ইসরা ও মেরাজ। হযরত মুহাম্মাদ সাঃ এর বিস্ময়কর মু'জিযা। ঐতিহাসিক সেই ঘটনা।

ইসরা ও মেরাজ।হযরত মুহাম্মাদ সাঃ এর বিস্ময়কর মু'জিযা।ঐতিহাসিক সেই ঘটনা।

ইসরা ও মিরাজ সংক্রান্ত আলোচনা। 

ইসলামের ইতিহাসে নবুয়তের একাদশ বর্ষটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে । এ বছরই মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এক আড়ম্বরপূর্ণ শোভাযাত্রার মাধ্যমে সম্মান প্রদর্শন করা হয় , যা নবীগণের মধ্যে কেবলমাত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এরই স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ছিল ।

ইসরা এবং মিরাজের সংক্ষিপ্ত আলোচনা।সবার জেনে রাখা আবশ্যক। 

 এক রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবার হাতিমে শায়িত ছিলেন । কোনো কোনো বর্ণনায় রয়েছে , তিনি স্বীয় বাড়িতে শুয়েছিলেন । এমন সময় হযরত মীকাঈল আ . ও জিবরাঈল আ . তাশরিফ নিয়ে এসে বললেন আমাদের সঙ্গে চলুন । তাঁকে বোরাক নামক এক বাহনে আরোহণ করানো হল । যার চলার গতি এত দ্রুত ছিল , 


দৃষ্টিসীমার শেষ প্রান্তে সেটি কদম ফেলত । এরূপ দ্রুত গতিতে চলে প্রথমে তাঁকে সিরিয়ার মসজিদে আকসায় নিয়ে যাওয়া হল । সেখানে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পূর্বের সকল নবীকে একত্র করে রেখেছিলেন ; মুজেযাস্বরূপ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অভ্যর্থনা জানানোর উদ্দেশ্যে । এখানে পৌঁছে জিবরাঈল আলাইহিস সালাম আযান দেন । আযানের পর সকল নবী ও রাসূলগণ নামাযের প্রস্তুতিস্বরূপ কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন । সকলেই এই অপেক্ষায় ছিলেন , নামায কে পড়াবেন । জিবরাঈল আ . রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর হাত মোবারক ধরে তাঁকে আগে বাড়িয়ে দিলেন ।


 রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে সমবেত সকল নবী রাসূল ও ফেরেশতাদের নামাযের জামাতে ইমামতি করেন । বোরাকের পিঠে চড়ে পার্থিব জগতের সফর এখানে এসেই শেষ হয় । অতঃপর পর্যায়ক্রমে তাঁকে সকল আকাশে সফর করানো হয় । এর মধ্যে মতভেদ রয়েছে , এ আকাশ ভ্রমণ বোরকের মাধ্যমে হয়েছে না কি অন্য কোনো সোপানের মাধ্যমে । হাফেয নাজমুদ্দীন গায়তী কিসসাতুল মিরাজে বিশদ আলোচনা করেছেন ।


 তিনি প্রথম আকাশে হযরত আদম আ . এর সঙ্গে , দ্বিতীয় আকাশে হযরত ঈসা আ . তৃতীয় আকাশে হযরত ইউসুফ আ . চতুর্থ আকাশে হযরত ইদরীস আ . , পঞ্চম আকাশে হযরত হারুন আ . ষষ্ঠ আকাশে হযরত মূসা আ . ও সপ্তম আকাশে হযরত ইবরাহীম আ . ( ফতহুল বারী ১৫/৪৭৫ ) এর সঙ্গে সাক্ষাৎ লাভ করেন । অতঃপর তিনি সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত গমন করেন । পথিমধ্যে হাউজে কাউসার অতিক্রম করেন । অতঃপর তিনি জান্নাতে প্রবেশ করেন । সেখানে মহান রাব্বুল আলামিনের মহান কুদরতের সৃষ্ট এমন বিস্ময়কর ও আশ্চর্যজনক জিনিস প্রত্যক্ষ করেন , যা আজ পর্যন্ত কোনো চোখ দেখে নি । কোনো কান তা শ্রবণ করে নি ।


 এবং কোনো মানুষের হৃদয়পটে তার ধারণাও জন্মে নি । অতঃপর হুযুরের সম্মুখে জাহান্নাম উপস্থিত করা হল যা ছিল সর্বপ্রকার শান্তি ও প্রজ্জ্বলিত আগুনের তীব্রদাহে পরিপূর্ণ । যার সম্মুখে শক্ত পাথর ও লোহার মতো কঠিন বস্তুরও কোনো অস্তিত্ব ছিল না । সেখানে তিনি একদল লোক দেখতে পেলেন , যারা মৃত জানোয়ার ভক্ষণ করছিল । তিনি জিজ্ঞেস করলেন , এরা কারা ? জিবরাঈল আ , উত্তর দিলেন , এরা ঐ সমস্ত লোক যারা দুনিয়ায় মানুষের গোশত ভক্ষণ করত । গীবত বা পরনিন্দা করত । অতঃপর জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয় । 


তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো সম্মুখে অগ্রসর হলেন । আর জিবরাঈল আ . সেখানেই রয়ে গেলেন । 


কেননা সেখান থেকে সামনে অগ্রসর হওয়ার অনুমতি তাঁর ছিল না । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে মহান রাব্বুল আলামিনের দিদার লাভে ধন্য হন । সঠিক বর্ণনা অনুযায়ী সেই যিয়ারত হৃদয়ের অনুভূতি দ্বারা সংঘটিত হয়নি বরং চর্মচক্ষু দ্বারাই সংঘটিত হয়েছিল । হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রাখি , সহ সকল মুহাক্কিক সাহাবায়ে কেরাম ও ইমামগণের অভিমতও তাই । সেখানে পৌঁছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদায় পড়ে যান এবং মহান রাব্বুল আলামিনের সঙ্গে কথোপকথনের সৌভাগ্য লাভ করেন । তখনই পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয হয় । এরপর তিনি প্রত্যাবর্তন করলেন । 


সেখান হতে পুনরায় তিনি বুরাকে চড়ে মক্কার দিকে চলেন । পথিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে কুরাইশদের তিনটি বাণিজ্য কাফেলার নিকট দিয়ে অতিক্রমকালে অনেককে তিনি সালাম দিয়েছেন । তারা রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর গলার আওয়াজ সনাক্ত করতে সক্ষম হয় । পরে মক্কায় এসে এ ঘটনার সাক্ষ্য প্রদান করে । প্রভাতের পূর্বেই এই বরকতময় ভ্রমণ সমাপ্ত হয় ।


 

ইসরা এবং মিরাজ সত্য হওয়ার চাক্ষুষ দলীল।প্রামাণ্যতা।

সকালে যখন কুরাইশদের মাঝে এ খবর ছড়িয়ে পড়ল তখন এক অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হল । কেউ হাতে তালি দিতে লাগল , কেউ তো অবাক বিস্ময়ে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ল । আবার কেউ ঠাট্টাচ্ছলে হাসাহাসি শুরু করে দিল । অতঃপর সকলে ঘটনার সত্যাসত্য যাচাইয়ের জন্য প্রশ্ন করতে শুরু করলো । কেউ জিজ্ঞেস করল , আচ্ছা বলুন তো বায়তুল মুকাদ্দাস এর নির্মাণশৈলী ও গঠন প্রণালী কেমন ? তা পাহাড় থেকে কতটুকু ব্যবধানে অবস্থিত ।


 রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটির পূর্ণ নকশা বলে দিলেন । এমনি ধরনের আরো বিভিন্ন প্রশ্ন তারা করতে লাগল । আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সঠিক উত্তর দিতে লাগলেন । এক পর্যায়ে তারা এমন সব অবান্তর প্রশ্ন শুরু করে দিল , যা একবার দেখে কেউ বলতে পারে না । যেমন মসজিদের দরজা কয়টি ? কয়টি তাক ? ইত্যাদি । প্রকৃতপক্ষে এ সমস্ত জিনিস কেউ গণনাই করে রাখে না । তাই তিনি বিরক্তিবোধ করতে লাগলেন । তখনই মুজেযা স্বরূপ মসজিদে আকসা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মুখে তুলে ধরা হল । আর তিনি দেখে দেখে গণনা করে সব কিছু বলে দিতে লাগলেন ।


 এ সংবাদ আবু বকর রাখি , শোনামাত্রই বলে উঠলেন : “ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি , নিশ্চয়ই আপনি আল্লাহর রাসূল " । এদিকে কুরাইশরাও সকলে বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে গেল এবং পরস্পর বলাবলি করতে লাগল , তিনি মসজিদের বিস্তারিত বিবরণ তো ঠিকই দিয়েছেন । অতঃপর তারা আবু বকর সিদ্দীক রাযি . - কে সম্বোধন করে বলল , তুমি কি একথা বিশ্বাস কর , তিনি এক রাতে মসজিদে আকসা পর্যন্ত গিয়ে পুনরায় ফিরে আসতে পারেন ? হযরত সিদ্দিকে আকবার রাযি . বলেন , আমি তো এর চেয়েও অধিক অবিশ্বাস্য বিষয়েও তাকে বিশ্বাস করি । 


যেখানে সকাল সন্ধ্যার সামান্য ব্যবধানে তাঁর কাছে  আসমানি খবরাখবর সরবরাহ হয়ে থাকে , সেখানে এই সামান্য ব্যাপারে কোনো প্রকার সংশয় সৃষ্টির অবকাশ কোথায় ? আমি সব কিছুকে এক বাক্যে বিশ্বাস করি । এ কারণেই হযরত আবু বকর রাযি . - কে " সিদ্দিক " উপাধিতে ভূষিত করা হয় 



কুরাইশের  সত্যতা স্বীকার।যা স্বীকারে বাধ্য হয়েছিল। 

কুরাইশরা পুনরায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সত্যতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করল , আচ্ছা বলুন তো আমাদের যেই বাণিজ্য কাফেলাটি সিরিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে তারা কোথায় ? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন , 

“ রওহা " নামক স্থানে অমুক গোত্রের একটি বাণিজ্য কাফেলাকে আমি অতিক্রম করি , তাদের উট হারিয়ে গিয়েছিল । তারা সকলে উটের তালাশে চলে গিয়েছিল । আমি তাদের উটের হাওদার নিকট গিয়ে দেখি সেখানে কেউ উপস্থিত নেই । তাদের একটি মাটির পাত্রে পানি রাখা ছিল । আমি সেখান থেকে পানি পান করলাম । অতঃপর অমুক গোত্রের বাণিজ্য কাফেলাটিকে অমুক স্থানে অতিক্রম করি । বোরাক

তাদের নিকটবর্তী হলে তাদের উটগুলো ভীত - সন্ত্রস্ত হয়ে ছুটাছুটি শুরু করে দিল । তাদের মধ্যে যে লাল উটটি সাদা ও কালো রংয়ের থলে বহন করে নিয়ে যাচ্ছিল । ওটা তো অজ্ঞান হয়ে পড়েই গেল । অতঃপর অমুক গোত্রের বাণিজ্য কাফেলাটি আমরা অতিক্রম করি " তানইম " নামক স্থানে যার সর্বাগ্রে ছিল একটি খাকি রংয়ের উট যার পৃষ্ঠে ছিল কালো চট ও দুইটি কালো বলে । কাফেলাটি অচিরেই তোমাদের কাছে এসে পড়বে ।


 লোকেরা জিজ্ঞেস করল , কবে নাগাদ তারা এসে পৌঁছবে ? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন , তারা বুধবারে এসে যাবে । বাস্তবিকই নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণনার সাথে সব কিছুই মিলে গেল । 


পরবর্তীতে কাফেলা ফিরে এসে হুযুরের সমস্ত বর্ণনার সত্যতা স্বীকার করে । যখন কুরাইশদের উপর মহান রাব্বুল আলামিনের সকল প্রমাণাদি পূর্ণ হয়ে গেল এবং এই বিস্ময়কর ভ্রমণের ব্যাপারে স্বয়ং তাদের লোকেরাই সাক্ষ্য দিয়ে দিল , তখন সেসব হঠকারী লোকগুলোর মেরাজের সত্যতা অস্বীকার করা এছাড়া আর কোনো পন্থাই বাকি রইল না , তারা এ সফরকে নিছক একটি যাদু এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যাদুকর আখ্যা দিয়ে সেখান থেকে প্রস্থান করল ।



বিশেষ আলোচনা।মনীষীদের দৃষ্টিতে সাহাবায়ে কিরামের মর্যাদা।

 কুরআন - সুন্নাহর আলোকে সাহাবায়ে কিরামের নির্ধারিত এ মর্যাদা সম্পর্কে সর্বযুগের উলামায়ে কিরাম ঐকমত্য পোষণ করে আসছেন । শ্রেষ্ঠতম তাবিঈ হযরত উমর ইবন আবদুল আযীয ( র ) সাহাবায়ে কিরামের মর্যাদা সম্বন্ধে বলেন , “ সাহাবায়ে কিরামের অনুসৃত পথ গ্রহণ করাই সকল মুসলিমের কর্তব্য । কেননা তাঁরা কোন কিছু থেকে বিরত থাকলে তা ইল্‌ল্মের ভিত্তিতেই বিরত রয়েছেন এবং সুতীক্ষ্ণ অন্তর্দৃষ্টির কারণেই কাউকে কোন কাজে বাধাদান করেছেন । 


জটিল ও সূক্ষ্ম বিষয়ের সমাধানে তাঁরা ছিলেন সক্ষম এবং দীনের ক্ষেত্রে তাঁরাই হলেন শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী । “ দীনের পথে তাঁরাই হলেন অগ্রবর্তী এবং সকল ক্ষেত্রেয়েছে তাঁদের পর্যাপ্ত দিক - নির্দেশনা । 


তাঁদের দেওয়া ব্যবস্থাপত্র থেকে সকল ব্যাধির উপশম লাভ সম্ভব । সুতরাং তাঁদের অনুসৃত পথ ও পন্থায় সংযোজন বা বিয়োজন কোনটাই সম্ভব নয় । 


একদল তাতে সংযোজন করতে গিয়ে বাড়াবাড়িতে লিপ্ত হয়েছে । আরেক দল বিয়োজন করতে গিয়ে মূল উদ্দেশ্য থেকে দূরে সরে পড়েছে । বস্তুত সাহাবায়ে কিরাম ছিলেন উভয় প্রান্তিকতার মধ্যবর্তী সহজ - সরল পথের অনুসারী ( ৪ আল্লামা ইবন সালাহ্ ( র ) ' উলূমুল হাদীস ' গ্রন্থে লিখেছেন , সাহাবায়ে কিরামের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য এই যে , তাঁদের কারোই আদালত ও ন্যায়পরায়ণতা সম্পর্কে তথ্য অনুসন্ধানের কোন প্রয়োজন নেই ।


 কেননা তা কুরআন , সুন্নাহ্ ও উম্মাতের ইজ্‌মার দ্বারা সুপ্রমাণিত । আল্লাহ্ তা'আলা তাঁদের সম্বন্ধে ইরশাদ করেছেন , “ তোমরা মানুষের কল্যাণের উদ্দেশ্যে প্রেরিত শ্রেষ্ঠ উম্মাত । ” আল্লামা ইবন আবদুল বার ( র ) ' আল - ইতি'আব ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন , সাহাবায়ে কিরাম হলেন উম্মাতের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম জামা'আত । তাঁদের আদালত ও ন্যায়পরায়ণতা সম্বন্ধে কুরআন ও হাদীসে বহু প্রমাণ রয়েছে ।


 সর্বোপরি নবী কারীম ( সা ) -এর সাহচর্যের জন্য মনোনীত ব্যক্তিগণের তুলনায় অধিক ন্যায়পরায়ণ আর কে হতে পারে ? আল্লামা ইবন তাইমিয়া ( র ) ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল ( র ) থেকে উদ্ধৃত করেন যে , সাহাবীদের মন্দ আলোচনা করা , দোষারোপ করা বা খুঁত খুঁজে বের করা কারো জন্যই বৈধ নয় ; বরং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ।বিধান ৮১ আল্লামা সুয়ূতী ( র ) বলেন , সাহাবায়ে কিরাম সমালোচনার ঊর্ধ্বে । তাঁদের ন্যায়পরায়ণতা প্রশ্নাতীত । রাসূল ( সা ) ও তাঁর উম্মাতের মধ্যে সাহাবায়ে কিরামই হলেন একমাত্র যোগসূত্র । দীন ও শরী'আতের তাঁরাই হলেন প্রথম ধারক ও বাহক । 


তাঁদের ন্যায়পরায়ণতা প্রশ্নের সম্মুখীন হলে দীন ও শরী'আতের অস্তিত্বও প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে পড়বে । আল্লামা কামাল ইব্‌ন হুমাম ( র ) " আল মুসায়িরা ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে , আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের আকীদামতে , সকল সাহাবীর সাধুতা ও ন্যায়পরায়ণতা বিশ্বাস করা , তাঁদের সমালোচনা সর্বতোভাবে পরিহার করা এবং তাঁদের প্রশংসা করা আবশ্য কর্তব্য । 




আল্লামা সাফারিনী ( র ) তন্ত্রণীত ' আকীদা ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে , আহলুস সুন্নাহ্ ওয়াল জামা'আতের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত এই যে , সকল সাহাবীর ন্যায়পরায়ণতা স্বীকার করা এবং আন্তরিকভাবে তাঁদের প্রশংসা করা সকল মুসলমানের কর্তব্য । 


কেননা আল - কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে স্বয়ং আল্লাহ্ তাঁদের প্রশংসা করেছেন । সর্বোপরি যদি তাঁদের শানে আল্লাহ্ ও রাসূলের কোন প্রশংসা বাণী উচ্চারিত নাও হত তবুও তাঁদের হিজরত ও জিহাদ এবং আল্লাহর পথে জান - মালের কুরবানী , তাঁদের ঈমানী শক্তি ইত্যাদি গুণাবলীর কারণে উম্মাতের শ্রেষ্ঠতম জামা'আত বলে বিশ্বাস রাখা অপরিহার্য হত । সর্বজনমান্য ইমামদের সর্বসম্মত।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post