হায়েযের পরিচয়।হায়েযের সময়সীমা। হায়ের কতিপয় মাসাঈল। হায়েয সংক্রান্ত আলোচনা। স

হায়েযের পরিচয়।হায়েযের সময়সীমা।হায়ের কতিপয় মাসাঈল।হায়েয সংক্রান্ত আলোচনা। 

হায়েযের বিশেষ আলোচনা। 

প্রতি মাসে বালেগা মেয়েদের যৌনাঙ্গ দিয়ে স্বাভাবিকভাবে যে রক্তস্রাব হয় , তাকে হায়েয বলে । কুরআন ও হাদীছে এই রক্তকে নাপাক বলা হয়েছে । 

* সাধারণতঃ ৯ বৎসরের পূর্বে এ রক্ত দেখা দেয় না । ৯ বৎসর বয়সের পূর্বে এ ধরনের রক্ত দেখা দিলে তা হায়েযের রক্ত বলে গণ্য হবে না বরং ইস্তেহাযার রক্ত হিসেবে গণ্য হবে । ( 133 ) 

* ৫৫ বৎসর বয়সের পর সাধারণতঃ হায়েযের রক্ত আসে না । অতএব ৫৫ বৎসর পার হওয়ার পরও কোন মেয়েলোকের রক্তস্রাব দেখা দিলে তার রং যদি লাল অথবা কালো হয় তাহলে তাকে হায়েযই মনে করতে হবে । রং যদি হলুদ বা সবুজ বা মেটে হয় , তাহলে তাকে হায়েয গণ্য করা হবে না বরং সেটা ইস্তেহাযা বলে গণ্য হবে । অবশ্য ঐ মেয়েলোকের যদি পূর্বেও হলুদ , সবুজ বা মেটে বর্ণের রক্তস্রাব হওয়ার অভ্যাস থেকে থাকে তাহলে ৫৫ বৎসরের পরও অনুরূপ বর্ণের রক্তকে হায়েয ধরা হবে ।

* হায়েযের সময়সীমার মধ্যে লাল , হলদে , মেটে , সবুজ , কাল যে কোন প্রকার রং - এর রক্তকে হায়েযের রক্ত বলে গণ্য করা হবে । যখন সম্পূর্ণ সাদা রং দেখা দিবে তখন মনে করতে হবে যে , হায়েয বন্ধ হয়েছে । সাদা রংয়ের পূর্বে সব ধরনের রংই হায়েযের রং । 

* রক্ত যোনির ছিদ্রের বাইরে আসার পর ( যোনি মুখের চামড়ার বাইরে না এলেও ) থেকেই হায়েযের শুরু ধরা হবে । রক্ত ভিতরে থাকার কোন ধর্তব্য নেই । যদি ছিদ্রের মুখে তুলা দিয়ে রাখে তাহলে যতক্ষণ পর্যন্ত বাইরের তুলায় রক্তের দাগ দেখা না যাবে , ততক্ষণ পর্যন্ত নিজেকে পবিত্র মনে করবে । যখন রক্তের চিহ্ন বাইরে ছড়িয়ে পড়বে অথবা ছিদ্রের তুলা সরিয়ে দেয়ার পর রক্ত বের হতে শুরু করবে , তখন থেকে হায়েযের শুরু ধরতে হবে ।। 

* পবিত্র অবস্থায় যোনির ভেতরে তুলা ঢুকিয়ে ঘুমিয়ে ছিল । সকালে উঠে তার মধ্যে রক্তের দাগ নজরে পড়ল , তাহলে যখন থেকে দাগ নজরে পড়েছে তখন থেকে হায়েযের হিসাব শুরু হবে । 


 হায়েযের সময়সীমা।হায়েয কতোদিন পর্যন্ত থাকে।

হায়েযের সময়সীমা কমপক্ষে ৩ দিন ৩ রাত এবং সর্বোচ্চ সময়সীমা ১০ দিন ১০ রাত । 


হায়েযের কতিপয় মাসায়েল।এ সংক্রান্ত আলোচনা। 

যেহেতু হায়েযের সর্বনিম্ন সময়সীমা কমপক্ষে ৩ দিন ৩ রাত আর সর্বোচ্চ সময়সীমা ১০ দিন ১০ রাত , অতএব কোন স্ত্রীলোকের ৩ দিন ৩ রাতের কম রক্তস্রাব হলে হায়েযের রক্ত বলে গণ্য হবে না , তাকে ইস্তেহাযার রক্ত ধরা হবে । এমনিভাবে ১০ দিন ১০ রাতের অধিক রক্তস্রাব হলে সর্বশেষ যে হায়েয এসেছিল তার চেয়ে যে কয়দিন বেশী হবে সে কয়দিনের রক্ত হায়েযের রক্ত  বলে গণ্য হবে না , তাকে ইস্তেহাযার রক্ত ধরা হবে । 

* যদি কোন মেয়েলোকের জীবনের প্রথম রক্তস্রাব শুরু হয়েই ১০ দিনের চেয়ে বেশী হয়ে যায় , তাহলে তার ক্ষেত্রে মাসআলা হল সে ১০ দিন ১০ রাত হায়েয গণ্য করবে , অবশিষ্ট দিনগুলো এস্তেহাযা গণ্য করবে । আর যদি এরূপ মেয়েলোকের রক্ত বরাবর জারী থাকে মোটেই বন্ধ না হয় , তাহলে প্রতিমাসে ১০ দিন ১০ রাত হায়েয এবং মাসের অবশিষ্ট দিনগুলো এস্তেহাযা গণ্য করবে । 

দুই হায়েযের মধ্যবর্তী স্রাব বা পবিত্রতার কিছু মাসায়েল।এ সংক্রান্ত আলোচনা। 

* দুই হায়েযের মধ্যবর্তী সময়ের মধ্যে কমপক্ষে ১৫ দিন পবিত্র থাকার সময় । অতিরিক্ত কোন সময়সীমা নির্দিষ্ট নেই । অতএব যদি কোন মেয়েলোকের ১ অথবা ২ দিন রক্তস্রাব দেখা দেয়ার পর ১৫ দিন পাক থাকে এবং আবার ১ অথবা ২ দিন রক্ত দেখে তাহলে মাঝখানের ১৫ দিন পবিত্রতার সময় আর এদিক ওদিক যে ১ বা ২ দিন রক্ত দেখেছে তা হায়েয নয় বরং তা ইস্তোহাযা । কারণ ৩ দিনের কম হায়েয হয় না । 

* যদি কোন মেয়েলোকের ৩ দিন ৩ রাত রক্ত দেখা দেয় , তারপর ১৫ দিন পাক থাকে ; আবার ৩ দিন ৩ রাত রক্ত দেখা দেয় , তাহলে পর্বের ৩ দিন ৩ রাত এবং পরের ৩ দিন ৩ রাত হায়েয ধরা হবে আর মধ্যকার দিনগুলি পাক থাকার সময় ।

* কোন স্ত্রীলোকের ৩ দিনের কম ১ অথবা ২ দিন রক্তস্রাব হয়ে পুনরায় ১ অথবা ২ দিন পাক থাকার পর আবারও যদি রক্তস্রাব দেখা দেয় , সবগুলোকে হায়েয ধরে নিতে হবে । * কারও ১ অথবা ২ দিন পাক থাকার পর আবারও যদি রক্তস্রাব দেখা দেয় , সবগুলোকে হায়েয ধরে নিতে হবে । 

* কারও ১ অথবা ২ দিন রক্তস্রাব দেখা দেয়ার পর ১৫ দিনের কম অর্থাৎ , ১০/১২ দিন রক্তস্রাব বন্ধ রইল , তারপর আবার রক্তস্রাব দেখা দিল , এমতাবস্থায় যত দিন অভ্যাসের দিন ছিল , ততদিন হায়েয গণনা করা হবে , অবশিষ্ট দিনগুলো ইস্তেহাযা হিসেবে ধরে নিতে হবে । 

* যদি কোন মেয়েলোকের এক হায়েয শেষ হওয়ার পর ১৫ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর আবার রক্ত দেখা দেয় এবং সে এটাকে হায়েয মনে করে নামায ছেড়ে দিতে থাকে আর ৩ দিন ৩ রাত পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই সে রক্ত বন্ধ হয়ে যায় এবং তারপর আবার ১৫/২০ দিন কোন রক্ত দেখা না যায় , তাহলে ( বুঝতে হবে এই রক্ত হায়েযের রক্ত নয় ; কেননা ৩ দিন ৩ রাতের কম হায়েয হয় না । অতএব  হায়েয মনে করে যে নামাযগুলো ছেড়ে দিয়েছিল তার কাযা করতে হবে ।  

* দুই হায়েযের মধ্যবর্তী কয়েক মাস বা বৎসর পর্যন্ত যদি রক্ত দেখা না দেয় , তবুও পুরো সময়কে পাক ধরতে হবে ।

বিশেষ আলোচনা। সাহাবায়ে কিরাম।

 ‘ সাহাবী ' শব্দের অর্থ সঙ্গী , সাথী । পরিভাষায় , هو من لقي النبي مؤمنا به ومات على الإيمان যাঁরা ঈমানের অবস্থায় নবী কারীম ( সা ) -এর সাক্ষাত লাভ করেছেন এবং মু'মিন অবস্থায়ই ইতিকাল করেছেন তাঁদেরকেই ' সাহাবী ' বলা হয় । সাহাবীগণের সংখ্যা লক্ষাধিক । নবী - রাসুলগণের পরেই তাঁদের মর্যাদা । কুরআন ও হাদীসে তাঁদের প্রশংসা করা হয়েছে । তাঁরা আল্লাহ্ তা'আলার মনোনীত জামা'আত । আল - কুরআনে ইরশাদ হয়েছে :


 . ثم أورثنا الكتب الذين اصطفينا من عبادنا তারপর আমি কিতাবের অধিকারী করলাম আমার বান্দাদের মধ্যে তাদেরকে যাদেরকে আমি মনোনীত করলাম । ( সূরা ফাতির , ৩৫ : ৩২ ) এক হাদীসে আছে , রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) ইরশাদ করেন : আল্লাহ্ তা'আলা নবী - রাসূলগণের পর সমস্ত বিশ্ব ভূ - মণ্ডলে আমার সাহাবীগণকে মনোনীত করেছেন । ৩ আল - কুরআনের আলোকে সাহাবায়ে কিরামের মর্যাদা সাহাবায়ে কিরামের উস্তাদ হলেন স্বয়ং রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) । 


তিনি তালীম , তারবিয়্যত , শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ , ইসলাহ ও সংশোধনের মাধ্যমে তাঁদেরকে যোগ্য করে গড়ে তুলেছিলেন । স্বয়ং আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন তাঁদের সত্যবাদিতা , নির্ভরযোগ্যতা , আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার প্রশংসা করেছেন । ইরশাদ হয়েছে : محمد رسول الله والذين معه أشداء على الكفار رحماء بينهم ترهم ركعا سجدا يبتغون فضلا من الله ورضوانا سيماهم في وجوههم من أثر السجود মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল , তাঁর সহচরগণ কাফিরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল , আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টির কামনায় তুমি তাদেরকে রুকূ ' ও সিজ্দায় অনবত দেখবে । তাদের মুখমণ্ডলে সিজ্দার প্রভাব পরিস্ফুট থাকবে । ( সূরা ফাতহ , ৪৮ : ২৯ ) ইমাম কুরতবী ( র ) সহ সকল মুফাস্সির অংশটিকে ১৬ বা ব্যাপক অর্থবোধক বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন । এতে প্রমাণিত হয় যে , প্রত্যেক সাহাবীই এ আয়াতের মর্মার্থের অন্তর্ভুক্ত। সাহাবায়ে কিরামের জামা'আত , আদর্শ জামা'আত । তাঁদের অনুসৃত পথ সঠিক ও নির্ভুল পথ । 




এ কারণেই তাঁদের বিরোধিতা করাকে রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) -এর বিরোধিতার নামান্তর বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এবং এ জাতীয় লোকদেরকে কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে । আল - কুরআনে ইরশাদ হয়েছে : ومن يشاقق الرسول من بعد ماتبين له الهدى ويتبع غير سبيل المؤمنين نوله ما تولى ونصله جهنم وساءت مصيرا . কারো নিকট সৎপথ প্রকাশ হওয়ার পর সে যদি রাসূলের ( সা ) বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মু'মিনদের পথ ব্যতীত অন্য পথ অনুসরণ করে তবে যেদিকে সে ফিরে যায় , সেদিকেই তাকে ফিরিয়ে দিব এবং জাহান্নামে তাকে দগ্ধ করব , আর তা কত মন্দ আবাস ! ( সূরা নিসা , ৪ : ১১৫ ) এ আয়াতে মু'মিন বলতে সাহাবায়ে কিরাম - এর দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে । কেননা তাঁরাই মু'মিনদের সর্বপ্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ জামা'আত । 


এরদ্বারা আরো স্পষ্ট হয়ে যায় যে , সাহাবায়ে কিরামের জীবন তাঁদের আমল - আখলাক চরিত্র ও কার্যধারার অনুসরণই হল।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post