নবীজির মহান চরিত্র।মানব সভ্যতার জন্য উত্তম আদর্শ। মানবতার শিকার কেন্দ্র।
![]() |
| নবীজি সাঃ এর মহান চরিত্র। |
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সকলের চেয়ে বেশি সাহসী বীর ও সবচেয়ে বেশি দানশীল । তাঁর কাছে কেউ কিছু চাইলে সাথে সাথে তা দান করে দিতেন । তিনি ছিলেন সবচেয়ে বেশি ধৈর্য্যশীল ও সহনশীল । একবার সাহাবায়ে কেরাম কোনো কাফের সম্প্রদায়ের জন্য বদদুআ করতে বললে তিনি বলেন , আমি তো এসেছি রহমত স্বরূপ , আযাব হয়ে আসি নি । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাঁত মোবারক শহিদ করা হলে তখনও তিনি তাদের জন্য মাগফেরাতের দুআ করতে থাকেন । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সকলের চেয়ে বেশি লজ্জাশীল । তাঁর দৃষ্টি কখনো কারো চেহারার উপর স্থির হয়ে থাকত না ।
নিজের ব্যক্তিগত কোন ব্যাপারে কখনো প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন না এবং রাগান্বিতও হতেন না । কিন্তু দীনের ব্যাপারে কোনো প্রকার অবৈধ হস্তক্ষেপ ( সীমালঙ্গন ) তিনি সহ্য করতে পারতেন না । আর তিনি ক্রোধান্বিত হলে তার সম্মুখে থাকার সাধ্য কারো ছিল না ।
যখন তাকে দুটি কাজের কোনো একটি করার অধিকার দেওয়া হত তখন তিনি সহজটিই গ্রহণ করতেন , যেন উম্মতের জন্য সহজ হয়ে যায় । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো খাবারের দোষ ধরতেন না । রুচিকর হলে খেয়ে নিতেন , নতুবা রেখে দিতেন । তিনি কখনো হেলান দিয়ে বা টেবিলে খানা খেতেন না । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য কখনো পাতলা চাপাতি রুটি তৈরি করা হয় নি । তিনি শসা এবং খরবুয়া ফল খেজুরের সঙ্গে মিশিয়ে খেতেন ।
স্বভাবতই তিনি মধু ও সকল মিষ্টিদ্রব্য পছন্দ করতেন । হযরত আবু হোরায়রা রাযি . বলেন , রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার পরিবারবর্গ জীবনভর কখনো যবের রুটি পেট ভরে আহার করেন নি । রাসূলুল্লাহ হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবারে কখনো কখনো এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হত , দু মাস যাবত চুলায় আগুন জ্বালানোর সুযোগ হত না । তখন তারা শুকনা খেজুর আর পানি দিয়েই জীবিকা নির্বাহ করতেন ।
তিনি নিজের জুতা নিজেই সেলাই করতেন এবং নিজের কাপড়ে নিজেই তালি লাগাতেন । পারিবারিক কাজে সহযোগিতা করতেন এবং রোগীদের সেবাযত্ন করতেন । ধনী বা গরীব হোক যে কেউ তাকে দাওয়াত দিলে তিনি তা সাদরে গ্রহণ করতেন । কোনো গরীব লোককে দরিদ্রতার কারণে অবজ্ঞা করতেন না । আর প্রতাপশালী বাদশার প্রতি তার রাজত্বের কারণে প্রভাবিত হতেন না । স্বীয় গোলামকে সওয়ারীর পেছনে আরোহণ করাতেন । মোটা কাপড় পরিধান করতেন । সেলাই করা জুতা ব্যবহার করতেন । সাদা কাপড় ছিল তার কাছে অধিক পছন্দনীয় ।
সর্বদা আল্লাহর যিকিরে মশগুল থাকতেন ও অনর্থক কথাবার্তা থেকে বিরত থাকতেন । তিনি নামায দীর্ঘ করতেন এবং খুতবা খুব সংক্ষিপ্ত করতেন । সুঘ্রাণ ছিল তাঁর পছন্দনীয় , আর দুর্গন্ধ ছিল তাঁর ঘৃণার বস্তু । গুণী ব্যক্তিদের সম্মান দিতেন । কারো সঙ্গে অভদ্র আচরণ করতেন না । বৈধ খেলাধুনা দেখলে নিষেধ করতেন না । কখনো কখনো হাসি মজাক এবং বিনোদনমূলক কথাবার্তা বলতেন । সে ক্ষেত্রেও তিনি কখনো অসত্যের আশ্রয় গ্রহণ করতেন না ।
পৃথিবীর সকল মানুষের চেয়ে বেশি হাসি খুশি এবং শ্রেষ্ঠ চরিত্রবান ছিলেন । কেউ অপারগতার দোহাই দিলে তিনি তা মেনে নিতেন । হযরত আয়েশা রাযি . বলেন , রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্র ছিল আল - কুরআন কুরআনের দৃষ্টিতে যা পছন্দনীয় , রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছেও তাই পছন্দনীয় । আর কুরআনের দৃষ্টিতে যা অপছন্দনীয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছেও তা - ই অপছন্দনীয় ছিল । হযরত আনাস রাযি . বলেন , রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামর শরীর মোবারকের সৌরভের ন্যায় এত উত্তম অন্য কোন সৌরভের ঘ্রাণ আমি গ্রহণ করি নি ।
হযরত মুহাম্মাদ সাঃ এর শ্রেষ্ঠ মুজেযা।কী ছিলো।
দুনিয়ার রাজা - বাদশারা যখন কোনো ব্যক্তিকে কোনো প্রদেশের গভর্ণর নিযুক্ত করেন , তখন এমন কিছু নিদর্শনাবলী তার সঙ্গে দিয়ে দেন , যা দেখে জনগণ তার শাসক হওয়া সম্পর্কে নিশ্চিন্ত হতে পারে । যেমন সেবক , দাস - দাসী , সেনাবাহিনী এবং এমন কিছু অধিকার যা সাধারণের নিকট থাকে না ।
তেমনিভাবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন পৃথিবীতে আগমণ করেন তখন তার সাথে সততা , ন্যায়নিষ্ঠা , উত্তম চরিত্র এবং মানবীয় গুণাবলীর পরিপূর্ণতার পাশাপাশি একটি অলৌকিক শক্তিও সঙ্গে নিয়ে আসেন যার দ্বারা বিরুদ্ধবাদীদের মস্তক তাদের সম্মুখে অবনত হয়ে আসে । এই সকল অলৌকিক শক্তি আর অসম্ভবকে সম্ভব করার প্রকৃতির ঊর্ধ্বের ক্ষমতাসমূহকে মুজেযা বলা হয়ে থাকে আমাদের প্রিয়নবী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুজেযাসমূহ সংখ্যা এবং গুণগত মানের দিক থেকে পূর্ববর্তী সকল আম্বিয়া থেকে অধিক এবং উত্তম ।
পূর্ববর্তী নবীগণের মুজেযাসমূহ তাদের জীবন পর্যন্তই সীমিত ছিল । আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রদত্ত মহাগ্রন্থ আল - কুরআনের মুজেযা অদ্যবধি সকল মুসলিম সম্প্রদায়ের হাতে হাতে রয়েছে , যার মোকাবেলা করতে মানব - দানবের সকল শক্তি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে । এতদ্ব্যতীত চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত করা , আঙ্গুল থেকে পানি প্রবাহিত হওয়া , কঙ্করের ভাসবীহ পাঠ করা , কাঠের খুঁটির ক্রন্দন , হাজারো ভবিষ্যদ্বাণীর সবকটিই দিবালোকের মত সত্য প্রমাণিত হওয়া ইত্যাদি ।
বিশেষ আলোচনা। নবী - রাসূল।
মানুষের হিদায়াতের জন্য আল্লাহ্ তা'আলা যেসব মহামানবকে মনোনীত করেছেন , তাঁদেরকেই ' নবী - রাসূল ' বলা হয় । ' রাসূল ' শব্দের অর্থ প্রেরিত পয়গাম্বর । শরী'আতের পরিভাষায় : আল্লাহর বিধি - বিধান সৃষ্টির নিকট পৌঁছানোর লক্ষ্যে আল্লাহ্ কর্তৃক মনোনীত ও প্রেরিত ব্যক্তিকে ' রাসূল ' বলা হয় । রাসূল শব্দের বহুবচন রুসুল ।
কুরআন ও হাদীসে শব্দটি একবচন ও বহুবচন উভয়ভাবেই ব্যবহৃত হয়েছে । انسان بعثه الله تعالى إلى الخلق لتبليغ الأحكام . পক্ষান্তরে من أوحى اليه وحيا خاصا من الله بتوسط الملك أوالإلهام في قلبه أو بالرؤيا الصالحة . আল্লাহর পক্ষ হতে সত্যস্বপ্ন অথবা ইল্হাম অথবা ফিরিশতা প্রেরণের মাধ্যমে যার প্রতি বিশেষ ধরনের ওহী নাযিল হয়েছে এরূপ মনোনীত মহামানবকে ' নবী ' বলা হয় ।
” নবী ও রাসূল - এর মধ্যে পার্থক্য এই যে , যেসব পয়গাম্বরের প্রতি কিতাব নাযিল করা হয়েছে এবং যাঁদেরকে নতুন শরী'আত দেওয়া হয়েছে , তাঁদেরকে রাসূল বলা হয় । আর প্রত্যেক পয়গাম্বরকেই নবী বলা হয় , তাঁকে নতুন কিতাব ও নতুন শরী'আত দেওয়া হোক বা না হোক । ” যে সকল নবীর প্রতি কিতাব নাযিল হয়নি তাঁরা পূর্ববর্তী রাসূলগণের প্রচারিত শরী'আতের অনুসরণ করে দীনের কাজ আঞ্জাম দিয়েছেন । এখানে উল্লেখ্য যে , প্রত্যেক রাসূলই নবী ছিলেন , কিন্তু প্রত্যেক নবী রাসূল ছিলেন না । নবী - রাসূল সকলেই জ্ঞানী ,
সত্যবাদী , ন্যায়পরায়ণ , নিষ্পাপ ও তীক্ষ্ণবুদ্ধিসম্পন্ন ছিলেন । তাঁরা সবাই ছিলেন আদর্শ মানব । তাঁদের উন্নত চরিত্রে মানবীয় গুণাবলীর পূর্ণ বিকাশ ঘটেছে । তাঁরা নিঃস্বার্থভাবে মানুষের কল্যাণে সাধনা করেছেন । সত্যের প্রচার ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠাই ছিল তাঁদের ব্রত । তাঁরা যা বলেছেন ও করেছেন সবই আল্লাহর নির্দেশে । নিজ খেয়াল - খুশিমত অথবা স্বীয় স্বার্থসিদ্ধির জন্য কখনো কোন কিছু করেননি । তাঁদের মধ্যে সর্বপ্রথম পয়গাম্বর হলেন হযরত আদম ( আ ) এবং সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ পয়গাম্বর হলেন হযরত মুহাম্মাদ ( সা ) ।
পৃথিবীতে যত নবী - রাসূল প্রেরিত হয়েছেন তাঁদের কয়েকজনের নাম আল - কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে । যেমন : ১. হযরত আদম ( আ ) , ২. হযরত নূহ ( আ ) , ৩. হযরত ইদ্রীস ( আ ) , ৪. হযরত হূদ ( আ ) , ৫. হযরত সালিহ্ ( আ ) , ৬. হযরত ইব্রাহীম ( আ ) , ৭. হযরত ইসমাঈল ( আ ) , ৮. হযরত ইসহাক ( আ ) , ৯. হযরত লূত ( আ ) , ১০. হযরত ইয়াকুব ( আ ) , ১১. হযরত ইউসুফ ( আ ) , ১২. হযরত শু'আইব ( আ ) , ১৩. হযরত মূসা ( আ ) , ( ১৪ ) হযরত হারুন ( আ ) , ১৫. হযরত ইল্ইয়াস ( আ ) , ১৬. হযরত ইয়া'সা ' ( আ ) , ১৭. হযরত দাউদ ( আ ) ,
১৮. হযরত সুলায়মান ( আ ) , ১৯. হযরত আইউব ( আ ) , ২০ , হযরত ইউনুস ( আ ) , ২১. হযরত যুল্ল্কিফল ( আ ) , ২২. হযরত যাকারিয়া ( আ ) , ২৩. হযরত ইয়াহ্ইয়া ( আ ) , ২৪. হযরত ঈসা ( আ ) ও ২৫. হযরত মুহাম্মাদ ( সা ) । হযরত আবূ যার গিফারী ( রা ) বলেন , একবার আমি জিজ্ঞাসা করলাম , ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ! নবীগণের সংখ্যা কত ? উত্তরে তিনি বললেন , একলক্ষ চব্বিশ হাজার । তন্মধ্যে তিনশ ' তের অপর বর্ণনামতে তিনশ ' পনেরজন হলেন রাসূল নবী - রাসূলগণের উপর ঈমান আনা ফরয । ইসলামী আকীদা যা আল - কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে :।
