তা জানে না । স্থল ও জলভাগে যা কিছু আছে এর সব কিছুই তিনি জানেন । তাঁর অজ্ঞাতসারে একটি পাতাও পড়ে না ।
মৃত্তিকার অন্ধকারে এমন কোন শস্যকণাও অংকুরিত হয় না এবং ভেজা কিংবা শুক্নো এমন কোন বস্তু নেই যা সুস্পষ্ট কিতাবে নেই । ( সূরা আন'আম , ৬ : ৫৯ ) ৩. ইচ্ছা বা সংকল্প : এ বিশাল পৃথিবী আল্লাহ্ তা'আলাই সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি নিজের ইচ্ছায়ই তা করেছেন । এ বিশ্ব তিনি তাঁর ইচ্ছামাফিক সৃষ্টি করেছেন । যখন যা সৃষ্টি করতে চেয়েছেন , করেছেন । তিনি কারো বাধ্য নন । রঙ - বেরঙের বিভিন্ন জিনিস যা আসমান - যমীনে দেখা যায় , এগুলো সবই আল্লাহর ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ । এই যে সূর্য ও অন্যানা তারকারাজি লক্ষ - কোটি বছর ধরে আলো বিকিরণ করে যাচ্ছে এ।
